খুঁজুন
, ,

শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা মামলার রায় : ৫ আসামির মৃত্যুদন্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 January, 2020, 5:53 pm
শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা মামলার রায় : ৫ আসামির মৃত্যুদন্ড

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভার আগে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যার ঘটনায় ৫ আসামিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে সকলকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) বেলা ৩টায় চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল হোসেন এ আদেশ দেন।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- পুলিশের তৎকালীন হাবিলদার প্রদীপ বড়ুয়া, কনস্টেবল মমতাজ উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, মো. আব্দুল্লাহ ও ইন্সপেক্টর গোপাল চন্দ্র (জেসি) মন্ডল। জেসি মন্ডল ছাড়া অন্য ৪ আসামী কারাগারে রয়েছে।

এ মামলার অপর ৪ আসামির মধ্যে প্রধান আসামি চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদা, কনস্টেবল বশির উদ্দিন ও আব্দুস সালাম মৃত্যুবরণ করেছেন। ইন্সপেক্টর গোপাল চন্দ্র (জেসি) মন্ডল ঘটনার পর থেকে নিরুদ্দেশ। তিনি ছিলেন কোতোয়ালী অঞ্চলের পেট্রোল ইন্সপেক্টর।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। এসব ধারায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে আসামিদের। হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

তিনি জানান, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি নগরের লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগের সমাবেশে যোগ দিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার গাড়ি বহর নিউমার্কেট মোড় অতিক্রম করে জিপিও’র সামনে আসে। তখন আচমকা গর্জে উঠে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের রাইফেল। পুলিশের এলোপাথাড়ি গুলিতে একে একে ২৪ জন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আহত হন আরো দু’শতাধিক নেতাকর্মী। পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণের সময় মানববেষ্টনী তৈরি করে শেখ হাসিনাকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।

এঘটনায় নিহতরা হলেন, মো. হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, স্বপন কুমার বিশ্বাস, এথলেবার্ট গোমেজ কিশোর, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডি কে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বি কে দাশ, পঙ্কজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, সমর দত্ত, হাসেম মিয়া, মো. কাসেম, পলাশ দত্ত, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ ও শাহাদাত।

পিপি এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ আইনজীবী মো. শহীদুল হুদা বাদী হয়ে ওই ঘটনায় মামলা করেন আদালতে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মামলাটি পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়। আদালতের আদেশে মামলাটির তদন্তের ভার পড়ে সিআইডির ওপর। সিআইডি ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে আদালতে। আবারও আদালতের নির্দেশে অধিকতর তদন্ত শেষে ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর পুলিশের আট সদস্যকে আসামি করে দ্বিতীয় দফায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি চাঞ্চল্যকর এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ১৯ জানুয়ারি সাফাই সাক্ষী দেন ৪ আসামি। ১৬৮ জন সাক্ষীর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এমপিসহ ৫৩জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

পিপি মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনার আগের রাতে তৎকালীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মির্জা রকিবুল হুদা’র অফিসে গোপন সভা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় শেখ হাসিনাসহ দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের হত্যা করার। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে ঘটনার দিন পেট্রোল ইনস্পেক্টর গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল ও মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত চার পুলিশ সদস্য পাঁচ রাউন্ড করে গুলি চালান।

তৎকালীন সিএমপি’র দায়িত্বশীল ৯জন পুলিশ কর্মকর্তা দায়ী আসামিদের শনাক্ত করেছেন এবং আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদানে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এছাড়া যুক্তিতর্কের সময় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদার নির্দেশে জে সি মন্ডল তার নিয়ন্ত্রিত পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছিলাম আমরা। আসামিরা নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইলেও নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, এ মামলার বাদি আইনজীবী মো. শহীদুল হুদা, প্রধান আসামি তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদা, তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি আব্দুল কাদের এবং মামলার এক আসামি পুলিশ কনস্টেবল বশির উদ্দিন ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন।

Feb2
Feb2

শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 6 October, 2026, 12:57 pm
শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের নিজেদের প্রতিভা ও গুণাবলি বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারলে দেশের ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি পরিবারের ভিত্তি যেমন তার সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি দেশের ভবিষ্যৎও নির্ভর করে শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপর।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি মূলত শিশুদের নিয়ে। তাই বড়দের বক্তব্যের চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই হওয়া উচিত এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর সময় তিনি নিজেও শিশু হিসেবে সেখানে এসেছিলেন।

শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, শিশু একাডেমির ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে তিনি ও তার ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত বোর্ডে নিজের একটি গল্প ও ছোট ভাইয়ের লেখা দেখতে পেয়ে পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আজকে তোমরা শিশু হিসেবে যেমন এখানে উপস্থিত হয়েছো, একদিন আমিও এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম। শিশু হিসেবেই এসেছিলাম। একজন শিশু অতিথি হিসেবে আমি এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম।

শিশুদের বিভিন্ন প্রতিভার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ ভালো ছবি আঁকতে পারে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করতে পারে, কেউ গান, নাচ কিংবা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে। প্রত্যেক শিশুর ভেতরে কোনো না কোনো গুণ রয়েছে এবং সেই গুণ বিকাশের জন্য প্রয়োজন যথাযথ সুযোগ।

নিজের গিটার ও কিবোর্ড শেখার আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি শিশুদের উদ্দেশে বলেন, যারা গিটার, হারমোনিয়াম, বাঁশি কিংবা অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে, তারা যেন তা ভালোভাবে শেখে এবং সম্পূর্ণ করে। যারা গান বা নাচ পছন্দ করে, তাদেরও সেই প্রতিভা বিকাশে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইভাবে যারা কেরাত ও কোরআন তেলাওয়াত পছন্দ করে, তাদের তা সুন্দরভাবে রপ্ত করার পরামর্শ দেন।

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে সারাদেশে ২২ লাখ শিশু- ১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখা গেলে এখান থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিশুদের প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রমও নতুন করে চালু করার কথা জানান তিনি। সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ক্রীড়া আয়োজন সম্পন্ন করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শিশুদের শুধু সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চায় নয়, খেলাধুলাতেও পারদর্শী করে তুলতে হবে। একটি শিশুর শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে অন্তত কোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সবার জন্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে সন্তানদের এসব সুযোগ করে দেয়া সম্ভব নয়। তাই শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও যেন শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার সুযোগ পায়, সে জন্য স্কুল পর্যায় থেকে এসব সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রত্যেকটি বাচ্চার মধ্যে কোনো না কোনো কিছু একটা কোয়ালিটি আছে। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটা করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারবে।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, এ-সংক্রান্ত কাজগুলো মোটামুটিভাবে গুছিয়ে আনা হয়েছে এবং ২০২৭ অথবা ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী গান, বাদ্যযন্ত্র ও খেলাধুলার বিভিন্ন ক্ষেত্র বেছে নেয়ার সুযোগ পাবে বলেও জানান তিনি।

ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের প্রস্তুত করতে স্কুল পর্যায় থেকে অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান, জাপানিজসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে শিশুরা নিজেদের পছন্দের একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

শিশুদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়ি, স্কুল কিংবা আশপাশের এলাকায় থাকা গাছের যত্ন নিতে হবে। পশুপাখির প্রতিও সদয় হতে হবে। প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গার্ডেন ভিউ ন্যাশনাল একাডেমী কর্তৃক এসএসসি ২৬ কৃতি শিক্ষার্থীদের বর্ণিল সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 6 October, 2026, 10:53 am
গার্ডেন ভিউ ন্যাশনাল একাডেমী কর্তৃক এসএসসি ২৬ কৃতি শিক্ষার্থীদের বর্ণিল সংবর্ধনা

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ বন্দরনগরী জনপ্রিয় ও পশ্চিম খুলশী জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির স্বনামধন্য মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ গার্ডেন ভিউ ন্যাশনাল একাডেমীর উদ্যোগে এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানন রবিবার (৪ অক্টোবর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য সাজে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুকিম বিল্লাহ”র সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ প্রকৌশলী মেজবাহ উদ্দিন রাজু। আলোচনায় প্রধান বক্তা ছিলেন ইডেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক ও সম্মানিত অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও নির্বাচন বিশ্লেষক এবং দৈনিক ডেইলি ক্যাপিটাল ভিউজ এর নির্বাহী সম্পাদক ও পার্বত্য উন্নয়ন এবং আধিবাসী পূর্নবাসন কমনওয়েলথ এর মহা পরিদর্শক সৈয়দ আবুল বরকত আকাশ।

অত্র একাডেমির সিনিয়র শিক্ষক রাসেল খানের সঞ্চালনায় বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গার্ডেন ভিউ ন্যাশনাল একাডেমির প্রধান শিক্ষক ফাতেমা। বিশেষ মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফয়সাল মুন,মঞ্জুর আহমেদ, মোসলেহ উদ্দীন, প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা মাওঃ নুরুউদ্দীন সাহেব, মাওঃ মাহবুবর রহমান, সালাহউদ্দীন চৌধুরী সুমন, মাওঃ শাহ্ মোঃ শরীফ উল্লাহ সহ প্রমূখ।

একইসাথে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা,অভিভাবকবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি ও বিশেষ আলোচক কৃতী শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং আগামী দিনে দেশের যোগ্য ও আলোকিত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। নাগরিক অধিকার ও নির্বাচন বিশ্লেষক সৈয়দ আবুল বরকত আকাশ বলেন, নতুন প্রজন্ম ক্রমশ বেপরোয়া ও বিনয়হীন হয়ে পড়ছে তাই তিনি অভিভাবক ও শিক্ষকদের আহবান করেন যে স্ব স্ব ধর্ম বর্ণ অনুসারে ছাত্রছাত্রী তথা সন্তানদের আদব শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। নম্র ভদ্র বিনয়ী ও নৈতিক চিত্তের মানুষ তৈরি করতে হলে অবশ্যই মানবিকতা এবং সৃষ্টির প্রতি মানুষ হিসেবে মানুষের প্রতি,ছাত্র শিক্ষকের প্রতি, শিক্ষক ছাত্রের প্রতি পরিবার সদস্যরা একে অপরের প্রডি শ্রদ্ধা সম্মান বিনয়ী আচরণ সহ আদবের চর্চা ও অনুশীলন এর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

পরিশেষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলতি ২০২৬ সালে গার্ডেন ভিউ ন্যাশনাল একাডেমি থেকে উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেয় অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ।

চট্টগ্রাম এলএ শাখায় ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ জারীকারক লোকমান চৌধুরীকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 5 October, 2026, 6:51 pm
চট্টগ্রাম এলএ শাখায় ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ জারীকারক লোকমান চৌধুরীকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের চেক ছাড়সহ বিভিন্ন কার্যক্রমে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন এলএ শাখার জারীকারক লোকমান চৌধুরী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি ভূমির মালিকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায়ের একটি প্রক্রিয়া গড়ে তুলেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, লোকমান চৌধুরী চেইনম্যান হিসেবে চাকরি শুরু করে পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে জারীকারক হন। জারীকারক হওয়ার পর থেকেই তার জীবনযাপন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এলএ শাখা থেকে যেসব এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের বরাদ্দ বা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেসব এলাকায় তাকে প্রায়ই জারীকারকের দায়িত্ব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পটিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প ঘিরে অভিযোগ
প্রায় এক বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে পটিয়ার গৌরালা, নাইখান ও জঙ্গলখাইন মৌজায় ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে জারীকারকের দায়িত্ব পান লোকমান চৌধুরী।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভূমির মালিকদের কাছে নোটিশ পৌঁছে দেওয়ার সময় তাদেরকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

পরবর্তীতে পটিয়ায় তার এক নিকটাত্মীয়ের একটি কক্ষে কথিতভাবে অফিসের মতো পরিবেশ তৈরি করে ভূমির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পাশাপাশি নিজের বাসায়ও তাদের ডেকে নিয়ে দ্রুত ক্ষতিপূরণের চেক ছাড় করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

ভূমির মালিকদের সঙ্গে ১৫ শতাংশ হারে অর্থ লেনদেনের চুক্তি করার অভিযোগও উঠেছে লোকমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগের সঙ্গে সার্ভেয়ার সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার দাবি
এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে এলএ শাখার একটি শক্তিশালী সার্ভেয়ার সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। তাদের দাবি, ভূমি অধিগ্রহণের মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে সিন্ডিকেটটি সক্রিয়ভাবে কাজ করে এবং ভূমির মালিকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি প্রতিবেদককে জানান, লোকমান চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

‘আমি একা খাইনি’—লোকমান চৌধুরী
অভিযোগের বিষয়ে লোকমান চৌধুরীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি একা টাকা নেননি এবং ঊর্ধ্বতন মহলকে ১০ শতাংশ দিতে হয়েছে বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, ভূমির মালিকদের সঙ্গে তিনি শুধু চুক্তি করেন। মাঠপর্যায়ের মূল কাজ করেন সার্ভেয়াররা। এ কাজে সার্ভেয়ার দেলোয়ার, অমিত মজুমদার, রাজীব ও সিরাজ জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।

লোকমান চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, ভূমির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার পর সার্ভেয়াররা তাদের কাছ থেকে ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ নেন। তিনি নিজেকে ‘ছোট কর্মচারী’ দাবি করে বলেন, তার প্রাপ্তি ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, ৮ ধারার নোটিশের ক্ষেত্রে নাজিরকে ‘ম্যানেজ’ করে নোটিশ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হয় এবং এ প্রক্রিয়াতেও অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে।

নাজিরের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে নাজির মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি প্রথমবার শুনছেন এবং কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ তদন্তের দাবি
এলএ শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এখন সেটিই দেখার বিষয়।

পরবর্তী পর্বে: লোকমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ, তার কথিত সম্পদ অর্জনের তথ্য, সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ারদের ভূমিকা এবং অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।