লালদিঘী গণহত্যা : নিহত মহিউদ্দিন শামীমের পরিবারের খবর রাখেনি কেউ
২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। কামরুল দুলু, সীতাকুণ্ড : নেত্রীকে বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গকারী সীতাকুণ্ড উপজেলার বাসিন্দা তৎকালীন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক মহিউদ্দিন শামীমের মায়ের কান্না থামেনী ৩২ বছরেও। এখনও প্রিয় সন্তানের ছবি বুকে নিয়ে ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠেন নিলুফা হক।
১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠের সমাবেশে যাবার পথে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে তৎকালীন পুলিশ সদস্যরা। গুলিতে জননেত্রী শেখ হাসিনার ক্ষতি হতে পারে এমন আশংকায় তৎক্ষণাৎ তাকে ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেন দলের নেতাকর্মীরা। ফলে পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হন তারা। এর মধ্যে ২৪ জন মারাও যান।
নিহতদের একজন সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা তৎকালীন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক মহিউদ্দিন শামীম। তিনি সীতাকুণ্ড পৌরসভাধীন মধ্যম মহাদেবপুর গ্রামের মৃত মৌলভী ফজলুল হক ও নিলুফা হকের পুত্র। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন তৎকালীন যুবলীগ নেতা অমল দাশ। গুলিতে তার মুখমন্ডল বিকৃত হয়ে যায়। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৩২ বছর। কিন্তু মহিউদ্দিন শামীম বা অমলের পরিবার কোনো সুখবর পায়নি। কেউ খোঁজ রাখেনি তাদের।
মাঝে ১৯৯৭ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একবার সীতাকুণ্ডে মহিউদ্দিন শামীমের বাড়িতে এসে তার বিধবা মাকে সান্তনা দিয়ে যান। কিন্তু আর্থিক বা মানষিক আর কোনো সমর্থন পায়নি তার পরিবার। এমনকি খুনের বিচারের সান্তনাও ছিল না।
এদিকে দীর্ঘ ৩২ বছর পর চাঞ্চল্যকর এই গণ হত্যার বিচারে অবশেষে আদালত ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আদালত মৃত্যুদন্ড রায় ঘোষণায় স্বস্তি প্রকাশ করে রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি করেছেন সীতাকুণ্ডের ছাত্রনেতা শহীদ মহিউদ্দিন শামীমের ছোট ভাই মেহেদী হাসান।
নিহত মহিউদ্দিন শামীমের ছোট ভাই মেহেদী হাসান ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, আমার ভাইয়ের হত্যার বিচারের জন্য ৩৩ বছর অপেক্ষা করতে হলো। আমার ভাই শামীম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিল। মিছিলে সবসময় অগ্রভাগেই থাকতো। বর্তমান প্রধান মন্ত্রীর জনসভায় গিয়ে স্বৈরাচার সরকারের গুলিতে শহীদ হয়। মারা যাওয়ার পর দুইতিন বছর অনেকে খবর রাখলেও এরপর কেবল ২৪ জানুয়ারি এলে সবাই গণহত্যার শহীদ পরিবারের খোঁজ করেন। নতুবা সারাবছর কেউ খবরও নেয় না।
তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের হত্যার রায় ঘোষণা হওয়ায় আমরা আনন্দিত। এখন রায়ের কার্যকর চাই। রায় শুনে কেঁদে ফেললেন তার মা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেন নিলুফা হক।
তিনি ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, একদিনের জন্যও ছেলেকে ভুলতে পারিনি আমি। আমি বিধবা ছিলাম। পরিবারের বড় ছেলে ছিল শামীম। তার ওপরই ভরসা ছিল সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে গিয়ে পুলিশের গুলি বুক পেতে নেয়। আর আমি চরম অসহায় হয়ে পড়ি। তার ছোট ছোট ভাই-বোন নিয়ে খুব দুর্দিনের মধ্যে ছিলাম আমি। কিন্তু কেউ খবর রাখেনি।


আপনার মতামত লিখুন