খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেলওয়ের কোয়াটার খাতায় শুন্য থাকলেও বাস্তবে রেলকর্মচীরই দখলে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২০, ৬:২২ অপরাহ্ণ
রেলওয়ের কোয়াটার খাতায় শুন্য থাকলেও বাস্তবে রেলকর্মচীরই দখলে

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ে বিভাগের একটি কোয়াটার দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর যাবত নথিতে শুণ্য (খালি) হিসেবে থাকলেও তা একজন রেলকর্মচারীই দখল করে বসবাস করছেন বিনা বরাদ্দে।

ওই রেল কর্মচারীর একই শহরে নিজস্ব বাসা-বাড়ি থাকলেও তিনি কোয়াটার দখল করে সেখানে অবস্থান করছেন আর বাসা ভাড়া দিয়ে নিজের পকেট ভরছে। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোয়াটারের ভাড়া বাবদ কোন অর্থই পাচ্ছে না।

রেলওয়ে ভূ-সম্পতি কর্মকর্তা (আইওডাব্লু) এর সহযোগিতায় তিনি ওই কোয়াটারটি দখল করে বসবাস করলেও নিয়মানুযায়ী তার বেতন থেকে এক পয়সাও কর্তন হচ্ছেনা। ফলে সৈয়দপুর রেলওয়ে বিভাগ তথা বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজস্ব হারাচ্ছে দীর্ঘ দিন থেকে।

সৈয়দপুর শহরের রেলওয়ে অফিসার্স কলোনী এলাকায় জেলা ডাকবাংলো সংলগ্ন ৬১০ নং ডাবল কোয়াটারটি মূলতঃ বরাদ্দ ছিল রেলওয়ে কারখানার জিওএইচ শপের তৎকালীন খালাসী মোস্তাক এর নামে। কিন্তু তিনি কোয়াটারটি ছেড়ে দিলে বিগত ২০০৯ সালের ২৩ নভেম্বর তারিখে এটি শুন্য তথা খালি ঘোষণা করে সৈয়দপুর রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (আইওডাব্লু)। এর পর প্রায় ১ বছর যাবত এটি খালিই ছিল। কিন্তু তারপর কোয়াটারটি কোন প্রকার বরাদ্দ না নিয়ে ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে দখল করেন জিওএইচ শপেরই গ্রেড-১ মিস্ত্রি মোঃ রফিকুল ইসলাম (টিকিট নং ২৫০৬৯)। তিনি তখন থেকে আজ অবধি সেখানে বসবাস করছেন। বিষয়টি বর্তমান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা অবগত হলেও কোয়াটারটি ওই রেল কর্মচারীর নামে বরাদ্দ প্রদান করা বা দখলমুক্ত করার বিষয়ে কোন ব্যবস্থাই নেননি। বরং তিনিই পরবর্তীতে ওই রেল কর্মচারীকে সহযোগিতা করেছেন সেখানে বিনা বরাদ্দে বসবাসের ক্ষেত্রে।

এ ব্যাপারে কথা হয় কোয়াটার দখলকারী রেলওয়ে কর্মচারী মোঃ রফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন কোয়াটারটি তার নামে বরাদ্দ নেই তবে তার শপের (জিওএইচ) একজন কর্মচারীর নামে বরাদ্দ রয়েছে। তার বদলে তিনি সেখানে বসবাস করছেন। এ ব্যাপারে আইওডাব্লুসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন।

সৈয়দপুর রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (আইওডাব্লু) মোঃ তহিদুল ইসলামকে মুঠোফোনে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, সৈয়দপুরে তো অনেক কোয়াটার কোন কার নামে বরাদ্দ বা কার দখলে আছে সে ব্যাপারে সঠিক ভাবে কিছু বলা যাচ্ছেনা। আমি এখন অফিসের বাইরে আছি।

সৈয়দপুরের রেলওয়ে কোয়াটার ও বাংলো বরাদ্দ ও বরাদ্দ বাতিল বিষয়ক কর্মকর্তা (ব্যারাক মাস্টার) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০০৯ সাল থেকেই অফিসার কলোনীর ৬১০ নং ডাবল কোয়াটারটি শুন্য রয়েছে। এটি জিওএইচ শপের মোস্তাক নামের একজন খালাসীর নামে বরাদ্দ ছিল। পরবর্তীতে তিনি তা ছেড়ে দিলে তখন থেকেই এটি আজ পর্যন্ত শুন্য হিসেবে খাতায় রয়েছে। কিন্তু সেখানে রফিকুল ইসলাম নামে একজন রেলওয়ে কর্মচারী আইওডাব্লুকে ম্যানেজ করে দখলে রেখে বসবাস করছেন। খালি কোয়াটার রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব মূলতঃ আইওডাব্লু’র। তিনি কোন কোয়াটারে কাকে থাকার জন্য দিচ্ছেন সে বিষয়ে আমাদের কিছুই জানার নেই।

একটি সূত্রের অভিযোগ আইওডাব্লু মোঃ তহিদুল ইসলাম সৈয়দপুরে যোগদানের পর থেকে প্রায় শতাধিক কোয়াটার ও বাংলো যেগুলো খালি হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে সেগুলো বিভিন্ন ব্যক্তিকে বসবাসের সুযোগ করে দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। সেসাথে কোন কোন কোয়াটারকে পরিত্যক্ত দেখিয়েও সেখানে বহিরাগতদের দখলে দিয়ে মাসোহারা আদায় করে চলেছেন।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ওয়ার্কস ম্যানেজার (ডাব্লুএম) ও কোয়াটার এবং বাংলো বরাদ্দ কমিটি (হাউজিং কমিটি) এর চেয়ারম্যান শেখ হাসানুজ্জামান জানান, রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি তথা জায়গা, কোয়াটার, বাংলো দেখা শোনার দায়িত্ব মূলতঃ আইওডাব্লু’র। আমরা শুধু আমাদের রেলওয়ে কারখানার কোন কর্মকর্তা কর্মচারী বরাদ্দ নিলে বা ছেড়ে দিলে সে বিষয়ে লিখিতভাবে জানাই। বরাদ্দ প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাপ্ত বেতনের ৪০ ভাগ বেতন কর্তন করা হয় বেতন থেকে। তাছাড়া সৈয়দপুরের বেশিরভাগ রেলওয়ে কোয়াটার ও বাংলো অনেক বড় বড় মানুষ দখল করে রেখেছে। তাদের বিরুদ্ধে নিউজ করেন রেলওয়ে কারখানার কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নিউজ করে কি হবে। কোন কোয়াটার যদি কোন কর্মচারী আইওডাব্লু ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে বা তাদের অজ্ঞাতে দখল করে বাস করে সেক্ষেত্রে আমার করার কিছুই নেই। কেননা তার বেতন থেকে কর্তনও করতে পারবোনা। আর আইওডাব্লু আমার অধিনে নয় তিনি ইএন বা রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা পাকশী রেলওয়ে বিভাগের অধিনে। তাই তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ আমরা নিতে পারিনা।

Feb2

প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। সেই কাজটি আপনাদের ভূমিকার ওপরই অনেকখানি নির্ভর করে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি জনমুখী প্রশাসন চায়, যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ সম্মানের সাথে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পাবে। এ বিষয়টি আপনাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ত্রৈমৈত্রী’ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ মানুষ যখন আপনাদের অফিসে আসেন কিংবা সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন তাঁদের বিষয়গুলো আইনগত উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি তাঁদের প্রতি মানবিক আচরণও জরুরি। সেবাগ্রহীতার প্রতি আপনাদের আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল ব্যবহার তাঁদের মনে রাষ্ট্র এবং সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। হয়তো এই বিষয়গুলো ছোট, কিন্তু জনমনে এর প্রভাব অনেক বেশি বলেই আমি মনে করি। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ের প্রতি আরও মনোযোগী এবং যত্নবান থাকার জন্য আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। সরকার এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনমনে এই বিশ্বাস গড়ে ওঠে। এই ব্যাপারেও আপনারা যত্নবান থাকবেন বলে আমি আশা করি। আমাদের মনে রাখা দরকার, প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়; এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম।

তিনি বলেন, দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যেসকল ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম, সেই ইশতেহারের পক্ষে দেশের জনগণ সমর্থন জানিয়েছে। সুতরাং, এটি এখন আর বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয়; এটি এখন দেশের জনগণের ইশতেহার। এটি এখন জনগণের জন্য সরকারের ইশতেহার। সুতরাং, এখন ইশতেহার বাস্তবায়নের পালা।

তিনি বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া আমাদের অঙ্গীকারগুলো এই মুহূর্তে আপনাদের সামনে আমি পুনরায় বিস্তারিত তুলে ধরতে চাই না। শুধু এটুকু বলবো, জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায়। সুতরাং, সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের সাফল্যই শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই আমি বলি, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকগণ হচ্ছেন মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক ‘অ্যাম্বাসেডর’।

বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সকল যৌক্তিক প্রত্যাশা সাধ্যমতো পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। এটি জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। আমরা কথায় কথায় বলি, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক।

তিনি বলেন, জনগণ যদি মালিক হয়, তাহলে এই মালিক অর্থাৎ সেবাগ্রহীতারা যখন অফিস-আদালতে তাঁদের সমস্যা নিয়ে যান, তাঁরা যেন আপনাদের সেবায় কিছুটা হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন; সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব বলেই আমি মনে করি।

একজন সাধারণ মানুষ যখন কোনো সরকারি অফিসে যান, তখন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট অফিস ব্যবস্থাপনার মধ্যেই পুরো সরকার ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করেন। ধরা যাক, একজন সাধারণ নাগরিক কিংবা একজন দিনমজুর যখন জন্মনিবন্ধন সনদ সংশোধন করার জন্য আপনাদের অফিসে যান, তিনি হয়তো জানেন না কোন টেবিলে যেতে হবে কিংবা কোন কর্মকর্তাকে কী বলতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে সেবাগ্রহীতা যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আন্তরিক ব্যবহার পান, তবে এটি রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি করে। আর যদি হয়রানির শিকার হন, তবে তিনি শুধু একটি সেবা থেকেই বঞ্চিত হলেন না, বরং রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়। সুতরাং, রাষ্ট্র এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে আপনাদের কার্যক্রম মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো সবার সবকিছু সমাধান করে দেওয়া সম্ভব নয়; কিন্তু ভুক্তভোগীর মনে অন্তত এই ধারণা জন্মানো জরুরি যে, আপনি কিংবা আপনার অফিস তাঁর সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আন্তরিক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের সমস্যা অসংখ্য হলেও সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর সুযোগ নিয়ে আমরা যদি তরুণ এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি, তবে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। এরাই বদলে দিতে পারবে আমাদের বাংলাদেশ।

যথাসম্ভব মানুষের উপকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। রাষ্ট্র এবং সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে জাগিয়ে রাখতে আমাদের সম্ভাব্য সকল উপায় বের করতে হবে। আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে। আমাদের মনে করা দরকার, একটি রাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ইউনিট হলো একটি পরিবার। একইভাবে অনেকগুলো পরিবারের সম্মিলনই হলো আমাদের রাষ্ট্র। সুতরাং, পরিবারগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত থাকলে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধও সুসংহত হয়।

দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আপনারা নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। সরকার আপনাদের যেকোনো আইনগত এবং মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।

জুনের মধ্যে ব্যারাকে ফিরবে সব সেনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
জুনের মধ্যে ব্যারাকে ফিরবে সব সেনা

আগামী জুন মাসের মধ্যে মাঠপর্যায়ে থাকা সব সেনা সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় নেওয়া হয় এ সিদ্ধান্ত। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেনা সদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে আগামী ৬ জুন থেকে। শুরুতে দূরবর্তী জেলা থেকে ব্যারাকে ফেরানো হবে সেনা সদস্যদের। পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলা থেকে তুলে আনা হবে তাদের। এভাবে জুন মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হবে মাঠ থেকে।

গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘নির্বাচনের পর সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আর বহাল নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে তারা।’

এর আগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে সেনা নামিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনে ওই বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পুলিশ বাহিনী ভেঙে পড়ায় মাঠেই থেকে যায় সেনাবাহিনী। ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনেও দায়িত্ব পালন করেছেন সেনাসদস্যরা।

সারা দেশে মাঠপর্যায়ে এখনো ১৭ হাজার সেনাসদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। মাঠপর্যায় থেকে সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে চূড়ান্ত প্রত্যাহার করতে বিভিন্ন সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তার কারণ হিসেবে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে করতে সদস্যরা ক্লান্ত, তাদের বিশ্রামের প্রয়োজন। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের চূড়ান্তভাবে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বাসের পর এবার বাড়লো লঞ্চের ভাড়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
বাসের পর এবার বাড়লো লঞ্চের ভাড়া

জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাসের পর বাড়লো লঞ্চভাড়াও। একজন যাত্রীর লঞ্চভাড়া কম দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ১৮ পয়সা ও বেশি দূরত্বে ১৪ পয়সা বেড়েছে। কম দূরত্বে লঞ্চের ভাড়া ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) লঞ্চের ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

লঞ্চভাড়া ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ২ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে ১৮ পয়সা বেড়ে ২ টাকা ৯৫ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ভাড়া ২ টাকা ৩৮ পয়সা থেকে ১৪ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৫২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জনপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ২৯ টাকা থেকে ৩ টাকা বাড়িয়ে ৩২ টাকা করা হয়েছে।

নতুন ভাড়া মঙ্গলবার (৫ মে) থেকেই কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (নৌরুট, পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৯’ এর বিধি ২৭ অনুযায়ী সরকার নৌযানে যাত্রী পরিবহনের জন্য জনপ্রতি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন যাত্রী ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে।

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। প্রতি লিটার ডিজেল ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বাড়ে। জ্বালানি তেলের নতুন দাম ১৯ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়। এরপরই গণপরিবহনের ভাড়া বাড়াতে তৎপর হয়ে ওঠেন মালিক ও শ্রমিকরা। দফায় দফায় সরকারের সঙ্গে মিটিং করেন তারা।

পরে গত ২৩ এপ্রিল ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ওইদিনই ভাড়া বাড়িয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওইদিন থেকে কার্যকর হয় নতুন ভাড়া।