নিউজিল্যান্ডে যুবাদের সিরিজ জয়
.jpg
সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে মাহমুদুল হাসান জয়ের অপরাজিত ১০৩ রান, তানজিদ হাসান তামিম ও তৌহিদ হৃদয়ের অর্ধশতকে নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দল।
এ জয়ের ফলে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই ৫ ম্যাচের সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারীরা।
প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২২৩ রানের পুঁজি পায় নিউজিল্যান্ড। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটসম্যানদের দাপুটে ব্যাটিংয়ে ৭৯ বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশের যুবারা।
লিঙ্কনে বাংলাদেশের ইনিংসে আজও পুনরাবৃত্তি ঘটল যেন দ্বিতীয় ওয়ানডের । রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারানো। তামিম-জয়ের ব্যাটে প্রতিরোধ আর শেষদিকে জয়-হৃদয়ের দৃঢ়তা জয় নিশ্চিত। আগের দিনের মতো সবই হলো তাই। তবে আগের দিনকে ছাপিয়ে আজ ছিল বেশি কিছু ব্যতিক্রম ঘটনাও।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১ রানের জন্য শতক বঞ্চিত হয়েছিলেন জয়। তবে আজ আর তা হতে দেননি। যদিও শঙ্কা জেগেছিল আজও শতক হাতছাড়ার। বাংলাদেশের প্রয়োজন যখন ৫ রান, জয়ের সেঞ্চুরির জন্য দরকার ছিল তখন ৭ রান। এমন অবস্থায় আজও তার শতক হাতছাড়ার শঙ্কা থাকলেও তা আর হতে দেননি তিনি। পরপর দুই বলে বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শতক পূর্ণ করেন তিনি। সাথে নিশ্চিত করেন দলের সিরিজ জয়ও।
৯৫ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক পূর্ণের পথে ১৬ চার ও ১ ছক্কা হাঁকান তিনি। তার সাথে তৃতীয় উইকেটে ১২৮ রানের জুটি গড়ার পথে অর্ধশতকের দেখা পান হৃদয়ও। শেষ পর্যন্ত জয় ১০৩ ও হৃদয় অপরাজিত থাকেন ৫১ রানে।
বার্ট সার্টক্লিফে এর আগে টস জিতে কিউইদের প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। লিলম্যান ও ডিকসন ছাড়া পুরো ইনিংসে প্রত্যাশামত ব্যাট করতে পারেনি কিউই আর কোনো ব্যাটসম্যান।
লিলম্যান ও ডিকসনের মধ্যকার নবম উইকেটের অবিচ্ছিন্ন ৬০ রানের জুটিতে ২২৩ রানের পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। দলকে লড়াইয়ে ধরে রাখার পথে অপরাজিত ১১৬ রানের ইনিংস খেলেন লিলম্যান। ৭ চার ও ৫ ছক্কায় এ রান করেন তিনি। কিউইদের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেন দশ নম্বরে ব্যাট করতে আসা ডিকসন। তিনি খেলেন অপরাজিত ২৩ রানের ইনিংস।
সফরকারী বোলারদের মধ্যে তানজীম হাসান সাকিব, অভিষেক দাস, হাসান মুরাদ প্রত্যাকেই নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া শরিফুল ইসলাম পান এক উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ১১ রানে অনিক সরকার আউট হলেও ম্যাচে এর প্রভাব পড়তে দেননি তামিম ও জয়। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে পরিস্থিতি সামাল দেন তারা। দু’জনে মিলে গড়েন ৯০ রানের জুটি।
অর্ধশতক পূর্ণের পর আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে থাকা তামিমকে থামান অশোক। ডিকসনের হাতে ক্যাচ দিলে ব্যক্তিগত ৬৫ রানে শেষ হয় তামিমের ইনিংস। ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৬৪ বল থেকে এ রান করেন তিনি। তার বিদায়ে দলীয় ১১১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় সফরকারীরা।
তামিমের সাজঘরে ফেরার পর তৌহিদ হৃদয়ের সাথে জুটি গড়েন জয়। অবিচ্ছিন্ন থেকে দুজনে মিলে যোগ করেন ১২৮ রানের জুটি। আর এতেই ৭ উইকেটের জয় পায় সফরকারীরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ্ব ১৯ দল: ২২৩/৮ (৫০ ওভার)
লিলম্যান ১১৬* ডিকসন ২৩*; অভিষেক ১০-২-২৮-২, সাকিব ১০-১-৪৬-২, হাসান ১০-১-৫৬-২।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দল: ২২৯/২ (৩৬.৫ ওভার)
জয় ১০৩*, তামিম ৬৫, হৃদয় ৫১*; অশোক ৭-০-৪০-১।
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: পাঁচ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে।


আপনার মতামত লিখুন