কক্সবাজারে সেন্টমার্টিনে ট্রলারডুবি : ১২ নারী ও তিন শিশুর মৃত্যু
২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। চট্টগ্রাম ডেস্ক : কক্সবাজারে ট্রলার বোঝাই করে প্রায় ১৩০ জন যাত্রী নিয়ে মালেয়শিয়া যাবার পথে টেকনাফে বঙ্গোপসাগরের ছেঁড়াদ্বীপের কাছেই ডুবে গেছে ট্রলারটি।
এতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী। নিহতদের মধ্যে ১২ জন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে এবং সবাই রোহিঙ্গা বলে জানা গেছে।
ট্রলার ডুবির ঘটনায় এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছে জানিয়ে এখন পর্যন্ত ৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বললেন সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার নাইম উল হক।
তিনি বলেন, সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সোমবার গভীর রাতে সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রলার ডুবে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় ডুবুরি, নৌ বাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল।
জানা যায়, গতকাল রাতে দালালের হাত ধরে টেকনাফ উপকূল দিয়ে দুটি ট্রলারে প্রায় আড়াইশ যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে সাগরের পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ১৩০ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে যায়। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সেন্টমার্টিন নৌ বাহিনীর অফিসার ইনচার্জ লে কমান্ডার এস এম জাহিদুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাতে টেকনাফের নোয়াখালী নামক ঘাট থেকে ট্রলারটি ছেড়েছিল। স্থানীয় ২ জন দালালের হাত ধরে প্রায় ১৩০ জন যাত্রী নিয়ে মালেয়শিয়া যাবার পথে টেকনাফের ছেঁড়াদ্বীপের কাছে ট্রলারটি ডুবে যায়।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০ টা পর্যন্ত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার এবং পাশাপাশি ৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করার তথ্য নিশ্চিত করে নিখোঁজদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে বললেন এ কর্মকর্তা।
উদ্ধার হওয়া জীবিত কয়েকজন রোহিঙ্গার সাথে কথা হলে তারা জানায়, দালালদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে বের হয়ে তারা মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। ডুবে যাওয়া ট্রলারটিতে ২ দালালও ছিলো। তারা লাইফ জ্যাকেট পড়ে থাকায় ট্রলার ডুবির সাথে সাথেই তারা সাঁতরে পালিয়ে যায়।


আপনার মতামত লিখুন