চলন্ত সিএনজি থেকে ছুড়ে ফেলা শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিল পুলিশ
২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। রাজীব প্রিন্স : চট্টগ্রামে সাত মাস বয়সী এক শিশু কণ্যাকে চলন্ত সিএনজি অটোরিকশা থেকে কবরের পাশে ছুঁড়ে ফেলে পালিয়ে গেছে অজ্ঞাত ব্যাক্তি। তবে এক পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় বেঁচে গেছে এ ছোট্ট শিশুটির প্রাণ।
জানা যায়, এসময় ঘটনাস্থলেই কর্তব্যরত ছিলেন নগরীর খুলশী থানার এএসআই হিরণ মিয়া। ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে গিয়ে শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ওসি প্রণব চৌধুরীর নির্দেশে নিজের কোলে নিয়ে হিরণ ছুটলেন চমেক হাসপাতাল। বর্তমানে শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধিন রয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ) বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিটে একটি পোস্ট করা হয়। 
পোস্টে হায়রে মানবতা হায়রে মাতৃত্ব শিরোনাম দিয়ে এতে লেখা হয়, আজ দুপুর অনুমান একটার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের আওতাধীন খুলশী থানার পলিট্যাকনিকেল এলাকায় মডেল স্কুলে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব¡ পালন করছিল খুলশী থানার এএসআই হিরন মিয়া।
দায়িত্ব পালন কালে হিরণ হঠাৎ দেখতে পায় দ্রুতগামী একটি সিএনজিচালিত ট্যাক্সির ভিতর থেকে ছোট বস্তু সদৃশ কিছু একটা ফেলে দিয়ে সিএনজি ট্যাক্সিটি চলে যাচ্ছে। সাথে সাথে হিরন ঘটনাস্থলে এগিয়ে যায় এবং সেখান থেকে অনুমান ৭/৮ মাসের একটি বাচ্চা মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন।
তাৎক্ষণিকভাবে তিনি অফিসার ইনচার্জ খুলশী থানার সাথে আলোচনা করে বাচ্চাটিকে সুচিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যায় এবং উত্তর বিভাগের পক্ষ থেকে বাচ্চাটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে ধীরে ধীরে বাচ্চাটি সুস্থ হয়ে ওঠে। বর্তমানে সে হাসপাতালে ৮ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে।
এ.সি.আই হিরনের এই মানবিকতা যেন সকলকে স্পর্শ করে, আর মুজিববর্ষের অঙ্গীকারে আমরা যেন সকলে হয়ে ওঠে মানবতার বাতিঘর।
হাসপাতালে শিশুটির চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে চমেকের ৮ নং ওয়ার্ডে ছুটে যান খুলশী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী। এসময় তিনি বলেন, শিশুটির তাৎক্ষনিক চিকিৎসা দেওয়ায় বর্তমানে তার অবস্থা অনেকটা উন্নতির দিকে। তিনি আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শিশুটিকে ছুঁড়ে ফেলে পালিয়ে যাওয়া সিএনজি অটোরিকশাটি শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।


আপনার মতামত লিখুন