খুঁজুন
, ,

কুমিল্লার দুর্গাপুরে আপন বড়ভাই ও ভাতিজাকে ফাঁসাতে পুকুরে বিষ!!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 20 February, 2020, 8:56 am
কুমিল্লার দুর্গাপুরে আপন বড়ভাই ও ভাতিজাকে ফাঁসাতে পুকুরে বিষ!!

নিজস্ব প্রতিবেদক : কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ২নং উত্তর দুর্গাপুর কৃষ্ণনগর ঘোড়ামারা এলাকার আঃ জলিল মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন জানান, তিনি পেশায় একজন মোটর পার্টস ব্যাবসায়ী। আলেখারচর মোড়ে জসিম মবিল হাউজ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী। অল্প পুঁজির ব্যবসা বেশী বাকী দেয়ার সামর্থ্য নেই তার। আর নিজেকে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতা দাবীকারী আলমগীর হোসেন তারই আপন চাচা। যিনি এর আগেই ২০হাজার টাকা দোকান বাকী নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া টাকা না দিয়েই নতুন করে বাকী চেয়েছেন। এতে অপারগতা প্রকাশ করে জসিম। ভাতিজার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে চাচা আলমগীর। কিছুদিন পর চাচা আলমগীর আবারো পৈতৃক জমির কয়েকটি কাগজ চায় জসিমের দোকানে গিয়ে তার কাছে । পিতার অনুমতি ছাড়া কাগজ দিতে পারবে না জানিয়ে দেয় সে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানের সামনে গালাগাল করে জসিম কে মারতে উদ্যত হয় কয়েকবার, এরপর প্রকাশ্যেই হুমকি দিয়ে আসে ভাতিজাকে দেখে নেয়ার।

পরে গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ রাত আনুমানিক ১০টায় ব্যবসায়ীক কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে চাচা আলমগীর ও তার মেয়ের জামাই রহম আলীসহ ৭/৮ জনের একটি দল লোহার পাইপ, চাপাতি ও হকিষ্টিকসহ কালো হাইচ গাড়ি থেকে নেমে পথরোধ করে দাড়ায় জসিমের। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু করে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও মারধর করে রক্তাক্ত করে মৃত ভেবে তাকে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। পথচারীরা গুরুতর আহত অবস্থায় জসিম কে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। খবর পেয়ে পরিবার ও বাড়ির লোকজন হাসপাতাল যায়। এঘটনায় জসিমের মাথায়, পিঠে এবং বাহুতে বেশকয়েকটি সেলাই দেয়া হয়।

এর ৩দিন পর ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে জসিমের স্ত্রী মরিয়মের নেসা বাদী হয়ে চাচা শশুর আলমগীর, রহম আলী, পারভেজ, ফাহিম ও জাহিদ সহ অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে (মামলা নং-৫৫/১২, ২০১৯ইং)।

এরপর গত ১ জানুয়ারি দুপুরে এ মামলার ২নং স্বাক্ষি দুর্গাপুর চৌধুরী বাড়ির আবদুল মান্নান এর ছেলে রাসেলের উপর হামলা করে আলমগীর ও তার বাহিনী। মামলায় স্বাক্ষী হওয়ার কারনে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করা হয় রাসেলকে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাসেল বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে কোতোয়ালি মডেল থানায়।

সুস্থ হয়ে বাড়ি আসার পর থেকে নানা ভাবে হুমকি ধমকি দিতে থাকে বড় ভাই জলিল ও ভাতিজা জসিমকে, তার বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাচা আলমগীর হোসেন। প্রকাশ্যে হুমকি দিতে থাকে আবারো হামলা, হত্যা নচেৎ মাদক অস্ত্র বা অন্য কোন মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর।

মুর্তিমান আতংক ছোট ভাই আলমগীরের ভয়ে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুক্তভোগী পরিবারটি স্থানীয় গন্যমান্যদের সাথে আলোচনা করে, তাদের পরামর্শে একটি জিডি করেন।

জসিমের পিতা জলিল মিয়া বাদী হয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারী কোতোয়ালি থানায় এ সাধারণ ডাইরিটি করেন। যাতে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয় ছোট ভাই আলমগীর ও তার লোকজন হুমকি দিচ্ছে তাকে ও তার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর এবং হামলার । এছাড়াও এসকল মামলা ও জিডির অনুলিপি জেলা পুলিশ সুপার কুমিল্লা, রেঞ্জ ডিআইজি চট্টগ্রাম এবং আইজিপি ও র‌্যাব-১১ বরাবরেও প্রেরণ করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী জসিম কান্নারত কন্ঠে আরো জানায়, এত কিছুর পরেও চাচার চক্রান্তের হাত থেকে শেষ রক্ষা পেলাম না। শুধু সেই নয়, বয়োবৃদ্ধ অসহায় পিতা সহ চাচার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা, অভিযোগ ও জিডির স্বাক্ষীরাও মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছে । সামান্য কারনে স্থানীয় প্রভাবশালী আপন চাচা আলমগীরের কুটকৌশল চক্রান্ত আর হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে নিরপরাধ নির্দোষ বিচারপ্রার্থী মানুষগুলোকেই!

ভুক্তভোগীদের দাবী, চাক্রান্তের পরিকল্পনা সফল করতে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারী ও এর আগের রাতে চাচা আলমগীর হোসেন দুর্গাপুর ইউপির শংকরপুরে তার নিজ ফিসারী তানভীর মৎস খামারের পুকুরটি থেকে বেশীর ভাগ মাছই ধরে তা বিক্রি করে দেন। যা স্থানীয় কয়েকজন সচক্ষে দেখেছেন। আর ঐ রাতে মাছ ধরা ও বিক্রির কাজে সহযোগীতা করে কৃষ্ণপুর ঘোড়ামারা এলাকার ফজলুর রহমানের ছেলে সেলিম ওরফে সেইল্লা, জামাই রহম আলী, ছেলে তানভীর হোসেন, দুর্গাপুর এলাকার মাছ ব্যবসায়ী তাজু মিয়া সহ কয়েকজন। পরদিন ১৪ইফেব্রুয়ারী আনুমানিক মধ্য রাতে বা ভোর রাতে অল্পকিছু (আনুমানিক ৪-৫ মোন) মাছ অবশিষ্ট থাকা পুকুরটিতে দু’বোতল বিষ দেয়া হয়। যে বোতল দু’টো সহ উদ্ধার করা হয়েছে। সকালে মাছ মরে ভেসে ওঠে পানিতে, হৈচৈ শুরু হয় পুকুরপাড়ে। খামার মালিক আলমগীর, জামাই রহম আলী, সেলিম, ও আলমগীরের ছেলে তানভীর সহ কয়েকজন পুকুর পাড়ে মরা মাছগুলো তুলে রাখেন। স্থানীয় ফাঁড়ি কিংবা থানা পুলিশকে জানানোর আগেই খবর দেয়া হয় সাংবাদিকদের।

সকাল আনুমানিক ১০টায় আলমগীর হোসেন ও উপস্থিত স্বাক্ষীদের কয়েকজনের বরাত দিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানানো হয় খামার কর্মচারী ও মালিকের ছেলে তানভীরসহ স্বাক্ষীগন নিজ চোখে দেখেছেন আসামীদের। বাদীর দাবী পূর্ব শত্রুতার জেরে ১৪ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টায় পুকুরে বিষ দিয়েছে খামার মালিক আলমগীরের বড় ভাই জলিল, ভাতিজা জসিম, সুজন দাশ, রাসেল ও বাবুল সহ ৪/৫জন। পরে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নাজিরা বাজার ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মাহমুদ হাসান রুবেল সহ সঙ্গীয় পুলিশ।

এ ঘটনায় ঐ দিন বিকেলে খামার মালিকের মেয়ের জামাই রহম আলী বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় উল্লেখিত আসামীদের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ২২ থেকে পঁচিশ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে মর্মে। বিভিন্ন পত্রিকা ও মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হয় খবরটি। এরপর থানায় মামলাটি রেকর্ডও করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযোগে বর্নিত সময় অনুসারে ঐ রাতে নাজিরা বাজার ফাঁড়ির ট্রহল পুলিশের ব্যবহৃত পিকাপ গাড়িটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুকুরের অদুরেই সামনে মহাসড়কে সকাল সারে ৮টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। এসময় ফোর্সসহ এস আই মাহবুব ও এসআই দয়াল হরি গাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। পুকুর পাড়ে খামারের লোকজন পুলিশকে দেখলেও পুলিশকে কিছুই জানানো হয় নি। পরে গাড়ি ঠিক করিয়ে ফাঁড়িতে আসার ঘন্টা খানেক পর জানতে পারেন পুকুরে বিষ দেয়ার ঘটনা। এসব কথা নিজেরাই প্রতিবেদকের সামনে বলাবলি করছিলেন নাজিরা বাজার ফাঁড়ি পুলিশের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী জলিল মিয়া, জসিম, রাছেল, সুজন দাশ সহ তাদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, মামলা রেকর্ড হওয়ার পর থেকেই আসামীদের পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিতে, আলমগীর ও তার বাহিনীর লোকজন সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে এলাকায় ট্রহল দিতে থাকে। নিজেরাই মরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার হুমকি দিতে থাকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের। ভয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে উল্লখিত ভুক্তভোগীরা। আদালতে হাজির হয়ে মিথ্যা মামলায় জামিন নিতেও পারছেন না, পথে বা আদালত গেইটের বাইরে সন্ত্রাসী হামলার আশংকায়। এমন ভয়ংকর চক্রান্ত ও উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয় এমপি ও জেলা সুপার সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সহায়তা প্রার্থনা করে আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

এসব বিষয়ে জানতে মামলার বাদী রহম আলীকে ফোন দিলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘কোথায় আছেন আমি দিঘীরপাড় আছি আসুন আপনার সাথে সাক্ষাতে কথা বলবো’। পরে রহম আলী ও আলমগীর হোসেন সহ আরো দু’জন ক্যান্টনমেন্ট মার্কেটের কফি হাউজে এসে ঐ প্রতিবেদককে ফোন দেন। এসময় সাংবাদিকের সাথে আরো দু’জন সিনিয়র সাংবাদিক সহ কফি হাউজে সাক্ষাৎ করেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আলমগীর হোসেন পুকুরে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি এড়িয়ে যান বারবার। তিনি বড়ভাই ও ভাতিজা বৌ ও রাছেলের দায়েরকৃত পূর্বের মামলা ও অভিযোগ গুলো মিথ্যা বলে দাবী করেন। এসময় সেখানে উপস্থিত এক প্রতিবেদক কে তিনি প্রস্তাব করেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও অভিযোগ গুলো তুলে নিলে এ বিষয়টিও সমাধান করার জন্য রাজি আছেন তিনি। এসময় পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মারার ঘটনায় সঠিক সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানিয়ে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব ও করেন তিনি। এসব আলোচনার অডিও রেকর্ড সহ রেষ্টুরেন্টের সিসি টিভি ফুটেজও এর প্রমাণ রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাজিরা বাজার ফাঁড়ি পুলিশের এসআই মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়েছি আনুমানিক ৪-৫মোন মরা মাছ পুকুরপাড়ে পরে ছিলো। তাৎক্ষণিক ভাবে স্বাক্ষীদের দেয়া তথ্যের যথেষ্ট গড়মিল রয়েছে। পরিক্ষা নিরিক্ষার জন্য মরা মাছের নমুনা, পানি ও দুটো খালি কাচের বোতল উদ্ধার করে ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে, অন্য কোন রহস্য থাকলে তা তদন্তে বেড়িয়ে আসবে।

উল্লেখিত ঘটনার দিন গভীর রাত থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত পুকুরের সামান্য দুরে পুলিশ ভ্যানটি খারাপ হওয়া ও সেখানে সকাল ৮টা পর্যন্ত অবস্থানের বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনিসহ এসআই দয়াল হরি।

Feb2
Feb2

রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন, চার ককটেল বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 10:44 pm
রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন, চার ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও যাত্রাবাড়ীতে চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মিরপুর-১ নম্বরে অভিজাত পরিবহন এবং প্রায় একই সময় পল্লবীর ১১ নম্বরে শিখড় পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া রাত ৮টার দিকে বাড্ডায় আরেকটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পৃথক এই তিন ঘটনাস্থল ও এর পাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর তল্লাশি ও টহল জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। সেখানে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়।

মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, দুর্বৃত্তরা মিরপুর-১ এ অভিজাত পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বাসের একটি সিট পুড়ে গেছে। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির বলেন, যাত্রীবেশে বাসে উঠে ১১ নম্বরে বাসে আগুন লাগিয়ে দুর্বৃত্ত নেমে যায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ফায়ার সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। এতে কেউ হতাহত হয়নি।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী মোড়ে চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে বিল্লাল নামে এক রিকশা চালক আহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ফ্লাইওভার থেকে দুর্বৃত্তরা এই চারটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কন্ট্রোলরুম থেকে বেতার বার্তায় সব থানা পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠে থাকতে বলা হয়েছে সব কর্মকর্তাকে। ডিএমপির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, কোনো এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা যাতে একটি ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দিতে না পারে পারে সেজন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। ইউনিফর্মের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক গোয়েন্দা সদস্য মাঠে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগরের সাত স্থানে অন্তত ১২টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ছাড়া একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে আজ শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া শাখা থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর এলাকা ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, ফ্লাইওভার এবং প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর পাশাপাশি ঢাকা শহরের প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে কড়া নজরদারি চালানো হয়। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

ডিএমপি জানায়, নগরীর নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া ‘পিকেট ডিউটি’ জোরদার করার কথা জানিয়ে পুলিশ বলছে, নগরজুড়ে গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়ে টহলের পাশাপাশি হেঁটে টহলদলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া কোনো বড় ধরনের অপরাধ বা নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে ডিবি, সিটিটিসি এবং এপিবিএন টিম মোতায়েন রাখার কথা জানায় ডিএমপি।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন বলেন, যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করবে যেভাবেই হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য সতর্ক অবস্থায় মাঠে রয়েছেন।

ককটেল–বাসে আগুনের ঘটনায় ২ মামলা

গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর অন্তত সাতটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ এবং কাফরুলে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটক ও চৌরাস্তা মোড়ে অন্তত চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ঘটনায় একজন অটোরিকশাচালক আহত হন।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে একটি মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় মো. রায়হান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ককটেল ছোড়ার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, কাফরুল থানার সামনে বাসে আগুনের ঘটনায় নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, বাসে আগুন দেওয়ার নির্দেশদাতাসহ সাতজনের নামে মামলা করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, আগারগাঁওয়ে ককটেল বিস্ফোরণের কোনো আলামত না পাওয়ায় মামলা হয়নি। তবে এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অপরদিকে মহাখালীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের এখনও শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশের গুলশান বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, মহাখালী ফ্লাইওভারের ঢালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়াও শুক্রবার মালিবাগ, মগবাজার, বাবুবাজার ও রামপুরায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ৩ জন আটক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 10:29 pm
সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ৩ জন আটক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও দু’জনকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তিনি জানান, অপ্রতিম নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।

ফাহিম আহমেদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক। তিনি বলেন, তুহিন ও আনাসকে আটকের পর ফাহিমকে আটক করা হয়। আটক তুহিনের বাড়ি সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় অপ্রতিমের সঙ্গে এক তরুণকে দেখা যায়। ওই ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

এর আগে, শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অপ্রতিমের মুঠোফোনের অবস্থান শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত হয়। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।

আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মরদেহের সঙ্গে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।

অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। তার মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটির রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

খেলাধুলার চর্চা বাড়িয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়তে হবে : ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 9:38 pm
খেলাধুলার চর্চা বাড়িয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়তে হবে : ভূমি প্রতিমন্ত্রী

শারীরিক ও মানসিকভাবে সুদৃঢ়, সুশৃঙ্খল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

তিনি বলেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুদৃঢ় প্রজন্ম গড়তে ক্রীড়ার বিকল্প নেই। ক্রীড়া শুধু শরীরচর্চার মাধ্যম নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা, দায়িত্ববোধ ও প্রতিযোগিতার ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে ‘শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে লাখো শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে দেশব্যাপী ক্রীড়াঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। এর ধারাবাহিকতায় বন্দরনগরীর স্কুল শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন সময়োপযোগী উদ্যোগ।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নতুন প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুদৃঢ় এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্ট শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, নিয়মিত খেলাধুলার মধ্য দিয়ে সন্তানরা মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকবে। তারা শৃঙ্খলাবোধ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বেড়ে উঠবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে।

তিনি জানান, টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার পর চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। প্রায় ৬০ থেকে ৬৫টি স্কুল অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করলেও বাছাই শেষে ৪৮টি স্কুলের দলকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুল পর্যায়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে এবং সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের উঠে আসার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের স্কুল পর্যায়ের ফুটবলকে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের সন্তানরা শুধু ভালো শিক্ষার্থী নয়, ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে খেলতে গিয়ে একজন শিশু শেখে কীভাবে জয়কে গ্রহণ করতে হয়, পরাজয়কে মেনে নিতে হয় এবং দলগতভাবে এগিয়ে যেতে হয়।

আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের স্কুল পর্যায়ে এত বড় পরিসরে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।

ফাইনাল খেলায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ বলেন, স্কুল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিক্ষার্থী খেলাধুলা থেকে দূরে সরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেমসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার আসক্তির দিকে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে উঠতি বয়সী অনেক তরুণ-তরুণী মাদকের মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় পড়ালেখার পাশাপাশি সন্তানদের মাঠমুখী করা অত্যন্ত জরুরি।

টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’ ঘিরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ক্ষুদে ফুটবলার, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।

ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ক্রীড়ানুরাগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচ শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি, প্রাইজমানি ও অন্যান্য পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।