খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ সিন্দুকে সাড়ে ২৬ কোটি টাকা, ১ কেজি স্বর্ণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
৫ সিন্দুকে সাড়ে ২৬ কোটি টাকা, ১ কেজি স্বর্ণ

ক্যাসিনোকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার পুরনো ঢাকার দুই ভাই এনামুল হক এনু ও রূপনের যে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়েছে সেখানে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ নগদ টাকা ও প্রায় ১ কেজি ওজনের স্বর্ণ উদ্ধার করেছে র‍্যাব।

অভিযানে বাড়িটি থেকে এক কোটি টাকার সোনা, পাঁচ কোটি টাকার এফডিআর, ডলারসহ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা এবং অনেক ক্যাসিনো সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযান শেষে মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিককের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব তথ্য দেন র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রকিবুল হাসান।

অভিযানের সমাপ্ত ঘোষণা করে রকিবুল হাসান বলেন, গতকাল রাত থেকে বাসাটিতে তল্লাশি চালিয়ে ২৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অভিযানে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। বিপুল পরিমান অর্থের বাইরে ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার এফডিআর উদ্ধার হয়েছে বলে ব্রিফিয়ে জানানো হয়।

এনামুল-রুপনদের অপর একটি বাসায় অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও তেমন কোনো আলামত না পাওয়ায় সেই অভিযান স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

এক প্রশ্নের জবাবে রকিবুল হাসান বলেন, ‘এই টাকা কিসের, তা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে বের করতে হবে। আমরা মাত্রই সন্ধান পেলাম। তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হবে।’

এর আগে গতকাল গভীর রাত থেকে পুরান ঢাকার লালমোহন সাহা স্ট্রিট রোডের ১১৯/১ বাসাটিতে অভিযান চালাতে যায় র‌্যাব। অভিযানে এনামুল হক ও রূপন ভূঁইয়ার ছয়তলা বাসাটির নিচতলার ছোট্ট বাসা থেকে পাঁচটি সিন্দুক উদ্ধার করা হয়। এসব সিন্দুতেই ছিল কোটি কোটি টাকা। সিন্দুকে এসব টাকা থরে থরে সাজানো ছিল। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানের সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

এনামুল হক ও রূপন ভূঁইয়া এখন কারাগারে। ক্যাসিনো কারবারি এই দুই ভাইকে গত জানুয়ারি মাসে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত বছরের সেপ্টম্বরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর এই দুই ভাই আলোচনায় আসেন। শুরু থেকেই তাঁরা পলাতক ছিলেন। পরে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি তাদের গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর এনামুল, রূপন এবং তাঁদের দুই কর্মচারীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে কোটি টাকা এবং ৭৩০ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়। এরপর সূত্রাপুর ও গেন্ডারিয়া থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।

এনামুল ও রূপন গত ছয় থেকে সাত বছরে পুরান ঢাকায় বাড়ি কিনেছেন কমপক্ষে ১২টি। ফ্ল্যাট কিনেছেন ৬টি। পুরোনো বাড়িসহ কেনা জমিতে গড়ে তুলেছেন নতুন নতুন ইমারত। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, এই দুই ভাইয়ের মূল পেশা জুয়া। আর বাড়ি কেনা ছিল নেশা।

Feb2

আসলাম ও সরোয়ারের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে আপিল শুনানি ৯ জুন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
আসলাম ও সরোয়ারের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে আপিল শুনানি ৯ জুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে করা পৃথক আপিল শুনানির জন্য আগামী ৯ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে স্থগিত থাকা ভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথের জন্য বিএনপির এই দুই প্রার্থীর করা পৃথক আবেদন নথিতে রাখা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনে সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তাঁদের ফলাফল প্রকাশ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

নির্বাচনের আগে হাইকোর্টের আদেশে চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। অন্যদিকে হাইকোর্টে রিট করে প্রার্থিতা ফিরে পান চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর।

আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকার হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী। অন্যদিকে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তাঁরা এ আবেদন করেন।

জামায়াতের এই দুই প্রার্থীর করা পৃথক লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। পৃথক আদেশে বলা হয়, যদি তাঁরা (আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীর) নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে সফল হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ (যতটুকু প্রার্থী হিসেবে তাঁদের জন্য প্রযোজ্য) এ–সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

লিভ টু আপিল মঞ্জুর হওয়ার পর জামায়াতের এই দুই প্রার্থী গত ৩১ মার্চ পৃথক আপিল করেন। গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে নির্ধারণ করেন।

আগের ধারাবাহিকতায় আপিল দুটি গতকাল বুধবার কার্যতালিকায় ওঠে। আপিলের সঙ্গে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথের জন্য বিএনপির দুই প্রার্থীর করা পৃথক আবেদনও কার্যতালিকায় ওঠে। আপিল বিভাগের ৩ ফেব্রুয়ারির আদেশ সংশোধন চেয়ে পৃথক দুটি আবেদন করেন বিএনপির দুই প্রার্থী। শুনানি নিয়ে আদেশের জন্য আজ দিন রাখেন আপিল বিভাগ।

আদালতে আপিলকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নিহাদ কবির ও মোস্তাফিজুর রহমান খান, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম।

পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও শপথের জন্য বিএনপির দুই প্রার্থীর করা আবেদন নথিভুক্ত করে আপিল শুনানির জন্য আগামী ৯ জুন তারিখ ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

কড়াইল বস্তিতে ‘ফ্রি হার্ট ক্যাম্প’ উদ্বোধন করলেন জুবাইদা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
কড়াইল বস্তিতে ‘ফ্রি হার্ট ক্যাম্প’ উদ্বোধন করলেন জুবাইদা রহমান

মহাখালীর কড়াইল বস্তি এলাকায় ‘ফ্রি হার্ট ক্যাম্প’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে কড়াইল বস্তির আনসার ক্যাম্প মাঠে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এ কর্মসূচি আয়োজন করে। এ ক্যাম্প থেকে স্থানীয়দের বিনামূল্যে ওষুধ ও শারীরিক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। জুবাইদা রহমান কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলেন। এসময় অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

পরে জুবাইদা রহমান ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’ (জেডআরএফ) কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি নারীদের বিভিন্ন চিকিৎসা সমস্যা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

চোখ ভেদ করে মাথায় ঢুকে গুলি, অবশেষে মারা গেল ছোট্ট রেশমী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
চোখ ভেদ করে মাথায় ঢুকে গুলি, অবশেষে মারা গেল ছোট্ট রেশমী

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামীর রউফাবাদ কলোনিতে গুলিবিদ্ধ হওয়া পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রেশমী আক্তার (১১) শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানল। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ৭ মে দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রউফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলিতে গোলাগুলির সময় ছুটে আসা একটি গুলি লাগে রেশমীর বাঁ চোখে। গুলিটি চোখ মাথায় ঢুকে যায়। ঘটনার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেদিন রাতে আইসিইউ শয্যা খালি না থাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরে চমেকে আইসিইউ শয্যা খালি হলে সেখানে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, গুলিটি রেশমীর বাঁ চোখ ভেদ করে মাথার ভেতরে ঢুকে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আটকে যায়। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিয়াজ-সাবেরা দম্পতির দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে রেশমী সবার ছোট। এক মেয়ে বিবাহিত, বড় ছেলে গার্মেন্টসে চাকরি করেন। রেশমী স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। স্বভাবগতভাবে সে চঞ্চল ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি ঘরেই সময় কাটত তার। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেত না বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার দিন ২০ টাকা হাতে দিয়ে রেশমীকে পান আনতে পাঠিয়েছিলেন তার মা। কিন্তু গুলিবর্ষণের কারণে সে আর দোকানে পৌঁছাতে পারেনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় এলাকায় চার থেকে পাঁচ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ চলে। আশপাশের লোকজন ভয়ে সরে গেলেও রেশমী নিজেকে আড়াল করতে পারেনি। এদিন সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাজু নামে এক যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ২৬ এপ্রিল রাউজানের কদলপুর এলাকায় নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার মধ্য দিয়ে। ওই ঘটনায় নিহত নাসিরের মেয়ে লাভলী আক্তার হাসান রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। নাসির প্রবাসফেরত ও যুবদলের কর্মী ছিলেন। পরে তার সহযোগীরা কয়েকজন সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে নগরে আসে বলে জানা যায়। তাদের ছোড়া গুলিতেই আহত হয় রেশমী।