চুয়েটে দুইদিনব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন,প্রভাব ও অভিযোজন শীর্ষক কর্মশালা শুরু
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এর ফলে সর্বত্র বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেটা শীতপ্রধান অঞ্চলের জন্য আশীর্বাদ অন্যদিকে আমাদের জন্য আতঙ্কের বিষয়। তবে আমরা চাই তাপমাত্রা একটি সহনীয় পর্যায়ে থাকুক। গত ৪০ বছর আগের সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে বিশ্বব্যাপী অনেকক্ষেত্রেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। এবং আমরা সেই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিয়েছি। তেমনি জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের উচিত সেই পরিবর্তন মোকাবেলায় খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা। কেননা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবসময় খারাপ হয় না। অনেক সময় সেটা ভালো কিছুও বয়ে আনতে পারে। সেজন্য আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এ বিষয়ে গবেষণার প্রতি গুরুত্ব বাড়াতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের ইন্ডাস্টিগুলোতে এখনো বিদেশি নির্ভরতা কমছে না। এসব ইন্ডাস্টিতে কেন আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা গুরুত্ব পাচ্ছেন না- সেটা খুঁজে বের করতে হবে। প্রয়োজনে আমাদের সেভাবেই কারিকুলাম সাজানো হবে। তবেই আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা মানবসম্পদে পরিণত হবে।
তিনি অদ্য ২৫ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর পুরকৌশল বিভাগ এবং সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ (CESER)-এর উদ্যোগে দুইদিনব্যাপী “জলবায়ু পরিবর্তন : প্রভাব ও অভিযোজন” Climate Change : Effects and Adaptation) শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল ভবনের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুদীপ কুমার পাল।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন CESER-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোছাঃ ফারজানা রহমান জুথী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেন্টারের গবেষণা প্রভাষক মো. আরিফ হোসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে সমগ্র বিশ্ব এখন উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশও ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ তলিয়ে যেতে পারে- এমন পূর্বাভাসও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে প্যানিক তৈরি করা উচিত হবে না।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিষয়ে বিভিন্ন মৌলিক গবেষণাকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি চুয়েটের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা থেকে তেমনি ফলপ্রসু কিছু বেরিয়ে আসবে।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রথমদিন ÔClimate Change: Contextual Facts & Figures’ শিরোনামে চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সুদীপ কুমার পাল, ÔClimate Change Adaptation: Bangladesh Contexts’ শিরোনামে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান, ÔClimate Change : Social & Gender Perspectiv’শিরোনামে আইটিএন-বুয়েট এর নলেজ ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট জনাব ম্যাকফি ফারাহ, ÔClimate Change, Water Supply, Sanitation & HealthÕ শিরোনামে চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফুল হক এবং সহকারী অধ্যাপক ড. মারুফুল হাসান মজুমদার ÔLinkage Between Climate Change & Disaster ClimateÕ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এছাড়া দ্বিতীয়দিন ÔClimate Change & Costal Vulnerabilities : Bangladesh Perspective’ শিরোনামে চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রিয়াজ আকতার মল্লিক, ÔClimate Change & Environment : Bangladesh Perspective Climate’ শিরোনামে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ল্যাবের পরিচালক (উপ-সচিব) জনাব মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নূরী, ÔChange Impacts & Adaptation in Bangladesh : Facing the Challenges’ শিরোনামে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিকল্পনা দপ্তর-১ এর পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) ড. শ্যামল চন্দ্র দাশ, ÔClimate Modeling to Assess Climate Change ImpactÕ শিরোনামে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এন্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস’র জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জনাব আহমেদ জুলফিকার এবং ÔNational Climate Change Strategy & Action Plan’ শিরোনামে চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হযরত আলী গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।


আপনার মতামত লিখুন