খুঁজুন
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

পাহাড়ের অরন্য রক্ষায় বনবিভাগের মামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে রাঙ্গামাটিতে সোয়া বছরে ২৭২ বন মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২০, ১০:৩৯ সকাল
পাহাড়ের অরন্য রক্ষায় বনবিভাগের মামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে রাঙ্গামাটিতে সোয়া বছরে ২৭২ বন মামলা

আলমগীর মানিক,রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দখলে থাকা পাহাড়ের বনাঞ্চলগুলো গাছ চুরি হওয়ার বিষয়টি দীর্ঘ দিনের অভিযোগ। বন উজাড় হওয়া থেকে শুরু করে গাছ পাচার নিয়ে নানা অভিযোগের প্রেক্ষাপটেও সুখবর পাওয়া গেলো যে, পাচারের হার কমতে শুরু করেছে।

গাছ চোর ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় পার্বত্যাঞ্চলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক এবং ব্যক্তিগত বনগুলোতে বিগত কয়েক দশকের লুটপাটের মহোৎসব ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ কমে এসেছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

আইনি ব্যবস্থা এবং ধারাবাহিক অভিযান পাচারকারীদের থামতে বাধ্য করছে বলে দাবি করেছে বনবিভাগ সূত্র।

সূত্রমতে সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটির আদালতের মাধ্যমে অন্তত দেড় শতাধিক আসামী বনজ সম্পদ ধ্বংসের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে গেছে। তারমধ্যে একজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানও রয়েছে।

রাঙামাটিস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, বিগত সোয়া এক বছরে রাঙামাটি জেলাধীন বনাঞ্চলগুলোতে সংঘবদ্ধ কাঠচোর ও বনবিভাগের জমি অবৈধ দখলকারি সিন্ডিকেট এর দৌরাত্ম ঠেকাতে বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ অন্তত ২৭২টি মামলা রুজু করার পাশাপাশি প্রায় আড়াই কোটি টাকারও অধিক অর্থ রাজস্ব আদায় করেছে।

এছাড়াও অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তত ২৫ একর জমিও উদ্ধার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ বন বিভাগের সদর রেঞ্জার মো: মোশারফ হোসেন।

তিনি জানিয়েছেন, রাঙামাটির আদালতে চলমান রয়েছে ২৬০টি মামলা। এছাড়া ঢাকায় উচ্চ আদালতে সিভিল কোর্টে চলমান রয়েছে ১০টি রিট পিটিশন ও ২টি সিভিল শ্যূট মামলা। বিগত ছয় মাসে দক্ষিণ বনবিভাগের মাধ্যমে ৮২টি মামলা নিঃস্পত্তি হয়েছে। তারমধ্যে ৬০টি মামলায় অন্তত দেড় শতাধিক আসামীর সাজা হয়েছে। বনবিভাগের এই ধরনের সফলতা বিগত বছরগুলোতে আর কখনো দেখা যায়নি।

এদিকে রাঙামাটির আদালতে বনবিভাগের পক্ষে মামলা দেখাশোনা করার দায়িত্বে থাকা ফরেষ্টার আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক গত ডিসেম্বরে ১৬টি,জানুয়ারীতে-১৩টি এবং ফেব্রুয়ারী মাসে নিস্পত্তি হয়েছে ৯টি মামলা। সদর রেঞ্জেই বিগত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত তিন মাসে ৩৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার বিপরীতে সাজা হয়েছে ৪৯ জনের।

২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের ৬ মাসে প্রায় ১০ হাজার ঘনফুট সেগুন, গামারী ও করই প্রজাতির কাঠ ও ১৫ টি ইঞ্জিন চালিত বোট ও মিনিট্রাক আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে অবৈধ কাঠ পাচার রোধে অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১৩ হাজার ঘনফুট সেগুন, গামারী,ও করই প্রজাতির কাঠ জব্দ ২০টি ইঞ্জিন চালিত বোট ও মিনিট্রাক আটক করেছে দক্ষিণ বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ।

বন বিভাগের মামলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, আমি কোর্টে মামলা চালানোর দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র ছয় মাস হলো। এই ছয়মাসে ৬০ মামলায় প্রায় দেড় শতাধিক আসামীর সাজা আদালতের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আসামীদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী অনেকেই রয়েছে।

তিনি জানান, আমি চাকুরি জীবনে দেশের বিভিন্ন জেলায় চাকুরি করেছি। কিন্তু একমাত্র রাঙামাটিতেই কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা বড় ধরনের কোনো চাপ পাইনি।

এখানকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ন থেকে শুরু করে আমাদের বনবিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছি। যার ফলে সরকারী বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ধ্বংসকারিদের বিরুদ্ধে মামলা করা, তাদের ধরে আদালতে সোপর্দ করা থেকে শুরু করে মামলাগুলো সুষ্টভাবে পরিচালনা করে আদালতকে তার প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিতে পেরেছি। সেই আলোকে মাননীয় আদালত আসামীদের শাস্তি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, পাহাড়ের অনেক বাসিন্দা বিগত দিনগুলোতে তেমন একটা সহযোগিতা করতোনা, কিন্তু বর্তমানে বনবিভাগের ব্যাপক সচেতনতামূলক ব্যাপক কর্মসূচী বাস্তবায়নের ফলে মানুষের মাঝে সচেতনতা পূর্বের চেয়ে অনেকগুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে তাই আমরাও সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য স্থানীয়দের কাছ থেকে পাচ্ছি। সেই মোতাবেক স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে বন ধ্বংসকারি চক্রের সদস্যদের হাতেনাতে ধরতে পারছি এবং তাদের শাস্তিও নিশ্চিত হচ্ছে। স্থানীয়দের মাঝে নিজেদের সম্পদ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি যতবেশি হবে ততই পাহাড়ের বনজ উজার হওয়া থেকে রক্ষা পাবে বলেও মন্তব্য করেন ফরেষ্টার মোশারফ হোসেন।

Feb2
Feb2

সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, সতর্ক করল আইএসপিআর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৫ সকাল
সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, সতর্ক করল আইএসপিআর

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনী প্রধানকে জড়িয়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।

এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে আইএসপিআর।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সুদৃঢ় চেইন অব কমান্ড, পারস্পরিক আস্থা, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। দেশ ও জনগণের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনী প্রধান সম্পর্কিত যে কোনো তথ্যের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের মিসাইল হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৩ সকাল
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের মিসাইল হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের মিসাইল হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে শনিবারের (১০ অক্টোবর) এ হামলার বিষয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

এর কয়েকদিন আগে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবকাঠামো লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালানোর দাবি করে আসছিল।

শনিবারের এ হামলার ঘটনায় সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সৌদি আরবের এবং দুজন বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন।

এ ছাড়া মিশর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সুদান, সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের একজন করে নাগরিক এ হামলায় নিহত হয়েছেন। হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, পূর্ব সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো নিক্ষিপ্ত বস্তু এসে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান-সমর্থিত হুতিরাই এসব হামলা চালাচ্ছে।

গত এক সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে অন্তত এ নিয়ে চারবার হামলা হয়েছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এক পাইলটসহ তিন সৌদির নাগরিক নিহত হন।

হুথিরা ওই দিন বিমানবন্দরের অবকাঠামোর পাশাপাশি সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানকেও টার্গেট করে হামলা চালায়। এতে ওই পাইলটের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রায় দুই মাস ধরে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। হুথিরা এক্ষেত্রে রিয়াদ বিমানবন্দরকে সবচেয়ে বড় টার্গেটে পরিণত করেছে।

তারা এর আগে সতর্কতা দিয়েছিল, যদি কোনো বিমানসংস্থা সৌদির আকাশ দিয়ে বিমান চালায় তাহলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এরপর, গতকাল (শনিবার) রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে এ বড় হামলার ঘটনা ঘটে।

কলকাতায় মারা গেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ রাত
কলকাতায় মারা গেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোটন

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মারা গেছেন। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টায় ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সদস্য জয়নাল আবেদীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সকাল ৭টার কিছুক্ষণ পর রোটনের মৃত্যু হয়। তার লাশ দেশের আনার প্রস্তুতি চলছে।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বিষয়টি জানিয়েছেন। ‍তিনি লেখেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, আমাদের সবার অত্যন্ত প্রিয়, আমার ভাই, সহযোদ্ধা, সুখ-দুঃখের সাথী,পরম স্নেহের মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন আমাদের মাঝে আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহস্পদ ও রাজপথের সহযোদ্ধাকে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এত দ্রুত রোটন আমাদের মাঝে নেই ভাবতেই খুব কষ্ট হচ্ছে।

মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন।

ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষ করে পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। চট্টগ্রামের রাউজানের এই রাজনীতিবিদ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবেও মনোনীত হন তিনি।