খুঁজুন
বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাহাড়ের অরন্য রক্ষায় বনবিভাগের মামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে রাঙ্গামাটিতে সোয়া বছরে ২৭২ বন মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২০, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
পাহাড়ের অরন্য রক্ষায় বনবিভাগের মামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে রাঙ্গামাটিতে সোয়া বছরে ২৭২ বন মামলা

আলমগীর মানিক,রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দখলে থাকা পাহাড়ের বনাঞ্চলগুলো গাছ চুরি হওয়ার বিষয়টি দীর্ঘ দিনের অভিযোগ। বন উজাড় হওয়া থেকে শুরু করে গাছ পাচার নিয়ে নানা অভিযোগের প্রেক্ষাপটেও সুখবর পাওয়া গেলো যে, পাচারের হার কমতে শুরু করেছে।

গাছ চোর ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় পার্বত্যাঞ্চলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক এবং ব্যক্তিগত বনগুলোতে বিগত কয়েক দশকের লুটপাটের মহোৎসব ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ কমে এসেছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

আইনি ব্যবস্থা এবং ধারাবাহিক অভিযান পাচারকারীদের থামতে বাধ্য করছে বলে দাবি করেছে বনবিভাগ সূত্র।

সূত্রমতে সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটির আদালতের মাধ্যমে অন্তত দেড় শতাধিক আসামী বনজ সম্পদ ধ্বংসের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে গেছে। তারমধ্যে একজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানও রয়েছে।

রাঙামাটিস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, বিগত সোয়া এক বছরে রাঙামাটি জেলাধীন বনাঞ্চলগুলোতে সংঘবদ্ধ কাঠচোর ও বনবিভাগের জমি অবৈধ দখলকারি সিন্ডিকেট এর দৌরাত্ম ঠেকাতে বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ অন্তত ২৭২টি মামলা রুজু করার পাশাপাশি প্রায় আড়াই কোটি টাকারও অধিক অর্থ রাজস্ব আদায় করেছে।

এছাড়াও অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তত ২৫ একর জমিও উদ্ধার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ বন বিভাগের সদর রেঞ্জার মো: মোশারফ হোসেন।

তিনি জানিয়েছেন, রাঙামাটির আদালতে চলমান রয়েছে ২৬০টি মামলা। এছাড়া ঢাকায় উচ্চ আদালতে সিভিল কোর্টে চলমান রয়েছে ১০টি রিট পিটিশন ও ২টি সিভিল শ্যূট মামলা। বিগত ছয় মাসে দক্ষিণ বনবিভাগের মাধ্যমে ৮২টি মামলা নিঃস্পত্তি হয়েছে। তারমধ্যে ৬০টি মামলায় অন্তত দেড় শতাধিক আসামীর সাজা হয়েছে। বনবিভাগের এই ধরনের সফলতা বিগত বছরগুলোতে আর কখনো দেখা যায়নি।

এদিকে রাঙামাটির আদালতে বনবিভাগের পক্ষে মামলা দেখাশোনা করার দায়িত্বে থাকা ফরেষ্টার আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক গত ডিসেম্বরে ১৬টি,জানুয়ারীতে-১৩টি এবং ফেব্রুয়ারী মাসে নিস্পত্তি হয়েছে ৯টি মামলা। সদর রেঞ্জেই বিগত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত তিন মাসে ৩৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার বিপরীতে সাজা হয়েছে ৪৯ জনের।

২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের ৬ মাসে প্রায় ১০ হাজার ঘনফুট সেগুন, গামারী ও করই প্রজাতির কাঠ ও ১৫ টি ইঞ্জিন চালিত বোট ও মিনিট্রাক আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে অবৈধ কাঠ পাচার রোধে অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১৩ হাজার ঘনফুট সেগুন, গামারী,ও করই প্রজাতির কাঠ জব্দ ২০টি ইঞ্জিন চালিত বোট ও মিনিট্রাক আটক করেছে দক্ষিণ বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ।

বন বিভাগের মামলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, আমি কোর্টে মামলা চালানোর দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র ছয় মাস হলো। এই ছয়মাসে ৬০ মামলায় প্রায় দেড় শতাধিক আসামীর সাজা আদালতের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আসামীদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী অনেকেই রয়েছে।

তিনি জানান, আমি চাকুরি জীবনে দেশের বিভিন্ন জেলায় চাকুরি করেছি। কিন্তু একমাত্র রাঙামাটিতেই কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা বড় ধরনের কোনো চাপ পাইনি।

এখানকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ন থেকে শুরু করে আমাদের বনবিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছি। যার ফলে সরকারী বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ধ্বংসকারিদের বিরুদ্ধে মামলা করা, তাদের ধরে আদালতে সোপর্দ করা থেকে শুরু করে মামলাগুলো সুষ্টভাবে পরিচালনা করে আদালতকে তার প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিতে পেরেছি। সেই আলোকে মাননীয় আদালত আসামীদের শাস্তি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, পাহাড়ের অনেক বাসিন্দা বিগত দিনগুলোতে তেমন একটা সহযোগিতা করতোনা, কিন্তু বর্তমানে বনবিভাগের ব্যাপক সচেতনতামূলক ব্যাপক কর্মসূচী বাস্তবায়নের ফলে মানুষের মাঝে সচেতনতা পূর্বের চেয়ে অনেকগুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে তাই আমরাও সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য স্থানীয়দের কাছ থেকে পাচ্ছি। সেই মোতাবেক স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে বন ধ্বংসকারি চক্রের সদস্যদের হাতেনাতে ধরতে পারছি এবং তাদের শাস্তিও নিশ্চিত হচ্ছে। স্থানীয়দের মাঝে নিজেদের সম্পদ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি যতবেশি হবে ততই পাহাড়ের বনজ উজার হওয়া থেকে রক্ষা পাবে বলেও মন্তব্য করেন ফরেষ্টার মোশারফ হোসেন।

Feb2

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’

অবৈধ তেল মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
অবৈধ তেল মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন

চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ ও খুলশী থানা এলাকায় জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম, র‍্যাব-০৭, সিএমপি এবং বিভাগীয় কার্যালয়, বিএসটিআই এর সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) উক্ত যৌথ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শাকিব শাহরিয়ার।

উক্ত অভিযানে আমানত প্যাকেজিং এন্ড মার্কেটিং, গুলবাগ আবাসিক এলাকা, বায়েজীদ, চট্টগ্রাম নামক একটি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিএসটিআই হতে সিএম সনদ গ্রহণ ব্যতিরেকে ফর্টিফাইড সয়াবিন তেল পণ্য বোতলজাতকরণ এবং পণ্যের মোড়কে মানচিহ্ন ব্যবহারপূর্বক বাজারজাতকরণের অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিতে মজুদ প্রায় ১০৪২ লিটার ভোজ্যতেল, আনুমানিক ১০,০০০ পিস পণ্যের মোড়ক এবং বেশ কিছু খালি বোতল জব্দ করে সংশ্লিষ্ট থানার জিম্মায় দেয়া হয় এবং প্রতিষ্ঠান মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

পরবর্তীতে খুলশী থানা, চট্টগ্রাম এলাকায় ২টি প্রতিষ্ঠানে খাদ্যপণ্য মজুতের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ব্যতিরেকে প্রায় ৫০ ড্রাম (প্রতি ড্রাম ২০০ লিটার) ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুত এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ড্রামজাত ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুতের অভিযোগে ২টি প্রতিষ্ঠানের মালিককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী মোট ৬০,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সার্বিক নির্দেশনায় জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ২৬৯টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬,৭৭,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‍্যাব, কোস্টগার্ড সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে প্রায় ৭৫,৮২৪ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির বিরুদ্ধে এই অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।

নিষিদ্ধই থাকছে আ.লীগের কার্যক্রম, সংসদে বিল পাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
নিষিদ্ধই থাকছে আ.লীগের কার্যক্রম, সংসদে বিল পাস

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে পাস হয়েছে।

বুধবার (০৮ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কর্তৃক উত্থাপিত সন্ত্রাসবিরোধী বিল ২০২৬ সংসদে ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়যুক্ত হয়েছে।

এর মাধ্যমে বিদ্যমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে আরও সংশোধন ও কঠোর করা হচ্ছে। এতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে।

সংসদে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে থেকেই দেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইন থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও জনমতের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে। সেই অধ্যাদেশে গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়, যার আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়।