খুঁজুন
, ,

প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে আত্মরক্ষার আমল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 8 March, 2020, 8:59 pm
প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে আত্মরক্ষার আমল

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) এতদিন সারাবিশ্বের আতঙ্ক থাকলেও বাংলাদেশেও এই ভাইরাসের আস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছি আইইডিসিআর। ইতিমধ্যে বাংলাদেশসহ ১০৫টি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ১৯৮ জন। মারা গেছে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, জল–স্থলে বিপর্যয় মানুষের কৃতকর্মের ফল। ( সুরা-৩০ রুম, আয়াত: ৪১)। মানুষের গুনাহ ও কৃতকর্মের কারণেই এ ধরনের বিপর্যয় ঘটে থাকে। সমাজে অন্যায়-অনাচার বেড়ে গেলেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বেশি আশঙ্কা থাকে।

তাই বিভিন্ন হাদিসে রাসূল (সা.) প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অনেক কারণ উল্লেখ করেছেন। রাসূল (সা.) নিজেও উম্মতের ওপর এসব দুর্যোগের ব্যাপারে শঙ্কিত ছিলেন। এই উম্মতকে যেন কোনো গজব বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়ে একসঙ্গে ধ্বংস করা না হয় এ জন্য রাসূল (সা.) আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন।

এ জন্য আমাদের বেশি বেশি গুনাহ থেকে তওবা-ইস্তেগফার করতে হবে। কারণ গুনাহের কারণেই এ জাতীয় মহামারি আসে বলে কোরআনের আয়াত দ্বারা বুঝা যায়।

পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সচেতনতা ও সতর্কতার পাশাপাশি কয়েকটি আমল করা যেতে পারে।

১. আয়তুল কুরসী, সূরা ইখলাস, ফালাক ও সূরা নাস তিনবার পড়ে প্রতিবার হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে মুছলে শরীর যে কোনো বিপদ থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

২. নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহামারি থেকে বাঁচতে বেশি বেশি এই দোয়া পড়তে বলেছেন।

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ، وَالْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ

উচ্চারণ: আল্লহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাচি, অল জুনুন, অল জুজাম, অ-মিন সাইয়্যিইল আসকম।

৩. إنا لله وإنا إليه راجعون، أللهم أجرني في مصيبني وأخلف لي خيرا منها

উচ্চারণ: ইন্নালিল্লাহি অ-ইন্না- ইলাইহি রজিউন। আল্লাহুম্মা আজিরনী ফী মুসীবাতী অ আখলিফলী খইরান মিনহা।

৪. এই দোয়াটিও পড়া যেতে পারে

لااله الا انت سبحانك اني كنت من الظالمين

উচ্চারণ: লা- ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহা-নাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ-লিমীন।

৫. সূরা আহজাবের ১৩ নাম্বার আয়াতের অংশ বিশেষ পাঠ করলেও এ জাতীয় মহামারি থেকে আত্মরক্ষা করা যায়।

ياهل يثرب لا مقام لكم فارجعوا

উচ্চারণ: ইয়া- আহলা ইয়াসরিব, লা- মুকামা লাকুম, ফারজিউ।

৬. এই দোয়াটিও বেশি বেশি পড়া যেতে পারে।

اللهم إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِن منْكَرَاتِ الأَخلاقِ، والأعْمَالِ والأَهْواءِ والأدواء ) رواهُ الترمذي وقال: حديثُ حَسَنٌ(.

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক, অল আমাল, অল আহওয়া, অল আদওয়া। (তিরমিযী শরিফ)

তাছাড়া সকাল-সন্ধ্যার আমলগুলোর প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে। কারণ সকাল-সন্ধ্যার আমলগুলো দ্বারা শরীর হেফাজত হয়।

৭. সকাল-সন্ধ্যা তিনবার করে পড়ুন:

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজী লা- ইয়া দুররু মাআসমিহী শাইউন ফিল আরদি অলা- ফিসসামা, অহুওয়াস সামীউল আলীম।

৮. তিনবার : أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: আউজুবি কালিমা-তিল্লাহিত তা-ম্মাতি মিন শাররি মা খলাক।

একটি বিশেষ সুন্নাহ হলো, আক্রান্ত ব্যক্তি নিজ এলাকা থেকে বের হবে না অন্যান্য ব্যক্তি ঐ এলাকায় যাবে না।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন কোনো এলাকায় মহামারি (সংক্রামক ব্যাধি) ছড়িয়ে পড়ে তখন যদি তোমরা সেখানে থাকো, তাহলে সেখান থেকে বের হবে না। আর যদি তোমরা বাইরে থাকো তাহলে তোমরা সেই আক্রান্ত এলাকায় যাবে না। (বুখারি ও মুসলিম)

আল্লাহ তায়ালা আমাদের করোনাসহ সব মহামারী ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

Feb2
Feb2

অবহেলায় কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না:শামীম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 11:19 pm
অবহেলায় কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না:শামীম

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতাল ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় হাসপাতালটিকে দেশের একটি মডেল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে হাসপাতাল বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট ও জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে হাসপাতালটি আবারও কার্যক্রমে গতি পেয়েছে। এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উন্নত সেবার পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটিকে দেশের অন্যতম মডেল মাতৃসদন হাসপাতালে পরিণত করা হবে। এ জন্য পরিচালনা কমিটি, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, কোনো চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীর অবহেলার কারণে যেন কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি না হয়। মানুষ সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালে আসে। তাই রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। একজন নার্সের আন্তরিক সেবাও অনেক সময় রোগীর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চিকিৎসক থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মীর দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে শামীম বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় তারা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিরলস কাজ করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একই ধরনের নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে হাসপাতালের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার একটি বড় অর্জন। এর ফলে হাসপাতালের আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেবার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির ঘোষণা দিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন তিনি হাসপাতালে এসে চিকিৎসক, কর্মকর্তা এবং পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। হাসপাতালের সমস্যা, প্রয়োজন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাসপাতালকে কীভাবে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করা যায়, সে বিষয়ে সবাইকে নিয়ে কাজ করা হবে। সবার সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালকে দেশের একটি আদর্শ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।

জেমিসন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ভাইস চেয়ারপার্সন মো.আছিফ চৌধুরী সভাপতিত্বে ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো.জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির জাহাঙ্গীর আলম বাবর, রায়হানুল আনোয়ার রাহী, ডা: তাসলিম চৌধুরী, জেমিসন হাসপাতালের চীফ মেডিকেল অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: নাজ সোহানী সুলতানা, নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মর্জিনা আক্তার, ডা. মিছবাহ উদ্দিন ও ইউনিট লেভেল অফিসার জিয়াউল হক জিয়াসহ প্রমুখ

এক কক্ষে মানুষের আর্তনাদ, মানবিক ডিসির গণশুনানিতে ফিরল আশার আলো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 11:02 pm
এক কক্ষে মানুষের আর্তনাদ, মানবিক ডিসির গণশুনানিতে ফিরল আশার আলো

একজন নারী কথা বলতে বলতে বারবার চোখের পানি মুছছিলেন। প্রায় এক বছর আগে ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন তাঁর স্বামী। তিনি জানেন না, স্বামী বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। ঘরে অপেক্ষায় দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান। নিজেও স্ট্রোকে আক্রান্ত। চিকিৎসা ও সন্তানদের খাবারের খরচ জোগাতে তাঁকে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হচ্ছে।

তাঁর কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক যুবক। সাম্প্রতিক বন্যায় তাঁদের কাঁচা বসতঘর ভেঙে গেছে, নষ্ট হয়েছে ফসল। স্ট্রোকে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে অক্ষম বাবা এখন অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন। আরেক পাশে অপেক্ষা করছিলেন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা এক বিধবা মা। কারও প্রয়োজন কিডনির চিকিৎসা, কারও জরুরি অস্ত্রোপচার। এক কলেজছাত্রী বই ও কলেজ ড্রেস কিনতে না পেরে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কায়; আরেকজনের কাছে দিনাজপুরে ফিরে যাওয়ার গাড়িভাড়াটুকুও নেই।

জীবনের এমন ভিন্ন ভিন্ন সংকট নিয়ে বুধবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়েছিলেন অসহায় মানুষেরা। তাঁদের কথা ধৈর্য ও মনোযোগের সঙ্গে শোনেন মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১৮ জন সেবাপ্রত্যাশী তাঁদের আবেদন, অভাব-অনটন ও অভিযোগ তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক প্রতিটি বিষয় শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। কয়েকটি আবেদন ও অভিযোগের বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে ফলাফল আবেদনকারীদের জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।

গণশুনানিতে সাতজন অসহায় ব্যক্তি ও একজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২১ জনকে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মরিচ, হলুদ ও ধনিয়াগুঁড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়।

মোসাম্মৎ মাইনা খাতুনের স্বামী আজাদ ট্রলারে মাছ ধরার কাজ করতেন। প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিখোঁজ। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর দুই ছোট সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন মাইনা। নিজেও স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই তাঁর।

জেলা প্রশাসকের কাছে তিনি সন্তানদের খাবার, ভরণ-পোষণ ও নিজের চিকিৎসার জন্য সহায়তার পাশাপাশি নিখোঁজ স্বামীর সন্ধানে প্রশাসনিক সহযোগিতা চান। তাঁর দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক আর্থিক সহায়তা দেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বাঁশখালীর ইলশা গ্রামের রেয়াজুল জান্নাত রাহাতের বাড়িতে সাম্প্রতিক বন্যায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট পানি ওঠে। এতে তাঁদের কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত এবং ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়।

রাহাতের বাবা রেয়াজ আহামদ দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকে আক্রান্ত ও শারীরিকভাবে অক্ষম। ঘর হারিয়ে পরিবারটি অস্থায়ীভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাবার জন্য বসতঘর নির্মাণ ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সহায়তার আবেদন করেন রাহাত। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়ে পুনর্বাসনের বিষয়টি দেখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বোয়ালখালীর পশ্চিম শাকপুরার মো. শাহাজাহান কিডনি জটিলতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ একাধিক রোগে ভুগছেন। নিয়মিত চিকিৎসা, পরীক্ষা ও ওষুধের খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ না থাকায় তাঁর আবেদন মানবিক বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

বাঁশখালীর মিনজিরিতলার মিফতাহুল জান্নাত রিয়া সরকারি সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন। তাঁর এক ভাই ফাজিল প্রথম বর্ষে এবং এক বোন দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

২০১৬ সালের ১৯ জুলাই বাবার মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে। বসতভিটার চার শতক জমি ছাড়া তাঁদের কোনো স্থায়ী সম্পদ বা আয়ের উৎস নেই। সাম্প্রতিক বন্যায় ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থের অভাবে বই, কলেজ ড্রেস ও শিক্ষা উপকরণ কিনতে না পারায় রিয়ার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। জেলা প্রশাসক তাঁকে বিশেষ আর্থিক অনুদান দেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আরএম শাখার অফিস সহায়ক নিলুফার ইয়াসমিন কয়েক বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন কন্যা ও এক পুত্রের দায়িত্ব তাঁর ওপর।

তিনি চট্টগ্রামের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. বাসকর চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। নিয়মিত কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও ব্যয়বহুল ওষুধের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় গিয়ে পিইটি স্ক্যান করাতে হবে। চিকিৎসা সম্পন্ন করতে আরও প্রায় তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। তাঁর আবেদন বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক আর্থিক সহায়তা দেন।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ মোহাম্মদ আবু কাউছারের ডান পায়ের গোড়ালির হাড় সড়ক দুর্ঘটনায় ভেঙে যায়। চিকিৎসায় সঞ্চিত অর্থ শেষ হয়ে গেছে। জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছিল না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মো. শফিকুল ইসলাম জীবিকার সন্ধানে চট্টগ্রামে এসে কোনো কাজ পাননি। একপর্যায়ে তাঁর কাছে দৈনন্দিন খরচ কিংবা বাড়ি ফেরার অর্থও ছিল না। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে তাঁকে দিনাজপুরে ফেরার প্রয়োজনীয় গাড়িভাড়া দেওয়া হয়।

একই দিন জেলা প্রশাসক প্রবাসীদের অভিযোগ নিয়ে অনলাইন গণশুনানিও করেন। এতে এক প্রবাসী পারিবারিক জমিজমার বিরোধ ও সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ তুলে ধরেন। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি এখন শুধু আবেদন গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নেই। সমস্যা সরাসরি শোনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়া এবং সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এটি অসহায় মানুষের নির্ভরতার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

কেউ ফিরেছেন চিকিৎসার অর্থ নিয়ে, কেউ পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সাহস নিয়ে, কেউ ঘর পুনর্নির্মাণের আশা নিয়ে, আবার কেউ বাড়ি ফেরার ভাড়া হাতে নিয়ে। সহায়তার অঙ্ক হয়তো তাঁদের সব সংকট দূর করবে না; তবে মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং তাৎক্ষণিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ তাঁদের মনে এই বিশ্বাস ফিরিয়েছে—রাষ্ট্রের দরজা এখনো তাঁদের জন্য খোলা।

চট্টগ্রাম ওয়াসার বিলিং সিস্টেমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ : এমডি 

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:09 pm
চট্টগ্রাম ওয়াসার বিলিং সিস্টেমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ : এমডি 

চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (চট্টগ্রাম ওয়াসা) গ্রাহকসেবা আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করার লক্ষ্যে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম ওয়াসার যৌথ উদ্যোগে ‘বিলিং সিস্টেম উন্নয়ন কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ভবনের ৩য় তলার সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় ৩৬ জন মিটার পরিদর্শক, চট্টগ্রাম ওয়াসার ১২ জন কর্মকর্তা উক্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক(অর্থ) মিজ্ শারমিন আক্তার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় বিদ্যমান বিলিং প্রক্রিয়া, বর্তমানে ম্যানুয়ালি পরিচালিত বিভিন্ন সেবা এবং প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কর্মশালায় মিটার পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় মতামত তুলে ধরেন। তাঁদের এসব পরামর্শ চট্টগ্রাম ওয়াসার সেবাদানের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি উন্নয়নে সহায়ক হবে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে ডিজিটাল সেবাব্যবস্থায় রূপান্তরিত হতে হবে এবং এ লক্ষ্যে ওয়াটারএইডের প্রস্তাবটি ইতিবাচক।
আমরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে চট্টগ্রাম ওয়াসার স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে চাই এবং ডিজিটালাইজেশন ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবার মান উন্নত করতে চাই। বিলিং সিস্টেম উন্নত হলে গ্রাহক সেবার মানও উন্নত হবে এটা নিশ্চিত।

তিনি ডিজিটাল ব্যবস্থাটি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও মতামত প্রদানের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে রাজস্ব সংগ্রহের কার্যক্রম শক্তিশালী করতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন। এ ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর রাজস্ব সংগ্রহে ওয়াটারএইডের পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিলিং সিস্টেম উন্নয়ন কর্মশালাটি ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম ওয়াসার মধ্যকার সহযোগিতা আরও জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মিটার পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।