খুঁজুন
, ,

ডিমলায় শুটিবাড়ী সেবা ক্লিনিকে নির্যাতনে নবজাতকের মৃত্যু,হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন প্রসূতি!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 13 March, 2020, 7:43 pm
ডিমলায় শুটিবাড়ী সেবা ক্লিনিকে নির্যাতনে নবজাতকের মৃত্যু,হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন প্রসূতি!

মহিনুল ইসলাম সুজন, নীলফামারী প্রতিনিধি ॥নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী ইউনিয়নের অনুমোদনহীন অবৈধ নাম সর্বস্ব শুটিবাড়ী সেবা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে শারিরিক নির্যাতনসহ ভুল চিকিৎসা ও কর্তৃপক্ষের অবহেলাসহ স্বেচ্ছাচারিতায় নবজাতকের মৃত্যু এবং প্রসূতির গোপনাঙ্গের কাটা সাইড সেলাই না করার ঘটনায় এলাকা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।বর্তমানে ওই প্রসূতি অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারনে গুরুত্বর অসুস্থ্য অবস্থায় উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় বুধবার(১১মার্চ)রাতে অসুস্থ্য প্রসূতির পিতা শহর আলী ক্লিনিকের মালিক কর্তৃপক্ষ,অনভিজ্ঞ নার্স ও আয়া সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ডিমলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন-উক্ত ক্লিনিক ও ডায়াগষ্টিক সেন্টারটির মালিক মোস্তাফিজার রহমান খন্দকার ওরফে মতিয়ার(৩৮)আব্দুল্লাহ আল মামুন(৫০)শিক্ষক চিত্তরঞ্জন রায়(৫২),নার্স শারমিন আক্তার(২৪),আয়া রশিদা বেগম(৩৮)।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে,টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিন খড়িবাড়ী গ্রামের শহর আলীর কন্যা শিউলী আক্তার(২১) এর সাথে দুই বছর পুর্বে একই ইউনিয়নের পশ্চিম খড়িবাড়ী গ্রামের আনছার আলীর পুত্রের বিয়ে হয়।বিয়ের পর অন্তঃসত্ত্বার শিউলি আক্তারের সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসায় মঙ্গলবার(১০মার্চ)সকালে তার প্রসব ব্যথা শুরু হলে শশুর বাড়ির লোকেরা তাকে কাছে হওয়ায় শুটিবাড়ী সেবা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে সিজারিয়ানের জন্য নিয়ে যান।

এ সময়ে অন্তঃসত্ত্বা রোগী দেখা মাত্রই ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারটির একাংশের মালিক মোস্তাফিজার রহমান খন্দকার ওরফে মতিয়ার,নার্স শারমিন ও আয়া রশিদা বেগম তড়িঘড়ি করে সিজারিয়ানের কথা বলে অন্তঃসত্ত্বা শিউলি আক্তারকে দ্রুত ভ্যান থেকে নামিয়ে সোজা অপারেশন(ডেলিভারি) রুমে নিয়ে গিয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার পরও অধিক মুনাফার লোভে জোর পুর্বক সিজারিয়ান ব্যতিত ফরসেপ ডেলিভারি করতে পেটে প্রচুর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।এতে অন্তঃসত্ত্বা শিউলী অসহ্য ব্যথা সহ্য করতে না পেরে তাদের বাধা দিলে নার্স ও আয়া তার গালে ও পিঠে চর-থাপ্পর মেরে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে জোরপুর্বক জরায়ুতে আঘাত করে এবং গোপনাঙ্গের সাইড কেটে পুনরায় পেটে চাপ দিয়ে বাচ্চা প্রসব করতে গেলে নবজাতক পুত্র সন্তানটি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে গর্ভেই মৃত্যুবরন করেন।

পরে প্রসূতি শিউলী আক্তারের কেটে ফেলা গোপনাঙ্গের সাইডে সেলাই দিতে ভুলে গিয়ে দ্রুত মৃত নবজাতক শিশু সন্তানটিকে দীর্ঘ এক ঘন্টা অন্য একটি রুমে রাখার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে সুকৌশলে নিজেকে ঝামেলা মুক্ত রাখতে প্রসূতি শিউলীর স্বজনদের নবজাতক শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ(রামেক)হাসপাতালে নিতে বলেন।তাদের কথা মত স্বজনেরা রামেক হাসপাতালে নবজাতক শিশুটিকে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক নবজাতকটি পৃথিবীর মুখ দেখার আগেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে গর্ভে মৃত্যুবরন করেছে মর্মে নিশ্চিত করেন।

মৃত নবজাতককে নিয়ে প্রসূতির স্বজনরা আবারও রংপুর হতে ফিরে ওই ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে গিয়ে সিজারিয়ান না করা সহ নবজাতকের মৃত্যুর কারন জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদের এখানে নবজাতক জীবিত ছিলেন বলে প্রসুতিকে ছারপত্র প্রদান করেন ও মৃত নবজাতক শিশুটিকে দ্রুত দাফন করার চাপ প্রয়োগ করেন।ঘটনারদিন বিকেলে মৃত নবজাতক শিশুটিকে দাফন করার পর রাতেও প্রসূতি শিউলীর রক্তক্ষরন বন্ধ না হওয়ায় ও গুরুত্বর অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় তাকে তার পরিবারের লোকেরা ডিমলা উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।সেই সময়ের হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স সাবিনা বেগম ও সুমাইয়া আক্তার শিউলীর কাটা গোপনাঙ্গের সাইডে সেলাই না করার বিষয়টি নিশ্চিত করে কাটা সাইডে তারা ১০টি সেলাই দিয়ে চিকিৎসা দেন।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ,ডিমলা উপজেলা জুড়ে প্রশাসনের নাকের ঠগায় উপর রাতা-রাতি ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা নাম সর্বস্ব একাধিক অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গুলোতে একের পর এক ভুল রিপোর্টে রোগী প্রতারিত ও ভুল চিকিৎসায় কখনো নবজাতক ও কখনো প্রসূতির মৃত্যুর তালিকা দিনে-দিনে দীর্ঘ হলেও প্রশাসনের পক্ষ হতে তা প্রতিরোধে অজানা কারনে দৃশ্যমান কোনো তদারকি এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। এমনকি অবৈধভাবে বছরের পর বছর ওইসব ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসলেও সেগুলোতে নিয়মিত ভাম্যমান আদালত পরিচালনাও করা হয়না।স্থানীয় অনেকের অভিযোগ,ব্যক্তিগতভাবে সুবিধা নেয়া থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও কর্মসুচিতে ওইসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গুলো থেকে প্রশাসন অনেক সময় চাদা নেয়ার কারনেই তাদের বিরুদ্ধে জোড়ালো কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করেননা।আর এ জন্যই অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার মালিক কর্তপক্ষ যত্রতত্র ভাবেই গোজামিল দিয়ে দেদারছে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

শুটিবাড়ী সেবা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারটির একাংশের মালিক মোস্তাফিজার রহমান খন্দকার ওরফে মতিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগীর কাটা সাইড সেলাই করা হয়েছে কিনা তা আমি জানিনা নার্সের কাছে জানতে হবে।তবে নবজাতক শিশুটি আমার ক্লিনিকে থাকা অবস্থায় জীবিত ছিল।

নবজাতকটির ওজন কতটুকু ছিলো এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,মরা বাচ্চাকে কেউ ওজন করে নাকি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,আমরা বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছি,তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা সারোয়ার আলম বলেন,বিষয়টি আমার জানা নেই? তবে আমি লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নীলফামারী সিভিল সার্জন ডাঃ রনজিৎ কুমার বর্মণ এই প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি আমি জানিনা,ভুক্তভোগীর পরিবারের উচিৎ অভিযোগ নয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করে দেয়া।আমি জেলার অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গুলো বন্ধ করে করতে এবং সেগুলোতে নিয়মিত প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা করতে তালিকা সহ অনেকবার জেলা প্রশাসকের কাছে ধর্না দিয়েও কোনো সুফল পাইনি!আমাকে ভুক্তভোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে আমি ব্যবস্থা গ্রহন করব।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক(ডিসি) হাফিজুর রহমান চৌধুরী এই প্রতিবেদককে বলেন,আপনারা সিভিল সার্জনকে জানান ওনারা(সিভিল সার্জন)আমাদের তালিকা দিলে আমরা সেগুলো বন্ধ করে দিব।

সিভিল সার্জন একাধিক বার অভিযোগ করেও সুফল পাননি বলে জানিয়েছেন জানালে তিনি(ডিসি)বলেন,সিভিল সার্জন হলেন মেম্বর সেক্রেটারি তাকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে,তিনি অলিখিত ভাবে মুখে বললে হবেনা, লিখিত তালিকা দিলে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সে গুলো বন্ধ করে দিব।এ ছাড়াও ভুক্তভোগীর পরিবার আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।

 

Feb2
Feb2

আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 3:12 pm
আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমি আপনাদের কাছে একটা সাহায্য চাই। আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশে স্কাউটের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ। বিএনসিসির সদস্য সংখ্যা ২২ হাজার। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সংখা প্রায় ৪ কোটি। এবার আপনার বলেন, আমরা এতোগুলো মানুষ যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, কেউ কি ঠেকিয়ে রাখতে পারবে? পারবে না।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, এখন আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে কীভাবে দেশকে গড়ে তুলবেন। দেশকে গড়ে তুলতে হবে, কারণ আমরা এখানে থাকব।

একটা দেশের এত বড় তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে করা সম্ভব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বিশ্বকে দেখিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা তরুণ সমাজ এখান থেকে শুরু করেছেন। কাজেই আসেন, আগামী ৩ মাস ডেঙ্গুর সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করব। হয়তো আমরা শতভাগ পারব না, কিন্তু ৮০ ভাগ পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই জানি, ডেঙ্গু যেসব কারণে হয়… ভাঙা-চোরা জিনিসপত্র বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকে, বিভিন্ন মাটির ভাঙা জিনিস পড়ে থাকে… সেখানে পানি জমে ডেঙ্গু এডিস মশা তৈরি হয়। কাজেই আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে দেশের পরিবর্তন ঘটাতে পারব। এই মাঠে আজকে আমরা যতগুলো মানুষ উপস্থিত রয়েছি, বিভিন্ন জেলায় (অনলাইনে যুক্ত) যারা মাঠে উপস্থিত রয়েছেন, সবাই যদি টিস্যু ও পানি খেয়ে বোতল মাঠে ফেলে দিই, কেউ কি আমাদের কিছু বলবে? বলবে না।

“কিন্তু আমাদের নিজেদের চোখে দেখতে কেমন লাগবে? যখন এই ময়লাগুলো জমা হয়ে বড় আকার হবে, সেখান থেকে রোগ-জীবাণু সৃষ্টি হবে। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন তাতে আমার কী হবে, আমি তো দূরে থাকি। কিন্তু আপনার আপনজন কিংবা প্রিয়জন কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে। কাজেই আমরা নিজেকে ও পরিবারকে সুস্থ রাখি। নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। দেশকে সুস্থ রাখি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কাজটা খুব কঠিন না। আজকে হয়তো আপনাদের একটু কষ্ট হবে। প্রতি সপ্তাহে আমরা যদি ১ ঘণ্টা সময় দিই, নিজেদের বাসা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মস্থল পরিষ্কার করতে, তাহলে অবশ্যই দ্রুততার সঙ্গে পরিবর্তন করতে সক্ষম হবো।

তারেক রহমান বলেন, যারা ময়লা-আবর্জনা করবে, আসুন তাদের আমরা নিরুসাহিত করি, তাদের বলি—‘যেখানে সেখানে ময়লা করবেন না’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে দেশকে পরিবর্তন করতে হয়। পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ সমাজের কাছে আমার আহ্বান, আসুন এবার আমরা রাষ্ট্রকে, দেশকে পুনর্গঠন করি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 2:26 pm
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার: মেয়র

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার।”

শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ চসিকের কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কর্মসূচিটি চট্টগ্রাম মহানগরীতে সফলভাবে বাস্তবায়নে করণীয় নির্ধারণে চসিকের বিভাগীয় প্রধানবৃন্দ, বিএনসিসিসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে সভা করেন।

সভা শেষে উক্ত কর্মসূচির অংশ হিসেবে থিয়েটার ইন্সটিটিউটের সামনে থেকে বিশেষ পরিচ্ছন্ন ও মশক নিয়ন্ত্রণ ক্রাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করেন তিনি। ক্রাশ প্রোগ্রামে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশার ঔষধ ছিটানো এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম তদারকি করেন মেয়র।

এসময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে এ কার্যক্রম সফল করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে৷

“আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডকে পরিচ্ছন্ন এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে পদক্ষেপ নিয়েছি৷ আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠ পর্যায়ে এ কার্যক্রম সফল করতে কাজ করবেন৷ ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এজন্য আমরা অন্যান্য সংস্থাকেও সম্পৃক্ত করছি। ”

মেয়র আরো বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পারলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য নগরীর প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক, পলিথিন, ফোম কিংবা ডাবের খোসা ফেলে রাখা যাবে না। এসব স্থানে সামান্য স্বচ্ছ পানি জমে থাকলেও এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। বাসার ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, এসির পানি জমার স্থান, পরিত্যক্ত পাত্রসহ সম্ভাব্য সব প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) স্বীকৃত বিটিআই (BTI) ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নগরীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। কোতোয়ালী, হালিশহর, বন্দর, আকবরশাহ, বাকলিয়া ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে মেয়র বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৭৪২ জন। তবে নগরীর পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া, জিকা ও অন্যান্য মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকিও রয়েছে। তাই শুধু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার দিকে নজর না দিয়ে রোগ প্রতিরোধে আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

মেয়র বলেন, বৃষ্টির পর নগরীর কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। কারণ জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। এ বিষয়ে নাগরিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজের ঘর, নিজের আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

অনুষ্ঠানে বিএনসিসি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগামী তিন মাস চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিটি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

পরে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামে একযোগে ২ হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 2:15 pm
চট্টগ্রামে একযোগে ২ হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অভিযান শুরু হয়।

কর্মসূচির উদ্বোধনকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ঠেকাতে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা আর একটি প্রাণও হারাতে চাই না। হাসপাতালের শয্যা বাড়াতে পারি, ডেডিকেটেড ওয়ার্ড করতে পারি, চিকিৎসাসুবিধা দিতে পারি; কিন্তু একটি জীবন চলে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।’

পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশ পরিষ্কার রাখা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার একার দায়িত্ব নয়। এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।’

কর্মসূচিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, আলেম-ওলামা, স্কাউট, গার্ল গাইড, বিভিন্ন পরিবেশসচেতন সংগঠনের সদস্য ও তরুণেরা অংশ নেন।

গত ২৫ জুলাই থেকে প্রতি শনিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে আসছে জেলা প্রশাসন। প্রথম দিনের অভিযানে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও স্থাপনা থেকে প্রায় ১৩৫ মেট্রিক টন ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়।

এরপর বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এবং কালুরঘাটের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এ কার্যক্রমের আওতায় এসেছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, পুকুর ও জলাশয় পরিষ্কারের মাধ্যমে মশার প্রজননঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সেগুলো ব্যবহারযোগ্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেসব এলাকা এখনো এ কার্যক্রমের আওতায় আসেনি, পর্যায়ক্রমে সেখানেও অভিযান চালানো হবে।

এর আগে গত সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক কর্মশালায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফ আয়োজিত ওই কর্মশালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিক অভ্যাসে পরিণত করতে জেলাজুড়ে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।