খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম ৮ আসনে অসহায় দু:স্থদের মাঝে আবু সুফিয়ানের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম ৮ আসনে অসহায় দু:স্থদের মাঝে আবু সুফিয়ানের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিঃ সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেছেন, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে খেটে খাওয়া মানুষজনের অর্থনৈতিক সমস্যাটা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষই এখন দিন আনে দিন খায়। এই বিশাল একটা অংশ কয়েকদিন ধরে কোনো আয় করতে পারছে না। সেই মানুষগুলোর জন্য যদি অবিলম্বে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না যায় তাহলে দেশে একটা বড় রকমের বিপর্যয় দেখা দেবে। তাই দেশের এই দুর্যোগ মুহূর্তে মানবিক কারণে সমাজের বিত্তশালী মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আজ বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম-৮ নির্বাচনী আসনের প্রতিটি ওয়ার্ডের অসহায় দুঃস্থদের জন্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে এ কথা বলেন। নগরীর এক কিলোমিটারস্থ যমুনা স্কয়ার কমিউনিটি সেন্টারে আবু সুফিয়ানের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এক হাজার পরিবারের জন্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এসময় তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষকে নিয়েই বিএনপির রাজনীতি। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশের জনগণের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমরা মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। তাই রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি সকলকে করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক নিয়ম ও প্রতিরোধের উপর গুরুত্বারোপ করেন। ঘনঘন হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও ফ্লু প্রতিরোধের সাধারণ নিয়মাবলী অনুসরণ করতে সবাইকে আহবান জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান, মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক ইস্কান্দার মির্জা, মনজুর আলম মঞ্জু, আনোয়ার হোসেন লিপু, সহ সাধারণ সম্পাদক জি এম আইয়ুব খান, বোয়ালখালী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আবু, নগর বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইদ্রিস আলী, সহ-শ্রম সম্পাদক আবু মুছা, বায়েজিদ থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের জসিম, পাঁচলাইশ ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ, মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জানে আলম জিকু, সাধারণ সম্পাদক এস এম আবুল কালাম আবু, সিরাজুল ইসলাম মুন্সী, বিএনপি নেতা নুরুল আলম, গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া, নুরুন্নবী চৌধুরী, নগর যুবদলের সহ-সভাপতি ম হামিদ, সিঃ যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, গোলজার হোসেন, বিএনপি নেতা আবুল বশর, দিদারুল আলম হীরামন, জানে আলম, ফজল আজিম মাসুম, ইঞ্জিনিয়ার ইলিয়াস আলী, আবু বক্কর, মোহাম্মদ এসকান্দর, সাইদুল ইসলাম প্রমূখ।

 

Feb2

১৭ দিনের শোক, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ; এক আবেদনে বদলে গেল রোকশানার দিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
১৭ দিনের শোক, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ; এক আবেদনে বদলে গেল রোকশানার দিন

মাত্র ১৭ দিন আগে থেমে গেছে সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষের জীবন। সেই সঙ্গে থমকে গেছে ২৮ বছর বয়সী রোকশানা বেগমের স্বপ্ন, ভেঙে পড়েছে তাঁর ছোট্ট সংসারের নিরাপত্তার দেয়াল।

সিলেটের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাস করেন রোকশানা। তাঁর স্বামী সুমন আহমেদ ছিলেন একজন রিকশাচালক। প্রতিদিনের আয়েই চলত চার সদস্যের সংসার। কিন্তু প্রায় তিন মাস ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকার পর ৩৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর রোকশানার কাঁধে এসে পড়ে দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যতের পুরো দায়।

বড় মেয়ে আয়েশা আক্তারের বয়স মাত্র ৮ বছর। ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনের বয়স ৩। বাবার মৃত্যুর পর তারা হয়তো এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারেনি কী হারিয়েছে। কিন্তু সংসারের বাস্তবতা দ্রুতই বুঝিয়ে দিচ্ছিল, সামনে অপেক্ষা করছে অনিশ্চিত এক পথ।
স্বামীর চিকিৎসার পেছনে যা সামান্য সঞ্চয় ছিল, তা আগেই শেষ হয়ে যায়। মৃত্যুর পর বাসাভাড়া, খাবার, সন্তানদের প্রয়োজনীয় খরচ ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো রোকশানার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। আত্মীয়স্বজনের সীমিত সহায়তায় কয়েক দিন চললেও দীর্ঘমেয়াদে সেই সহায়তা যে যথেষ্ট নয়, তা বুঝতে পেরেছিলেন তিনি।

অবশেষে শেষ আশ্রয় হিসেবে সহায়তার আবেদন করেন সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে আছেন। সংসার চালানোর মতো কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। মানবিক বিবেচনায় আর্থিক সহায়তা ও সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানান তিনি।

রোকশানার আবেদনপত্রের প্রতিটি লাইনে ফুটে উঠেছিল সদ্য স্বামীহারা এক নারীর অসহায়ত্ব, দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামের নির্মম বাস্তবতা।

আবেদনটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নজরে এলে তিনি বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করেন। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোকশানা বেগমকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারালে শুধু আর্থিক সংকটই নয়, পুরো পরিবার গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ভবিষ্যৎ তখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে।

রোকশানা জেলা প্রশাসকের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “ডিসি স্যারের কাছে আজই আবেদন নিয়ে দেখা করেছিলাম। অনেক ব্যস্ততার মাঝেও স্যার ১০-১৫ মিনিট সময় নিয়ে আমার সব কথা শুনেছেন। আমার সংসার কীভাবে চলছে, আমার সন্তানদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে এই অসহায় বিধবা নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “অনেক মানুষের কাছে গিয়েছি, কিন্তু কেউ সেভাবে পাশে দাঁড়াননি। কিন্তু ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করার পরপরই তিনি আমাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।”

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “রোকশানার জন্য এই সহায়তা হয়তো তাঁর সব সমস্যার সমাধান নয়। কিন্তু স্বামী হারানোর পর যখন চারপাশ অন্ধকার মনে হচ্ছিল, তখন এই সহায়তা তাঁকে অন্তত একটি বার্তা দিয়েছে—তিনি একা নন।”

তিনি আরও বলেন, “কখনো কখনো একটি আবেদনপত্র শুধু সাহায্য চাওয়ার কাগজ নয়; সেটি হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা। সেই চেষ্টার প্রতি সাড়া দেওয়াও আমাদের দায়িত্ব।”

১৭ দিনের ব্যবধানে স্বামীকে হারিয়ে জীবনসংগ্রামের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করা রোকশানার জন্য এই সহায়তা হয়তো সাময়িক স্বস্তি। তবে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে তাঁর দীর্ঘ পথচলা এখনো বাকি। আর সেই পথচলার শুরুতে প্রশাসনের এই সহায়তা তাঁকে অন্তত নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে।

নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান

একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এসএসএফ যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই সময়ের সঙ্গে বর্তমান সময়ের অনেক পার্থক্য। বর্তমানে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থা ও ব্যবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স ‘এসএসএফ’-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তরুণ বেলা থেকেই এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে নিজের পরিচিত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে বর্তমানে প্রতিদিন-প্রতি সময় আমি এসএসএফের কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। তবে এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বেলা থেকেই আমি এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমি এসএসএফকে আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারো ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনোই সুযোগ নেই।

এসএসএফের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী নিজের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে চান বলে উল্লেখ করে বলেন, সেটি হলো, সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপরই আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। সুতরাং, নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি সফিসটিকেটেড বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী সরকার প্রধান হিসেবে এসএসএফ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আপনারা জানেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করে সড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমি আমার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছি। ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে হয়তো দক্ষতা এবং নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে। আপনারা যথাসম্ভব সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, আপনাদেরকে ধন্যবাদ।

সরকার প্রধান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়শই জনসভা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করতে হয়। এই ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিছুটা জটিল। এ ধরণের পরিস্থিতিতে একদিকে সরকার প্রধানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা, অপরদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখা এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফকে তাদের নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, এ ধরণের পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু এবং সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এসএসএফের কর্মদক্ষতাও প্রতিভাত হয়ে ওঠে।

তারেক রহমান বলেন, কিছুক্ষণ আগেই আমি এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জটি উদ্বোধন করেছি। উদ্বোধনী মহড়াও প্রত্যক্ষ করেছি। পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন এবং নিজেদের পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।

২০০২ সালের পর এসএসএফের রেড বুক সময়ের চাহিদানুযায়ী পুনরায় সংস্কার করে বর্তমানে আরও আধুনিক এবং সময়োপযোগী করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ‘রেড বুক’ এসএসএফের কার্যপদ্ধতি এবং কর্মপদ্ধতির নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে। আপনাদের জন্য রেড বুকে উল্লেখিত নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করা অবশ্য জরুরি। তবে রেড বুকের নির্দেশনার পাশাপাশি সময় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নেরও সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। সুতরাং, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য সকল নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই এসএসএফকে নিরাপত্তা কৌশল নিশ্চিত করতে হয়। আমি মনে করি, সমন্বয় যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে করা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত বেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, আরও একটি বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, অবশ্যই আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয় সে দিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন। গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এসএসএফ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন।

পটিয়ায় মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার: প্রতিবেশীসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
পটিয়ায় মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার: প্রতিবেশীসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

আবদুল্লাহ আল নোমান পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহরণের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার একটি ময়লার ভাগাড়ে যৌথ অভিযানে ডিবি ও থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা।

পুলিশ জানায়, তাদের বসতঘরের পেছনের ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে অপহৃত শিশুর পরিবারের শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা মুক্তিপণের চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে শিশুটিকে ফেরত পেতে ৩০ মিনিটের মধ্যে ৩ লাখ টাকা এবং পরিবারের একজনের আনলক করা মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলা হয়েছিল। ঘটনাটি জানার পর পুলিশ চিরকুটটি আলামত হিসেবে জব্দ করে তদন্ত শুরু করে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু জায়হান। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে প্রথমে পরিবারের ধারণা ছিল, সে পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুকুরে তল্লাশি চালিয়েও কোনো সন্ধান না মেলায় পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই সময়ে উদ্ধার হয় মুক্তিপণের সেই চিঠি।

নিহত শিশুর স্বজনদের অভিযোগ, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবেশীরাই শিশুটিকে অপহরণ করে। পরে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তরাই পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার নাটকও করেছিল।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, ভোরে অভিযান চালিয়ে বাড়ির পাশের ডোবা সংলগ্ন স্থান থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।