খুঁজুন
, ,

নাগরিক সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের ব্যতিক্রমী আয়োজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 October, 2019, 8:20 pm
নাগরিক সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের ব্যতিক্রমী আয়োজন

সমস্যা

চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর ও পতেঙ্গা এলাকার জনদুর্ভোগ, যানজট, দূর্ঘটনা, জলাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ১২ই অক্টোবর শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সীম্যান্স হোস্টেলস্থ লিলি কমিউনিটি সেন্টারে সেবা সংস্থা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের জনসাধারনের সমন্বয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ ও ৪১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ব্যতিক্রমী এ মতবিনিময় সভাটির সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাজী জহুর আহমদ কোম্পানীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চসিক মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন।

এতে বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম. জহিরুল আলম দোভাষ ডলফিন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মাহমুদুল হোসেন খান, চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ, নিউমুরিং এর নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ মফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ ওয়ার্ডের বিভিন্ন সমস্যা এবং জনদুর্ভোগ সভায় উত্থাপন করেন।

স্বাগত বক্তব্যে ৩৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ময়লার ভাগাড়টি অত্র ওয়ার্ডে অবস্থিত। প্রতিদিন হাজার হাজার ময়লা বাহী ট্রাক, ড্রাম ট্রাক ঐ এলাকায় চলাচল করে ফলতঃ প্রধানতম সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ময়লার ভাগাড়ের ফলে জনগনের স্বাস্থ্য সেবাও হুমকির মুখে। এ সব বিষয় বিবেচনা করে ঐ এলাকার হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করার জন্য সিটি মেয়রের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

ইপিজেড থানা মহিলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শারমিন সুলতানা ফারুক বন্দর এলাকায় দুই দুইটি রপ্তানী পক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে কর্মরত রয়েছে দুই লক্ষাধিক কর্মজীবি নারী। এদের চিকিৎসা এবং প্রসূতি মা’দের চিকিৎসার সুবিধার্থে ঐ এলাকায় একটি ডে-কেয়ার, মাতৃসদন হাসপাতাল সহ একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণের জন্য নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে আবেদন জানান।

৩৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এম. হাসান মুরাদ অভিযোগ করেন শুক্রবারসহ বিভিন্ন সরকারী ছুটির দিন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যায় না। এছাড়া গ্যাসের চাপও খুব কম। বেশীর ভাগ সময়ই রাত ১০টার পর গ্যাস পাওয়া যায় তাও অপ্রতুল। তিনি মহেশখালের মুখে সিডিএ কর্র্তৃক নির্মাণাধীন স্লুইসগেটটি নির্মাণে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করার জন্য সিডিএ চেয়ারম্যানের প্রতি অনুরোধ জানান।

৩৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী শফিউল আলম সিমেন্ট ক্রসিং সংলগ্ন রেললাইনটি দখলমুক্ত করে একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণ করার আহবান জানান। এছাড়া নিউমুরিং ৫নং খাল এবং মাটিয়া খালটি পুণঃরুদ্ধার করে জলাবদ্ধতা নিরসণের উদ্যোগ গ্রহণ করার অনুরোধ জানান। এছাড়া এম.এ.আজিজ সড়কটি বিভিন্ন কন্টেইনার ইয়ার্ড কেন্দ্রিক যানজটের কারণে এলাকাবাসী ঘন্টার পর ঘন্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

৪০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চৌধুরী আজাদ আউটার রিং রোডের কাজটি দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার আহবান জানান। এছাড়া ৭নং এবং ৯নং খালটি অবৈধ দখলমুক্ত করে জলাবদ্ধতা নিরসণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান।

৪১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ চৌধুরী দ্রুততার সাথে বৃহত্তর হালিশহর-পতেঙ্গা এলাকায় ওয়াসার সঞ্চালন লাইন স্থাপনের অনুরোধ জানান।

এছাড়া ভুতুড়ে বিল, গড় বিল এবং যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে দীর্ঘসূত্রিতা রোধ করার আহবান জানান। কন্টেইনার ইয়ার্ডের লরি, কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক রাস্তায় ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকে যার ফলে বিমান বন্দর সড়কটি প্রায়শই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ইপিজেড থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক হাজী হারুনুর রশীদ বিভিন্ন সেবা সংস্থা গুলোর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এলাকাবাসী জলজটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বলে মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন। এছাড়া গণপরিবহনে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য রোধ করার জোর দাবী জানান।

বন্দর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াছ চট্টগ্রাম বন্দর ঘোষিত বন্দর এলাকায় বঙ্গবন্ধুর নামে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে সরকারের নিকট জোর দাবী জানান।

পতেঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক এ এম এন ইসলাম গুপ্ত খালটি সংস্কার করার জন্য অনুরোধ জানান। এছাড়া মুসলিমাবাদ থেকে সী-বীচ পর্যন্ত সড়কটি সংস্কার এবং আলোকিত করার জন্য সিটি মেয়রের নিকট আহবান জানান।

সেবা সংস্থার মধ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম প্রথমেই ব্যতিক্রমধর্মী একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করায় উদ্যোক্তাদের অভিনন্দন জানান। এ রকম আয়োজন সেবা সংস্থার সাথে জনগনের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন সরকারের গৃহীত প্রকল্পের ফলে ওয়াসা ক্রমান্বয়ে জনগনের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮০০ কিলোমিটার নতুন পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। শহরের প্রায় ৮৬ ভাগ জনগনকে পানি সরবরাহের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

এছাড়া জাইকার অর্থায়নে বারিকবিল্ডিং থেকে কাস্টম হয়ে পতেঙ্গা পর্যন্ত ওয়াসার নতুন পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। এ সকল উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে অত্র অঞ্চলে ওয়াসার পানি সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ নিউমুরিং এর নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ মফিজুর রহমান মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বরাদ্ধকৃত নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণের ফলে বর্তমানে বিদ্যুতের সমস্যা নেই বললেই চলে।

তবে মেরামতজনিত কারণে কিছু কিছু এলাকার গ্রাহক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেনা যেটা সাময়িক। এছাড়া আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল লাইন স্থাপনের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

গ্রাহকের ভুতুড়ে বিল এবং গড় বিল শুণ্যের কোটায় নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। জনগন যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে পারে সেজন্য সদা সচেষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ। তিনি মতবিনিময় সভার মাধ্যমে গ্রাহকের কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন নাগরিক সমস্যা নিয়ে নেতৃবৃন্দের উপস্থাপিত বক্তব্য ধৈর্য্য সহকারে শুনেন এবং প্রতিটি প্রস্তাবের প্রতি সহমত পোষন করেন।

তিনি বলেন চট্টগ্রাম শহরে উন্নয়নের মহোৎসব চলছে। বিভিন্ন সেবা সংস্থা একযোগে নগরীতে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। জলাবদ্ধতার কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তবে একথাও ঠিক এসব জলাবদ্ধতার জন্য আমরাও অনেকাংশে দায়ী।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে একসময় অনেকগুলো পুকুর ও দিঘী ছিলো। কিন্তু কালের ব্যবধানে চট্টগ্রাম শহর থেকে সেইসব পুকুর ও দিঘী হারিয়ে গিয়েছে। খালগুলো দখল হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও নগরবাসীর অসচেতনতাও দায়ী জলাবদ্ধতার জন্য। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবায় ডোর টু ডোর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু করেছে। তারপরও নগরবাসী প্রতিনিয়ত নালা নর্দমায় ময়লা আবর্জনা ফেলে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নাগরিক সমাজের মনমানসিকতাও উন্নত করার অনুরোধ জানা তিনি।

তিনি আরো বলেন এ শহর আপনার আমার সকলের। এ শহরকে যদি আমরা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে এ সুনাম সমগ্র চট্টগ্রামবাসীর। তিনি নাগরিকবৃন্দকে নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করে সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কর্মকান্ডের অংশীদার হওয়ার আহবান জানান।

প্রিধান অতিথি বলেন বিমানবন্দর সড়কের অফডক কন্টেইনার ইয়ার্ডগুলোর কারণে বিমানবন্দর সড়কটি দিন দিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। অফডক কন্টেইনার ইয়ার্ডগুলো সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ইতিমধ্যে নৌপরিহন মন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা হয়েছে।

অফডক কন্টেইনার ইয়ার্ডগুলো সরিয়ে নিলে বিমানবন্দর সড়কটি যানজটমুক্ত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি জনদুর্ভোগ লাঘবে দলের নেতা-কর্মীদের সাধারণ জনগনের পাশে থাকার আহবান জানান।

এছাড়া বে-টার্মিনালটি নির্মিত হলে চট্টগ্রাম শহরে আর কোন যানজট হবেনা বলে আশ্বস্ত করেন। তিনি নগরবাসীকে উন্নয়নের প্রসব বেদনা সহ্য করার জন্য অনুরোধ জানান।

বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জহিরুল আলম দোভাষ ডলফিন ব্যতিক্রমী মনোমুগ্ধকর আয়োজনের মাধ্যমে জনগনের বিভিন্ন সমস্যা এবং দুর্ভোগ সরাসরি উপস্থাপনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজ কাঁধে নিয়েছেন যার কারণে চট্টগ্রামবাসী রেকর্ডসংখ্যক উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্ধ পেয়েছেন। শুধুমাত্র সিডিএ’র মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পাদিত হচ্ছে চট্টগ্রামে। ইতিমধ্যে আউটার রিং রোডের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই উন্নয়ন কর্মকান্ডসমূহ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জনগনের সাময়িক ভোগান্তি হচ্ছে।

তিনি জনদুর্ভোগ লাঘবে আউটার রিং রোডের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বারিক বিল্ডিং থেকে সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজও সাময়িক বন্ধ রেখেছেন বলে নেতৃবৃন্দকে জানান।

এছাড়া আউটার রিং রোডের কাজও দ্রততার সাথে সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন তিনি। তিনি জনগনকে যে কোন সমস্যায় তার সাথে সরাসরি স্বাক্ষাত করার অনুরোধ জানান।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগনের সংগঠন। জনগনের অধিকার আদায় করতে গিয়েই এ সংগঠনের জন্ম। তাই জনগনের অসুবিধায় আমরা কখনোই চুপ থাকতে পারিনা।

ব্যতিক্রমী এ মতবিনিময় সভার মাধ্যমে আমরা সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ কথা জানাতে এসেছি যে আপনাদের সুখে দুখে সবসময়ই আমরা আছি এবং থাকবো।

তিনি বলেন শুধু একটি সভার মাধ্যমে আমরা আমাদের কার্যক্রম সমাপ্ত করবোনা। আমরা শুরু করেছি মাত্র। এলাকা ভিত্তিক সমস্যাগুলো আমরা লিপিবদ্ধ করেছি। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সেবা সংস্থার সাথে আমরা মতবিনিময় করে সমস্যাগুলো সমাধানের পর্যায়ে নিয়ে আসবো।

তিনি বন্দর পতেঙ্গা এলাকার মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকাকে নিয়ে অবহেলায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন বাংলাদেশের সিংহভাগ আয় এ এলাকা থেকেই হয় তারপরও এই এলাকার লক্ষ লক্ষ জনগন কাংখিত সেবা থেকে বঞ্চিত।

দীর্ঘস্থায়ী যানজট, জলজট এই এলাকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। তাই এ এলাকার মানুষের নাগরিক সমস্যা সমাধানে আমাদের অব্যাহত কর্মযাত্রা চলমান থাকবে। তিনি সেবা সংস্থার প্রতিনিধিগণকে জনগনের দুঃখ দুর্দশা শুনতে আসায় অভিবাদন জানান।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য নূরুল আলম, কামরুল হাসান ভূলু, কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, কাউন্সিলর আফরোজা কালাম, ইপিজেড থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ আবু তাহের, ৩৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুলতান মোঃ নাছির উদ্দিন, ৩৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ হাসান, ৩৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হোসেন মুরাদ, ৪১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম প্রমূখ।

Feb2
Feb2

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:51 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

হত্যার দায় স্বীকার অভিযুক্ত দুই খুনি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 12:59 pm
হত্যার দায় স্বীকার অভিযুক্ত দুই খুনি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে দুই অভিযুক্ত খুনি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রোববার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এদিন বিকেল ৫টার দিকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। পরে তাদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়া হয়।

গত শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে এ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তারা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।

নিহতদের মুখ ঝলসানো

এদিকে ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার চারজনের মুখই ঝলসানো ছিল। তাদের মুখমণ্ডল থেকে দাহ্য (তরল) পদার্থ পাওয়া গেছে। তবে এটি কোনো রাসায়নিক কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার আগে বা পরে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে তাদের মুখ ঝলসে দেওয়া হয়েছিল।

সুমিত চৌধুরী বলেন, নিহতদের মুখ প্রাথমিক অবস্থায় বীভৎস বা ঝলসানো ছিল। মুখের কাছে কিছু তরল পড়ে ছিল। তাতে আমরা প্রাথমিকভাবে অনুমান করেছিলাম, কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে কি না। যে চিকিৎসক ফরেনসিক করবেন, তাকে আমরা এ ব্যাপারে বলেছি। তাদের শরীরে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে কি না, ফরেনসিক প্রতিবেদন পেলে এটা নিশ্চিত হতে পারব।

রোববার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে চারজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাতে মরদেহগুলো দখিগঞ্জ শ্মশানে দাহ করা হয়। এ সময় স্বজনেরা চারজনের মুখমণ্ডল ঝলসানো দেখতে পান।

প্রীতিলতার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী বলেন, সন্ধ্যায় মরদেহগুলো হস্তান্তরের পর আমরা দেখতে পাই, তাদের মুখগুলো ঝলসানো। এর আগে পুলিশ আমাদের মরদেহের কাছে যেতে দেয়নি।

তবে মরদেহের ময়নাতদন্তকারী রংপুর মেডিকেলের ফরেনসিক মেডিসিনের ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, মরদেহগুলো পঁচে যাবার কারণে দেখতে এমন মনে হচ্ছে, কোনো এসিডে ঝলসানোর ঘটনা নেই।

মামলার এজাহারে যা আছে

এদিকে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় রোববার কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড়ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির সংখ্যাও উল্লেখ করা হয়নি।

এজাহার অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতার মোবাইল ফোন থেকে তার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন শুক্রবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে পূজা আবারও বড় বোন প্রীতিলতাকে ফোন করেন। তখন পরিবারের চারজনের মোবাইল ফোনই বন্ধ পান তিনি। সন্দেহ হওয়ায় রাতে স্বামী বিপুল আচার্যকে নিয়ে বোনের বাড়িতে যান পূজা।

বাড়িটি তখন অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল। ভেতর থেকেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর দিয়ে গণপতির বাড়ির ছাদে ওঠেন পূজা। জানালার তালা ভেঙে টর্চের আলোয় ঘরের ভেতর তাকিয়ে তিনি দেখেন, জিনিসপত্র এলোমেলো। একই সঙ্গে বাড়ির ভেতর থেকে পঁচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আলমারি, শোকেস, আসবাব, কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এতে হত্যার পর ঘটনাটিকে অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

এক মাস আগে প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী

রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রায় এক মাস আগে গণপতি চক্রবর্তী তার প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। বাড়ির অসম্পূর্ণ কাজ শুরু করবেন বলে তিনি এই টাকা তুলেছিলেন। তবে সেই তিনি টাকা ব্যাংকে রেখেছিলেন নাকি বাড়িতে, তা বলতে পারব না।

গণপতির বড় ভাই ও মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, গণপতি নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়িটির দ্বিতীয় তলার কাজ শেষ হয়েছে। বাড়ির অসম্পূর্ণ কাজ শুরু করার কথা ছিল তার।

প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১৫ লাখ টাকা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না দাবি করে বলেন, ব্যাংকে খোঁজ নিলে এ টাকার তথ্য পাওয়া যাবে। আমরা এখনো খোঁজ নিতে পারিনি।

বাসার ছাদে ইয়াবা সেবন, বাধা দেয়ায় হত্যাকাণ্ড

এদিকে, একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় ওই শিক্ষকের কাছে ধরা পড়ে যাওয়ার পর তারা হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। সম্পর্কে তারা আত্মীয় এবং দুজনেরই বাড়ি মাছুয়াপাড়া এলাকায়। রোববার ভোরে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুগ্ধ নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন আর সিদ্ধার্থ প্রায় আট বছর ধরে একটি জুয়েলারির দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুই খুনি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাশের বিল্ডিংয়ের ওপর দিয়ে গণপতির বাড়ির ছাদে আসে। তারা ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিল। শব্দ পেয়ে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তার গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। তার চিৎকার শুনে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় প্রীতিলতা চক্রবর্তীকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর মায়ের চিৎকারে এগিয়ে আসা মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তীকেও গামছা ও রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। খুনিরা জানিয়েছে- গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে ধরার পরও প্রার্থী চক্রবর্তীর মৃত্যু হচ্ছিল না, প্রায় চার-পাঁচ মিনিট লাগে তার প্রাণ যাওয়ার ক্ষেত্রে। সেই সময় তারা রশি দিয়ে তার গলায় এবং মুখে পেঁচিয়ে ধরে। সর্বশেষে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশু প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা বাসার একটি বাথরুমে গোসল করে, ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করে। এরপর জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে তারা কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং সেগুলো নিকটবর্তী একটি মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখে। অভিযুক্তদের দেখানো মতে সেসব আলামত জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য অভিযুক্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখে, যাতে পুলিশ এটিকে ডাকাতি বলে মনে করে। এছাড়া আঙুলের ছাপ যাতে না থাকে সেজন্য বাসার দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় বলেও জানান তিনি।

কিছু বিষয় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

কাকতালীয়ভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার একই পরিবারের চারজন, অভিযুক্ত দুই আসামি, আসামি গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দেয়া পুলিশ কর্মকর্তা, ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবাই একই ধর্মাবলম্বী হওয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। এমনকি এক আসামির পরনের শার্ট এবং গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনে থাকা শার্ট একই রকম হওয়ায়, অনেকেই বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন।