খুঁজুন
, ,

মশক নিধনের বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম উদ্বোধন করলেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 April, 2020, 7:06 pm
মশক নিধনের বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম উদ্বোধন করলেন মেয়র

নগরবাসীকে মশার উৎপাত থেকে রক্ষা করার জন্য মশক নিধনের বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। তারই অংশ হিসেবে আজ বৃহষ্পতিবার সকালে নগরীর বহদ্দারহাট পুলিশ বক্স হতে শুরু করে চাক্তাই খালের পাড় ঘেষে চক বাজার ফুলতল পর্যন্ত মশার ঔষধ ছিটানোর কার্যক্রম উদ্ভোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন।

এসময় মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, চসিক প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ সফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, অতিরিক্ত প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদ আলম চৌধুরী, রাজনীতিক মামুনুর রশিদ, লিটন রায় প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

মশক নিধন কার্যক্রম উদ্ভোধনকালে সিটি মেয়র বলেন, বর্তমান সময়টা মশা প্রজননের উর্বর সময়। এসময় সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, নগরীর ৪১ টি ওয়ার্ডে ৪ জন করে ১৬৪ জন কর্মী হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে মশা ও এডিস মশার প্রজনন স্থানে লারভিসাইড ঔষধ ছিটানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে চসিক নতুন হ্যান্ড স্প্রে মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। তিনি বলেন,চসিকের হাতে মশা এবং মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ওষুধ মজুদ রয়েছে। প্রয়োজনে আরও ঔষুধ সংগ্রহ করা হবে। মেয়র মশা এবং চিকনগুনিয়া ও ডেঙ্গু রোধে প্রত্যেকর আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কারকরণ ও নালা-নর্দমায় যেখানে মশা জন্ম হয় সেখানে ওষুধ ছিটানো হবে বলে জানান।

এই প্রসঙ্গে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ সিটি মেয়র বলেন, মশা নিধন কার্যক্রম শতভাগ নিশ্চিতকরণের ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রতি ওয়ার্ডে জীবাণুনাশক পানি ছিটানোর পাশাপাশি মশা নিধনে ল্যারভিসাইড ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।

মেয়র বলেন, মশার উপদ্রব যতদিন কমবে না ততদিন পর্যন্ত এই ঔষুধ ছিটানো হবে। তিনি বলেন, নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজও চলমান রয়েছে। নগরীর প্রধান প্রধান খালের মুখে বাঁধ দেওয়ায় পানি জমে আছে। সেইখানে মশার জম্মের উবরস্থান। তাই এ প্রকল্পের দায়িত্ববান ব্যক্তির সঙ্গে আগেও কথা বলেছি। মেয়র আরো বলেন আগামী কয়েক মাস পর এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত সময় হবে। ভারী বর্ষন কিংবা থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে বাড়ীর আশপাশ, ফুলের টব, আবর্জনা ফেলার পাত্র, প্লাষ্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাষ্টিকের ড্রাম,মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারিকেলের মালা, ব্যাটারী শেল, পলিথিন,চিপসের প্যাকেট এবং নালা-নর্দমায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে এডিস মশার প্রজননের স্থান। এজন্যজনসচেতনতাকে সমাধিক গুরুত্ব দিলেন সিটি মেয়র।

মেয়র বলেন, চাক্তাই খালের পানি চলাচলের স্বাভাবিক অবস্থা সৃষ্টি করা না গেলে সামনের বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারন করবে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্ল্যুইচ গেইট নির্মাণের জন্য যে বাঁধগুলো দেয়া হয়েছে তাতে পাইপ লাইন স্থাপন করে হলেও পানির নিস্কাশনের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন মেয়র।

তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নিজেরা সচেতন হয়ে খাল ও নালার মধ্যে ময়লা ফেলা থেকে বিরত না থাকলে কোন অবস্থাতেই জলাবদ্ধতা সহ মশার উপদ্রপ থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বিশ্ব করোনা ভাইরাসের দূর্যোগে নিজেদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি সচেতনভাবে পালন করার জন্য আহবান জানান।

তিনি আরো বলেন, লক ডাউনের কারনে জনজীবনে দারুন কষ্ট হচ্ছে। একথা সত্য। তবুও নিজেদেরকে রক্ষার জন্য এই সাময়িক কষ্ট সহ্য করতে হবে। তিনি নগরীর খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে সিটি কর্পোরেশন ও মেয়র ব্যক্তিগতভাবে প্রদত্ত ভোগ্যপন্য নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তালিকা তৈরী করে এবং তাঁর নিজ ফেইসবুক আইডিতে আগত বিভিন্ন ম্যাসেজ সংগ্রহ করে তা ঘরে ঘরে প্রতিদিন পৌছানো হচ্ছে।

তিনি বলেন মশক নিধনের এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে নগরীর ৪১ টি ওয়ার্ডে চলবে।

তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই কার্যক্রম সফল করার লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নিয়েছে চসিক। এরই ধারাবাহিতকায় নগরীর একটি ঘরও মশক নিধন কার্যক্রম হতে বাত পড়বে না। আগামীকাল সকাল সাড়ে ১১ টায় মহেশখাল ও ছোট পোল এলাকায় ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালিত হবে। এই বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম টীমে ৪০ জন হ্যান্ড স্প্রে মেশিন কর্মী কাজ করছে বলে জানান।

Feb2
Feb2

ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামে ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 5:08 pm
ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামে ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ডিসি জাহিদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাবে জেলা প্রশাসন। আগামী শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় এ কার্যক্রম শুরু হবে।

আজ সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সুরক্ষা এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এ ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও ইউনিসেফের আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি, ঢাকার পরিচালক সরকার সারোয়ার আলম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রাণঘাতী রোগ। এর বিস্তার ঠেকাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ২৫ জুলাই থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতি শনিবার জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। সরকারি কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ ও ছাদ, পুকুর, জলাশয়সহ ডেঙ্গুর ঝুঁকি রয়েছে—এমন স্থানগুলো এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে।

এর ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ একযোগে পরিষ্কার করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য নয়; পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার একটি সামাজিক আন্দোলন। পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।’

মসজিদ ও এর আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ যেন মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নির্মল প্রার্থনার স্থান হয়। সবার সামর্থ্য এক নয়, কিন্তু এ কাজে আন্তরিকতার ঘাটতি থাকা উচিত নয়।’

সমাজে ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষক ও ইমামদের মানুষ সম্মানের জায়গায় রাখেন। মানুষের ওপর তাঁদের প্রভাবও রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

ইমাম-খতিবদের ধর্মীয় আলোচনায় সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক, সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতির মতো বিষয় নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। ধর্মীয় নেতাদের আচরণ ও বক্তব্য এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে মানুষ তাঁদের অনুসরণ করে এবং রোল মডেল হিসেবে দেখতে পারে।

নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য কেমন সমাজ রেখে যাওয়া হচ্ছে, তা সবাইকে ভাবতে হবে। সন্তানদের মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং বাবা-মা ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলার দায়িত্ব পরিবার ও সমাজের।

তিনি বলেন, ‘শুধু অন্যকে দোষ দিয়ে সমাজের পরিবর্তন হবে না। আমি নিজে সমাজের জন্য কী করছি, সেটিও ভাবতে হবে। নিজের দায়িত্ব উপলব্ধি না করলে বড় বড় কথা বলেও বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।’

সময়ের যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, অর্থ দিয়ে অনেক কিছু কেনা গেলেও সময় কেনা যায় না। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের সময় ও সামর্থ্য সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানো।

দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণ উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষকে মূল্যবোধসম্পন্ন, মানবিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার। তিনি বলেন, ‘এই দেশটা আমাদের। আমাদেরকেই সাজাতে হবে।’

কর্মশালায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির কর্মকর্তা, ইউনিসেফের প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন।

গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 4:46 pm
গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট

চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকার গোলাম রসুল মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে মার্কেটটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অপারেটর জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ধারণা, মার্কেটের ভেতরে কয়েকজন মানুষ আটকা পড়েছেন। অনেকে সিঁড়ি দিয়ে মার্কেটের ছাদে উঠে নিরাপদে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন।

বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক ৮ সেপ্টেম্বর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 4:42 pm
বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক ৮ সেপ্টেম্বর

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বার্ষিক বৈঠকে আলোচনা হবে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী বৈঠকে তিনটি ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্র বলছে, দুই দেশ সম্মত হলে আগামী মাস থেকেই বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় ট্রেনগুলোর চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই বৈঠকে রাজশাহী থেকে কলকাতা রুটে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাবও দেবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার আগ্রহের কথা জানাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের এ বৈঠকটি আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক (ইন্টার-গভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিং— আইজিআরএম) নামে পরিচিত। এবার ঢাকার রেলভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলো ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েরও আগ্রহ রয়েছে। তবে ট্রেন তিনটির চলাচল শুরুর ক্ষেত্রে শুধু দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের সম্মতি যথেষ্ট নয়। এ বিষয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের মতামত প্রয়োজন হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে এসব মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

তবে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পর্যায় থেকেই আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আইজিআরএম বৈঠকটি প্রতিবছর বাংলাদেশ ও ভারতে পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল গত বছরের ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি ভারতের নয়াদিল্লিতে। কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর এবার ঢাকায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়ে। ১৬ জুলাই মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল স্থগিত করা হয়। পরে ১৯ জুলাই থেকে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী— তিনটি ট্রেনের চলাচলই বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোর চলাচল আর স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আইজিআরএম বৈঠকের মাধ্যমে ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হতে যাচ্ছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস বর্তমানে ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চলাচল করে। বন্ধন এক্সপ্রেসের রুট খুলনা-কলকাতা এবং মিতালী এক্সপ্রেস ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি। এসব ট্রেন পুনরায় চালুর পাশাপাশি রাজশাহী-কলকাতা রুটে নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।