আড়তের মাল্টা কোল্ড স্টোরেজ মজুদ, ভূয়া আমদানি রশিদে বিক্রি
মাল্টা আমদানিকারকরা আমদানি মূল্য সংক্রান্ত এবং আড়তদারকে সরবরাহ মূল্য সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মাল্টা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করে পাঠাচ্ছে ফলমন্ডিতে।
কমিশন এজেন্ট, আড়তদার, পাইকারি বিক্রেতা এবং খুচরা বিক্রেতারা যোগসাজশে বাড়তি দামে মাল্টা বিক্রি করা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) অভিযোগের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর স্টেশন রোডের ফলমন্ডিতে সেনাবাহিনী এবং সিএমপি সদস্যদের সহযোগে আরেক দফা অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.তৌহিদুল ইসলাম এবং গালিব চৌধুরী। সেনাবাহিনীর টহল টিমের লিডার ছিলেন ক্যাপ্টেন রাকিব।
ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী বলেন, নগরীর রেয়াজুদ্দিন বাজারে ব্যবসায়ীদেরকে মাল্টার খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত মূল্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিকট স্বীকারোক্তি দেন যে, ফলমন্ডির ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসনের অব্যাহত অভিযানের কারণে মাল্টা এখন আমদানিকারক এবং কমিশন এজেন্টদের সাথে যোগসাজশ করে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করছেন। এরপর ভোরবেলা সেসকল কোল্ড স্টোরেজ থেকে মাল্টা এনে আজকে (মঙ্গলবার) প্রতি কেজি ১৬০ টাকা বিক্রি করছে। তবে রশিদ দিচ্ছে ১৫শত টাকার।
আবার অনেক আড়তদার রশিদ ছাড়া বাকীতে খুচরা বিক্রেতাদের হাতে মাল্টা দিয়ে দিচ্ছে। অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে পরে যাতে তাদেরকে মূল্য পরিশোধ করে।
এখানে উল্লেখ্য যে, মাল্টার গড় আমদানি খরচ ৬৫-৭০ টাকা (সকল খরচ সহ)। সে হিসেবে পাইকারিতে দাম হওয়ার কথা কেজিপ্রতি ৮০-৮৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৯০-৯৫ টাকা।
ফলমন্ডিতে অভিযানে গেলে দেখা যায়, অধিকাংশ মাল্টা ব্যবসায়ীরা দোকান কৌশলে মাল্টা বিহীন করে অন্যান্য ফল বিক্রি করছেন। রেয়াজুদ্দিন বাজারের এক খুচরা বিক্রেতা খোকন মিয়ার সূত্র ধরে ফলমুন্ডির আল-আমিন ট্রেডার্স এ অভিযান করা হলে ঐ আড়তের ম্যানেজার সুমন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিকট স্বীকারোক্তি দেন যে মূলতঃ তারা কোল্ড স্টোরেজে মাল্টা সরিয়ে রেখেছেন। কৌশলে তারা চট্টগ্রাম ও ঢাকাভিত্তিক মাল্টা আমদানিকারক চক্রের সাথে সংঘবদ্ধ হয়ে কমিশন এজেন্ট, ব্রোকার, অসাধু কোল্ড স্টোরেজ, আড়তদার, পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে মাল্টার দাম বেশি রাখছেন।
এসময় আল-আমিন ট্রেডার্স এর মালিক মো.আলী হোসেন মার্কেট থেকে পালিয়ে যান। পরে আড়তের ম্যানেজারকে আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অব্যাহত অভিযানের পরও ফলমন্ডিতে বাজার ফল ব্যবসায়ী সমিতি কার্যকর পরে পদক্ষেপ না নেয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের সমিতির ব্যর্থতার বিষয়ে মুচলেকা আদায় করেন। চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষে সভাপতি আবদুল মালেক এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর যৌথভাবে ফল ব্যবসায়ীদের নতুন অপকৌশলের বিষয়ে সাক্ষ্যমূলক মুচলেকা দেন।
যে সকল ফল ব্যবসায়ী এ অভিনব কারসাজিতে যুক্ত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে ফলমণ্ডি বাজার এলাকার মাল্টা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ফল বাণিজ্য (প্রাঃ) লিঃ, জি.এস ট্রেডিং, মেসার্স নুবাইদ, ইব্রাহিম এন্টারপ্রাইজের লোকজন অফিস ফেলে পালিয়ে যান।
এ সময় মাল্টা আমদানিকারক মেসার্স এন.এস ফ্রুটস ইন্টারন্যাশনাল এর অফিস খোলা পাওয়া গেলেও তাতে অফিস কাম বাসার আদলে থাকা-খাওয়ার আয়োজন করা রয়েছে ও আরেকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রশাসনকে ফাঁকি দেয়ার জন্য সম্প্রতি দোকানের স্যাটারের সামনে যে স্থানে প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা থাকে সেটি কৌশলে কেটে ফেলেছেন।
২৪ ঘণ্টা/এম আর


আপনার মতামত লিখুন