খুঁজুন
, ,

আড়তের মাল্টা কোল্ড স্টোরেজ মজুদ, ভূয়া আমদানি রশিদে বিক্রি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 5 May, 2020, 10:46 pm
আড়তের মাল্টা কোল্ড স্টোরেজ মজুদ, ভূয়া আমদানি রশিদে বিক্রি

মাল্টা আমদানিকারকরা আমদানি মূল্য সংক্রান্ত এবং আড়তদারকে সরবরাহ মূল্য সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মাল্টা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করে পাঠাচ্ছে ফলমন্ডিতে।

কমিশন এজেন্ট, আড়তদার, পাইকারি বিক্রেতা এবং খুচরা বিক্রেতারা যোগসাজশে বাড়তি দামে মাল্টা বিক্রি করা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (৫ মে) অভিযোগের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর স্টেশন রোডের ফলমন্ডিতে সেনাবাহিনী এবং সিএমপি সদস্যদের সহযোগে আরেক দফা অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.তৌহিদুল ইসলাম এবং গালিব চৌধুরী। সেনাবাহিনীর টহল টিমের লিডার ছিলেন ক্যাপ্টেন রাকিব।

ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী বলেন, নগরীর রেয়াজুদ্দিন বাজারে ব্যবসায়ীদেরকে মাল্টার খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত মূল্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিকট স্বীকারোক্তি দেন যে, ফলমন্ডির ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসনের অব্যাহত অভিযানের কারণে মাল্টা এখন আমদানিকারক এবং কমিশন এজেন্টদের সাথে যোগসাজশ করে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করছেন। এরপর ভোরবেলা সেসকল কোল্ড স্টোরেজ থেকে মাল্টা এনে আজকে (মঙ্গলবার) প্রতি কেজি ১৬০ টাকা বিক্রি করছে। তবে রশিদ দিচ্ছে ১৫শত টাকার।

আবার অনেক আড়তদার রশিদ ছাড়া বাকীতে খুচরা বিক্রেতাদের হাতে মাল্টা দিয়ে দিচ্ছে। অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে পরে যাতে তাদেরকে মূল্য পরিশোধ করে।

এখানে উল্লেখ্য যে, মাল্টার গড় আমদানি খরচ ৬৫-৭০ টাকা (সকল খরচ সহ)। সে হিসেবে পাইকারিতে দাম হওয়ার কথা কেজিপ্রতি ৮০-৮৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৯০-৯৫ টাকা।

ফলমন্ডিতে অভিযানে গেলে দেখা যায়, অধিকাংশ মাল্টা ব্যবসায়ীরা দোকান কৌশলে মাল্টা বিহীন করে অন্যান্য ফল বিক্রি করছেন। রেয়াজুদ্দিন বাজারের এক খুচরা বিক্রেতা খোকন মিয়ার সূত্র ধরে ফলমুন্ডির আল-আমিন ট্রেডার্স এ অভিযান করা হলে ঐ আড়তের ম্যানেজার সুমন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিকট স্বীকারোক্তি দেন যে মূলতঃ তারা কোল্ড স্টোরেজে মাল্টা সরিয়ে রেখেছেন। কৌশলে তারা চট্টগ্রাম ও ঢাকাভিত্তিক মাল্টা আমদানিকারক চক্রের সাথে সংঘবদ্ধ হয়ে কমিশন এজেন্ট, ব্রোকার, অসাধু কোল্ড স্টোরেজ, আড়তদার, পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে মাল্টার দাম বেশি রাখছেন।

এসময় আল-আমিন ট্রেডার্স এর মালিক মো.আলী হোসেন মার্কেট থেকে পালিয়ে যান। পরে আড়তের ম্যানেজারকে আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অব্যাহত অভিযানের পরও ফলমন্ডিতে বাজার ফল ব্যবসায়ী সমিতি কার্যকর পরে পদক্ষেপ না নেয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের সমিতির ব্যর্থতার বিষয়ে মুচলেকা আদায় করেন। চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষে সভাপতি আবদুল মালেক এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর যৌথভাবে ফল ব্যবসায়ীদের নতুন অপকৌশলের বিষয়ে সাক্ষ্যমূলক মুচলেকা দেন।

যে সকল ফল ব্যবসায়ী এ অভিনব কারসাজিতে যুক্ত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে ফলমণ্ডি বাজার এলাকার মাল্টা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ফল বাণিজ্য (প্রাঃ) লিঃ, জি.এস ট্রেডিং, মেসার্স নুবাইদ, ইব্রাহিম এন্টারপ্রাইজের লোকজন অফিস ফেলে পালিয়ে যান।

এ সময় মাল্টা আমদানিকারক মেসার্স এন.এস ফ্রুটস ইন্টারন্যাশনাল এর অফিস খোলা পাওয়া গেলেও তাতে অফিস কাম বাসার আদলে থাকা-খাওয়ার আয়োজন করা রয়েছে ও আরেকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রশাসনকে ফাঁকি দেয়ার জন্য সম্প্রতি দোকানের স্যাটারের সামনে যে স্থানে প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা থাকে সেটি কৌশলে কেটে ফেলেছেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লংমার্চ’ শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 10:12 am
চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লংমার্চ’ শুরু

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ‘লংমার্চ’ শুরু হয়েছে।

এর আগে আজ (শনিবার) সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ করেন ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশ শেষে চট্টগ্রাম অভিমুখী এ ‘লং মার্চ’ শুরু হয়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়ায়াতরে মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

এতে বক্তব্য রাখছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চের বহর রওনা হয়।

লং মার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। প্রথমটি নারায়ণঞ্জের কাচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্টান্ডে, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল, মীরের সরাই এবং সবশেষ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

সিফাতকে ছেড়ে দেন, ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন : শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 9:57 am
সিফাতকে ছেড়ে দেন, ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন : শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতিষ্ঠ হয়ে, বিরক্ত হয়ে সিফাত নামের একজন তরুণ কী বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ উলটপালট হয়ে যাওয়ার মতো করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় নিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। ওকে ছেড়ে দেন। ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন। যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদিকে একদম ওলটপালট করে দিয়েছিল। কখন যে পচা শামুকে পা কাটবে, কেউ বলতে পারবে না।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, সিফাতের মুখের ভাষা দিয়ে নয়, কিন্তু যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, এই বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট, ছয় দফা দাবি আপনারা দেখেছেন। তার সাথে সপ্তম দফা হবে, কোনো চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে আমরা বরদাস্ত করব না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস নাই, পানি নাই, ইলেকট্রিসিটি নাই। কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে। কারেন্টের ভূতুড়ে বিল আছে। পানির জন্য কথা বলা যাবে না।

তিনি বলেন, ঢাকাবাসী আপনারা দোয়া করবেন। আমরা আপনাদের এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই অঙ্গীকার পূরণ করতেই আমরা এই কর্মসূচি শুরু করেছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের কর্মসূচির ঔষধ ইতোমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্রিয়া হলে মোবারকবাদ। প্রতিক্রিয়া হলে আমরা বলে দিচ্ছি। আপনারা বলছেন, এই করলে সেই করলে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।’

তিনি আরও বলেন, আমরা আজ কোনো দল, ব্যক্তিগোষ্ঠীর জন্য এই রাস্তায় নামিনি। আমরা নেমেছি বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি। জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব। আমাদের এই আন্দোলন চলবে রাস্তায়, রাজপথে এবং জাতীয় সংসদে। সমান্তরালে আন্দোলন চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হবে।

আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক, আমাদের লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 9:12 am
আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক, আমাদের লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন, আমাদের এই লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই পৌঁছাবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বাংলাদেশের মানুষ লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে সবাই ঢাকায় একত্রিত হয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। এবার আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশ্যে লং মার্চের যাত্রা শুরু করেছি। নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে, সেই স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য আমাদের এই লং মার্চ।’

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এই লং চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে লং মার্চ। এই লং মার্চ যারা তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে লং মার্চ। এই লং মার্চ যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে লং মার্চ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা দলে দলে এই লং মার্চে অংশগ্রহণ করুন। এই লং মার্চ কোনো ১১ দলের লং মার্চ নয়। এই লং মার্চ বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের লং মার্চ।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা লং মার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করব। যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, এই লং মার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে।’