খুঁজুন
, ,

মাহে রমজানের শেষ দশকে শাইখ সুদাইসের বিশেষ নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 15 May, 2020, 4:22 am
মাহে রমজানের শেষ দশকে শাইখ সুদাইসের বিশেষ নির্দেশনা

মক্কা-মদিনা বিষয়ক অধিদফতরের প্রেসিডেন্ট শাইখ আব্দুর রহমান সুদাইস।

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দশক উপলক্ষ্যে মক্কার মসজিদুল হারামে মক্কা-মদিনা বিষয়ক অধিদফতরের প্রেসিডেন্ট শাইখ আব্দুর রহমান সুদাইস গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।

বুধবার এশার পর মসজিদুল হারামে রমজানের শেষ দশকের আগমনে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত প্রদান করেন।

তার বক্তব্যের চুম্বুকাংশ পাঠকের জন্যতুলে ধরা হলো-

আল্লাহর প্রশংসা ও রাসুলের ওপর দরুদ পাঠ করছি। শেষ দশকের আগমনে সবার প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ রইলো। আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলীর মাধ্যমে তার কাছে ফরিয়াদ করছি, তিনি যেন এই শেষ দশককে আমাদের সকলের জন্য বরকতের কারণ বানান।

আর আমাদের দিনের রোজা এবং রাতের নামাজকে কবুল করে নেন। সঙ্গে যেন লাইলাতুল কদরে ইবাদত ও তা পাওয়ার সৌভাগ্য দান করেন। যারা পূণ্যময় এই রজনীতে ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে দাঁড়াবে, তাদের অর্ন্তভূক্ত করেন।

প্রিয় মুসলমানগণ!

রমজানের শেষ দশ দিনের মর্যাদার কথা আমাদের কারোরই অজানা নয়। এ সময়টি রাসুল (সা.) ইবাদতের জন্য নির্ধারণ করতেন, যেমনটি অন্য দিনকে করতেন না।

হজরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশকে এতো পরিমাণ ইবাদত করতেন, যেমনটি তিনি অন্য সময় করতেন না। (মুসলিম: ১১৭৫)

অন্য এক হাদিসে হজরত আয়েশা (রাজি.) হতে বর্ণিত, যখন রমজানের শেষ দশকের আগমন হতো, রাসুল (সা.) সেসব রাত্রিগুলোতে বিনিদ্র থাকতেন, পরিবারের লোকদের ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলতেন এবং (অধিক আমলের জন্য) শক্তভাবে কোমর বেঁধে নিতেন। (বুখারী: ২০২৪)

তাই, আমাদের জন্য অধিকতর সমীচিন হলো শেষ দশকের দিন-রাতের পুরো সময়কে কাজে লাগানো।

এসব রাতের মাঝে লাইলাতুল কদর নামে একটি মহিমন্বিত রাত রয়েছে, তা হাজারো মাস অপেক্ষা উত্তম। তাই এই রাতকে পেতে যথাযথভাবে রোজা পালন, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, কল্যানমূলক কাজ, দান-সদকা এবং দোয়ার মাধ্যমে এ সময়গুলোকে মূল্যবান করতে হবে।

শেষ দশ দিনে আমরা যেন বেশি বেশি দোয়ায় আগ্রহী হই। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কোন রাতটি লাইলাতুল কদর আমি যদি তা বুঝতে পারি; তাহলে সে রাতে আমি কি দোয়া করব?

রাসুল (সা.) বললেন, তুমি এই দোয়া করবে, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন, তুহিব্বুল আফওয়া; ফা’ফু আন্নী’। অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল-মহানুভব। আপনি ক্ষমা কতে ভালোবাসেন; তাই (অনুগ্রহপূবর্ক) আমাকে ক্ষমা করে দিন। (তিরমিজী: ৩৫১৩)

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া। এই দোয়াটি অধিক পরিমাণে পাঠ করা উচিত। আর আমাদের উচিত হলো নিজেদের জন্য দোয়া করা এবং সব মুসলমানদের জন্য দোয়া করা; যাতে আমাদের উপর আপতিত এ মুসিবত বিদায় নেয়।

হে মুসলিমগণ! বরকতের এ দিনগুলোতে আমাদের উচিত হলো সময়ের প্রতি যত্মবান হওয়া। কারণ সময় হলো সংরক্ষণের বিবেচনায় অতি মূল্যবান বস্তু। আর আমরা খুব সহজেই তা বিনষ্ট করে ফেলি।

আজ সবচেয়ে প্রবঞ্চনা ও দূর্ভাগ্যের কারণ হলো, লোকজন আজ এমন কাজে নিজেদের সময় নষ্ট করে, যাতে তার কোন লাভ নেই। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ব্যবহারে আমাদের আরো সতর্ক থাকা উচিত।

তাই আমাদের কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, তাওবা, ইসতেগফার এবং দোয়ার প্রতি মনোনিবেশ করা দরকার।

আল্লাহর ইরশাদ, ‘(হে নবী) আর আমার বান্দারা যখন আমার ব্যাপারে আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে, বস্তুত আমি তাদের সন্নিকটেই আছি। প্রার্থনাকারী যখন প্রার্থনা করে, তখন আমি তার প্রার্থনা কবুল করে থাকি। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎ পথে আসতে পারে।’ (সূরা বাকারা: ১৮৬)

দোয়া মুমিনের মহান হাতিয়ার। বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বে চলমান করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট হতে উত্তরণের জন্য।

এসব দিনে মসজিদুল হারামে লাখো মুসল্লি ইতেকাফের জন্য অবস্থান করতেন। বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে না আসতে পারলেও নিঃসন্দেহে তারা সেসব আমল ও সওয়াবের ভাগিদার হবেন।

আমি নিজেকে এবং সকলকে খোদাভীতি এবং বরকতের এই দিন-রাতগুলোতে অধিক পরিমাণে ইবাদতের অসিয়ত করছি।

এসবের ভেতর দিয়ে আশা করি আমরা লাইলাতুল কদর পাবো, ইনশাআল্লাহ এবং জাহান্নাম হতে মুক্তির পরোয়ানাও পেয়ে যাবো।

পরিশেষে আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, যেন তিনি আমাদের আমলসমূহকে কবুল করে নেন এবং লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির সৌভাগ্য দান করেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

ফেসবুকে চাঁদপুরের ইলিশ কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার ক্রেতারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 1:52 pm
ফেসবুকে চাঁদপুরের ইলিশ কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার ক্রেতারা

চাঁদপুরের ইলিশের সুনামকে পুঁজি করে অনলাইনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারক চক্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পেজ খুলে চাঁদপুরের আসল ইলিশ সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। প্রশাসনের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও প্রতারকরা কৌশল বদলে অব্যাহত রেখেছে এ প্রতারণা।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগে সূত্রে জানা গেছে, গেল বছরের ৯ অক্টোবর চাঁদপুরে থেকে অনলাইনে ইলিশ বিক্রি করতে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাঁদপুর জেলার ইলিশের নাম করে বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ী ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে প্রতিনিয়ত দেশবাসীকে প্রতারণা করে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসন চাঁদপুর এ ধরণের প্রতারণা রোধে ৭ ব্যবসায়ীকে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির জন্য নিবন্ধন প্রদান করা হয়। ইলিশের অনলাইন ব্যবসার জন্যে আগ্রহী প্রার্থীদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে যোগ্যতা সাপেক্ষে নির্ধারিত ফরম এ আবেদন করতে হয়েছে। এছাড়া চাঁদপুর মাছ ঘাটের কিছু ব্যবসায়ী অনলাইনে ইলিশ বিক্রয় করছেন। তারা সবাই ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে ইলিশ বিক্রয় করেন।

ইলিশের ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা জানান, চাঁদপুরের বৈধ কিছু অনলাইন ইলিশ বিক্রেতার লোগো, পুরনো ভিডিও যুক্ত করে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা করেই যাচ্ছে চক্রের সদস্যরা। তাদের ফাঁদ থেকে বাদ পড়ছেন না চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ। প্রশাসন কঠোর হলেও এসব প্রতারক ধরা ছোয়ায় বাইরে থাকছে। তবে প্রতারণা থেকে মুক্তির জন্য চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতন করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের ভুক্তভোগী হিম অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’ নামে একটি পেজের বিজ্ঞাপন আমার নজরে আসে। বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করে আমি ইলিশ মাছ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করি এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ মাছের অর্ডার দেই। তখন তারা আমাকে জানায়, অর্ডার নিশ্চিত করতে হলে আগে অগ্রিম টাকা পরিশোধ করতে হবে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে তারা যে বিকাশ ও নগদ নম্বর দেয়, সেখানে আমি মোট ১১ হাজার টাকা পাঠাই। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরও তারা কোনো মাছ পাঠায়নি। এরপর আমি বারবার যোগাযোগ করে মাছ কিংবা টাকা ফেরত চাইলে তারা নানা ধরনের অজুহাত দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা জানায়, আমার নামে নাকি একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, সেটি চালু করতে হলে আরও টাকা পাঠাতে হবে। অ্যাকাউন্ট চালু হলেই আগের ১১ হাজার টাকাসহ সব টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেয়। কিন্তু তখন আমি বুঝতে পারি, এটি একটি প্রতারণার ফাঁদ। এরপরও তারা বিভিন্নভাবে আরও টাকা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমি শুধু একাই নই, আমার মতো আরও অনেক মানুষ অনলাইনে ইলিশ মাছ বিক্রির প্রলোভনে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা এভাবে হাতিয়ে নেওয়া খুবই নিন্দনীয়। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আমার হারানো টাকা দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

শরীয়তপুর সদরের তুলাসার এলাকার বাসিন্দা মিন্টু মাদবর বলেন, চাঁদপুরের ইলিশের স্বাদ নিতে অনলাইনে রুপালি ইলিশের সেরা চাঁদপুর পেইজের নামে একটি ফেসবুক পেজের সঙ্গে গত পরশু যোগাযোগ করি। প্রতারক চক্রকে ১১ হাজার টাকা দেই। কিন্তু চক্রটি ইলিশ আমাকে দেয় নাই।

নিবন্ধনকৃত অনলাইন ইলিশ ব্যবসায়ী খোকন পাটওয়ারী বলেন, আমরা অনলাইনে ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে ইলিশ বিক্রি করি। আমাদের এখানে অনলাইনে নিবন্ধনকৃত ৭টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত। একটা শ্রেণির প্রতারক চক্র অনলাইনে দেখায়, মাছের দাম অনেক কমে গেছে। তারা মানুষের কাছ থেকে মাছের টাকা নেয়। কিন্তু মাছ দেয় না। আমি অনুরোধ করব আপনাদের হাতে ইলিশ পৌঁছানোর আগে টাকা দেবেন না।

চাঁদপুর মাছঘাটের মেসার্স আলম ট্রেডার্সের মালিক নুরুল আমিন বলেন, অভিনব কায়দায় ভুয়া পেজ ব্যবহার করে ইলিশ বিক্রির প্রতারণা করছে প্রতারকরা। এসব প্রতারণা করছে দেশের অন্য জেলায় বসে এক শ্রেণির প্রতারক। তাই আপনাদের হাতে ইলিশ পৌঁছানোর আগে টাকা দেবেন না।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত আলী বলেন, দেশে বিদেশ থেকে কেউ ক্যাশ অন ডেলিভারি ছাড়া ইলিশ ক্রয় করবেন না। টাকা দেওয়ার আগে অন্তত খোঁজ-খবর নিয়ে মাছ ক্রয় করবেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, আমরা অনলাইনে বিক্রির প্রতারণা রোধে ৭ ব্যবসায়ীকে অনলাইনে ইলিশ বিক্রির জন্য নিবন্ধন প্রদান করা হয়। আমরা জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। জেলা প্রশাসনের ওয়েব সাইডেও ওই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতন করা হয়েছে। কেউ যদি ইলিশ বিক্রিতে প্রতারণা করে তাহলে আপনার নিকটতম থানায় যোগাযোগ করুন।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, তালিকা বহির্ভূত অন্যান্য অনলাইন পেজ থেকে সংশ্লিষ্টদের ইলিশ ক্রয়ের বিষয়ে প্রতারণা হতে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ প্রতারিত হলে আপনার নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করতে পারেন। আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:59 am
মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

দিল্লির রাজপথে সহিংস রূপ নেওয়া বিক্ষোভের পরদিন শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ও সংগীতশিল্পী।

রাজধানীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের সমর্থনে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর ‘পুলিশের ধরপাকড়ের’ প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন ক্রমেই বেশিসংখ্যক তারকা ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।

পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ, যিনি আগে এই বিক্ষোভ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন, মঙ্গলবার তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ইনস্টাগ্রামে এই গায়ক লেখেন, ‘যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।’

‘জনগণের কণ্ঠস্বর’কে ‘ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দিয়ে দিলজিৎ কর্তৃপক্ষকে ‘শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অভিযোগ শোনার’ আহ্বান জানান। কৃষক আন্দোলনের সময় কথা বলে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই গায়ক বলেন, সে সময় তাকে অনেক ভুগতে হয়েছিল এবং ‘এবারও হয়তো আমাকে দেশদ্রোহী বলা হবে।’

অভিনেতা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং তাদের কথা শোনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই দম্পতি লেখেন, ‘আমরা আমাদের দেশের তরুণদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি জানাচ্ছি। তাদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত—উচ্চকণ্ঠে, স্পষ্টভাবে এবং ভয়হীনভাবে। তারাই আমাদের গণতন্ত্রের স্পন্দন এবং আমাদের জাতির ভবিষ্যতের প্রকৃত স্থপতি। আসুন, আমরা তাদের কথা শুনি, সমর্থন দিই এবং ক্ষমতায়ন করি। আমাদের তরুণদের শক্তি, সাহস ও স্বপ্নই সেই ভারত গড়বে, যে ভারতের স্বপ্ন আমরা দেখি।’

এর আগে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হওয়ার আগেই প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-নির্মাতা প্রকাশ রাজ দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন।

এই বিক্ষোভ যে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে, সে বিষয়ে জোর দেন শাবানা আজমি। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, সবাই একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য এসেছি। আমাদের দেশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার চর্চা করতেই এই জমায়েত। মহাত্মা গান্ধী আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হয়, আর আমরা সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এখানে এসেছি। কোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টির বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের নেই এবং আমরা এই আশাতেই দৃঢ়ভাবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’

সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অ্যাকশনের পর বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেক তারকা।

অভিনেতা হুমা কুরেশি বলেন, বিক্ষোভের এসব দৃশ্য তার মনে ‘দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে’। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘এমন পাশবিক বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জ’ তাকে ‘গভীরভাবে ব্যথিত করেছে’ বলে জানান তিনি।

চলচ্চিত্র রচয়িতা সুতপা সিকদার লিখেছেন, জবাবদিহি চাইতে আসা বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ছিলেন শিক্ষার্থী, যারা ‘পকেটে মাত্র ২০ টাকা’ আর ‘বুকভরা আশা’ নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এই তরুণেরা কেউ ‘প্রভাবশালী ধনী বাবার আদুরে সন্তান’ নন এবং ‘তাদের বাঁচাতেও কেউ আসেনি’।

সারা জীবন বাসের জন্য, ট্রেনের জন্য, ভর্তির জন্য কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই করে তারা টিকে থেকেছেন, এখানেও তারা সেভাবেই মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সুতপা।

অভিনেতা ও নির্মাতা নন্দিতা দাস জানিয়েছেন, যারা বিশ্বাস করেন মানুষ যখন সমবেত হতে পারে, কথা বলতে পারে, শুনতে ও শোনাতে পারে, তখনই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়—তিনি তাদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘গঠনমূলক ভিন্নমতই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ভারতের ওপর আমরা বিশ্বাস রাখি, সেই ভারতের জন্য দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করা সবার সঙ্গেই আমি আত্মিকভাবে আছি।’

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে অভিনেতা ভূমি পেডনেকার বলেছেন, সহিংসতা কখনো কোনো সমাধান হতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসংগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:31 am
ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ইরানে টানা ১১তম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার লক্ষ্যে দেশটির বিরুদ্ধে টানা একাদশতম দিনের মতো বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক অভিযানকেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহরের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিকের আশপাশেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর ফার্স নিউজকে বলেন, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের নিকটবর্তী এলাকাগুলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাবরিজের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। এটি শহরের নিকটবর্তী একটি সামরিক এলাকায় চালানো হলেও শহরের ভেতরে কোনো হামলা হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। এই মাসে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান বারবার হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার তহবিল প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথের এ ঘোষণার পর তিনি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘খুব শিগগিরই এবং খুব জোরালোভাবে’ পিক্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে এ অঞ্চলে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে।