খুঁজুন
বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শতাধিক আরোহী নিয়ে পাকিস্তানে বিমান বিধ্বস্ত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০, ৭:১১ অপরাহ্ণ
শতাধিক আরোহী নিয়ে পাকিস্তানে বিমান বিধ্বস্ত

পাকিস্তানের করাচিতে আবাসিক এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বিমান করাচিতে বিধ্বস্ত হয়েছে।

পিআইএর জেট বিমান এ-৩২০ লাহোর থেকে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ৯৯জনকে নিয়ে করাচি যাচ্ছিল। করাচির একটি আবাসিক এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়ে।

পাকিস্তানের বিমান চলাচল কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন পাকিস্তান ইন্টারন্যাশানাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) বিমানটিতে ৯১ জন যাত্রী এবং আটজন বিমান কর্মী ছিলেন। লাহোর থেকে বিমানটি যাত্রা শুরু করে পাকিস্তানের অন্যতম ব্যস্ত একটি বিমানবন্দর করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাচ্ছিল।

বিমানবন্দর থেকে বিমানটি মাত্র প্রায় এক মিনিটের দূরত্বে ছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে করাচির যে আবাসিক এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়েছে সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠছে।

উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এলাকার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

“বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে করাচিতে, আমরা ঠিক কতজন যাত্রী বিমানে ছিল তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রাথমিকভাবে বিমানে ৯৯জন যাত্রী এবং আটজন ক্রু ছিলেন,” জানাচ্ছেন পাকিস্তান বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আবদুল সাত্তার খোখার।

বিমানটি করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে যাচ্ছিল। বিমানবন্দরের প্রায় দুই মাইল উত্তর পূর্বে করাচির মডেল কলোনি নামে একটি এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়ে।

সরু রাস্তার জন্য উদ্ধারকাজের জন্য যানবাহন এবং অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছতে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রচুর মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছে।

পাকিস্তান সেনা বাহিনী বলেছে তাদের দ্রুত মোকাবেলা বাহিনীর সৈন্যরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য।

স্থানীয় হাসপাতালগুলোয় জরুরিকালীন অবস্থা জারি করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস লকডাউনে বন্ধ থাকার পর মাত্র কয়েকদিন আগে দেশটিতে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল আবার শুরু হয়েছে।

রমজানের শেষে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতিতে অনেকেই এখন শহরে ও গ্রামে তাদের বাড়িতে যাচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। পিআইএ-র প্রধান নির্বাহী এয়ার ভাইস মার্শাল আরশাদ মালিক বলছেন পাইলট ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানিয়েছিলেন যে বিমানে “যান্ত্রিক ত্রুটি” দেখা যাচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন তিনি দুর্ঘটনার খবরে “মর্মাহত এবং দু:খিত” এবং অবিলম্বে ঘটনার তদন্তের প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। প্রকল্পটির মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

একনেক সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় রাখা হয়েছিল পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। এর আগে প্রকল্পটি কয়েক দফা একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

অনুমোদিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

একনেক সভায় উপস্থিত থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে, কমবে লবণাক্ততা, প্রাণ ফিরে পাবে মৃতপ্রায় নদীগুলো— একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।

শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কিউসেক পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে প্রবাহিত করার জন্য এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত কোলকাতা বন্দরের নাব্য উন্নত করার জন্য ১৯৭৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করে ভারত। ফারাক্কা ব্যারেজের উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশে পদ্মা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমেছে এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী শুকিয়ে গেছে।

ফারাক্কা ব্যারেজের নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে প্রথম পর্যায়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। এ প্রকল্পটি সার্বিকভাবে বাস্তবায়ন করতে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। পদ্মা বাঁধ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ব্যবস্থায় স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা।

তবে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ সংক্রান্ত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায়। ১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সত্তরের দশকে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের পর পদ্মা নদী থেকে পানি প্রত্যাহারে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ অংশে পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী-খালে লবণাক্ততা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি কৃষি, মৎস্য, নৌ-চলাচল, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেল নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে ২০২৮ কোটি টাকার প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
পশ্চিমাঞ্চল রেল নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে ২০২৮ কোটি টাকার প্রকল্প

নিরাপদ ও দ্রুত ট্রেন চলাচল নিশ্চিত, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবার মান উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক রেল সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের অবকাঠামো পুনর্বাসন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সর্বশেষ সভায় ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম ধাপ)’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। যার পুরো অর্থই সরকারি নিজস্ব তহবিল (জিওবি) থেকে ব্যয় করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ রেলওয়ে বাস্তবায়ন করবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প ২০৩১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি মূলত তিনটি প্রধান লক্ষ্য সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো- নির্ধারিত গতিতে নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা, যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবার মান উন্নয়ন এবং রেল অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো।

ওই কর্মকর্তা জানান, পশ্চিমাঞ্চলীয় রেল নেটওয়ার্কে ক্রমবর্ধমান পরিচালন চাপ এবং দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলকে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন করিডর।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগের সদস্য (সচিব) এসএম শাকিল আখতার বলেন, পশ্চিমাঞ্চলের রেললাইন আধুনিকায়ন, পুনর্বাসন ও রক্ষণাবেক্ষণে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।

তিনি জানান, বাংলাদেশ রেলওয়েতে এখনো আধুনিক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ও কোচের সংকট রয়েছে। তাই বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় গত একনেক সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয়কে নতুন লোকোমোটিভ, কোচ ও মালবাহী বগি সংগ্রহে নতুন প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে ১ হাজার ৯৩০ দশমিক ৮৮ রুট কিলোমিটার এবং ২ হাজার ৫০৫ দশমিক ৫০ ট্র্যাক কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। এসব রেলপথে নিয়মিত যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। তবে এই নেটওয়ার্কের বড় অংশ ১ হাজার ৯৩০, ১ হাজার ৯৪৩, ১ হাজার ৯৬৮ ও ১ হাজার ৯৬৯ সালে স্থাপিত পুরোনো রেললাইন দিয়ে গড়ে ওঠায় অনেক অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

বেশ কিছু অংশে রেললাইনের ক্ষয়ের হার ১২ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে রেললাইনে ফাটল, ওয়েল্ডিং জয়েন্টে ত্রুটি এবং লাইন ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এতে নিরাপদ ট্রেন চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ওই কর্মকর্তা জানান, রেললাইনের স্লিপার ও ব্যালাস্টের অবস্থাও উদ্বেগজনক। অনেক এলাকায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত ও অকেজো হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ট্র্যাকের স্থিতিশীলতা ও সঠিক গেজ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যালাস্টেরও ঘাটতিও দেখা দিয়েছে। এতে ট্র্যাকের ভারসাম্য ও গেজ সুরক্ষা দুর্বল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে।

সৈয়দপুর-জয়দেবপুর করিডোরসহ কয়েকটি রেলপথ ২০০০ সালের শুরুর দিকে পুরোনো সরঞ্জাম দিয়ে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। বর্তমানে সক্ষমতার চেয়ে বেশি ট্রেন চলাচলের কারণে এসব লাইনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, এতে রেললাইন, স্লিপার ও ফিটিংসের কার্যকারিতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক এলাকায় ট্রেনের গতিসীমা কমিয়ে আনতে হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় ভবানীপুর থেকে এমজিএমসিএল পর্যন্ত ২১ দশমিক ৪৯২ কিলোমিটার রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন করা হবে। এছাড়া ৫০০ দশমিক ২ কিলোমিটার রেললাইনে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং আরও ৪৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার রেলপথের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন করা হবে। এর মাধ্যমে ট্রেন চলাচলের নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

প্রথম ধাপে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও মালবাহী পরিবহন সচল রাখতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রেলপথকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে জয়দেবপুর-ইব্রাহিমাবাদ, সয়দাবাদ-ঈশ্বরদী বাইপাস, ঈশ্বরদী বাইপাস-মালঞ্চি, ভেড়ামারা-ঈশ্বরদী বাইপাস, মালঞ্চি-সাহাগোলা, সাহাগোলা-সান্তাহার, সান্তাহার-জয়পুরহাট, জয়পুরহাট-বিরামপুর, বিরামপুর-পার্বতীপুর, আব্দুলপুর-রাজশাহী কোর্ট এবং ভবানীপুর-মধ্যপাড়া রেলপথ।

প্রকল্প এলাকা রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের একাধিক জেলায় বিস্তৃত। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, নীলফামারী ও কুষ্টিয়া।

দেশীয় পরিবহন উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকল্পটি আঞ্চলিক রেল সংযোগ জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল বেনাপোল, দর্শনা, রহনপুর, বিরল ও চিলাহাটির মতো প্রধান স্থলবন্দর দিয়ে মালবাহী পরিবহনের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করছে। এসব বন্দরে নিয়মিত পাথর, বোল্ডারসহ ভারী মালামাল পরিবহন করা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে- বিশেষ করে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেলভিত্তিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংহতি বৃদ্ধির উদ্যোগগুলোও শক্তিশালী হবে।

প্রকল্পটি ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক (টিএআর), দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক), বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) ফোরাম, বিমস্টেক এবং বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) উদ্যোগের মতো আঞ্চলিক সংযোগ কাঠামোর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) ইতোমধ্যে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন করেছে।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

মিরসরাই প্রতিনিধি: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৮৩ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েকদিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। মিরসরাই আসন থেকে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথম, তৃতীয়, সপ্তম, নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করেন।

তিনি বাংলাদেশের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল আউয়াল তুহিন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।