পারস্পরিক বন্ধনই হোক করোনাকালীন ঈদ আনন্দের উপায়
অনামিকা সুলতানা:নেই কোন বিশেষ জমকালো আয়োজন। চাঁদ দেখার আগ্রহ দেখা যায় নি কারো মাঝে। ঈদের দিন কোন নেই হাঁসি-খুশি আনন্দ। রীতির অনুপস্থিতি যেন সব খানেই। বিশেষ উৎসবকে ঘিরেও জাগেনা বিশেষ অনুভূতি। বিষন্নতায় নিমজ্জিত সকলেই।
মুসলমানদের ধর্মীয় বিশেষ উৎসব হিসেবে বছরে দুই ঈদ উদযাপন করা হয়। প্রতিবছর ঈদ আসে তাদের জীবনে আনন্দ, সীমাহীন প্রেম প্রীতি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে। তবে এবারের ঈদটি একটু ভিন্ন। পূর্বের রীতি মেনে উপস্থিত নেই বিশেষ কোন আয়োজন। করোনা ভাইরাস সঙ্কটে সবকিছুতেই পরিবর্তন ঘটেছে। অদ্ভুত এক অন্ধকারে ঢেকে গেছে পৃথিবী। চারিদিকে মৃত্যু, ক্ষুধা আর হাহাকারের মিছিল।
দেশে দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা করোনা পরিস্থিতির কারণে কোন কাজ করতে পারছে না। এ সঙ্কটের মধ্যেই আম্পান ঝড়ে উপকূল মানুষ হয়েছে গৃহহীন। যাদের সম্মুখে বেঁচে থাকার কোন প্রায়াশ নেই। দিনরাত কাটছে চরম অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তায়।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনন্দ উদযাপন করার সুযোগ নেই খেয়ে পরে বেঁচে থাকা লোকদেরও।
অনিশ্চিয়তায় থাকা লোকদের পাশে থাকাই হতে পারে এই ঈদে বিত্তবানদের আনন্দের উপায়। এই ব্যাপারে কথা বলেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠানকালীন সভাপতি নাজমুস সাকিব সাদী।
তিনি বলেন, ঈদ মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ন একটি দিন। এই দিনটিতে প্রতি বছর বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের মুসলমানরা সহ সকল ধর্মালম্বীরা উদযাপন করে থাকে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। সারা বিশ্ব এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতি ঘূর্নিঝড় আম্ফানের কারনে বাংলাশের অবস্থা আরো নাজুক।
সবদিক বিবেচনা করে আমাদের সকলের উচিত সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখার জন্য ঈদের দিন নিজ পরিবারের সাথেই সময় কাটানো। তাছাড়া এবারের সময়টি যেহেতু ভিন্ন, সুতরাং আর্থিক স্বচ্ছলদের উচিত হবে নিজেদের নতুন পোষাকের অনন্দটুকু আর্থিক ভাবে অস্বচ্ছল আত্মীয় ও পারা-প্রতিবেশি সহ সকলকের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া।
পারস্পরিক বন্ধনের জোরে টিকে থাকুক পৃথিবীর মানুষ গুলো। সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে সঙ্কট কাটিয়ে সকলেই ফিরে পাক চিরচেনা পৃথিবীর স্বাভাবিক চিত্র।
অনামিকা সুলতানা:শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
২৪ ঘণ্টা/এম আর


আপনার মতামত লিখুন