খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ কি মৃত্যুপুরীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ কি মৃত্যুপুরীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে?

অ আ আবীর আকাশ:খুব দ্রুতই বুঝি বাংলাদেশ মৃত্যুপুরীতে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে? মানুষের হেয়ালিপনায় মহামারী ভাইরাস ঝড়ের বেগে ছুটছে। করোনা জাল বিস্তার লাভ করছে দেশের আনাচে-কানাচে, পল্লী-গ্রাম-গঞ্জের পরতে পরতে,চর- চরাঞ্চল, নদীতে বসবাস করা বেদে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। কোন শ্রেণি-পেশার মানুষ বাদ যাচ্ছে না এই ছোঁয়াচে বালাই থেকে। চরম দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে ঈদ-উল ফিতরের দিনেই খবর এসেছে একদিনে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এই ঘাতক ভাইরাসের সংক্রমিত হয়ে। মহান আল্লাহর রহমত ছাড়া আর কোন উপায় নেই। করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে মর্মে প্রতিদিনই খবরে আসতে থাকে। এদেশ ওদেশ করে প্রকৃতপক্ষে এখনো চূড়ান্ত প্রতিষেধক কোন দেশেই আবিষ্কৃত হয়নি। তবে আভাস যে হারে আসছে তাতে করে খুব শিগগিরই আশা করা যাচ্ছে যে এ প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হবেই ইনশাল্লাহ।

অতীতে এরকম বহু প্রাণঘাতী ভাইরাস ছিল, তার সবগুলো ভাইরাস এখন মূল্যহীন হয়ে পড়েছে প্রতিষেধক আবিষ্কারের মাধ্যমে। আল্লাহর রহমতে বিশ্বের সব নামিদামি গবেষণাগারেই রাতদিন করে এই করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের নিরন্তর প্রয়াস চলছে।

সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসনিক নির্দেশনা মেনে চলার মন ও মানসিকতা আমাদের হারিয়ে গেছে। তবে কেন তা বোঝা যায় না। তাহলে কি আমরা চোখের সামনে চরম অবহেলায় আত্মীয়-স্বজনদের মৃত্যু ও মৃত্যু পরবর্তী চরম অবহেলা দেখতে যাচ্ছি? পরম আপন জনের মৃত্যুতে শোক সন্তপ্ত প্রকাশ না করে আতঙ্কের মাধ্যমে দিনযাপন করতে যাচ্ছি? আমাদের মন-মানসিকতা ভালোবাসা স্নেহ মায়া-মমতাকে বিসর্জন দিয়ে দিনকে দিন পাথরে পরিণত হতে যাচ্ছি? তবে কি হবে আমাদের! কি হবে পরিবার-পরিজনের? কি হবে সমাজ ব্যবস্থার? কি হবে রাষ্ট্রব্যবস্থার? এর থেকে উত্তরণের পথ কী আমাদের জানা আছে?

একদিকে যেমন জনগণ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করে না, কোন বাধা, নিষেধ মানতে চায় না অপরদিকে সরকার ব্যবস্থায় যেসব নির্দেশনা দেয়া হয় তা জনগণের মাঝে তেমন একটা প্রয়োগ হতে দেখা যায় না। যেমন লকডাউন দিনে কোনরকম থাকলেও রাতে তেমনটা মানা হয়না। হোম কোয়ারেন্টিন মানা হয়না। ঘরে থাকে না, জনগণ দলাদলি-জমায়েত, দোকানপাট, প্রকাশ্যে চলাফেরা, কোনটাই ঠেকানো সম্ভব হচ্ছেনা। আইন-কানুন যেমন মানা হচ্ছে না তেমনি চলাফেরা স্ববিরোধী হওয়াতে নিজের বিপদ, পরিবার-পরিজনের বিপদ, পরম আপনজনের বিপদ হাতে ধরে নিজেরাই আনছে ডেকে। এতে করে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে! স্বাধীনতার সময়ে পশ্চিমাদের হামলায় এদেশে মানুষের মৃত্যু হয়েছিল নির্বিচারে পাখির মতো, লাশের পর লাশ পড়েছিল, কবরস্থ করার কেউ ছিলনা। শেয়াল কুকুরের আহারে পরিণত হয়েছিল মানুষ! আমরা কি সেরকম পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হচ্ছি?

শপিং মল মার্কেট দোকানপাট খোলার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা শিথিল করার সিদ্ধান্ত খুবই বিপদজনক হয়েছে। যে বা গোষ্ঠীর সুবিধার্থে এমন সিদ্ধান্ত শিথিল করা হয়েছে তা মোটেও সঠিক হয়নি। গার্মেন্টস মালিক সমিতির চাপে হোক বা শিল্পপতিদের চাপেই হোক এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা সরকারের ঠিক হয়নি। ২৪ ঘন্টায় যেখানে পুরো দেশে প্রায় শ’খানেক করোনা শনাক্ত হতো সেখানে গার্মেন্টস শপিংমল মার্কেট খোলার সাথে সাথেই দুই হাজার ছাড়িয়ে যায় করোনা শনাক্ত রোগী।এ বড় খারাপ খবর নিঃসন্দেহে।

পুঁজিবাদ সুদি ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের আরো মোটা লাভের জন্য লকডাউন শিথিল করে আপামর জনসাধারণকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে বৈকি। এর প্রতিবাদ করার ক্ষমতা কারোর নেই এই দুঃসময়ে। তবে কেউ কেউ হয়তো বিষয়টি টের পেয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বোধহয়।

ঈদের ছুটি ঘোষণা করে সরকারি সিদ্ধান্ত এসেছে গণপরিবহন বন্ধ তবে ব্যক্তিগত পরিবহনে মানুষ বাড়ি যেতে পারবে। এ সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে এইজন্য, যে মন্ত্রী বলেন -‘ নিজস্ব পরিবহনে বাড়ি যাওয়া যাবে তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।’ অপরদিকে পুলিশের আইজি বেনজীর আহমেদ বলেছেন -‘ কেউ যেন ঈদের ছুটিতে বাড়ি না যায়। যে যেখানে আছে সেখানেই থাকবে।’ তবে কার নির্দেশনা মানবে জনগণ?

অপরদিকে বড় দুঃখ জাগিয়েছে মানুষের হৃদয়ে। অর্থাৎ শ্রমজীবী অসহায় মানুষগুলো এসব সরকারি সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য। ধনীরা নিজস্ব গাড়ী হাঁকিয়ে অসহায় মানুষের চোখে মুখে ধুলো উড়িয়ে গ্রামে যাবে শরীর জুড়াতে, ছেলেমেয়ে মা-বাবা ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজনের কাছে যেতে না পেরে শ্রমজীবী অসহায় মানুষেরা হাঁসফাঁস করবে, নিজেকে ধিক্কার দেবে ‘কেন তারা গরীব হয়ে জন্মেছে’? এই কি তবে দেশ? এই কি তবে রাষ্ট্রব্যবস্থা? যাদের নিজস্ব গাড়ি আছে তারাই বাড়ী যাবে যাদের নেই তারা যেতে পারবেনা গ্রামে। প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয় সরকারের ভেতরে এমন সিদ্ধান্ত কে দিয়েছেন ও কেমন করে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তিনি? সাধারণ মানুষের কথা একটুও ভাবেননি। তিনি কি বাংলাদেশে কতজন মানুষের গাড়ি আছে তার হিসাব রাখেন?

এই বিষয়ে একটা গল্পের কথা মনে পড়ে। এক রাজ্যের রাজা ও মন্ত্রীর কথার সাথে মিলে যায় এমন সিদ্ধান্তগুলো। রাজা তার মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন -‘মন্ত্রী আপনি তো রাজ্যের সকল কিছুর হিসেব রেখেছেন ঠিকঠাক? মন্ত্রী মাথা নাড়িয়ে জবাব দিলেন -‘জি হুজুর’। রাজা প্রশ্ন করলেন তাহলে বলুনতো -এ রাজ্যে কতগুলো পাখি আছে? মন্ত্রী খানিকটা থ বনে গেলেন। চতুর মন্ত্রী পরক্ষণেই সরব হয়ে বলে উঠলেন -‘সে হিসেবেও আমি দেখেছি হুজুর,আপনার রাজ্যে বেতাল্লিশ হাজার তেতাল্লিশ’শ চোতাল্লিশটি পাখি আছে। এর চেয়ে একটা কম হলে বুঝবেন অন্য এলাকায় বেড়াতে গিয়েছে আর একটা বেশি হলে বুঝবেন অন্য এলাকা থেকে এলাকায় বেড়াতে এসেছে।’

এমন চতুর মন্ত্রী বাংলাদেশে অনেকেই রয়েছেন। মুক্তমত প্রকাশে সেসব মন্ত্রী সবসময় বাধা হয়ে দাঁড়ান। তারা আইনজারি করেন একের পর এক। গলা টিপে ধরেন মুক্তমনাদের, যেন দ্বিতীয় কেউ আর সাহস না করে মত প্রকাশে।

হোম কোয়ারেন্টিন ও লকডাউন শব্দ দুটো করোনাভাইরাস এর সাথে নতুন করে বাংলাদেশের মানুষ শুনতে শুরু করেছে। এর আগে বোধ হয় এত প্রচলিত ছিল না। আগে অনেক কলামে আমি এ শব্দদুটো নিয়ে বলেছি। বাঙালি শব্দ-দু’টো তেমন বোঝেনা। না বুঝলে দেশে করোনা ভাইরাস ছড়াবে দ্রুত গতিতে। সত্যিই, তাই হয়েছে। বাঙালিকে বোঝাতে হলে কারফিউ জারি করতে হবে। অনির্দিষ্টকালীন সময়ের জন্য যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে তেমনি করে গার্মেন্টস শপিং মল মার্কেট কল কারখানা সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করে দেশে কি পুরো এক মাসের জন্য কারফিউ জারি করা যাবে না? যদি পুরো একমাস কারফিউ জারি করা যায় তাহলে শীঘ্রই করোনা শনাক্ত শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। এক মাসের আহারের অভাবে কোন ব্যক্তি মারা যাবে না। কমবেশ সবার ঘরেই অন্তত এক মাসের খাদ্য মজুদ আছে। যদি নেহাত প্রয়োজন হয় প্রশাসনকে জানালে তা যদি ব্যবস্থা করা যায়, আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ করোনা পূর্বের পরিবেশে ফিরে যেতে পারবে। মানুষ না খেয়ে থাকতে রাজি তবু পুঁজিবাদের লালসায় গার্মেন্টস কলকারখানা শপিং মল খুলে চরম অবহেলায় দুর্ভাগ্য নিয়ে মরতে চায় না।

লেখক : কবি প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক।
সম্পাদক : আবীর আকাশ জার্নাল
২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।

৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
৬ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য চসিকের, তদারকিতে থাকবেন মেয়র

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সোমবার (২৫ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ, যান্ত্রিক শাখা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে শুরু হবে। আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও দুপুর ২টা থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করব। বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিকের সরবরা করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করতে হবে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় মেয়র পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা এরইমধ্যে চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। কোরবানির চামড়া যেন যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।’

সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং যান্ত্রিক শাখার প্রকৌশলীরা।

সভায় জানানো হয়, ঈদের দিন দুপুর ২টা থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যে তিনটি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, সেই সেরা তিনটি ওয়ার্ডকে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। তবে দ্রুততার নামে যেন পরিচ্ছন্নতায় কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

ঈদের দিন নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের খাবারের মান বজায় রাখতে এবার তিনটি পৃথক গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সভায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
হাটের ঝামেলা এড়িয়ে এগ্রো ফার্মমুখী ক্রেতা

ক্রেতা-বিক্রেতার দর কাষাকষিতে জমে উঠছে নগরের পশুর হাটগুলো। শেষ সময়ে নিজেদের পছন্দের পশু কিনতে অনেকে যাচ্ছেন হাটে।

তবে ভিন্ন চিত্রও রয়েছে। হাটগুলোতে যখন ক্রেতা-বিক্রেতার হাক ডাকে জমজমাট, তখন এগ্রো ফার্মগুলোতে বেচাবিক্রি প্রায় শেষ।

নগরজীবনের ব্যস্ততা, হাটের ভিড় ও ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে নগরবাসীর বড় একটি অংশ সরাসরি এগ্রো ফার্মে গিয়ে গরু কিনছেন।

বিভিন্ন এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা যায়, অনেক ফার্মেই হাতেগোনা কয়েকটি গরু অবশিষ্ট রয়েছে।

খামারিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ক্রেতারা বেশ আগেভাগেই গরু কিনে নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে যোগাযোগ করলেও অধিকাংশ ক্রেতাই শেষ পর্যন্ত ফার্মে এসে সরাসরি গরু দেখে কিনছেন।

এগ্রো ফার্মগুলোর মালিকরা বলছেন, তারা অনলাইনে প্রচারণা চালালেও মূলত বিক্রি করছেন অফলাইনে। তাদের মতে, অনলাইনে গরু দেখতে এক রকম লাগলেও বাস্তবে আকার, গঠন কিংবা ওজনের পার্থক্য নিয়ে অনেক সময় ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে বেশিরভাগ ফার্মই ক্রেতাদের সরাসরি এসে গরু দেখে কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া মানুষ এখন বাজারে দালাল কিংবা অতিরিক্ত ভিড়ের ঝামেলা এড়াতে পরিচিত ফার্ম থেকে গরু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে গিয়ে পছন্দ করে গরু কেনার প্রবণতা ফার্মমুখী করছে ক্রেতাদের। অনেক ফার্ম আবার নির্দিষ্ট টাকার মধ্যে প্যাকেজ সুবিধা, বাসায় পৌঁছে দেওয়া সুবিধাও দিচ্ছে।

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় খামার নাহার এগ্রো কোরবানিকে সামনে রেখে প্রায় পাঁচশতাধিক গরু প্রস্তুত করেছিল। বর্তমানে তাদের ফার্মে অবিক্রীত রয়েছে মাত্র ১২টি গরু। বাকি সময়ে তাদের সব গরু বিক্রি হয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে সারাহ এগ্রোতে সাড়ে পাঁচশ গরুর বিপরীতে অবিক্রীত আছে মাত্র ১৭টি। এশিয়ান এগ্রোতেও একই চিত্র। প্রতিষ্ঠানটি কোরবানির জন্য ২৫০টি গরু প্রস্তুত করলেও কোরবানির তিনদিন আগে এসে প্রায় ৯৯ শতাংশ গরুই বিক্রি হয়ে গেছে।

সারাহ এগ্রো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হালিশ চৌধুরী বলেন, গরু মোটাতাজাকরণে এবার আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, শ্রমিক সংকট ছিল, আবার পরিবহন ব্যয়ও আগের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও আমরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু লালন-পালনের চেষ্টা করেছি।

এশিয়ান এগ্রো’র ম্যানেজার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, এবার গরু বিক্রিতে আমরা অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। ক্রেতারা আগের চেয়ে এখন বেশি সচেতন। তারা ফার্মে এসে গরুর খাবার, পরিচর্যা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখে কিনছেন। কোরবানির এখনও কয়েকদিন বাকি থাকলেও প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে।

গরু বিক্রির একই চিত্র অন্যান্য এগ্রো ফার্মগুলোতেও। সিটি এগ্রো ফার্ম নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে ১৫০টি গরু মোটাতাজা করেছিল। এর মধ্যে ১৩৮টি বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মালিক। চাটগাঁ এগ্রো ৬০টি গরু প্রস্তুত করলেও বর্তমানে খামারটিতে অবশিষ্ট আছে মাত্র ১৫টি গরু। স্টার এগ্রো নামের প্রতিষ্ঠানে সবকটি গরুই ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি এগ্রো’র মালিক এনামুল হক জানান, গো-খাদ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ভুসি, খড়, ভুট্টাসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যের দাম বেশি ছিল। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে গরু দিতে।

স্টার এগ্রো’র মালিক মো. জায়েদ হাসান বলেন, আমাদের বেশিরভাগ গ্রাহক ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের। তারা সাধারণত সময় বাঁচাতে এবং ঝামেলা এড়াতে ফার্ম থেকে গরু কিনে থাকেন। অনেক পুরোনো গ্রাহকও প্রতিবছর আমাদের কাছ থেকে গরু নেন।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনে স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারাও। নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. ফোরকান। তিনি গত কয়েক বছর ধরে গরু কেনেন এগ্রো ফার্ম থেকে। তিনি বলেন, আমি মূলত সময় ও ঝামেলা এড়াতেই এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনি। পশুর হাটে গেলে অনেক ভিড় থাকে, দরদাম নিয়েও ঝামেলা হয়। আবার ভালো গরু চিনতেও সমস্যা হয়। কিন্তু এগ্রো ফার্মে এসে শান্ত পরিবেশে গরু দেখা যায়, পরিচর্যার বিষয়টাও বোঝা যায়। তাই কয়েক বছর ধরেই আমি ফার্ম থেকেই কোরবানির গরু কিনছি।

এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কেনা আজিজুল হক নামের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে প্রতি বছর পশুর হাটে গিয়ে গরু কিনতাম। কিন্তু এখন হাটে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট ও সময়ের চাপের কারণে এগ্রো ফার্ম থেকেই গরু কিনছি। এখানে গরুর খাবার, পরিচর্যার ধরন সরাসরি দেখা যায়। দরদামও তুলনামূলক স্বচ্ছ থাকে, তাই পরিবার নিয়েই ফার্মে এসে গরু পছন্দ করেছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগ্রো ফার্ম থেকে গরু সংগ্রহের প্রবণতা বাড়লেও কোরবানির পশুর হাটের আবেদন এখনো অনেক বেশি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখনো হাট থেকেই গরু কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অন্যদিকে এগ্রো ফার্মের ক্রেতাদের বড় অংশই উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী কিংবা এমন মানুষ, যারা কোরবানির গরু কেনার ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে চান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য স্থানীয়ভাবে মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, ছাগল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি এবং ভেড়া ৪১ হাজার ৪২৩টি। জেলায় মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশু।