খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামকে রেড জোন ঘোষনা করে এক মাসের কারফিউ জারি করুন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২০, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামকে রেড জোন ঘোষনা করে এক মাসের কারফিউ জারি করুন

চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাস সংক্রমন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষে আজ রবিবার (৭ জুন) দুপুরে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা জাহিদুল করিম কচি, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এস.এম. সাইফুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, লকডাউনসহ বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির যখন উন্নতি ঘটছে তখন আমাদের দেশে ভয়াবহ আকারে অবনতি হচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যু সর্বোচ্চ পর্যায়ে। হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে কাতরাচ্ছে করোনা রোগীরা এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। টেস্টের অনুপাতে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার সব দেশকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

তিনি বলেন, সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা মানুষের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। অনির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের জীবনের কোন মূল্য নেই। অবিবেচকের মতো সবকিছু খুলে দিয়ে এখন তামাশা দেখছে সরকার। প্রতিদিন সরকারীভাবে করোনা আক্রান্তের যে সংখ্যা জানানো হচ্ছে প্রকৃত সংখ্যা তারচেয়েও অনেক বেশী। অনেক মানুষ আক্রান্ত হলেও গণনার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের লিখিত বক্তব্য:

আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে চট্টগ্রামে দিন দিন করোনা সংক্রমিত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের ক্ষেত্রে বর্তমানে রাজধানী ঢাকার পরে চট্টগ্রামের অবস্থান। বাংলাদেশ এখন সংক্রমনের দিক দিয়ে শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় ঢুকে পড়েছে। দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু এই বন্দর নগরীতে প্রায় ৬০ লক্ষ লোকের বসবাস। বর্তমানে করোনার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের কারণে এই শহরের সাধারণ জনগণ অত্যন্ত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সরকারিভাবে ৩টি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা ও পরীক্ষা করলেও বিশাল জনগোষ্ঠির তুলনায় এই আয়োজন অত্যন্ত অপ্রতুল। করোনা রোগীর জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিইউ, অক্সিজেন, সিলিন্ডার ও বেডের ব্যবস্থা নেই। চিকিৎসার জন্য মানুষ এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছে। কিন্তু চিকিৎসা পাচ্ছেনা। চিকিৎসার অভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে। চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে এখন মৃত্যু আতঙ্ক বিরাজ করছে।

চিকিৎসা সেবা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু চট্টগ্রামের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে জিম্মি করে রেখেছে একটি অতিমুনাফালোভী সিন্ডিকেট। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে তারা ছিনিমিনি খেলছে। চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বর্তমানে চার হাজারের কাছাকাছি। অথচ হাসপাতালে বেড আছে মাত্র ৩১০টি।

এঅবস্থায় করোনার ভঙ্গুর চিকিৎসা ব্যবস্থা নিরসন করে বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীকে পর্যাপ্ত সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের কিছু করনীয় প্রস্তাবনা তুলে ধরছি :

(১) চট্টগ্রামের একমাত্র সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট কোভিড হাসপাতালে উন্নীত করে মেডিকেলের মাঠে একটি আধুনিক ফিল্ড হাসপাতাল তৈরী করা।

(২) চট্টগ্রামের ৬ টি বেসরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোকে দ্রুত কোভিড হাসপাতাল হিসাবে ঘোষনা করে কার্যকর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা।

(৩) চট্টগ্রামের বন্দর হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতাল ও কর্পোরেট ইম্পেরিয়াল হাসপাতালকে পরিপূর্ণ কোভিড হাসপাতাল হিসেবে অতিদ্রুত করোনা চিকিৎসার উপযোগী করে তুলা।

(৪) যেসব বেসরকারী ক্লিনিকগুলোতে আই সি ইউ সুবিধা আছে সেগুলো সরকার অধিগ্রহণ করে করোনা চিকিৎসার সুবিধার্থে ক্লিনিক মালিকদের সাথে বসে ডাক্তার ও কর্মচারীদের উপযুক্ত সম্মানী বাবদ মাসিক বাজেট প্রদান করা।

(৫) সমস্ত কমিউনিটি সেন্টারগুলোকে সরকারের আওতায় নিয়ে আইসোলেশন সেন্টার তৈরী করে চট্টগ্রামের ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের আইসোলেশন সেন্টার করার জন্য উদ্ভুদ্ধ করা।

(৬) চট্টগ্রামের স্থায়ী হাসপাতালগুলোতে অত্যন্ত স্বল্পতম সময়ে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের ব্যবস্থা করা।

(৭) প্রচুর পরিমানে অক্সিজেন সিলিন্ডার, পালস অক্সিমিটার, হাই-ফ্লো-অক্সিজেন ন্যাজল ক্যানুলা, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর ও সি প্যাপ মেশিনের ব্যবস্থা করা।

(৮) সব ধরনের স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ দিয়ে অক্সিজেন চিকিৎসা দিতে সক্ষম করে তোলা।

(৯) সরকারী বেসরকারী চিকিৎসক ও মেডিকেল স্টাফদের সন্মানী ও ভাতা নিয়ে যে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে তা দ্রুত নিরসন করা।

(১০) হাই সার্ভিলেন্স টিমের মাধ্যমে ঔষধ, নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যাদি, অক্সিজেন সহ বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত সমস্ত সরঞ্জামাদি মনিটরিং করা এবং দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা।

(১১) আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে টোটাল জিডিপির ৩.৫% থেকে ৪% বরাদ্ধ দিয়ে টোটাল বাজেটের ১৩% থেকে ১৫% বরাদ্ধ ঘোষণা করা।

(১২) নমুনা পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করে পিসিআর টেস্টের পাশাপাশি র‌্যাপিড এন্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে সর্বাধিক জনসাধারণকে করোনা পরীক্ষার আওতায় আনা এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করা।

করোনা রোগীদের সেবা দিতে সরকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে মৃত্যু ও সংক্রমণ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনার আগাম সংবাদ পাবার পরও তারা কোন ধরণের প্রস্তুতি নিতে পারেনি।

পোশাক কারখানা ও দোকানপাট খোলার বিষয়ে শীতিলতা আসার পর থেকেই চট্টগ্রামে সামাজিক দূরত্ব ভেঙ্গে পড়ে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পর চট্টগ্রাম এখন হট স্পটে পরিনত হয়েছে। চট্টগ্রাম যদি মৃত্যুপূরীতে পরিনত হয় তাহলে দেশের অর্থনীতি বিকল হয়ে যাবে। তাই এই মুহুর্তে জরুরী ভিত্তিতে চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য খাতে আপদকালিন ব্যবহারের জন্য অতিদ্রুত ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্ধ প্রদান করা জরুরী। তাছাড়া করোনার সংক্রমন রোধ করতে আঞ্চলিকভাবে “চট্টগ্রাম টাস্কফোর্স” গঠন করে রাজনীতির উর্ধ্বে ওঠে দলমত নির্বিশেষে সমস্ত রাজনীতিবীদ, পেশাজীবী, সেবাপ্রদানকারী সংস্থার প্রধান ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।

পরিশেষে চট্টগ্রামের গুরুত্ব বিবেচনা করে করোনা রোগীর পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধির মাধ্যমে গণসচেতনতা বৃদ্ধ করে অসহায় মানুষের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করে অবিলম্বে চট্টগ্রামকে “রেড জোন” এর আওতায় এনে লকডাউন ঘোষনা করে একমাস কারফিউ জারী করার আহবান জানাচ্ছি।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।