খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালের ১২১টি আইসিইউ শয্যার ৮৬টিই খালি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 14 June, 2020, 11:42 pm
চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালের ১২১টি আইসিইউ শয্যার ৮৬টিই খালি

আলীউর রহমান:চট্টগ্রামে প্রশাসনের তালিকা করা ২০টি বেসরকারি হাসপাতালে ১ হাজার ৫৮৮টি শয্যা রয়েছে। তার মধ্যে অর্ধেক শয্যাই খালি।

এ সংক্রান্ত সরকারি কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এখন সব ব্যবস্থা গ্রহন করছি। বেসরকারি হাসপাতাল কয়টা সিট কেন খালি রাখছে সব তথ্য নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কাউকে হয়রানি করা নয়। আমরা চেষ্টা করেও বেসরকারি হাসপাতালে শত ভাগ করোনা রোগী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারছি না।

মিজান বলেন, হাসপাতালে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা হচ্ছে। এত কিছুর পরও করোনা রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।তারা আইসিইউতে চিকিৎসক নেই বলে সিট খালি রেখেছে। পার্কভিউ ও ম্যাক্স হাসপাতাল আইসিইউতে রোগী রেখেছে। আমরা তাদের বুঝিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। সব বেসরকারি হাসপাতালে সব মিলিয়ে ১২১টি আইসিইউ সিটের মধ্যে মাত্র ২৫টিতে রোগী ভর্তি আছে। বাকিগুলো খালি। আমরা চাইলে পুলিশ পাঠিয়ে ধরে এনে বাধ্য করতে পারি।’

চট্টগ্রামে করোনা রোগী প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল শনিবার ২২২ জন এবং আজ রবিবার ২৬৯ জন নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের একটি অংশের আইসিইউ সেবা জরুরি হয়ে পড়ছে। কিন্তু চট্টগ্রামে আইসিইউ সেবার অপ্রতুলতার কারণে জটিল রোগী মারা যাচ্ছে। এ কারণে যাদের সামর্থ্য আছে তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছুটে যাচ্ছে।

করোনার চিকিৎসা নিয়ে স্বাচিপের গঠিত কমিটির সমন্বয়ক ডা. আনম মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার দায়িত্ব সরকার নিলেও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের দায়িত্ব সরকার নিচ্ছে না। তাই বেসরকারি চিকিৎসকরা সেবা দিতে রাজি হচ্ছে না।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘তারা সারা বছর ব্যবসা করছে। এই টাকা তো সরকারকে দেয়নি। জাতির এই জরুরি প্রয়োজনে তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। তাদের সুরক্ষার বিষয়টি সম্পর্কে একটি প্রস্তাব আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠিয়েছি। তারা চিকিৎসক সংকটসহ নানা টালবাহানা করে করোনা রোগীর চিকিৎসার দায় এড়াতে চাচ্ছেন।’

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের সহযোগীসহ ৪ জন অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 3 August, 2026, 2:57 pm
শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের সহযোগীসহ ৪ জন অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের সহযোগীসহ ৪ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—পাহাড়তলী এলাকায় যুবদল নেতা মাসুদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি দিদার ও আফসার, জোরারগঞ্জ থানা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বোরহান এবং হাটহাজারী থানার আজম হত্যা মামলার প্রধান আসামি দিদার।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যা ও সন্ত্রাসসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তীতে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

গ্যাসের জন্য হাহাকার, স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে আরও ৮ দিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 3 August, 2026, 9:25 am
গ্যাসের জন্য হাহাকার, স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে আরও ৮ দিন

সারাদেশে গ্যাসের চাহিদা চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি। স্বাভাবিক সময়ে দেশি উৎস ও আমদানির মাধ্যমে পেট্রোবাংলা সরবরাহ দেয় তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। বর্তমানে ২১-২২শ ঘনফুট সরবরাহ দেওয়ায় সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও চলছে গ্যাসের জন্য হাহাকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা নিয়ন্ত্রণাধীন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করার সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করে ১১শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারে।

এর মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ- ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) থেকে নিয়মিতভাবে সাড়ে ৯শ থেকে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।

গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআইইউতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টার্মিনালটির পুরো অপারেশন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমদানি করা এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে অর্ধেকে।

এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারাদেশে গ্যাসের ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে পেট্রোবাংলার অঙ্গ ও নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এর মধ্যে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে রেশনিংয়ের মাধ্যমে গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক ও শিল্পে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে লেজেগোবরে অবস্থা গ্যাস ব্যবস্থাপনায়।

সবশেষ ১ আগস্ট সামিট এনার্জির এফএসআরইউ থেকে ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় চেয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউর মালিকানা প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি। আর ৫ আগস্ট আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করার আশা প্রকাশ করেছে আরপিজিসিএল।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, কেজিডিসিএলের অধীনে ৬ লাখ ২ হাজার ৪০৬ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান গ্রাহক হিসেবে আছেন। এর মধ্যে গৃহস্থালি ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৬টি, বাণিজ্যিক সংযোগ ২ হাজার ৯১১টি, শিল্প সংযোগ রয়েছে ১ হাজার ১৯৯টি, কেপটিভ পাওয়ার ২০৯টি, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ৭০টি, চা-বাগান দুটি, সার কারখানা চারটি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংযোগ রয়েছে পাঁচটি। সবমিলিয়ে চট্টগ্রামে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

তবে মহেশখালীতে দুর্ঘটনাজনিত কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে গ্যাসের সরবরাহ ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট কমলেও চট্টগ্রামে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। স্বাভাবিক সময়েও ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের কম-বেশি সরবরাহ পেতো কর্ণফুলী গ্যাস।

আমরা স্বাভাবিক সময়ে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস পেতাম। আজ (রোববার) ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেয়েছি। যে কারণে নগরীতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্ন হচ্ছে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।-কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী

কিন্তু ২ আগস্ট জাতীয় গ্রিড থেকে কেজিডিসিএল বরাদ্দ পেয়েছে মাত্র ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এতে রোববার (২ আগস্ট) পুরো চট্টগ্রামে গ্যাসের জন্য হাহাকার শুরু হয়। শিল্প থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র, হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে গৃহস্থালি- সবখানেই সারাদিন গ্যাস নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে ভোক্তাদের।

কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী বলেন, ‘আমরা স্বাভাবিক সময়ে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস পেতাম। আজ (রোববার) ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেয়েছি। যে কারণে নগরীতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্ন হচ্ছে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’

রোববার সকাল থেকে সরবরাহ লাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, কার, পিকআপভ্যানকে। আবার গৃহস্থালিতেও গ্যাসের চুলার পরিবর্তে বৈদ্যুতিক ও কেরোসিনের চুলার আশ্রয় নিতে হয়েছে নগরবাসীর।

জ্বলছে না চুলা
নগরীর হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা শ্যামলি নন্দী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে পরিবারের দিনের রান্নাবান্না সেরে অফিসে যাই। কিন্তু আজ দুদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম। সকালে চাপ একেবারে কমে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে ইলেক্ট্রিক চুলায় রান্নার কাজ সারতে হয়েছে।’

হালিশহর এলাকার বাসিন্দা সরকারি কর্মকর্তা আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, ‘আমি বেশ কয়েকবছর হালিশহর কে ব্লক এলাকায় বসবাস করি। গত কয়েকদিন ধরে গ্যাসে সমস্যা হচ্ছে। আজ সকালে চাপ একেবারে কম থাকায় রান্নায় সমস্যা হয়েছে। সকালে বাচ্চাদের টিফিন ও অন্য রান্না করতে অনেক সময়ক্ষেপণ হয়েছে।’

বিপাকে গ্যাসচালিত যানবাহন
সকাল থেকে নগরীর সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করে গ্যাস নিতে হয়েছে অটোরিকশা ও অন্য যানবাহনকে। দুপুরে দেখা যায়, নগরীর কদমতলী এলাকার ফোর স্টার সিন্ডিকেট সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার লাইন প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে সিআরবি সাত রাস্তা হয়ে উল্টো কদমতলী মোড়ের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক বেলাল হোসেন প্রায় ২০ বছর ধরে চট্টগ্রাম শহরে অটোরিকশা চালান। ভোলার মনপুরা এলাকার বাসিন্দা বেলাল বলেন, ‘গ্যাসের সমস্যার কারণে আমাদের লাইন ধরে বসে থাকতে হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় গাড়ি চালাতে পারছি না। গাড়ি না চালালেও গাড়ির মালিককে দিনের জমা বাধ্যতামূলক দিয়ে দিতে হবে। প্রতিদিন মালিকের গাড়ির জমা বাদ দিয়ে যা থাকে তা দিয়ে সংসার খরচ চালাতাম। এখন বসে থাকলেও আগে মালিকের জমা দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যদি আগে বলে দিতো, আজ গ্যাস পাওয়া যাবে না, আমরা আগে বিকল্প ব্যবস্থা নিতাম। আমাদের দিনভর ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।’

পাশে সিআরবি এলাকায় লাইনে গাড়ি রেখে শিরিষ তলায় অপেক্ষা করছেন আরেক চালক আকতার হোসেন। তিনি বলেন, ১০-১২ দিন থেকে গ্যাস নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। আজ একেবারে পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় এখানে এক ঘণ্টা ধরে লাইনে বসে আছি।’

মহেশখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউটি সারিয়ে তুলতে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত লাগতে পারে।পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম

কদমতলী এলাকায় বেশ কয়েকজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ফুটপাতে অলস সময় কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য কৌশল নিয়েছে। দাম বাড়ালে বাড়াতো, আমাদের কষ্ট করতে হতো না।’

কথা হলে ফোর স্টার সিন্ডিকেট সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের বিক্রয় সহকারী মো. হৃদয় বলেন, ‘সকালে কিছুটা চাপ থাকলেও দুপুরের দিকে একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। সেজন্য আমরা বসে আছি। লাইনে গ্যাস আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি চালু করবো।’

স্বাভাবিক হতে পারে ১০ আগস্ট
চলমান গ্যাস সংকট সমাধান হতে আরও এক সপ্তাহের বেশি অপেক্ষা করতে হতে পারে ভোক্তাদের। কথা হলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মহেশখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউটি সারিয়ে তুলতে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে। পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত লাগতে পারে।’

আমদানি করা এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) পুনরায় প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দেয় পেট্রোবাংলার প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)।

কথা হলে আরপিজিসিএল চট্টগ্রামের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মো. নাছির উদ্দীন বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউটি পুরোপুরি সারিয়ে তোলা গেলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। বর্তমানে সামিট এফএসআরইউ থেকে দৈনিক ৫শ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। রোববারও ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি ৫ আগস্ট আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যাবে।’

ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছরে প্রথমবার প্রকাশ্যে আসছেন শেখ হাসিনা, জানাবেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 3 August, 2026, 8:41 am
ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছরে প্রথমবার প্রকাশ্যে আসছেন শেখ হাসিনা, জানাবেন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে যাওয়ার প্রায় দুই বছর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সামনে আসছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলবেন।

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ভারতের নয়াদিল্লির মথুরা রোডে অবস্থিত স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এফসিসি সাউথ এশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ওই আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এর মধ্য দিয়ে তার প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

ভারতে যাওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা প্রকাশ্য কোনো অনুষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক গণমাধ্যমে অংশ নেননি। ফলে আসন্ন এই বক্তব্য ক্ষমতা ছাড়ার পর তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য উপস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক ও জনপরিচিত ব্যক্তিত্ব এতে অংশ নেবেন।

অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় রয়েছেন শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক।

এ ছাড়া প্যানেলে থাকবেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএর পরিচালক শাহ মো. বখতিয়ার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন এফসিসি সাউথ এশিয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস ক্লাবসের (আইএপিসি) সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্ব ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে।

নতুন সরকার সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চলমান আদালতের কার্যক্রম নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।