করোনা পজেটিভ জেনেও শহরময় ঘুরেছেন ৪দিন/ সেলুনে কেটেছেন চুল, চায়ের দোকানে ছিল আড্ডা
২৪ ঘণ্টা জেলা সংবাদ : মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় করোনা পজেটিভ এক সিএনজি চালকের কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণে সাধারণ মানুষজন থেকে শুরু করে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ক্ষোদ প্রশাসনও।
করোনা পজেটিভ জেনেও ওই চালক গত চারদিন ধরে নিজের সিএনজিতে যাত্রী নিয়ে দিব্ব্যি ঘুরে বেড়িয়েছেন শহরময়। ঘুরেছেন জেলা থেকে উপজেলা।
তাছাড়া নিজের বাড়ি ছাড়াও শহরের বিভিন্ন চায়ের দোকানে দিয়েছেন আড্ডা। সেলুনে গিয়ে চুল দাঁড়ি পর্যন্ত কেটেছেন সদ্য করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যাক্তির প্রাণঘাতী করোনা শনাক্ত হয়েছে চারদিন আগে গত ১৬ জুন। চালকের করোনা সন্দেহে নমুনা কালেকশন করা হয়ে গত ১০ জুন।
করোনা পজেটিভ রিপোর্ট জানানোর পর ওই ব্যক্তিকে আইসোলেশনে থাকতে বলা হয় এবং মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কিন্তু তিনি আইসোলেশনে না থেকে পজেটিভ রিপোর্ট আসার আগে ও রিপোর্ট জানার দিন থেকেই সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে যাত্রী পরিবহন করেছেন গত শুক্রবার পর্যন্ত।
পরে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ পেয়ে এই ব্যক্তির আইসোলেশন নিশ্চিত করে প্রশাসন। লকডাউন করা হয় তার বাড়ি, সে সেলুনে চুল দাড়ি কেটেছেন সেটি এবং আড্ডা দেওয়া চায়ের দোকান।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির বয়স ৫০ বছর। ঘরে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে রয়েছে তার। এক সপ্তাহ আগে করোনা পজিটিভ জানা সত্ত্বেও গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সেলুন, চায়ের দোকান ও বিভিন্ন স্থানে সিএনজি চালিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে অভিযোগ পেয়ে ওই ব্যক্তির আইসোলেশন নিশ্চিত করেছি। সেই সঙ্গে তার বাড়ি, সেলুন ও চায়ের দোকান লকডাউন করেছি।
সংক্রমণ আইনে তাকে কোনো শাস্তি দেয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে ইউএনও শরীফুল ইসলাম বলেন, তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ আমাদের অবাক করেছে। আমরা তাকে সতর্ক করে দিয়ে এসেছি। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি যাতে করে বাড়ির বাহিরে বের না হতে পারেন সে ব্যাপারে নজরদারী করতে আমরা স্থানীয় কাউন্সিলারের সহযোগিতায় ভলেন্টেরিয়ান নিয়োগ করেছি।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. তৌউহীদ আহমদ জানান, এই রকম দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করোনা বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধকে কঠিন করে দিচ্ছে। এই রকম ঘটনা যেনো আর না ঘটে তাই প্রশাসনের কঠোর হওয়া প্রয়োজন।
২৪ ঘণ্টা/রাজীব প্রিন্স


আপনার মতামত লিখুন