খুঁজুন
, ,

তৃতীয় ট্রায়ালেও সফল অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন,আগামী মাসেই আসছে বাজারে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2020, 8:31 am
তৃতীয় ট্রায়ালেও সফল অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন,আগামী মাসেই আসছে বাজারে

টানা তৃতীয় ট্রায়ালেও সফল হয়েছে বিখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি করা করোনা ভ্যাকসিন। ফলে বৈশ্বিক এই মহামারিটি রুখতে বিশ্বের অন্যান্য ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারীদের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে গিয়েছে তারা।

বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান ভারতে র সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়াতে দাবি করেছে, সব ঠিক থাকলে জুলাই মাসের প্রথমেই অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন চলে আসতে পারে বাজারে।

এদিকে আরব আমিরাত ও চীনের যৌথভাবে তৈরি একটি ভ্যাক্সিনেরও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। এই গবেষণা করছে আমিরাত ভিত্তিক কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা কোস্পানি জি৪২ এবং চীনা কোম্পানি সিনোফার্ম গ্রুপ। প্রথম দুই ট্রায়ালে সাফল্য পেয়েছে এই ভ্যাকসিনও।

অক্সফোর্ড ও অক্সফোর্ডের অধীনস্থ জেন্নার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের ডিজাইন করা ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে যুক্তরাজ্যে। ডিএনএ ভ্যাকসিনের প্রথম হিউম্যান ট্রায়াল শুরু হয়েছিল এপ্রিলে ।

এই ভ্যাকসিন ট্রায়ালের দায়িত্বে ছিলেন, ভাইরোলজিস্ট সারাহ গিলবার্ট, অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল এবং জেন্নার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা।

ব্রাজিলে কোভিড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চালিয়ে যাচ্ছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রজেনেকা প্রাইভেট লিমিটেড। লেমানন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্রাজিলে করোনার হটস্পট সাও পাওলো ও রিও ডি জেনিরোতে মোট ৩০০০ জনকে দেয়া হচ্ছে ভ্যাকসিন। তার মধ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী-সহ সাও পাওলোতে ২০০০ জন ও রিও ডি জেনিরোতে হাজার জনকে দেয়া হচ্ছে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন।

প্রথম পর্যায়ে তিন হাজার জনকে বেছে নেয়া হয়েছে ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য। পরবর্তী পর্যায়ে আরো বেশিজনকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে।

এপ্রিলে প্রথমবার মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করেছিল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। প্রথম দু’জনের শরীরে ইনজেক্ট করা হয়েছিল ভ্যাকসিন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন একজন মহিলা বিজ্ঞানী। নাম এলিসা গ্রানাটো। আরো ৮০০ জনকে দুটি দলে ভাগ করে কন্ট্রোলড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হয়েছিল।

অক্সফোর্ড জানিয়েছে, দেশের বাইরে প্রথমবার ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করা হয়েছে। এই ট্রায়ালের রিপোর্ট ভাল হলে, অন্যান্য দেশেও ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল শুরু হবে।

ভ্যাকসিনের ডোজ ঠিক করার জন্য শুকরের উপর ট্রায়াল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে অক্সফোর্ডের সারা গিলবার্টের টিম। এই ট্রায়ালের দায়িত্বে ছিল পিরব্রাইট ইউনিভার্সিটি।

ভাইরোলজিস্টরা বলেছেন, শুকরের বিপাক ক্রিয়া ও কোষের সঙ্গে মানুষের কোষের অনেক মিল আছে। তাই সেফটি ট্রায়াল করে ডোজের সঠিক মাত্রা ঠিক করে নেয়া হয়েছিল।

অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্ট, অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল। জেন্নার ইনস্টিটিউট ভাইরোলজি বিভাগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই ভ্যাকসিনের ডিজাইন করা হয়েছে। এই গবেষণায় অক্সফোর্ডের পাশে রয়েছে অ্যাস্ট্রজেনেকাও।

সারা গিলবার্টের টিম প্রথমবার যে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করেছিল তার নাম ChAdOx1 nCoV-19। তবে এই ভ্যাকসিনের ক্নিনিকাল ট্রায়াল রেসাস প্রজাতির বাঁদরের উপর ব্যর্থ হয়। অক্সফোর্ড জানায়, ওই প্রজাতির বাঁদরের শরীরে কোভিড সংক্রমণ রুখতে না পারলেও নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করেছে এই ভ্যাকসিন। পরে নতুন করে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের ডিজাইন করে অক্সফোর্ড। বর্তমানে এর নয়া ভার্সনের নাম হয়েছে AZD1222।

কীভাবে তৈরি হয়েছে এই ভ্যাকসিন?

শিম্পাঞ্জির শরীর থেকে নেয়া অ্যাডেনোভাইরাসকে ল্যাবে এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে যাতে মানুষের শরীরে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে না পারে। এরপর, সার্স-কভ-২ ভাইরাসের কাঁটার মতো অংশ অর্থাৎ স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিনগুলোকে আলাদা করা হয়েছে। এই ভাইরাল প্রোটিন আগে থেকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা অ্যাডেনোভাইরাসের মধ্যে ঢুকিয়ে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে। এখন ভ্যাকসিন ইনজেক্ট করলে এই বাহক ভাইরাস অর্থাৎ অ্যাডেনোভাইরাস করোনার স্পাইক প্রোটিনগুলোকে সঙ্গে করে নিয়েই মানুষের শরীরে ঢুকবে। দেহকোষ তখন এই ভাইরাল প্রোটিনের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। সেই সঙ্গে দেহকোষের টি-সেল (T-Cell) গুলোকে উদ্দীপিত করবে। এই টি-সেলের কাজ হল বাইরে থেকে শরীরে ঢোকা ভাইরাল অ্যান্টিজেনগুলিকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়া।

অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন গবেষণায় যুক্ত রয়েছে ভারতের অন্যতম বড় বায়োটেকনোলজি ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া। অক্সফোর্ডের কোভিড ভ্যাকসিন গবেষণার অন্যতম সদস্য ডক্টর অ্যাড্রিয়ান হিলের তত্ত্বাবধানে সেরামেও এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করা হয়েছে।

সিইও আদর পুনাওয়ালা বলেছিলেন, দেশেও এই ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ও সেফটি ট্রায়াল করা হবে, তাছাড়া অক্সফোর্ডের রিকভারি ট্রায়ালের প্রতিটি পদক্ষেপে নজর রাখা হচ্ছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি হচ্ছে। আদর বলেছিলেন প্রতিমাসে ৫০ লক্ষ ডোজে ভ্যাকসিন বানানো হবে। ট্রায়াল সফল হতে শুরু করলেই ফি মাসে প্রায় এক কোটি ডোজে ভ্যাকসিন বানানো শুরু হবে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।

সম্প্রতি পুণের সেরাম ইনস্টিটিউটের একজিকিউটিভ ডিরেক্টর সুরেশ যাদব বলেছেন, প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের জন্য কম ডোজেই ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছিল, তাতে সুফল দেখা গেছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। আশা করা যায়, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই ভ্যাকসিন নিয়ে আসতে পারবে সেরাম। ২০ থেকে ৩০ লক্ষ ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরির কাজ চলছে।

সুরেশ যাদব জানিয়েছেন, অক্সফোর্ডের গবেষকদের ট্রায়াল রিপোর্ট অনুযায়ী এই ভ্যাকসিনের দুটো ডোজই করোনা সংক্রমণের মোকাবিলা করতে পারবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে দেখা গিয়েছিল, ক্যানডিডেট ভ্যাকসিনের দুটি ডোজেই প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে মেনিঙ্গোকক্কাল ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামক চারটি স্ট্রেনের মোকাবিলা করার মতো প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, রেসাস প্রজাতির বাঁদরের শরীরে ভ্যাকসিনের একটি ডোজেই নিউমোনিয়ার সংক্রমণ কমে গিয়েছিল। সেনার ইনস্টিটিউটের দাবি, অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন নিরাপদ, রোগীর শরীরে কোনো রকম অ্যাডভার্স রিঅ্যাকশন দেখা যাবে না। করোনা প্রতিরোধে কার্যকরী হবে বলেই আশা করা যায়।

সূত্র: দ্য ওয়াল, সিএনএন

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 pm
ডিসি জাহিদের উদ্যোগ: প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের ভিড়

ছুটির দিনে হাতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ভিড় করেছে শিক্ষার্থীরা। ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার সুযোগ নিতে শুক্রবার অনেক শিক্ষার্থী পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে আসে।

পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি ও বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ কর্মসূচি চালু করেছে।

শুক্রবার চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেটসহ পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে আসছে। নির্ধারিত স্থানে ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক জমা দিয়ে তারা বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ নিচ্ছে। অনেকের সঙ্গে এসেছেন অভিভাবকেরাও।

চট্টগ্রাম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ ইসলাম ও তার সহপাঠী সারোয়ার হোসেনও পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসা করে আরিফ বলে, এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াবে।

আরিফ বলে, ‘এখন থেকে রাস্তায় কোনো প্লাস্টিক বর্জ্য দেখলে সেটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার চেষ্টা করব। বন্ধুদেরও একই কাজ করতে উৎসাহিত করব।’

দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে শিশুদের বিনোদন ও প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ যুক্ত করে জেলা প্রশাসন ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী ইকবাল হোসেনও দুই সন্তানকে নিয়ে ছুটির দিনে চিড়িয়াখানায় আসেন। উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, প্লাস্টিক দূষণ রোধে সব নাগরিককেই সচেতন হতে হবে।

ইকবাল বলেন, নগরের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ফেলার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন রাখা হলে নাগরিকদের অভ্যাসেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে। এতে রাস্তাঘাটে যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।

গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। কর্মসূচির আওতায় ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারছে। উদ্বোধনী দিনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি করে গাছের চারাও দেওয়া হয়।

উদ্বোধনের সময় জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণ প্রজন্মের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মোবাইল ফোন, অনলাইন ভিডিও ও ভার্চুয়াল জগতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনার চিন্তা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্লাস্টিক কৃষিজমি, সমুদ্র ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে জেলা প্রশাসনের। এ জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে লাভ বা মুনাফা মুখ্য নয়। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, দেশ ও জাতির জন্য একটি বিনিয়োগ।’

৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:26 am
৭ বছরে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

‎‎রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে গত সাত বছরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার এ কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত জমিতে নির্মাণের পর থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের আনুমানিক বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে কাপ্তাইয়ের এ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‎১৯৬২ সালে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে প্রায় ২২ একর জমি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। প্রায় পাঁচ দশক পর ওই জমির ১৯ একর এলাকায় প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস বা কয়লার প্রয়োজন হয় না। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতেও সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত সাত বছরে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে সক্ষম হয়েছি, যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও বাড়ছে। এ অবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় তুলনামূলকভাবে কম জনবল প্রয়োজন হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গ্রামীণ পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ এবং বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

‎এদিকে কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, বর্তমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে আরও ১ মেগাওয়াট সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের নতুন একটি প্রকল্পের কাজ চলছে।

‎তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।‎

কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাত বছরের উৎপাদন ও সাফল্য দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটাতে সরকারি সহায়তা, প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা ও বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব।

রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 4 September, 2026, 10:12 am
রাউজানে যুবককে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে করিম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরাণীহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত করিম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে দলের কোনো পদে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে রাউজান উপজেলায় অন্তত ২১ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাদের বেশির ভাগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সর্বশেষ করিমের হত্যাকাণ্ডের পর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২ জনে।