খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামে আরও ২২০ জনের করোনা শনাক্ত,মৃত্যু ২

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 5 July, 2020, 9:33 am
চট্টগ্রামে আরও ২২০ জনের করোনা শনাক্ত,মৃত্যু ২

২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ। চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রামে নতুন করে আরও ২২০ জনের শরীরে করোনার অস্তিত্ব মিলেছে। এর মধ্যে নগরে ১৬২ জন এবং উপজেলাগুলোতে ৫৮ জন। এ নিয়ে চট্টগ্রামে ৯ হাজার ৮৮৮ জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর নগরে ১ জন এবং উপজেলায় ১ জন।

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ১৪১ টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নগরে ১১ জন এবং উপজেলায় ৩ জন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে ৪৪৮ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নগরে ৭৭ জন এবং উপজেলায় ১৬ জন।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে (সিভাসু) ২০৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নগরে ৩ জন এবং উপজেলায় ১৭ জন।

ইমপেরিয়াল হাসপাতালের ফলাফল পাওয়া যায় নি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে ৫১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নগরে ৫ জন এবং উপজেলায় ৫ জন।

শেভরণ ল্যাবে ২০৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নগরে ৬৬ জন এবং উপজেলায় ১৭ জন।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে চট্টগ্রামের ৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কারো করোনা শনাক্ত হয় নি।

রবিবার (৫ জুলাই) সকালে গতকালের চট্টগ্রাম জেলার করোনা সম্পর্কিত এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা: সেখ ফজলে রাব্বি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের পাঁচ ল্যাব এবং কক্সবাজারে ১০৫০ টি নমুুুুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। উক্ত পরীক্ষায় চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ২২০ জন। চট্টগ্রামের মোট আক্রান্ত বেড়ে ৯৮৮৮ জন। এর মধ্যে নগরে ৬৮২৫ জন এবং উপজেলায় ৩০৬৩ জন।

উপজেলা ভিত্তিক পজিটিভ তথ্য : লোহাগাড়া ৩, সাতকানিয়া ৩, বাঁশখালী ১, আনোয়ারা ৩, চন্দনাইশ ২, পটিয়া ৮, বোয়ালখালী ২, রাঙ্গুনিয়া ২, রাউজান ৪, ফটিকছড়ি ২, হাটহাজারী ১৪, মিরসরাইয় ১৩ এবং সীতাকুণ্ড ১ জন।

চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৮৯ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে নগরে ১৩৭ এবং উপজেলায় ৫২ জন। নতুন ৩৯ জন সহ এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১১৯৫ জন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি: আইনমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 12:02 pm
সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনে নির্বাচিত হবেন নতুন রাষ্ট্রপতি: আইনমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ জন্য সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি হয়নি বলেও মত তার।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগের রাষ্ট্রপতি মামলা নিয়ে এখনই মন্তব্য নয়।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকবেন। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

মো. সাহাবুদ্দিনের প্রায় তিন বছরের দায়িত্বকাল ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল সময়। তার মেয়াদকালেই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতন ঘটে।

এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল শেষ হলে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই সময়ের মধ্যে তিনি তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান, যা দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।

গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি, সংকট কাটছে না দ্রুত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 11:25 am
গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি, সংকট কাটছে না দ্রুত

দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক গ্যাস সংকটে পড়েছেন।

গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে কেউ বৈদ্যুতিক চুলা, কেউ এলপিজি সিলিন্ডার আবার কেউ মাটির চুলা বা অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থায় রান্না করছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গৃহিণীরা জানান, দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকছে না। ফলে সময়মতো রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় চুলায় সামান্য আগুন জ্বললেও তা দিয়ে রান্না করা যাচ্ছে না। এতে পরিবারের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

মিরপুরের গৃহিণী আসমা বলেন, সকাল থেকে চুলায় গ্যাসের চাপ নেই। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও রান্না করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হয়েছে।

যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা মিতু বলেন, বাসায় গ্যাস থাকলেও এত কম চাপ যে রান্না করা যায় না। এখন বিকল্পভাবে রান্না করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ হচ্ছে।

এদিকে গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দেখা দিয়েছে দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে যাত্রী নিয়ে রাস্তায় বের হতে না পেরে অনেকেই আয়-রোজগার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গ্যাস সংকটে সিএনজি চালকদের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবরোধ
রাজধানীর শাহবাগে সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা গাড়িচালক আমিনুর বলেন, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। কয়েক ঘণ্টা হয়ে গেছে, এখনো গ্যাস পাইনি। এভাবে সারাদিন চলে গেলে আজ কোনো আয় হবে না।’

আরেক চালক ইকরাম বলেন, ‘গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। গ্যাস না পেয়ে গাড়ি চালাতে পারছি না। এতে আমাদের দৈনিক আয় কমে যাচ্ছে।’

সিএনজিচালিত গাড়ি চালকদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে একদিকে যেমন দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে গ্যাস না পাওয়ায় যাত্রী পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। এতে তাদের দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ক্ষতির পাশাপাশি শ্রমিক ও কর্মীদের কাজেও প্রভাব পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহককে গ্যাস সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে একদিকে যেমন আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সিএনজিচালক, শিল্প উদ্যোক্তা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সংশ্লিষ্টরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দ্রুত এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা সমাধান করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

যা বলছে সরকার
বুধবার বিকেলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ অন্যান্য গ্রাহকের ওপর পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস গ্রহণ করতে পারছে না। এতে কয়েকটি স্থানে সিএনজি সংগ্রহে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা দ্রুত নিরসন করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত সরবরাহের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জরুরি ও অগ্রাধিকার খাতগুলোতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।

বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা হলেও দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা পরিস্থিতির প্রভাবকে আরও তীব্র করেছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলে জাতীয় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি কূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের লক্ষ্যে অনশোর ও অফশোর মডেল পিএসসি আওতায় গ্যাস উৎপাদনের জন্য দরপত্র আহ্বানের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কার্যক্রমও চলছে। একই সঙ্গে কূপ খনন, অবকাঠামো নির্মাণ ও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা বাড়াতে সরকার আরও কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান, মালয়েশিয়া থেকে আইওসিএল ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই, ভোলার গ্যাস স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের মূল ভূখণ্ডে আনার জন্য পাইপলাইনসহ বিভিন্ন পরিবহনব্যবস্থা পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার এবং জ্বালানি আমদানির উৎস ও সরবরাহ অবকাঠামো বহুমুখীকরণ।

সহসাই গ্যাস সংকট কাটছে না
তবে এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের পর সহসাই গ্যাস সংকট কাটছে না বলে জানিয়েছেন তিতাসের কর্মকর্তারা। তিতাসের অপারেশন ডিভিশনের মহাব্যস্থাপক প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা এখন এক হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস পাচ্ছি। আমাদের চাহিদা এক হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এফএসআরইউ ঠিক হলেই সংকট কেটে যাবে বিষয়টা এমন নয়। এফএসআরইউ নষ্ট হওয়ার আগে আমাদের দেওয়া হচ্ছিল এক হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে যাচ্ছে। সেখানে অন্যান্য সেক্টরের জন্য আমার থাকে এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে প্রয়োজন মিনিমাম এক হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এজন্য ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সংকট এমনিতেই থাকবে।’

প্রয়োজন ল্যান্ডবেজড এফএসআরইউ
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘প্রায়ই এই ধরনের সংকট তৈরি হয়। সংকট কাটাতে আমাদের মিনিমাম ১৫ দিনের স্টোরেজ ক্যাপাসিটি তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি আরেকটি এফএসআরইউ দরকার। যেটি হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাতিল করেছে। ওটা বাতিল করা উচিত হয়নি। একটা ল্যান্ডবেজড এফএসআরইউ আমাদের দরকার। সমুদ্রে ঝড় উঠলে দেখা যায় এফএসআরইউ বন্ধ থাকে। এজন্য ল্যান্ডবেজডটা দরকার। উদ্যোগটা এখনি নিতে হবে না হলে সামনে সংকট আরও বাড়বে।’

সব ধর্মাবলম্বীর উৎসব নিরাপদ ও উৎসবমুখর করতে কাজ করছে বিএনপি: শামীম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 24 July, 2026, 7:50 pm
সব ধর্মাবলম্বীর উৎসব নিরাপদ ও উৎসবমুখর করতে কাজ করছে বিএনপি: শামীম

রথযাত্রা বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুবের রহমান শামীম।

তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে বিএনপি কাজ করছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে নগরের ডিসি হিল থেকে শুরু হওয়া শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির ও নন্দনকানন ইসকন রাধামাধব মন্দিরের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, হাজারো ভক্তের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চেতনায় বিশ্বাসী। ধর্মীয় বিভাজনের মাধ্যমে যাতে সমাজে কোনো বিভেদ সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাই।

তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য জেলা ও উপজেলায় বিএনপির পক্ষ থেকে সমন্বয় টিম গঠন করা হয়েছে। রথযাত্রা সফল করতেও দলের নেতাকর্মীরা কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও সব ধর্মাবলম্বীর উৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

উল্টো রথযাত্রা উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসকন নন্দনকানন মন্দিরের অধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্পাদক শ্রীপাদ পন্ডিত গদাধর দাস ব্রহ্মচারী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসকন প্রবর্তক মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ দারুব্রহ্ম জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী। স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ আশির্বাদক হিসেবে ছিলেন ইসকনের আন্তর্জাতিক প্রধান কেন্দ্র শ্রীধাম মায়াপুরের সিনিয়র ভক্ত শ্রীপাদ কমলাপতি দাস ব্রহ্মচারী ও মায়াপুর একাডেমির সহ পরিচালক শ্রীপাদ তারক কৃষ্ণনাম দাস ব্রহ্মচারী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদেও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ। বিশেষ অতিথি ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ট্রাষ্টি শ্রীযুত দীপক কুমার পালিত, ইসকন কমিউনিকেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হৃষীকেশ গৌরাঙ্গ দাস, সাবেক কাউন্সিলর এম এ মালেক,মুকুন্দ ভক্তি দাস ও সুমন চৌধুরী প্রমুখ।

পরে অতিথিরা আরতি নিবেদন ও বেলুন উড়িয়ে উল্টো রথযাত্রার উদ্বোধন করেন। বিকেলে নগরের ডিসি হিল থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। আয়োজকদের দাবি, শোভাযাত্রায় অর্ধলক্ষাধিক ভক্ত অংশ নেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।