খুঁজুন
, ,

রেপ করে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে – রোগীকে বললেন স্কয়ারের নারী ডাক্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 14 July, 2020, 11:44 am
রেপ করে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে – রোগীকে বললেন স্কয়ারের নারী ডাক্তার

“এইসব মেয়েদের হাসব্যান্ড একটু জংলী টাইপের হওয়া উচিত, যাতে তারা একবারে রেপ করে ফেলে। কারণ এই মেয়েরা পারমিশন দিতে চায়না, যেহেতু ওদের সেক্স এর সময় ব্যাথা লাগে। সো, একবারে রেপ করে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যুবতী রোগীকে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আফসানা বুশরা নামের এক নারী রবিবার (১২ জুলাই) রাতে সোশ্যাল মিডিয়া সাইট ফেসবুকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ আনেন।

বুশরা ফেসবুকে জানান, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ওই চিকিৎসক তার যৌনাঙ্গের সমস্যা পরীক্ষা করার সময় মন্তব্য করেন, “আপনাকে ধর্ষণ করা দরকার।”

এবিষয়ে উক্ত চিকিৎসক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, “কনসালটেন্সি চলাকালীন সময়ে রোগী এবং তার মায়ের সাথে কথোপকথনে কোনো প্রকার অসঙ্গতি ওনারা পেয়েছেন কিনা তা আমার কাছে পরিলক্ষিত হয়নি। তাছাড়া এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে ওনারা আমার বা হসপিটাল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো প্রকার অভিযোগও করেননি।”

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন গত শনিবার (১১ জুলাই) ২১ বছর বয়সী বুশরা যৌনাঙ্গের “ভিজিনিসমাস” নামক এক অসুস্থতার জন্য স্কয়ার হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শক ডা. কাজী শামসুন নাহারের কাছে যান।

রোগটি পরীক্ষার এক পর্যায়ে ডাক্তারের কারণে যৌনাঙ্গের পেশীতে তীব্র ব্যাথা অনুভূত হলে, ডা. শামসুন নাহার এই মন্তব্য করেন বলে বুশরা ফেসবুকে জানান।

পরে বুশরা বিষয়টি সংক্ষিপ্তভাবে তার ফেসবুক প্রোফাইলে তুলে ধরেন।

বুশরা লিখেন: “ডাক্তার কাজী শামসুন নাহার, আপনি ডাক্তার নামের কলঙ্ক। আপনি পৃথিবীর সমস্ত ডাক্তারদের জন্য কলঙ্কসরূপ, যারা অন্যদের সেবা দিয়ে চলেছে। আপনি আমার রোগ নির্ণয়ের সময় আমাকে ধর্ষণ করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন, যা সমস্ত মানুষের জন্য অপমানজনক।”

বুশরা বলেন, “আমার মা চেম্বারে আমার সাথে গিয়েছিলেন, তিনি একজন প্রত্যক্ষদর্শী, কিন্তু আমি জানি আমি কোনো বিচার পাবো না। যাইহোক, আমি ঘটনাটি ফেসবুকে পোস্ট করেছি যাতে অন্য কোনও মেয়ে তার (কাজী শামসুন নাহার) কাছ থেকে এই ধরনের মানসিক আঘাতের সম্মুখীন না হয়।”

বুশরা বলেন, “আমার আপত্তি এই বিশেষ চিকিৎসককে নিয়ে, স্কয়ার হাসপাতালের প্রতি নয়। হাসপাতালের সুনামের প্রতি আমার কোনো সন্দেহ নেই।”

তিনি তার ফেসবুক পোস্টে আরও লিখেছেন, “মহিলা (ডা. কাজী শামসুন নাহার) আমার পেশির পরীক্ষা করছিলেন, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। আমি তাকে বলেছিলাম, আমি ব্যাথা পাচ্ছি। পরীক্ষার পর তিনি আমার সামনে বসলেন এবং কারও মুখ থেকে শুনলাম এমন ভয়াবহ কথা শুনলাম।”

বুশরা লিখেছেন, “তিনি আমাকে বলেছিলেন যে আমার স্বাস্থ্যের উদ্বেগজনক বিষয়টি সম্পর্কে কারও সাথে কথা বলা উচিত নয় এবং আমার যৌনাঙ্গ ভবিষ্যতের জন্য আমার জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে চলেছে।”

“তারমানে তিনি যৌনশিক্ষার চূড়ান্ত বিরোধী এবং মানুষ তাদের যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে কিছু শিখতে চায় না।” তিনি বলেন, “আধুনিকতাবাদের নামে এই বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করবেন না।”

তিনি আরও লিখেছেন: “আমি তার পরবর্তী কথাটি আমি উদ্ধৃতিতে রেখে দেব, কারণ এটি আমার কাছে ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষায় প্রকাশ করার মানসিকতা নেই।”

“এইসব মেয়েদের হাসব্যান্ড একটু জংলী টাইপের হওয়া উচিত, যাতে তারা একবারে রেপ করে ফেলে। কারণ এই মেয়েরা পারমিশন দিতে চায়না, যেহেতু ওদের সেক্স এর সময় ব্যাথা লাগে। সো, একবারে রেপ করে দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”

“আমি চোখে জল নিয়ে কক্ষটি ছেড়ে বের হয়ে এলাম। এ সময় আমি খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে, শুধু এই কথাটি বলার জন্য আমি কাউকে টাকা দিয়েছি। আমি খুবই আঘাত পেয়েছি, ভেঙে পড়েছি এবং নিজেকে অসহায় মনে হয়েছে।”

আফসানা তার ফেসবুক পোস্টে আরও লিখেছেন, “তাকে কিছু না বলে আমি নিজের উপর রেগে গিয়েছিলাম, কারণ কে জানে যে কত মেয়ে এই মহিলার (ডাক্তার) চেম্বার থেকে ভাঙা মন ও চোখে জল নিয়ে বের হয়ে গেছে, এই ভেবে যে তাদেরও ধর্ষণ করা দরকার।”

রোগীর বিলের রশিদ

ডা. কাজী শামসুন নাহারের বক্তব্য

বুশরা চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রদত্ত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ডা. শামসুন নাহার একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন: “গত শনিবার বুশরা নামের কিছু সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসেন।”

“রোগীর সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে তার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য এবং রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বোঝার জন্য খুবই যুক্তিসংগত এবং প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন করি।”

“রোগীর শারীরিক অবস্থা বোঝার জন্য (যা রোগ নির্ণয়ের জন্য আবশ্যক) অনুমতি সাপেক্ষে তার মায়ের উপস্থিতিতে শারীরিক পরীক্ষা করা হয় এবং সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।”

“পরবর্তীতে আমি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানতে পারি যে, উক্ত রোগী আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মনগড়া একটি অনৈতিক ব্যাখ্যামূলক অপপ্রচার চালাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

“আমার বক্তব্যে আফসারা তাসনিম বুশরার যদি মনে হয়ে থাকে যে আমি চিকিৎসাগত কোনো প্রকার অসদাচারণ

করেছি তাহলে তিনি অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন। তা না করে তিনি আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।”

ডা. শামসুন নাহারের বক্তব্য

হতে পারে মামলা

এদিকে ডা. শামসুন নাহারের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বুশরা বলেন, “ওই চিকিৎসক আমার অভিযোগের বিষয়ে কিছুই বলেননি (ধর্ষণ বিষয়ক মন্তব্য) এবং তিনি ক্ষমাও চাননি।”

“আমি বানিয়ে বলছি না। এমনটা করে আমার কোনো লাভ নেই। তাছাড়া, আমার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী রয়েছে। তার দায় এড়ানোর বিষয়টি আমাকে হতাশ করেছে।”

বুশরা বলেন, “এমনকি তিনি এখন বিষয়টি অস্বীকার করছেন। আমি আশা করি তিনি উচিৎ শিক্ষা পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ভাষা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন (অন্য রোগীদের সঙ্গে)।”

আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে আমার আইনি পরামর্শ নেয়ার একমাত্র কারণ আমি ভয় পাচ্ছি স্কয়ার (হাসপাতাল) আমার বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা করবে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৌরভ আলজাহিদ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তার গর্ভবতী স্ত্রীকে ডা. নাহারের ভুল চিকিৎসায় ২০১৭ সালে তাদের সন্তানের অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়।

এই অভিযোগের বিষয়ে ডা. নাহার বলেন, “এটা অনেক আগে ঘটেছিলো। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার মতো সময় আমার নেই।”

এ বিষয়ে স্কয়ার হাসপাতাল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক (মেডিকেল সার্ভিসেস) ওয়াহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “আমরা চিকিৎসকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিলাম। আমরা সম্ভবত আজ (সোমবার) আমাদের অফিসিয়াল বিবৃতি দেব।”

“মেয়েটির গণমাধ্যমের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে প্রথমেই স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যাওয়া উচিত ছিল,” যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, “এই ধরনের ভাষা একজন ডাক্তারের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত। এটা সত্য কিনা তা আমি জানি না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই কোনো পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই বিষয়টি তদন্ত এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী যারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 18 July, 2026, 8:33 pm
ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী যারা

ভারতের চলচ্চিত্রে সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৪’ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) নয়াদিল্লিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালে ভারতের বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে অবদান রাখা সেরা অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীদের নাম প্রকাশ করে।

এবার সেরা অভিনেতার পুরস্কার যৌথভাবে জিতেছেন প্রবীণ মালয়ালম তারকা মামুট্টি ও বলিউড অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান। অন্যদিকে ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ইয়ামি গৌতম।

চলচ্চিত্র নির্মাতা জয়রাজের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের জুরি বোর্ড বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করে বিজয়ীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। হরর ঘরানার মালয়ালম সিনেমা ‘ব্রহ্মযুগম’-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য মামুট্টি এবং স্পোর্টস ড্রামা ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমার জন্য কার্তিক আরিয়ান যৌথভাবে সেরা অভিনেতার গৌরব অর্জন করেন। এটি কার্তিক আরিয়ান ও ইয়ামি গৌতমের ক্যারিয়ারের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। অভিনয়ের পাশাপাশি ইয়ামি অভিনীত ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমাটি সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের সম্মাননাও লাভ করেছে।

ঘোষিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরির মধ্যে ‘ভক্ষক’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সঞ্জয় মিশ্র সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন। ‘অমরন’ সিনেমার জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছেন রাজকুমার পেরিয়াসামি। এ ছাড়া ‘স্বাতন্ত্র্য বীর সাভারকর’ সিনেমার মাধ্যমে সেরা নবাগত পরিচালক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন অভিনেতা ও নির্মাতা রণদীপ হুদা।

ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি)- ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সার্টিফাইড বা অনুমোদিত চলচ্চিত্রগুলো এবারের পুরস্কারের জন্য বিবেচিত করেছে। ফিচার ও নন-ফিচার মিলিয়ে মোট ৪৩টি শাখায় এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। প্রতি বছরের মতো এবারও ভারতের এই রাষ্ট্রীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ঘোষণা চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

‘দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 18 July, 2026, 8:21 pm
‘দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব’

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেছে মাস্টার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ফাউন্ডেশন। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বন্যার্ত পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার নৈতিক কর্তব্য। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে দুর্যোগ মোকাবিলা সহজ হবে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

মাস্টার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মঈন উদ্দীন হাসান বলেন, মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই আমাদের ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতে আমরা ধারাবাহিকভাবে খাদ্যসামগ্রী, নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। সামর্থ্য অনুযায়ী এই মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ডা. নুরুল হক, ঢাকা মহানগরী শিল্পাঞ্চল থানা জামায়াতের আমির কলিম উল্লাহ, সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সহ-সভাপতি আবু সৈয়দ, কাঞ্চনা ইউনিয়ন জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম, শাহাদাত হোসাইন, কামালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জনগণই দেশের মালিক, প্রধানমন্ত্রীর ব্রত বৈষম্যহীন মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়া: মীর হেলাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 18 July, 2026, 7:54 pm
জনগণই দেশের মালিক, প্রধানমন্ত্রীর ব্রত বৈষম্যহীন মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়া: মীর হেলাল

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করে সকলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এদেশের জনগণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের প্রকৃত মালিক হিসেবে তাদের স্বীকৃতি দিতে চায়। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে পৃথিবীব্যাপী বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মধ্য মাদার্শা রহমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক আয়োজিত চট্টগ্রাম-৫ সংসদীয় আসনের পানিবন্দী মানুষের মাঝে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, আপনাদের জনগণের সেবক হতে হবে। সরকারের উন্নয়ন কাজ করতে হলে বসে থাকার সুযোগ নেই, প্রতিটি মুহূর্তকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। আগামী পাঁচ বছরে আমরা বাংলাদেশের দৃশ্যমান ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটাতে চাই। বিশেষ করে চট্টগ্রামে যেভাবে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হচ্ছে, তা একদিন ইতিহাস হয়ে থাকবে। যেখানে দেশের স্বার্থ জড়িত, সেখানে কারো সাথে কোনো আপোষ করা হবে না।

এ সময় তিনি চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় জোর দিয়ে বলেন, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখতে হলে নদী-নালা এবং খাল-বিলের পানির চলাচল যেকোনো মূল্যে সচল রাখতে হবে।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ ও পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা:
এর আগে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল হাটহাজারীর গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পূর্ববর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আগের সরকার ভোটের রাজনীতি না করে খুন, গুমের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রেখেছিল। তারা জেল, জুলুম ও নির্যাতন চালিয়ে দেশের প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে স্থবির ও অকেজো করে দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ২১৪টি আসনে জয়লাভ করে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। এটি সম্পূর্ণ জনগণের সরকার। এ দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রত্যেকের আয় বাড়ানো এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী বন্যার্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নিজ হাতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।ৃ