খুঁজুন
, ,

সচিব মিলনকে ওএসডি করায় সমালোচনার ঝড়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 6 August, 2020, 8:44 pm
সচিব মিলনকে ওএসডি করায় সমালোচনার ঝড়

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলনকে ওএসডি করায় সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। তাঁকে ওএসডি করার খবর প্রকাশের পরপরই সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে তুমুল প্রতিবাদ করতে দেখা যাচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে মাহবুব কবির মিলনকে রেল মন্ত্রণালয় থেকে ওএসডি করা হয়। মাহবুব কবির মিলন নিজেও তার ভেরিফায়েড পেজে বিষয়টি জানান।

গত ২৫ মার্চ তাকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে (অতিরিক্তি সচিব) বদলি করা হয়।

এর আগে, মাহবুব কবির মিলন ২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সবশেষ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে সরিয়ে রেল মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।

বৃহস্পতিবার তাকে ওএসডি করার পর সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে হাজার হাজার মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। তারা মিলনকে ওএসডির তীব্র সমালোচনা করছে।

আব্দুল মোমিন রনি ফেসবুকে লিখেছেন, মাহবুব কবির মিলনের ওএসডি প্রত্যাহার করা হোক। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যে বাংলাদেশের কথা আমরা বলি এই মিলন ভাইরা যদি আজ হেরে যায় তা আর কখনোই হবে না।

শাহাদাত উদ্রাজি লিখেছেন, ঘটনা শেয়ার না করে পারা যাচ্ছে না, ‘আমি যে বার বার বলি, সুশাসন। হ্যাঁ, এই হচ্ছে সেই সুশাসন! আমরা যারা অনলাইনে সারা দিন পড়ে থাকি, আমরা মানুষ চিনি, কে কোথায় কি করছে তাও আমাদের জানা। আমাদের দেশে বৃহত্তর পরিসরে ভাল কাজ করতে গেলে যে কি পরিমান বাধা মোকাবেলা করতে হয়, এই হচ্ছে তার প্রমান! নিন, আপনাদের সুশাসন। মিলব সাহেবকে আমরা সবাই সৎ হিসাবেই চিনি, তিনি যেখানেই কাজ করেছেন, সততার পরিচয় দিয়েছেন। দিন কয়েক আগে চেষ্টা করে বিকাশের মাল্টি ডিভাইস লগিং (এটা প্রতারনার একটা দারুন দিক ছিলো) বন্ধ করেছেন, রেলের এক মোবাইলে অনেক টিকেট কাঁটা বন্ধ করেছেন, নিজে যাত্রী চেক করে টিকেটব্লেকার ধরার চেষ্টা করেছেন এবং এর আগে খাদ্য ভেজাল রোধ সহ অনেক জায়গাতে ভাল কাজ করেছেন। পরে হয়ত কনফিডেন্ট লেভেল বাড়াতে তিনি প্রধানমন্ত্রী সহ নানান জায়গায় ১০ জনের একটা দল করে দূর্নীতিতে থামাতে চাইছিলেন! অথচ আজ তিনি ‘ওএসডি’ হবার চিঠি পেলেন, মানে ঘরে বসে বেতন নাও তবুও আর নুতন কোন চিন্তা করো না! জ্বি, এই হচ্ছে আমাদের সুশাসন!’

তুহিন নাইম লিখেছেন, এ কেমন জনস্বার্থ? খুবই দুঃখজনক।

নূরুল মোস্তফা বিন বশির লিখেছেন, ‘দুঃখজনক সিদ্ধান্ত। অনুপ্রেরণা না দিয়ে শাস্তি। যা ভেবেছিলাম তাই হল। উনাকে চিনি না জানিও না। কিছুদিন আগে একটা স্টেটমেন্ট শুনে ভালো লেগেছিল। কতটা সৎ হলে এবং বুকে সাহস থাকলে একজন অতিরিক্ত সচিব বলতে পারেন ১০ জন সৎ ও চৌকস কর্মকর্তা পেলে তিনি দুর্নীতি নির্মুল করতে পারবেন। তার পুরুষ্কার তিনি পেয়ে গেলেন। ওএসডি হিসেবে পদায়ন। উনাকে একটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলে তো বোঝা যেত……উনার দক্ষতা টুকু।

জনস্বার্থে…..?? দেশের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে বলছি এতে আমার স্বার্থ কোনভাবেই রক্ষা হয়নি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি ঠিকই বলেছিলেন। আপনি ছাড়া সবাইকে কেনা যাবে।’

এবি সিদ্দিক লিখেছেন, ‘রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন যা কেবল বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তাতেই তাকে বদলি করা হলো। এটা ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই না। আজ দূর্ণীতিবাজদের আকড়া তৈরী হয়েছে। ভালো কিছু করতে চাইলেই। কুচক্রী মহল আপনাকে আগাতে দিবে না। যা দেশের জন্য স্পষ্ট অশনিসংকেত।’

প্রিন্স লিখেছেন, ‘১০ জন অফিসারকে নিয়ে দেশটাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে চাওয়াটা হচ্ছে অন্যায়। এদেশের ভাল কিছু আর হবে না। ভালো কিছু যা হওয়ার তা সেই ‘৫২, ‘৭১ এই হয়েছে। কোনও রকম খেয়ে পরে ৬০/৭০ বছর বেঁচে থাকলেই এই দেশের কাছে থেকে আশা শেষ। এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা বোকামী। ইতালি প্রবাসী সেই ভাইয়ের কথা আজ মনে পড়ছে খুব।’

ইব্রাহিম মোহাম্মদ লিখেছেন, মাহবুব কবির মিলন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন ব্যতিক্রমী, সত্য ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তা। যে দফতরে কাজ করেন, পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন। কিছু পরিবর্তন করেও ফেলেন। সম্প্রতি রেল মন্ত্রণালয়ে বদলি হয়ে, ওখানেও পরিবর্তনের সূচনা করছিলেন, দেখে আমরাও আশ্বস্ত হচ্ছিলাম, এবার কিছু কাজ হবে। আমরা দেশব্যাপী রেলভ্রমণ করতে পারবো বিঘ্নহীন। ‘আশার গুড়ে বালি’ বলে বাংলায় একটি কথা আছে, খেয়াল পড়লো। তিনি ফেসবুকে জানালেন, তাঁকে ‘বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ করা হয়েছে। তিনি বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’।

মাহমুদ হাসান আরিফ বলছেন, ‘দুষ্টরে লালন করতে হবে আর ভালোরে করতে হবে দমন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন ১০ জন সৎ অফিসার চেয়ে ফেসবুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, যদি পান তবে ৩ মাসের মধ্যে তাঁর মন্ত্রণালয় দুর্নীতিমুক্ত করতে পারবেন। এর পুরস্কার হিসেবে তাঁকে ওএসডি করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, মাহবুব কবির মিলন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে দায়িত্ব পালনকালে বেশ কিছু বহুজাতিক কোম্পানির ভেজাল ও ক্ষতিকর কোম্পানির পণ্য আটকে দেন। তার প্রচেষ্টায় বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৪৫ কোটি টাকার এমবিএম আটক রয়েছে। সম্প্রতি তিনি কৃষিপণ্যের জন্য আমদানিকারক ৪১টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিকর পণ্য শনাক্ত করেন। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায় থেকে তার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

উল্লেখ্য, রেলওয়ের যাত্রীসাধারণের কাছে মাহবুব কবির মিলন বেশ জনপ্রিয় একটি নাম। রেলকে জনবান্ধব করতে তিনি বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে আছে, টিকিট কাটতে এনআইডি বাধ্যতামূলক করা, অনলাইনে টিকিটের টাকা রিফান্ড করা, রেলসেবা অ্যাপের মাধ্যমে ফটো/ভিডিও যুক্ত করে তাৎক্ষণিত অভিযোগ প্রদানের ব্যবস্থা ইত্যাদি।

এছাড়া মাহবুব কবির মিলনের প্রচেষ্টার কারণে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা বিকাশ তাদের নিরাপত্তায় ব্যাপক পরবর্তন এনেছে। এর ফলে প্রতারকেরা আর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরির সুযোগ পাবে না।

এর আগে তিনি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে জনবল নিয়োগ দিয়ে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। নিজের অধীনে জনবল নিয়োগ হলেও তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকেও জানতে দেননি।

এছাড়া তিনি চলতি বছর কোনোরকম দুর্নীতি ছাড়া রেলে বিপুল পরিমাণ নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আগামী বছরও নিয়োগ হওয়ার কথা ছিল। এসব পরিবর্তনসহ অনেক অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি সোশ্যাল সাইট এবং বাস্তবে সবসময় সরব থাকতেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

৬৩ বিদেশির কারো কাছেই পাসপোর্ট পায়নি পুলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 9:13 pm
৬৩ বিদেশির কারো কাছেই পাসপোর্ট পায়নি পুলিশ

নগরের খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকায় অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের কারও কাছে পাসপোর্ট পায়নি পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হলেও পাসপোর্টের কোনো হদিস মেলেনি।

ফলে তারা কোন ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, সে তথ্যও এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী। এছাড়া তাদের সঙ্গে একটি শিশুও ছিল।

তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ পাওয়া গেছে। তবে কারও কাছে কোনো পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি কম্বোডিয়ার চাকরির কার্ড পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে সেখানে অনলাইনে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কাজ করা হচ্ছিল। এর সঙ্গে দেশি-বিদেশি কিছু চক্র জড়িত রয়েছে। তবে প্রতারণার ধরন এখনো বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতারণার ধরন আমরা তদন্ত করছি। আপাতত তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে।

পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির মালিকানাধীন আটতলা ভবনটি মাসে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকায় ভাড়া নেওয়া হয়। সেখানে দেশভেদে আলাদা করে বিদেশি নাগরিকদের রাখা হয়েছিল। তাদের জন্য রান্নার ব্যবস্থাও ছিল। মহসিন নামে এক ব্যক্তির কাছে অধিকাংশ বিদেশির পাসপোর্ট রয়েছে। তিনিই ভবনটি ভাড়া নিয়ে তাদের যাবতীয় বিষয় দেখভাল করতেন। বর্তমানে পুলিশ তাকে খুঁজছে।

কাউন্টার টেরোরিজমের কর্মকর্তাদের ধারণা, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এসব বিদেশিকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে পণ্য দেওয়ার কথা বলে অগ্রিম টাকা নেওয়া কিংবা হানিট্র্যাপের মতো প্রতারণায় দক্ষ হতে পারেন।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আব্দুর রহিম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা কবে এবং কোন ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন, সেটি বের করা হবে। বর্তমানে মামলাটি কাউন্টার টেরোরিজম তদন্ত করছে।

ঘণ্টায় ৫৮ কনটেইনারে ৮২ টিইইউএস হ্যান্ডলিং রেকর্ড আরএসজিটির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 9:08 pm
ঘণ্টায় ৫৮ কনটেইনারে ৮২ টিইইউএস হ্যান্ডলিং রেকর্ড আরএসজিটির

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে আরএসজিটি বাংলাদেশ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৮ কনটেইনারে ৮২ টিইইউএস (২০ ফুট একক) হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড করেছে। এটি দেশে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

আরএসজিটি বাংলাদেশ জানিয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে প্রথমবারের মতো সিএমএ-সিজিএমের ক্রেনবিহীন জাহাজ (গিয়ারলেস ভ্যাসেল) ‘এমভি ওয়ানেন’ (MV WANEN)-এ নতুন যুক্ত হওয়া শিপ-টু-শোর (এসটিএস) গ্যান্ট্রি ক্রেন ব্যবহার করে কনটেইনার ওঠানামার সময় এই উৎপাদনশীলতা অর্জিত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই অর্জন চট্টগ্রাম বন্দরের অতীতের গড় উৎপাদনশীলতার প্রায় দ্বিগুণ।

এর আগে, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারবাহী জাহাজে ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৩০ কনটেইনার বা ৪৮ টিইইউএস ওঠানামা করা হতো।

আধুনিক সরঞ্জাম ও আন্তর্জাতিক টার্মিনাল পরিচালনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সফলতা এলো।

উচ্চমাত্রার এই উৎপাদনশীলতা জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমাবে, বার্থের ব্যবহার বাড়াবে এবং জাহাজ সংক্রান্ত খরচ কমাবে।

আরএসজিটি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) Erwin Haaze বলেন, ঘণ্টায় ৫৮টি মুভ বা ৮২ টিইইউএস অর্জনের এই সাফল্য কেবল উৎপাদনশীলতার কোনো সাধারণ অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশে আধুনিক বন্দর ব্যবস্থাপনার অপার সম্ভাবনা তুলে ধরে। বিশ্বমানের প্রযুক্তি সংযোজন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, সুশৃঙ্খল পরিচালন পদ্ধতি এবং একটি দক্ষ জনবলের যৌথ প্রয়াসেই এই মাইলফলক অর্জিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের পরিচালনাগত মান ক্রমাগত উন্নত করতে এবং গ্রাহক ও অংশীদারদের নিরাপদ, দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরএসজিটি বাংলাদেশ জানিয়েছে, এই মাইলফলক পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালকে আরও দক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক ও বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত একটি সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা সুদৃঢ় করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যকে সহায়তা দিতে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তি, পরিচালনগত উৎকর্ষ এবং জনশক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে প্রতিষ্ঠানটি। আরএসজিটি বাংলাদেশ গ্রাহক, অংশীদার ও অংশীজনদের অব্যাহত আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার জন্য আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 3:12 pm
আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমি আপনাদের কাছে একটা সাহায্য চাই। আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশে স্কাউটের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ। বিএনসিসির সদস্য সংখ্যা ২২ হাজার। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সংখা প্রায় ৪ কোটি। এবার আপনার বলেন, আমরা এতোগুলো মানুষ যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, কেউ কি ঠেকিয়ে রাখতে পারবে? পারবে না।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, এখন আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে কীভাবে দেশকে গড়ে তুলবেন। দেশকে গড়ে তুলতে হবে, কারণ আমরা এখানে থাকব।

একটা দেশের এত বড় তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে করা সম্ভব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বিশ্বকে দেখিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা তরুণ সমাজ এখান থেকে শুরু করেছেন। কাজেই আসেন, আগামী ৩ মাস ডেঙ্গুর সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করব। হয়তো আমরা শতভাগ পারব না, কিন্তু ৮০ ভাগ পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই জানি, ডেঙ্গু যেসব কারণে হয়… ভাঙা-চোরা জিনিসপত্র বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকে, বিভিন্ন মাটির ভাঙা জিনিস পড়ে থাকে… সেখানে পানি জমে ডেঙ্গু এডিস মশা তৈরি হয়। কাজেই আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে দেশের পরিবর্তন ঘটাতে পারব। এই মাঠে আজকে আমরা যতগুলো মানুষ উপস্থিত রয়েছি, বিভিন্ন জেলায় (অনলাইনে যুক্ত) যারা মাঠে উপস্থিত রয়েছেন, সবাই যদি টিস্যু ও পানি খেয়ে বোতল মাঠে ফেলে দিই, কেউ কি আমাদের কিছু বলবে? বলবে না।

“কিন্তু আমাদের নিজেদের চোখে দেখতে কেমন লাগবে? যখন এই ময়লাগুলো জমা হয়ে বড় আকার হবে, সেখান থেকে রোগ-জীবাণু সৃষ্টি হবে। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন তাতে আমার কী হবে, আমি তো দূরে থাকি। কিন্তু আপনার আপনজন কিংবা প্রিয়জন কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে। কাজেই আমরা নিজেকে ও পরিবারকে সুস্থ রাখি। নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। দেশকে সুস্থ রাখি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কাজটা খুব কঠিন না। আজকে হয়তো আপনাদের একটু কষ্ট হবে। প্রতি সপ্তাহে আমরা যদি ১ ঘণ্টা সময় দিই, নিজেদের বাসা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মস্থল পরিষ্কার করতে, তাহলে অবশ্যই দ্রুততার সঙ্গে পরিবর্তন করতে সক্ষম হবো।

তারেক রহমান বলেন, যারা ময়লা-আবর্জনা করবে, আসুন তাদের আমরা নিরুসাহিত করি, তাদের বলি—‘যেখানে সেখানে ময়লা করবেন না’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে দেশকে পরিবর্তন করতে হয়। পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ সমাজের কাছে আমার আহ্বান, আসুন এবার আমরা রাষ্ট্রকে, দেশকে পুনর্গঠন করি।