আধুনিক ত্রিপুরা পল্লীর কারিগর ইউএনও রুহুল আমিন
মো: পারভেজ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : মনাই ত্রিপুরা পল্লী, চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ১ নং ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ত্রিপুরাদের বসবাসকারী এক দুর্গম এলাকার নাম। তবে আজ দুর্গম শব্দটি এই এলাকার জন্য প্রযোজ্য নয়। জন্মলগ্ন থেকে এলাকাটিতে ছিল না কোন আধুনিকতার কোন ছোঁয়া, ছিল না কোন সুপেয় পানির ব্যবস্থা আর চিকিৎসা সেবা। রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ আর শিক্ষা ব্যবস্থা এই এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ছিল আকাশ কুসুম কল্পনা।
ন্যূনতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধা না পাওয়া অবহেলিত মনাই ত্রিপুরা পল্লীর পরিবারগুলো আজ সব কিছু পেয়েছেন। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ রুহুল আমিন এর প্রচেষ্টায় রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, স্কুল, টয়লেট, টিউবয়েল, চিকিৎসা, সোলারসহ সব ধরনের নাগরিক সুযোগ সুবিধা আজ তাদের দোর গোড়ায় পৌঁছে গেছে।
হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের অগ্রাধিকার ভিত্তিক নানা উদ্যোগ আর প্রচেষ্টায় সুদিন ফিরেছে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এই পল্লীতে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা ছিল পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত মনাই ত্রিপুরা পল্লীর। ক্ষেতের আইলের মত ২ কিলোমিটার পথ ছিল তাদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। অসুস্থ রোগীকে ২ কিলোমিটার কাধে করে বয়ে এনে সিএনজি কিংবা অটোরিক্সায় তুলতে হতো। আজ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেই ২ কিলোমিটার পথ ইটের পাকা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। যার দরুন আজ রিক্সা কিংবা সিএনজি চড়ে নিজ বাড়ীতে যেতে পারছেন ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দারা।
বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ছিল তাদের জন্য রূপকথার গল্প। পাশের বাজারে প্রতি ঘন্টা ১০ টাকা করে মোবাইল চার্জ দেওয়া ত্রিপুরা পরিবারগুলো আজ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।।আজ তারা নিজের ঘরে মোবাইল চার্জ দিচ্ছে। ৫৫ পরিবার পেয়েছে সোলার সংযোগ। সেই সাথে এসেছে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগও । শীতের দিনে ঠান্ডা কনকনে হাওয়া আর বর্ষায় ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে দিনের পর দিন কাটানো পাহাড়ের পাদদেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে বসাবাসকারী ১২ পরিবার পেয়েছেন নতুন পাকা ঘর। এছাড়া আরও ৪টি ঘর নির্মাণাধীন রয়েছে।
পাহাড় বেয়ে আসা ঝিরিঝিরি পানি একমাত্র পানির উৎস হলেও গ্রীষ্মকালে মনাই ত্রিপুরা পল্লীতে অন্যতম সমস্যার নাম ছিল বিশুদ্ধ পানি। পানির সমস্যা সমাধানে আজ তারা পেয়েছেন ৩টি ডিপ টিউবওয়েল। মনাই ত্রিপুরা বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে নির্মাণ করা হয়েছে সেমিপাকা টয়লেট। সেই সাথে স্বাস্থ্য সম্মত রিংস্লাব নির্মিত টয়লেটও স্থাপন করা হয়েছে ৪টি। শিশুদের শিক্ষার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে স্কুল। এই স্কুলে মন্দির ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। প্রাইমারী স্তরে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা নিয়মিত রাখতে ৬০ জন শিক্ষার্থীকে দেয়া হয়েছে “জেলা প্রশাসক প্রাথমিক শিক্ষা বৃত্তি”। ৬০ জন শিক্ষার্থীকে দেয়া হয়েছে স্কুল ইউনিফর্ম।
বর্তমান সরকার ‘আমার গ্রাম আমার শহর নামে’ যে কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন তা যথাযথ বাস্তবায়িত হচ্ছে উল্লেখ করে মনাই ত্রিপুরা সর্দ্দার সচিন ত্রিপুরা বলেন, ইউএনও রুহুল আমিনের প্রচেষ্টায় তারা আজ সকল নাগরিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারছেন। সম্পূর্ণ মনাই ত্রিপুরা পল্লীতে আজ সুদিন ফিরেছে।
এ ব্যাপারে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ রুহুল আমিন জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ শ্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে যগ যুগ ধরে অবহেলিত মনাই ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা বদলে দেয়ার জন্য কাজ করছি। তারা যেনো গ্রামেই শহরের সুবিধা পায় সেটা পর্যায়ক্রমে নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।
তাদের মুখের হাসি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে আমার সফলতা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, মন্দির ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পাশ্ববর্তী উদলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং শতভাগ সামাজিক নিরাপত্ত (মাতৃত্বকালীন ভাতা, বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি ইত্যাদি) কর্মসূচির আওতায় আনার জন্য তালিকা প্রণয়নের সময় মনাই ত্রিপুরা পাড়ার নাগরিকদের অন্তর্ভূক্ত করার জন্য সংম্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা/এম আর


আপনার মতামত লিখুন