খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জৌলুস হারিয়েছে রাউজানের রামধন জমিদার বাড়ি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯, ১:০০ অপরাহ্ণ
জৌলুস হারিয়েছে রাউজানের রামধন জমিদার বাড়ি

প্রাচীন কারুকার্য্যমন্ডিত সু-পরিসর ভবন। পলেস্তারা উঠে শ্যাওলা জমেছে ভবনটির অনেক স্থানে। পুকুর, রামধর দিঘী, বাড়ীর সামনে তোরণ, চুন সরকি দিয়ে তৈরি কাচারিঘর, জমিদারের আনন্দ মহল, নাচখানা, মন্দির সবই আছে।

বাড়িটির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বাড়ির ভেতর থেকে সন্ধ্যাকালীন সময়ে নুপুরের আওয়াজ ভেসে আসেনা এখন। এক সমসয়ের কর্মচাঞ্চল্যে ভরা বাড়িটির জৌলুস হারিয়ে গেছে অনেক আগেই। তবু ঐতিহ্য ধরে রেখে কালের স্বাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে রাউজানের ডাবুয়া এলাকার রামধন জমিদার বাড়ীর ঝরাজীর্ণ ভবনটি। রাউজানে ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটি জুড়েই আছে সুনশান নীরবতা।

ব্রিটিশ শাসনামলে এই বাড়িটির আধিপত্য ছিল এলাকাজুড়ে। এলাকার জমিদারি ছিল রামধন জমিদারের হাতেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নানান শ্রেণী, পেশার মানুষের আনাগোনা লেগেই থাকত বাড়িটিতে। কালের আবর্তে সেই দিনগুলো হারিয়ে গেছে অতীতের হিমাগারে।

জমিদার রামধর ও রামগতি ধরের বংশ ধরের মধ্যে অনেকেই চট্টগ্রাম শহর ও ঢাকায় বসবাস করলেও জমিদার বাড়ীটির কিছু অংশ সংস্কার করে রামধরের নাতি-নাতনীসহ কয়েকজন এখনো বসবাস করেন এই বাড়িটিতে। পূজার সময় কিংবা পরিবারিক অনুষ্ঠানে একত্রিত হন জমিদারের পরিবারবর্গ।

জৌলুস হারিয়েছে রামধন জমিদার বাড়ি
পুরনো স্মৃতি মনে পড়লে এখনো স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন রামধন জমিদারের নাতনী একাশি বছরের বৃদ্ধা ছবি ধর।

বার্ধক্যের ছাপ ধানা বেধেছে শরীরে। সেদিনগুলোর কথা ভেবে এখনো স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন রামধন জমিদারের নাতনী একাশি বছরের বৃদ্ধা ছবি ধর। কান্না বিজড়িত কন্ঠে তিনি ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, এক সময় আমাদের এই বাড়িটি লোকে গিজগিজ করতো। আমাদের জন্মের পর থেকে দেখেছি ঠাকুর দা’র (রামধন জমিদার) জমিদারি শাসন।

তিনি মারা যাওয়ার পর বাবা কেশব চন্দ্র ধর জমিদারির হাল ধরেন। ১৯৫৫ সালের ৬ জুন বাবার মৃত্যুর পর আমাদের জমিদারি ধীরে ধীরে হারিয়ে গেল। সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে বুক ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস।

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জমিদার বাড়িটি রুপার থালা, বালতি, কেঁতলি ব্যবহারসহ অভিজাত শ্রেণীর ভোগবিলাসীতায় ভরপুর ছিল। এলাকার মানুষদের কাছ থেকে রুপার টাকায় খাজনা আদায় করত জমিদার। যারা খাজনা আদায় করতে আসত তাদেরকে জমিদার বাড়ি থেকে দেওয়া হতো এক জোড়া নারকেল, একবিড়া পান আর বাতাশা।

ডাবুয়া জগন্নাত হাট, ডাবুয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, চিকদাইর পুলিশ ফাড়ি সহ রাউজান আর আর এসি মডেল হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠায় এ জমিদার বংশের বিশেষ অবদান রয়েছে বলে স্বীকৃতি আছে।

Feb2

৭ জেলায় বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
৭ জেলায় বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু

দেশের ৭ জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনের বিভিন্ন সময় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে চারজন, জামালপুরে দুইজন, বরগুনায় দুইজন, ময়মনসিংহে একজন, বাগেরহাটে একজন, রংপুরে একজন ও রাজবাড়ীতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখি ঝড়ের সময় বজ্রপাতে চারজন নিহত হয়েছেন। বুধবার দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে গত দুই দিনে বজ্রপাতে অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামে মাঠে গরু বাঁধতে গিয়ে সৌরভ মজুমদার (২২) বজ্রপাতে মারা যান। দুপুর ১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় জহির উদ্দিন (২৮) নিহত হন। এরপর দুপুর ২টার দিকে পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে সেতারা বেগম (৫৫) এবং একই সময়ে শান্তিপুর গ্রামে মাঠ থেকে গরু নিয়ে আসার সময় খালেক হাওলাদার (৫৫) বজ্রপাতে প্রাণ হারান। এছাড়াও রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত দুই দিনে অন্তত ৫০টি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম, রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন এবং কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জামালপুর

জামালপুরের ইসলামপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে শামীম মিয়া (৩৫) ও রাস্তার কাজ করার সময় সাগর ইসলাম (১৮) নামে এক শ্রমিক মারা যান। বুধবার সকালে উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি গ্রামে ও সাপধরী ইউনিয়নের ইন্দুল্লামারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম মিয়া একই এলাকার হাজী মোহাম্মদ আলীর ছেলে এবং নিহত সাগর ইসলাম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিনিয়াপাড়া গ্রামের মো. স্বাধীনের ছেলে।

ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাইয়ূম গাজী বলেন, বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা চলমান।

বরগুনা

বরগুনায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় আল-আমীন নামে এক জেলে ও নূরজামাল নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আল-আমীন পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মা এলাকার বাসিন্দা এবং নূরজামাল আমতলী উপজেলার পূজাখোলা নামক এলাকার বাসিন্দা।

বুধবার দুপুরের দিকে পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলায় বজ্রপাতে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পাথারঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক এবং আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, আমতলীতে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই নিহতের পরিবারের সদস্যদের নিকট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২৫ হাজার টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সাদ্দাম হোসেন উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের গাবরগাতি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর ছেলে। সকালে বাড়ির অদূরে রাংসা নদীতে মাছ ধরতে যান তিনি। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।

তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানবীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

বাগেরহাট

বাগেরহাটে বজ্রপাতে রবিন হাওলাদার (৫৩) নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার সরকারডাঙ্গা গ্রামের মাঠে গরু আনতে গেলে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। রবিন হাওলাদার সরকারডাঙ্গা গ্রামের জগদীশ হাওলাদারের ছেলে।

বাগেরহাট মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সরকারডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতে রবিন হাওলাদার নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। পারিবারিক শ্মশানে তার শেষকৃত্য হওয়ার কথা রয়েছে।

রংপুর

রংপুরের তারাগঞ্জে বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে ওই গৃহবধূ রান্না করার জন্য বাড়ির পাশে খড়ি সংগ্রহ করতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

তারাগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, বজ্রপাতে গৃহবধূর মুত্যুর খবর শুনে নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

রাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে বজ্রপাতে সুমন মন্ডল (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মজ্জৎকোল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সুমন ওই গ্রামের সিদ্দিক মন্ডলের ছেলে।

সুমনের বন্ধু মফিজুল ইসলাম রুবেল জানান, সকাল পৌনে ৭টার দিকে তিনি সাড়ে ৩ বছর বয়সী মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশে দোকানে কিছু বাজার আনতে যাচ্ছিলেন। এসময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মেয়ে কোল থেকে ছিটকে পড়ে যায় এবং সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিলে সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মেয়ে সাফিয়ার নাক ও কান দিয়ে সামান্য রক্ত বের হলেও বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি।

চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

টানা তিনদিন ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার ভোগান্তির মধ্যেই নগরী ঘুরে দেখে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম শহর পানির উপর ‘ভাসছে’ না, সুন্দর আছে।

মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার টানা ভারি বৃষ্টিতে নগরীর পুরনো জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার সঙ্গে নতুন নতুন এলাকাও প্লাবিত হয়। এর মধ্যে প্রবর্তক মোড় ও আশেপাশের এলাকায় পানি ছিল সবচেয়ে বেশি।

বুধবার আবার বৃষ্টির মধ্যে নগরীর প্রবর্তক মোড় ঘিরে ফের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তার আগে সোমবারও ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছিল।

মঙ্গলবারের জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে নগরবাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে এসে প্রবর্তক এলাকা ঘুরে দেখেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।

পরিদর্শন শেষে মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, “প্রথমত আমি মিডিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, আপনারা যেভাবে নিউজটি করেছেন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলছে, চট্টগ্রাম শহর পানির উপর ভাসছে।

“আমি চট্টগ্রাম এসে ঘুরে দেখলাম সন্ধ্যার পর থেকে। চট্টগ্রাম শহর পানির উপর ভাসছে না। চট্টগ্রাম শহর সুন্দর আছে। যেরকম ছিল সেরকমই আছে। হঠাৎ করে অতি বৃষ্টির কারণে কিছুটা পানি জমা পড়লেও সঠিক সময়ে তা নিষ্কাশন হয়ে গেছে।”

প্রবর্তক মোড়ে জলাবদ্ধতা ‘খুব বেশি হয়নি’–এমন ধারণা দিয়ে তিনি বলেন, “৬০ কিলোমিটার আয়তনের একটা সিটি করপোরেশন। প্রবর্তক মোড়ে আমরা পানির মধ্যে যতটুকু পায়ে হাঁটলাম, এটা ৬০ ফুটও হবে না। সর্বোচ্চ ৩০ ফুট জায়গা; এক গোছা পানি হবে।

“আমরা ঢাকা থেকে যতটুকু দেখলাম, বুঝলাম, শুনলাম। প্রধানমন্ত্রী এবং আমার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, দুইজন আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন সরেজমিনে এসে দেখবার জন্য। আমি এসে দেখলাম- চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না। চট্টগ্রাম নগরী শুষ্ক মৌসুমে যেরকম থাকে সেরকমই আছে।

“প্রধানমন্ত্রী মহানুভবতা ও জনগণের প্রতি তার দরদ থেকে এই ছোট্ট একটি ঘটনা নিয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এরপরে আমার আর কিছু বলার আছে বলে মনে করি না।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি এখনই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিটিং করব; আগামী দিনগুলোতে ও বর্ষা মৌসুমে যাতে জলাবদ্ধতা না হয়। চট্টগ্রাম নগরবাসী যাতে স্বস্তিতে বসবাস করতে পারে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।”

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ছয়টি খালের মধ্যে পাঁচটির কাজ এমন পর্যায়ে আছে, সেটি পানি প্রবাহে খুব একটা বিঘ্ন ঘটাবে না। আর এই হিজড়া খাল একটি।

“খাল পুনঃনির্মাণের সময় স্টিল স্ট্রাকচারের মাধ্যমে রিটেইনিং ওয়াল দিয়ে ব্যারিকেড করতে হয়; যাতে মাটি ও পানি উল্টো দিক থেকে এসে কনস্ট্রাকশন কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে। ঠিক এরকম এই খালের মাঝখানেও ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর মনে করেছিল, ১৫ মের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করে রিটেইনিং ওয়াল সরিয়ে নিয়ে খালটি সচল করবে।

“কিন্তু হঠাৎ এই সময়ের মধ্যে বর্ষকালের আগে অতিবৃষ্টি হয়ে যাওয়ায় দুই একদিন হয়ত এই এলাকার মানুষ একটু কষ্ট পেয়েছে। এখন পানি নিষ্কাশন হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে স্টিল স্ট্রাকচারের যে রিটেইনিং ওয়াল দেওয়া আছে সেগুলো সরিয়ে খাল সচল করে দেবে।”

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রামের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, সিডিএর প্রকল্প পরিচালক আহম্মদ মঈনুদ্দিন এবং সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

প্রবাসীদের জন্য দেশে প্রথম অনলাইন গণশুনানি: চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রবাসীদের জন্য দেশে প্রথম অনলাইন গণশুনানি: চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির সরাসরি সমাধান এবং তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি জানাতে দেশে প্রথমবারের মতো ‘প্রবাসীদের জন্য অনলাইন গণশুনানি’ আয়োজন করে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।

গণশুনানিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত হন। এতে বিদেশে অবস্থানরত ১১ জন প্রবাসী সরাসরি অংশ নিয়ে জমিজমা বিরোধ, অর্থ আত্মসাৎ, পারিবারিক জটিলতা, চাঁদাবাজি ও মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।

অভিযোগ শোনার পরপরই জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। যেসব বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন, সেগুলোতে পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রবাসীরা অকুতোভয় যোদ্ধার মতো পরিবার থেকে দূরে থেকে দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠান। তাঁদের পাঠানো অর্থেই দেশের অর্ধেকের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো হয়। তাঁদের এই ত্যাগ ও অবদানকে সম্মান জানাতেই আমরা এই গণশুনানির আয়োজন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত তিনটি খাত—গার্মেন্টস, প্রবাসী আয় ও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশে বসবাসরত দেড় কোটির মতো প্রবাসী বাংলাদেশি অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন।”

গণশুনানিতে কাতারপ্রবাসী রাঙ্গুনিয়ার রানা সুশীল আত্মসাতকৃত অর্থ উদ্ধারের আবেদন জানান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমের পরও অনেক প্রবাসী পরিবার ও সম্পত্তি–সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। এসব সমস্যা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, প্রবাসীদের লিখিত অভিযোগ আগেই সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। “শুধু অভিযোগ শোনা নয়, দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য,” বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “প্রযুক্তির কল্যাণে প্রবাসীরা দূরে থেকেও আমাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারছেন। আমরা তাঁদের জানাতে চাই—তাঁরা দূরে নন, আমরা তাঁদের পাশেই আছি।”

প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতি বুধবার নিয়মিত গণশুনানির পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে এক ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজন হলে সময় আরও বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ, মিথ্যা মামলা ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত। অনেক প্রবাসী দেশে থাকা সম্পত্তি দখল ও হয়রানির শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

ওমানপ্রবাসী নুর মোহাম্মদ সম্পত্তি জবরদখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন। কাতারপ্রবাসী মোহাম্মদ আনোয়ার নিজস্ব সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির কথা জানান। সৌদি আরব, দুবাই ও আবুধাবিপ্রবাসী আরও কয়েকজন একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেন।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাঁদের সম্পত্তি ও অধিকার রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সাপ্তাহিক গণশুনানিতে অনেক মানবিক আবেদন তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তি করা হয় এবং জরুরি ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। অন্যান্য সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং অগ্রগতি সম্পর্কে আবেদনকারীদের অবহিত করা হয়।

এই উদ্যোগের ফলে জেলা প্রশাসনের গণশুনানিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণশুনানিতে উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো: রাসেল উপস্থিত ছিলেন।