খুঁজুন
, ,

পানিতে থইথই যশোর-খুলনায় পানিবন্দী ১০ লাখ মানুষ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 28 August, 2020, 11:15 pm
পানিতে থইথই যশোর-খুলনায় পানিবন্দী ১০ লাখ মানুষ

নিলয় ধর,যশোর প্রতিনিধি : যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা এখন ১০ লাখ মানুষের দুঃখে পরিণত হয়েছে। ভবদহ অঞ্চলের মানুষের পিছু ছাড়ছে না দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা। এর মধ্যেই হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জলাবদ্ধতা নিরসনে তৈরি বিল খুকশিয়ার জোয়ারাধার (টিআরএম)। টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার মানুষেরা।

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে গত বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নিম্নচাপ হয়ে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতে অভয়নগর ও মনিরামপুর উপজেলার অন্তত ৪০টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। এই সব গ্রামের বেশির ভাগ বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছে পানিবন্দী লক্ষ লক্ষ মানুষ।

যশোর আবহাওয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১৮০ মিলিমিটার, জুনে ৩২২ মিলিমিটার, জুলাইয়ে ৩৫৩ মিলিমিটার ও আগস্টে ২৭৫ মিলিমিটার। এই বছর মে মাসে ২৫৮ মিলিমিটার, জুনে ৪১৫ মিলিমিটার, জুলাইয়ে ২৩৭ মিলিমিটার ও আগস্টের ২৩ তারিখ পর্যন্ত ৩৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তারপরেও নিম্ন চাপের কারনে মাঝারি ধরনের বর্ষা হচ্ছে। এতে করে পানি আরো অনেক দ্রুত বাড়ছে।

যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। অভয়নগর উপজেলা ভবানীপুর গ্রামে শ্রী নদীর ওপর নির্মিত ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে মূলত এলাকার ৫৪টি বিলের পানি নিষ্কাশিত হয়। পলি পড়ে এলাকার পানিনিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী নাব্যতা হারিয়েছে। এতে নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। এ অবস্থায় বৃষ্টির পানিতে এলাকার বিলগুলো তলিয়ে গেছে। বিল উপচে পানি ঢুকেছে বিলসংলগ্ন গ্রামগুলোতে।

ভবদহ স্লুইসগেট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের যশোরের কার্যসহকারী ফারুক আহমদ মোল্যা জানান, ভবদহ স্লুইসগেটের ২১ কপাটের সব কটি পলিতে তলিয়ে গেছে। সেগুলোর পলি পরিষ্কার করার কাজ চলছে। এখন নদী দিয়ে প্রবল জোয়ার আসছে। ফটক দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকছে। কিন্তু ভাটায় কম পানি বের হচ্ছে।

পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন ভবদহ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ। পানিবন্দী মানুষদের কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু সড়কে। অনেক পরিবার ঘরের মধ্যে মাচা করে সেখানে থাকছে।

অভয়নগর উপজেলার, ডুমুরতলা, বারান্দী, দিঘলিয়া, ডহর মশিয়াহাটী, রাজাপুর, সুন্দলী, ভাটবিলা, সড়াডাঙা, হরিশপুর, ফুলেরগাতী, দামুখালী, দত্তগাতী, এবং মনিরামপুর উপজেলার হাটগাছা, সুজাতপুর, কুলটিয়া, লখাইডাঙ্গা, মহিষদিয়া, আলীপুর, পোড়াডাঙা, পদ্মনাথপুর, পাড়িয়ালী, দহাকুলা, কুচলিয়া, পাঁচকাটিয়া, ভুলবাড়িয়া, কুমারসীমা, কপালিয়া, পাচাকড়িসহ আরও কয়েকটি গ্রামের কোথাও আংশিক আবার কোথাও বেশির ভাগ বাড়িতে পানি উঠে গিয়েছে।

কয়েকটি এলাকা ঘুরে মানুষের চরম দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে। গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে গ্রামগুলোর শত শত বাড়িতে পানি উঠেছে। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় এলাকার অনেক জায়গায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি থেমে গেলেও প্রতিদিন এক-দুই ইঞ্চি করে পানি বাড়ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মণিরামপুর উপজেলায় হাটগাছা গ্রামের ধ্রুবা বৈরাগীর বাড়িতে হাটু সমান পানি, হবে বর্ষা অল্প হচ্ছে কিন্তু পানি বাড়তেই আছে। বর্ষা না হলেও ধীরে ধীরে পানি বাড়ছে। তারা উঠানে বাসের ও কাঠের সাকো তৈরি করেছে। সুজাতপুর গ্রামের সুকুমার দাস রাস্তা থেকে ঘরে যাতায়াতের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করছে।

তিনি বলেছে, ‘উঠোনে দেড় হাত আর ঘরের মধ্যে এক বিঘত জল। ঘরের মধ্যে ইট দিয়ে খাট উঁচু করে সেখানেই থাকছি। কিন্তু জল যেভাবে বাড়ছে তাতে বেশি দিন ঘরে থাকা যাবে না।

অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের কৃষক শিবপদ বিশ্বাস বলেন, ‘গ্রামের এক শর বেশি বাড়িতে জল উঠে গেছে। ঘরের মধ্যে ইট দিয়ে খাট উঁচু করে সেখানেই থাকছি। আর একদিন ভারী বৃষ্টি হলে রাস্তায় উঠতে হবে।’

অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিকাশ রায় বলেন, সুন্দলী ইউনিয়নে ১৪টি গ্রাম। এর মধ্যে ১২টি গ্রামের আংশিক বাড়িঘরে পানি উঠেছে। এলাকার বিলগুলো আগে থেকেই জলাবদ্ধ হয়ে আছে। এসব বিলে এবার কোনো আমন ধান হয়নি।

উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাদির হোসেন মোল্যা বলেন, ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের অনেক বাড়িতে পানি উঠেছে। এর মধ্যে তিনটি গ্রামের অবস্থা খারাপ।

মনিরামপুর উপজেলার হরিদাসকাটি ইউপি চেয়ারম্যান বিপদ ভঞ্জন পাঁড়ে বলেন, তাঁর ইউনিয়নে ২২টি গ্রাম। ৮টি গ্রামে পানি ঢুকেছে, এর মধ্যে ৫টি গ্রামের অবস্থা বেশ খারাপ।

ভবদহ পানিনিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালী বলেন, ভবদহ এলাকায় জলাবদ্ধতা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে এলাকার ৪০টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। জোয়ারাধার ছাড়া জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলবে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাওহীদুল ইসলাম বলেন, গত বছর ১০ কিলোমিটার নদীর পাইলট চ্যানেল খনন করা হয়। খননের পর পলিতে নদী হয়েছে। এ ছাড়া মুক্তেশ্বরী নদীর ২ দশমিক ১০ কিলোমিটার এবং ভবদহ স্লুইসগেটের উজান ও ভাটিতে শ্রী নদীতে ২০০ মিটার করে ৪০০ মিটার খননের কাজ চলছে।

তিনি জানান, ভবদহের একটি অঞ্চলের পানি আমডাঙ্গা খাল হয়ে ভৈরব নদে যায়। কিন্তু এবার ভৈরব নদে অনেক উচ্চতায় জোয়ার আসছে। এতে পানিনিষ্কাশনের পরিবর্তে ভৈরব নদ থেকে আমডাঙ্গা খাল দিয়ে উল্টো পানি ঢুকছে। এ জন্য আমডাঙ্গা খালের ওপর অবস্থিত ছয় কপাটের স্লুইসগেট বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলে পানি জমে গেছে। জোয়ারের চাপ কমে গেলে দুই-এক দিনের মধ্যে আমডাঙ্গা খাল দিয়ে পানি নেমে যাবে।

যশোরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাওহীদুল ইসলাম বলেন, গত বছর খনন করা পাইলট চ্যানেল ভরাট হয়ে গেছে। ভবদহ এলাকার পাঁচ-ছয়টি বিলের পানি ভৈরব নদে যায়। কিন্তু এবার ভৈরব নদে অনেক উচ্চতায় জোয়ার আসছে। এজন্য আমডাঙ্গা খালের ছয় কপাটের স্লুইস গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলে প্রায় সাড়ে নয় ইঞ্চি পানি জমে গেছে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউট পর্বে কলম্বিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 10:55 am
কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউট পর্বে কলম্বিয়া

ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে টানা দ্বিতীয় জয়ে প্রথম দল হিসেবে ‘কে’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল লাতিন আমেরিকার দল কলম্বিয়া। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে (ডিআর কঙ্গো) ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় কলম্বিয়া। তবে প্রথমার্ধে কঙ্গোর জমাট রক্ষণ ও গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির দুর্দান্ত কিছু সেভের কারণে ডেডলক ভাঙতে পারেনি তারা। উল্টো অফসাইডের কারণে ম্যাচের ৮ম মিনিটে দানিয়েল মুনিয়োজের একটি গোল বাতিল হয়।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও যখন গোল আসছিল না, ঠিক তখনই ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন দানিয়েল মুনিয়োজ। ডান প্রান্ত থেকে কলম্বিয়ার আক্রমণভাগের চমৎকার এক বিল্ড-আপে রক্ষণভাগ চিরে বক্সের ভেতর মাপা ক্রস বাড়িয়েছিলেন সতীর্থ উইঙ্গার। কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে পোস্টের খুব কাছ থেকে প্রথম স্পর্শেই দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই ডিফেন্ডার। উল্লাসে ফেটে পড়ে গুয়াদালাহারার গ্যালারি।

ম্যাচের ৮০ মিনিটে লুইস দিয়াজের আরও একটি দর্শনীয় গোল অফসাইডের ফাঁদে পড়ে। এরপর আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।

এই জয়ের ফলে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘কে’ এর টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে কলম্বিয়া এবং তাদের শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করা কঙ্গো ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রইল। আর দুই নম্বরে আছে পর্তুগাল। তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। অন্যদিকে তলানিতে অবস্থান উজবেকিস্তানের।

মদ্রিচের ২০০তম ম্যাচে পানামাকে বিদায় করল ক্রোয়েশিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 9:31 am
মদ্রিচের ২০০তম ম্যাচে পানামাকে বিদায় করল ক্রোয়েশিয়া

হারলেই বিদায় নিতে হবে, এমন সমীকরণ সামনে রেখে টরন্টো স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া ও পানামা। ২০১৮ সালের পর প্রথম ও বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয়বার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পানামা বেশ কয়েকবার ক্রোটদের চ্যালেঞ্জ জানায়। শেষ পর্যন্ত বদলি নামা আন্তে বুদিমিরের একমাত্র গোল গড়ে দেয় পার্থক্য। ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতে ‘এল’ গ্রুপ থেকে নকআউটের লড়াইয়ে টিকে থাকল ক্রোয়েশিয়া। আর টানা দুটি ম্যাচ হেরে বিদায় নিলো পানামা। ৮১ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়া লুকা মদ্রিচের ছিল এটি দুইশতম ম্যাচ। চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলক ছুঁলেন তিনি।

ইংল্যান্ডের সঙ্গে দিনের আগের ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করা ঘানার বিপক্ষে শনিবার খেলবে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচটি জিতলে শীর্ষ দুই নিশ্চিত করবে তারা। পানামাকে হারিয়ে ক্রোয়েশিয়া আপাতত গ্রুপ ‘এল’-এর তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। তারা ইংল্যান্ড ও ঘানার চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে নিজেদের শেষ দুটি বিশ্বকাপ ম্যাচে দারুণ লড়াই করা পানামা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল। ম্যাচে পানামা আটটি শট তৈরি করেছিল যার মধ্যে একটি ছিল অন-টার্গেট। বিপরীতে ক্রোয়েশিয়া দুটি অন-টার্গেট শটসহ মোট ছয়টি শট নিয়েছিল।

প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। বিরতির নয় মিনিট পরেই ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে লিড নেয়। স্তানিসিৎসের ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো ক্রসটি ব্যাক পোস্টে আলতো টোকা দিয়ে জালে জড়ান বুদিমির। এর কয়েক মিনিট পরেই ক্রোয়েশিয়ার ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ এসেছিল। পাসালিচের ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে নেওয়া শটটি মস্কেরা রুখে দেন। অরল্যান্ডো সিটির এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ফিরতি শটটি বারের ওপর দিয়ে ভাসিয়ে মারেন।

পানামাও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধে হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ক্রোট কিপার লিভাকোভিচ অত্যন্ত সতর্ক থেকে গোলপোস্ট অক্ষত রাখেন। পরপর মুরিলোর আক্রমণ রুখে দেওয়ার পাশাপাশি হার্ভির কাছ থেকে নেওয়া ক্লোজ-রেঞ্জ হেডার বারের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান তিনি। ৮০তম মিনিটে সমতা ফেরানোর একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন মিডফিল্ডার হার্ভি, কিন্তু কর্নার থেকে আসা বলে তার নেওয়া শটটি জালের বাইরের পাশে আঘাত করে।

শুরু থেকে আক্রমণে যায় ক্রোয়েশিয়া। ডান দিক থেকে ইয়োসিপ স্তানিশিচের ক্রসে মদ্রিচ হেড নিলেও বল ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। অষ্টম মিনিটে কার্লোস হার্ভের দৌড়ে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে পানামা। তবে ইয়োয়েল বার্সেনাসের ক্রস নিরাপদে ক্লিয়ার করে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ।

প্রথমার্ধে লিভাকোভিচ না ঠেকালে লিড নিতো পানামাই। ২২ মিনিটে অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ান মার্তিনেসের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে এগিয়ে গিয়ে শট নেন মুরিলো। তবে সহজেই বল ধরে ফেলেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক। পরের মিনিটে ম্যাচের সেরা সুযোগটি আসে পানামার সামনে। ডান দিক থেকে মুরিলোর নিখুঁত ক্রসে হেড করেন হোসে লুইস রদ্রিগেজ। তবে লিভাকোভিচ দুর্দান্ত সেভ করে বল ক্রসবারে লাগিয়ে বিপদমুক্ত করেন। সেই সুযোগ থেকে এগিয়ে যেতে না পারা পানামা আত্মবিশ্বাস ধরে রাখলেও জয় পায়নি। ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলে হারের পর জয়ে ফিরে নকআউটে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপরা।

ঘানার সঙ্গে ড্র, ইংল্যান্ডের অবাঞ্ছিত রেকর্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 9:06 am
ঘানার সঙ্গে ড্র, ইংল্যান্ডের অবাঞ্ছিত রেকর্ড

বিশ্বকাপের এক আসরে গ্রুপ পর্বে রেকর্ড ১৩৭ গোল হওয়ার পরের ম্যাচেই গোলখরার ঘটনা ঘটল। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের তৃতীয় গোলে এই রেকর্ড হয়েছিল। তবে বোস্টনে ইংল্যান্ড ও ঘানার পরের ম্যাচটি শেষ হলো গোলশূন্য ড্রতে। জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা দুই দলই তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল।

বোস্টন স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের জন্য একটি হতাশাজনক সন্ধ্যা কাটল, যার শেষ হলো এক পয়েন্ট পাওয়ার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে ঘানা রক্ষণভাগের অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে তাদের কাজ বেশ ভালোভাবে শেষ করেছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে গোলপোস্ট অক্ষত রেখেছে তারা।

ইংল্যান্ড ম্যাচের শেষের দিকে এসে খেলার গতি বাড়িয়েছিল। তাদের হয়তো মনে হতে পারে যে আর পাঁচ-ছয় মিনিট সময় পেলে তারা জয়সূচক গোলের দেখা পেতে পারতো।

ম্যাচের এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে সাকার একটি জোরালো শট গোলরক্ষক আসারে চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। ও’রেইলির হেড বারের নিচের অংশে লেগে ফিরে আসে, ফিরতি বলে কেইনের নেওয়া শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। গেহির একটি হেডার গোললাইনের ঠিক নিচ থেকে ক্লিয়ার করা হয়।

টমাস টুখেল ও থ্রি লায়ন ভক্তদের জন্য এটি ছিল একটি কঠিন ম্যাচ। তবে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানো ইংল্যান্ড এখনো ‘গ্রুপ এল’-এর শীর্ষেই রয়েছে এবং গ্রুপের শেষ ম্যাচে পানামাকে হারাতে পারলে তারা শীর্ষস্থান ধরে রেখেই পরের রাউন্ডে যাবে। পানামার বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা ঘানাও তাদের সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২ এর লড়াইয়ে টিকে আছে।

ঘানার চমৎকার রক্ষণভাগের কারণে ম্যাচ গোলশূন্য থাকায় প্রথমার্ধের বিরতিতে ইংল্যান্ডকে হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। প্রথমার্ধ শেষে কোনো দলই লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি, চলতি বিশ্বকাপে এই ম্যাচে প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটল। ৮০ শতাংশ বল ইংল্যান্ডের দখলে ছিল, এমনকি প্রতিপক্ষের অর্ধে তারা ৬টি শট নিলেও তা লক্ষ্য বরাবর ছিল না। সব মিলিয়ে ১৯ শটের মধ্যে চারটি ছিল লক্ষ্যে, যার সবগুলোই দ্বিতীয়ার্ধে।

দ্বিতীয়ার্ধের মতো প্রথম অর্ধে ব্ল্যাক স্টাররাও বেশ রক্ষণাত্মক খেলেছে। চারজনের দুটি লাইনের মাঝে থমাস পার্টেকে রেখে তারা ডিফেন্স সামলেছে। যদিও রাইসের দূর থেকে নেওয়া একটি জোরালো শট পোস্টের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়।

মাদুয়েকের ক্রস থেকে হেডে বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রাইস। পরে হ্যারি কেইনের একটি শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। তবুও তারা ঘানার গোলরক্ষককে তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। এমনকি তারা ঘানার এই সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করে ভেতরেও ঢুকতে পারেনি।

প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ইংল্যান্ডের হতাশা মাঠে ক্ষোভ হিসেবে প্রকাশ পায়। নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা বেলিংহাম বল ক্লিয়ার করার সময় ঘানার ডিফেন্ডার ওপোকুকে ধাক্কা দিলে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরে তাদের আলাদা করা হয়।

ম্যাচ শেষে বেশ কিছু অবাঞ্ছিত রেকর্ড ইংল্যান্ডের সঙ্গী হয়েছে। বিশ্বকাপে এনিয়ে ২৩ ম্যাচ ড্র করল তারা, যার মধ্যে ১৩টি গোলশূন্য। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে যে কোনো দলের জন্য দুটোই সর্বোচ্চ।

এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বল দখল পজেশন ছিল ৭৮.৮ শতাংশ; বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে এটিই তাদের সর্বোচ্চ বল দখলের রেকর্ড। একই সাথে ফুটবলে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়া যেকোনো দলের মধ্যেও এটিই সর্বোচ্চ বল দখলের নজির।

এছাড়া বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে গেহির করা ১২৬টি সফল পাস এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ পাস। পুরো ম্যাচে তাকে সাতবার ফাউল করা হয়েছে; বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কোনো ডিফেন্ডার একটি ম্যাচে এত বেশি ফ্রি-কিক আদায় করতে পারেননি।