খুঁজুন
, ,

আয়োজনে নেই তোড়জোড়, ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 30 August, 2020, 7:03 pm
আয়োজনে নেই তোড়জোড়, ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়া

পূজন সেন, বোয়ালখালী : হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর শুভ মহালয়া। এদিন ঢাকের বাদ্যে, শঙ্খ-উলু ধ্বনির মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আবাহন জানানো হয়। ওইসময় মণ্ডপগুলোর প্রতিমাতে শিল্পীর তুলিতে ফুটে ওঠে ত্রিনয়ন। সূচনা ঘটে দেবী পক্ষের।

এবার মণ্ডপগুলোতে নেই আয়োজনের তোড়জোর।করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় এবার পূজামণ্ডপগুলোতে থাকছে বাড়তি ব্যবস্থা। থাকবে কড়া নিরাপত্তা আর হবে সীমিত পরিসরে শাস্ত্রানুসারে পূজার আয়োজন।

প্রতিবছর মহালয়া উদযাপনের মধ্যে দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা ঘটলেও এ বছর পঞ্জিকানুসারে আশ্বিনমাস মলমাস হওয়ায় কার্তিক মাসে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা।

গেল অন্যান্য বছর ভাদ্রের এই সময়ে প্রতিমা তৈরি ও মণ্ডপ সাজসজ্জার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেলেও এবার তেমন একটা উৎসাহ উদ্দীপনা নেই আয়োজকদের মাঝে। প্রায় মণ্ডপে শুরুই হয়নি প্রতিমা তৈরির কাজ।

প্রতিবছর মহালয়ায় দুর্গাপূজার উৎপত্তিস্থল চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর উপজেলার কড়লডেঙ্গার সন্ন্যাসী পাহাড় চূড়ায় মেধস মুনির আশ্রমে পূণ্যার্থী, পূজার্থী ও ভক্ত- দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে।

তবে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি থাকলেও আগের মতো জনসমাগম না হওয়ার সম্ভাবনায় বেশি বলে জানিয়েছেন মেধসাশ্রমের অধ্যক্ষ বুলবুলানন্দ মহারাজ।

তিনি বলেন, প্রতিবছর ব্যাপক আয়োজনের মধ্যদিয়ে মহালয়া উদযাপিত হয়ে আসছে মেধসাশ্রমে। এবার এতে কিছুটা ভাটা পড়েছে করোনাকালের কারণে। এরপরও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলবে এ সংকট থেকে মুক্তির জন্য মায়ের আরাধনা।

এ বছর পঞ্জিকানুসারে মহালয়ার একমাস পর আগামী ২১ অক্টোবর পঞ্চমী তিথি শেষে ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় ষষ্ঠী তিথিতে হবে দেবীর বোধন। দেবী দুর্গা এবার আসছেন দোলায়। ২৩ অক্টোবর সপ্তমী, ২৪ অক্টোবর মহাঅষ্টমী ও ২৫ অক্টোবর মহানবমী এবং ২৬ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। দেবীর গজে গমন। শাস্ত্র মতে- ‘গজে চ জলদা দেবী শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা’।

জানা গেছে, গত বছর চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় ১ হাজার ৮৭৪টি মণ্ডপে এবং মহানগরের ১৬টি থানায় ২৭০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছিল।

জেলার বোয়ালখালীতে এবার ৮৩টি সার্বজনীন ও ২৭টি ব্যক্তিগত পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পূজা উদযাপন পরিষদ বোয়ালখালী শাখার সভাপতি শ্যামল বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ব্যাপক কোনো আয়োজন এবার থাকছে না। শাস্ত্রানুসারে মায়ের পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

দর্শনার্থীদের সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পূজার মূল আয়োজন ব্যতীত জনসমাগম হয় এমন কোনো বাড়তি আয়োজন করা হচ্ছে না। সাত্ত্বিক আয়োজনের মধ্যে দিয়েই বৈশ্বিক মহামারী থেকে মুক্তির জন্য মাতৃ আরাধনা করা হবে।

মৃৎশিল্পী বাসুদেব পাল মুঠোফোনে জানান, প্রতি বছর যেইসব মণ্ডপে প্রতিমা গড়ে আসছি, সেইসব মণ্ডপ থেকে এখনো পর্যন্ত তাগাদা পায়নি। হয়তো আয়োজক কমিটির লোকজন এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তবে হাতে আরো প্রায় দুইমাস সময় রয়েছে। যেহেতু এবার দুর্গাপূজা কার্তিক মাসের ৪ তারিখ শুরু হবে।

পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার জানান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ২৬ দফা নির্দেশনার মধ্যে প্রতিমা তৈরি থেকে পূজা শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভক্ত-পূজারি ও দর্শনার্থীদের জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা, সকলে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরা, দর্শনার্থীদের মধ্যে ন্যূনতম তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, পূজামণ্ডপে নারী-পুরুষের যাতায়াতের আলাদা ব্যবস্থা করা, পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা রাখা, নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক রাখা, প্রতিমা নিরঞ্জনে শোভাযাত্রা পরিহার করার কথা বলা হয়েছে। এসব নির্দেশনা মেনে পূজার আয়োজন চলছে।

তিনি বলেন, কর্ণফুলী উপজেলা ছাড়া মহানগরের ২৫৭টি পূজামণ্ডপের তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া করোনাকালে দুর্গাপূজার আয়োজন শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে মন্দির প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 2:50 pm
৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 1:06 pm
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) সকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যকালে তার বয়েস হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 12:56 pm
যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানির সংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিস্তা অববাহিকার অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা নদীটির পানি প্রবাহের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে তীব্র নদীভাঙনের ফলে এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিবছর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের এই দীর্ঘদিনের হাহাকার ও দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটাতেই সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এর আগে, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে এ অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।