নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে পদ্মা অয়েলের ১১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্থায়ীকরণ আটকে আছে বছরের পর বছর
নুর মোহাম্মদ রানা: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম প্রতিষ্ঠানের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানীতে চাকুরী ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন ১১৭ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। অভিযোগ উঠেছে মোটা অংকের নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের পর থেকে বছরের পর বছর চলে গেলেও তাদের স্থায়ী করণ করা হচ্ছে না।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারী এ প্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়ম অব্যবস্থাপনা চলে আসছে। পদ্মা ওয়েল কোম্পানীতে কর্মরত অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী চুক্তি ভিত্তিক ক্যাজুয়েল থেকে স্থায়ীকরণ করা হয়। ইতিপূর্বে চুক্তি ভিত্তিক কর্মচারী ও কর্মকর্তা থেকে অনেকেই স্থায়ীকরণ করা হয়েছে। যাদের অধিকাংশই বিভিন্ন সিন্ডিকেট, নিয়োগ বাণিজ্য, কেউবা সচিবের ছেলে কেউবা সচিবের ভাগিনা কেউবা সচিবের
সুপারিশে কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে স্থায়ীকরণ করা হয়। যাদেরকে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে স্থায়ী করণ করা হয়নি এমন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা ১১৭ জন। যারা নূন্যতম কমপক্ষে ৫ থেকে ২০বছর পর্যন্ত অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত আছেন।
প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চ শিক্ষিত অস্থায়ী কর্মকর্তাদের বেতন কাটামো কম শিক্ষিত স্থায়ী কর্মচারীদের বেশি।
অস্থায়ী কর্মকর্তারা বেতন ভাতা বাবদ পাচ্ছেন ২৫০০০/- টাকা, আর কর্মচারীরা পাচ্ছেন ১০-১২ হাজার টাকা। ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যাদেরকে অস্থায়ী চুক্তি ভিত্তিক থেকে স্থায়ীকরণ করা হয়েছে তার হলেন, মো: শাহজাহান (সিকিউরিটি অফিসার), মো: আমিনুর রহমান (কর্মকর্তা), নাজমুল অয়ন খান (জুনিয়র কর্মকর্তা), জানাথন বাড়ে (প্রকৌশলী কর্মকর্তা), শাকিল মাসুদ (সহকারী ব্যবস্থাপক, প্রকৌশলী) রাহাত হোসেন জনি (জুনিয়র কর্মকর্তা), কফিল সাত্তার (সহকারী ব্যবস্থাপক), ইঞ্জিনিয়ার ভজেন্দ্রনাথ কে (সহকারী ব্যবস্থাপক) নিয়োগ প্রদান করা হয়।
বর্তমানে তাদের মধ্যে অনেকেই পদন্নোতি পেয়ে সিনিয়র অফিসার; সহকারী ব্যবস্থাপক উপ-সহকারী ব্যবস্থাপক হিসাবে চাকুরীরত আছেন। বাকি ২৮ জন কর্মকর্তা ও ৮৯ জন কর্মচারীকে স্থায়ীকরণ করা হচ্ছে রহস্যজনক কারণে। তারা কোম্পানীর ৫% লভ্যাংশ, চিকিৎসা ভাতা, ছুটিসহ সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। যেখানে কোম্পানীর একজন স্থায়ী শ্রমিক, স্টাফ ও ড্রাইভার এর বেতন ভাতা সহ মাসিক ৫০০০০/-(পঁঞ্চাশ হাজার) থেকে ৭০০০০/- (সত্তোর হাজার) টাকা পায়। সেখানে একজন অস্থায়ী শ্রমিক খাটছে ১০/১২ হাজার টাকা। আর যেখানে একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা ২৫০০০ অথবা ২৮০০০/-টাকা হাজার টাকা পাচ্ছে তাদের যোগ্যতা এম.এ/এম.এস.সি/এম.কম/এম.বি.এ/বি.এ.জি, সেখানে একজন স্থায়ী কর্মকর্তা পাচ্ছেন বেতন ভাতা ও মেডিকেল ভাতা, উৎসব ভাতা ও লভ্যাংশ সহ গড়ে ৭৫০০০./- থেকে ৮৫০০০/- হাজার টাকা।
উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সালে ১৮ জনকে এবং ২০১২ সালে ৮৮ জন কর্মচারীকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে স্থায়ীকরণ করা হয়। কোম্পানীর কিছু অসৎ কর্মকর্তা নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে সরাসরি জড়িত। ২০১৯ সালে লোক দেখানে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বাহির থেকে ড্রাইভার পদে স্থায়ী ভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ ১৮ হতে ২০ বছর কর্মরত ড্রাইভারদেরকে স্থায়ীকরণ করা হয়নি। কারণ তাদের পক্ষে মোট অংকের টাকা প্রদান করা সম্ভব ছিল না। এই কারনে আজ পর্যন্ত কোম্পানীর ভিতরে ক্ষোভ বিরাজমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায় কোম্পানীর একাধিক ম্যানেজার ও এ.জি.এম দুর্নীতির সাথে সরাসরি জড়িত থাকার পরও তাদেরকে বড় বড় তেলের ডিপুর দ্বায়িত্ব ও প্রকল্প পরিচালক হিসাবে পদন্নোতি দিয়েছে। এতে করে কোম্পানীর আর্থিক ভাবে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তেমনি ভাবে বাংলাদেশের বৃহৎ তেল কোম্পানীর সম্মান ক্ষুণ্য হচ্ছে। এছাড়া চাকুরী স্থায়ীকরণ না হওয়া বেতন ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রেও বৈষ্যমের শিকার হচ্ছে ১১৭ কর্মচারী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চুক্তিভিত্তিক পদায়িত কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, আগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমাদের নিয়োগ দিয়েছেন। পদ্মা অয়েলে প্রায় সকলেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে পরে স্থায়ী হয়েছেন। বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে শতাধিক পদ খালি রয়েছে। আগে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থায়ী না করে এখন নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ।
পদ্মার বর্তমান ম্যানেজমেন্ট অস্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে স্থায়ীকরন না করে, পত্রিকায় নামকাওয়াস্তে বিজ্ঞাপন দিয়ে বাইর থেকে নিয়োগ বানিজ্যের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।যার সমস্ত আয়োজন ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমান এমডি কোন ভাবেই, অস্থায়ীদেরকে স্থায়ীকরনে ইচ্ছুক নন বলে জানান সমীর, জান্নাত, ডা. সফিক, মফিজুল ও নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী।
এ ব্যাপারে এ ব্যাপারে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুর রহমান ২৪ঘণ্টা.নিউজকে কে বলেন, এটি একটি রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান এখানে নিয়মের বাইরে কাউকে নিয়োগ ও স্থায়ী করা সম্ভব নয়। বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তাদের ওই নিয়োগে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। যখন আমাদের লোক প্রয়োজন হবে তখন যথা নিয়মে আমরা লোক নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
২৪ঘণ্টা/এন এম রানা


আপনার মতামত লিখুন