প্রাত:ভ্রমণকারীরা প্রতি শুক্রবার সকালে বিণামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পাবেন-সুজন
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, নগরবাসীদের স্বাস্থ্য সচেতন করতে নিয়মিত হেলথ চেক আপ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। প্রতি শুক্রবার সকালে ডিসি হিলে যারা প্রাত:ভ্রমণ করতে আসেন সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে তাদের রক্তের শর্করার পরিমান,রক্তচাপ চেক আপসহ ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া এবং করোনা সম্পর্কে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হবে। এছাড়া নগরীর প্রত্যেক ওয়ার্ডে বিনামূল্যে এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হবে।
তিনি আজ সকালে নগরীর ডিসি হিলে বিনামূল্যে এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে একথা বলেন।
প্রশাসক ডিসি হিলের আশেপাশে ঘুরে দেখেন এবং প্রাতঃভ্রমণে আসা নগরবাসীর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ আলোচনা করেন এবং তাঁদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই ডিসি হিলের ওয়ার্কওয়েটি সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এম.পি, দৃষ্টি নন্দনভাবে সাজিয়েছেন। এর পরিবেশ রক্ষায় আপনাদেরকেও উদ্যোগী ভুমিকা রাখতে হবে। কারণ এটি আপনারাই ব্যবহার করছেন। আমি লক্ষ্য করেছি এখানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাদাম, চটপটিওয়ালা তাদের ব্যবহৃত বিভন্ন ময়লা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছে- যা কাম্য নয়। আপনারা ডিসি হিলের পরিবেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে সকলকে উৎসাহিত করবেন। চসিক সপ্তাহে ২দিন এর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
এসময় প্রশাসক ডিসি হিলের অবস্থিত বসার স্থানগুলোতে জমে শ্যাওলাগুলো অতি শিঘ্রই পরিস্কার করার জন্য পরিচ্ছন্ন বিভাগকে নির্দেশনা দেন।
এই সময় উপস্থিত চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, বিশিষ্ঠ রাজননৈতিক নেতা জামশেদ আলম চৌধুরী, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ, নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব কন্তি দাশ, ডা. তপন কুমার চক্রবর্তী, ডা. জুয়েল মহাজন, ডা. মোহাম্মদ ইস্কান্দর আলী, ডা. মোহাম্মদ আবিন ইবনে তাহের, ডা. সুদীপ কুমার চৌধুরী, ডা. মো. ওমর আলী, মো. শাহদে আলী চৌধূরীসহ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় প্রাত:ভ্রমনে আসা নাগরিকগণ এমন উদ্যোগের জন্য প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান জানিয়ে বলেন, এর আগে এমন একটা বিষয় নিয়ে এভাবে কেউ ভাবেনি। এটি একটি ইউনিক চিন্তাভাবনা ও সময়োপযুগী। এরকম উদ্যেগের ফলে নগরসেবায় পরিবর্তন আসবে বলে তারা মনে করেন।

বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি কার্যকর উদ্যোগ-সুজন
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গাছপালার ভূমিকা অপরিসীম। গাছপালা ও বনভূমি যেমনিভাবে আমাদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করে ঠিক তেমনিভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকেও পরিবেশকে রক্ষা করে।
আজ বিকেলে কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধনকালে প্রশাসক এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, দেশের বনজ সম্পদ বৃদ্ধি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীকে বিশেষ অর্থবহ করে তুলতে সকলকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করাই এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের আয়তনের এক-চতুর্থাংশ বনাঞ্চল থাকা জরুরি। আমাদের রয়েছে মাত্র ১২-১৫ শতাংশ বনভূমি। বর্তমান বাস্তবতায় এর পরিমাণও কমছে। এ কারণে নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয় আমাদের নিত্যসঙ্গী। এখনই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ভাবা দরকার। তা না হলে দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যেতে পারে, যা আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য বিশাল হুমকিস্বরূপ। মুজিব শতবর্ষকে সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচীর ধারাবাহিকতায় তিলোত্তমা চট্টগ্রাম ও পরিবেশ রক্ষায় চসিকের ৫ লাখ বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সামাজিক সংগঠন “তিলোত্তমা”কে ইতোমধ্যে চসিকের পক্ষ থেকে ১০ হাজার বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ওষুধী চারাগাছ রোপনের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
তিনি তিলোত্তমার সাথে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, নগরীর যেখানে খোলা, পরিত্যক্ত বা গাছ লাগানোর উপযোগী জায়গা রয়েছে সেখানেই আপনারা গাছ লাগান। এতে যে কোন প্রকার সহযোগিতার জন্য আমি প্রস্তুত।
তিনি আরো বলেন, পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, এদেশের ভারি জনসংখ্যার তুলনায় বনভূমি খুবই কম। তাই দিন দিন কমে যাচ্ছে বনভূমির আয়তন। নগরায়ন ও শহরায়নের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলেও ধ্বংস হচ্ছে বনভূমি। বিলুপ্ত হচ্ছে জীবজন্ত ও বন্যপ্রাণী। এতে হুমকির মুখে পড়ছে দেশ ও দেশের মানুষ। তাই এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি কার্যকর উদ্যোগ।
এসময় চসিকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ.কে.এম রেজাউল করিম, স্কুল ও কলেজ দাতা সদস্য সুলতানুল আবেদীন চৌধুরী, নওশাদ চৌধুরী বাবলা, আলী ইস্কান্দর, তিলোত্তমার স্বাত্বাধিকারী সাহেলা আবেদীন, উপদেষ্টা আবু সাঈদ সেলিম, মো. হারুন বোরহান, শুভা নাজ জিনিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী,কৃষি অধিদপ্তরের সুবাস দত্ত, লায়ন হুমায়ুন কবির, কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবুল কাশেম, সহকারী প্রধান শিক্ষক আশিষ বরণ সরকার, প্রভাষক শিপল দত্ত, শিক্ষক ওসমানগণি, বিশ্বজিত পারিয়াল, মিসেস নীলিমা দেব রায় উপস্থিত ছিলেন।
২৪ ঘণ্টা/খালেক


আপনার মতামত লিখুন