খুঁজুন
সোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘে ৪ দফা প্রস্তাব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৮:১৮ পূর্বাহ্ণ
রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘে ৪ দফা প্রস্তাব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

.jpg

প্রলম্বিত রোহিঙ্গা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি এই বিষয়ে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে ৪ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।

২৭ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে তিনি প্রস্তাবগুলো তুলে ধরবেন বিশ্বনেতাদের সামনে।
৪ দফা প্রস্তাব—
১. রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবর্তন বিষয়ে মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের রাজনৈতিক ইচ্ছে সুস্পষ্ট করতে হবে। এজন্য রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কী করছে সেটাও সুস্পষ্টভাবে বলতে হবে।
২. বৈষম্যমূলক আইন ও চর্চা পরিত্যাগ করতে হবে এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উত্তর রাখাইন রাজ্যে ‘যাও এবং দেখ’ এই নীতিতে পরিদর্শনের অনুমতি দিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে।
৩. রাখাইন রাজ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেসামরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েন করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই রোহিঙ্গাসহ সবার নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।
৪. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্য নিশ্চিত করতে হবে, রোহিঙ্গা সঙ্কটের মূল কারণ এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতা দূর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের একটি অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা প্রদান করেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এবং ওআইসি সেক্রেটারিয়েটের উদ্যোগে যৌথভাবে জাতিসংঘ সদর দফতরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনেও রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসরনে ৫ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, সেই প্রস্তাবে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ সমূহের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন সহ রাখাইন রাজ্যে একটি বেসামরিক নিরাপদ পর্যবেক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও ছিল।

প্রধানমন্ত্রী পুনর্বক্ত করেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট একটি রাজনৈতিক সমস্যা। এর মূল মিয়ানমারে গভীর প্রথিত। সুতরাং এ সঙ্কটের সমাধান মিয়ানমারের ভেতরেই খুঁজে পেতে হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড.মাহাথির মোহাম্মদ, ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসেফ বিন আহমেদ আল-ওথাইমেন এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইব্রাহিম বিন আবদুল আজিজ আল আসাফ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেন, নেদারল্যান্ড, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, সার্বিয়া, ফিলিপাইন এবং গাম্বিয়ার মন্ত্রী এবং প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তা এবং অন্যান্য সহযোগিতা রোহিঙ্গাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনগুলো সমাধান করে। তবে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে এর স্থায়ী সমাধান বের করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘রোহিঙ্গাদের অবশ্যই তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে হবে, যেখানে তারা শতাব্দীর পর শতাব্দী বসবাস করেছিল, ’বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক, রোহিঙ্গা সমস্যার কোনরকম সমাধান ছাড়াই আমরা আরও একটি বছর পার করে দিয়েছি। মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন রাজ্যে নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী রোহিঙ্গারা নৃশংস অপরাধের শিকার হচ্ছে।

তিনি বলেন, টেকসই, নিরাপদ এবং স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার জন্য রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহির বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চলমান কার্যক্রম অনুসরণ করছে। আমরা বিশ্বাস করি, ওআইসি তার জবাবদিহি সম্পর্কিত অ্যাডহক মন্ত্রিপরিষদ কমিটির মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা পূরণেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশ এ বছরের ৩১ মে (শুক্রবার) মক্কা আল মুকাররমায় অনুষ্ঠিত ১৪তম ওআইসি সম্মেলনের যৌথ ঘোষণার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, ‘গাম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক মন্ত্রিপরিষদ কমিটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ওআইসির পক্ষে মামলা করার তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেবে।’
আমরা বিশ্বাস করি ওআইসির যৌথ ঘোষণা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের এটাই সময়, ’বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, জোরপূর্বক নির্বাসিত ১১ লাখ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা আমাদের সীমান্ত খুলে দিয়েছিলাম, যা ইসলামের নৈতিক শিক্ষা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের মৌলিক প্রয়োজনগুলো মেটাতে এবং তাদের দেশে ফেরত না যাওয়া অবদি সম্ভব সকল ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা ৬ হাজার ৮ ’শ একরের বেশি বনভূমিতে আশ্রয় নিয়েছে, যাতে বাস্তুসংস্থান ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আশ্রয়, খাদ্য, স্বাস্থ্য সেবা, পানি, স্যানিটেশনসহ রোহিঙ্গাদের সবধরনের মানবিক সহায়তা দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় সাধনে বিপুল সংখ্যক বেসরকারি খাতের জনবলকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সড়ক-বিদ্যুৎ সরবরাহসহ নতুন ও অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে ২১৯টি মেডিকেল সুবিধা স্থাপন করা রয়েছে। যার মধ্যে ৫০টি সরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের প্রত্যক্ষ সহায়তার জন্য সরকারের কোষাগার থেকে প্রায় ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অন্যান্য ব্যবস্থার মধ্যে সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ পর্যন্ত সরকারি তালিকাভুক্ত ৩৯ হাজার ৮৪১ জন রোহিঙ্গা এতিম শিশুর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। এছাড়া তিনি তার বিশেষ ত্রাণ তহবিল থেকে রোহিঙ্গা ত্রাণ শিবির স্থাপন করা কক্সবাজারের স্থানীয় জনসাধারণের জন্য আড়াই মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ সাহায্য প্রদান করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অধিক ঘনবসতির সমস্যা সমাধান এবং মানবিক সেবার সুবিধার্থে সুরক্ষার সমস্ত বিধান রেখে রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা ভাসানচরের উন্নয়ন করেছি।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে উন্নত আবাসন এবং জীবিকার সুযোগও থাকবে।

উচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠকে ওআইসির মহাসচিবসহ ইসলামী বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, বেলজিয়াম, সুইডেন, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধীরাও উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ন্যাশনাল অ্যাডভাইজারি কাউন্সিল অব নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম অব বাংলাদেশের চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Feb2

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এই সরকারের আমলে চুক্তি হচ্ছে না: আশিক চৌধুরী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এই সরকারের আমলে চুক্তি হচ্ছে না: আশিক চৌধুরী

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনএমসিটি) প্রকল্পের বিষয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ড খসড়া কনসেশন চুক্তি (ড্রাফট কনসেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) পর্যালোচনার জন্য আরও সময় চেয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়সূচিতে হাতে রয়েছে মাত্র দুই কার্যদিবস। এ অবস্থায় আলোচনাটি আসন্ন নির্বাচন পেরিয়ে পরবর্তী সরকারের সময়েও চলতে পারে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, চলমান আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বৈশ্বিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড। প্রতিষ্ঠানটি আলোচনার বর্তমান ধারাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। অংশীদারিত্ব সঠিক পথেই এগোবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

আশিক মাহমুদ বলেন, এনএমসিটি প্রকল্পটি সরকার টু সরকার (জিটুজি) কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা দুই দেশের সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে উদ্ভূত। এই প্রকল্পভিত্তিক অংশীদারিত্বে প্রধান সংশ্লিষ্ট সংস্থা হলো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) ও ডিপি ওয়ার্ল্ড।

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ আলোচনাকে সহজ ও কার্যকর করতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নয়— এ কথা উল্লেখ করে আশিক চৌধুরী বলেন, চুক্তি সম্পাদনকারী কর্তৃপক্ষকে পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করাই তাদের ভূমিকা।

তিনি আরও জানান, ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এনএমসিটি প্রকল্পটি গত এক মাসে আলোচনার একটি চূড়ান্ত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করেছে। সরকারের বিভিন্ন স্তরে বর্তমানে এসব আলোচনা চলমান রয়েছে, যাতে সফলভাবে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করা যায়।

আশিক চৌধুরী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের বন্দর সক্ষমতা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, বন্দর উন্নয়নের মতো জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করা হয়, যা দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।

আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ অগ্রগতি দেখা যাবে— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সরকারগুলো বিদ্যমান প্রকল্প পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে তিনি আশাবাদী।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

নিজের বিরুদ্ধে ডাকা বিক্ষোভে হাজির খোদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
নিজের বিরুদ্ধে ডাকা বিক্ষোভে হাজির খোদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজধানীতে নিজের বিরুদ্ধে ডাকা এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এমন ঘটনার সাক্ষী হয় উপস্থিত জনতা ও সংবাদকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেফাজতে ইসলামের সাবেক মহাসচিব ও আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মিথ্যাচার ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। বাদ আসর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী স্মৃতি সংসদ কর্তৃক আয়োজিত এই বিক্ষোভ শুরু হয়। যখন সবাই স্লোগানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই সেখানে হাজির হন নাসীরুদ্দীন নিজেই।

পরে তিনি উপস্থিত সবার কাছে নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে সমাবেশস্থলের সামনেই তাকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। সেখানে তাকে বক্তব্য দিতেও দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ একে নাসীরুদ্দীনের ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্ট’ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে তার এই সাহস ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।

যদিও পরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফেসবুকে নিজের আইডিতে এক পোস্টে লেখেন, ‘‘আমার কথায় বা আচরণে যারা মনঃকষ্ট পেয়ে থাকেন, তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ করছি।’’

ভোট ঘিরে চট্টগ্রামে নিরপেক্ষতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
ভোট ঘিরে চট্টগ্রামে নিরপেক্ষতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, দায়িত্ব শতভাগ নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করে রাষ্ট্রকে একটি ফ্রি, ফেয়ার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে।

আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।

অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, অতীতে মানুষ সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশিত নির্বাচন দিতে না পারার অভিযোগ উঠেছে। তবে এবার সেই আস্থার সংকট দূর করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা পক্ষপাতদুষ্ট—এমন অভিযোগে তারা বারবার আহত হয়েছেন। এবার মাঠপর্যায়ে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চান যে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটির আলোকে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই এই নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা হবে।

বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেগুলো দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ব যেভাবে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে, সেখানে দেশের ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।প্রত্যেকটি এলাকা ঘুরে মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। মাঠে থাকা কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রেখে ভয় ও আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কর্মকর্তারা একটি প্রিভিলেজড অবস্থানে রয়েছেন। অতীতে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও এখন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তাঁদের সামনে এসেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা অংশ নিয়েছেন—কেউ জয়ী হবেন, কেউ পরাজিত হবেন। তবে প্রশাসনের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি বা দল নয়; লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও জনগণের জয় নিশ্চিত করা।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক নির্বাচন হিসেবে দেখলে চলবে না। পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এত আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

নাগরিকদের প্রতি শতভাগ দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত। যে কোনো কেন্দ্রে কোনো ঘটনা ঘটলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জেলার বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

শেষে তিনি বলেন, প্রশাসনের লক্ষ্য একটি উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রহণযোগ্য ভোট আয়োজন করা। মানুষের আস্থা ফিরে আসছে, যা সবার সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল। স্বল্প সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে জাতিকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভা শুরুর পরেই জেলা প্রশাসক আগত সকল প্রতিনিধির নিকট থেকে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হওয়া হন। পরবর্তীতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন তিনি।

মতবিনিময়ের শুরুতেই তিনি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিকট জানতে চান—নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে কিনা এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে কিনা সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র কী।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামিম, এনএসআইয়ের উপ-পরিচালক মো. সফিকুর রহমানসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।