রাউজানে শিশু ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত বৃদ্ধ কারাগারে
রাউজান প্রতিনিধি :চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের আবুরখীলের নন্দনকানন এলাকায় তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত সাধন বড়ুয়াকে (৭৫) কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
গত সোমবার র্যাব-৭ হাটহাজারীর একটি টিম সাধন বড়ুয়াকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার দুপুরে রাউজান থানায় সোপর্দ করলে রাউজান থানা পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এর পূর্বে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শিশুটির বাবা বাদি হয়ে রাউজান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।মামলা নং ০৭, ৫.১০.২০২০।
উল্লেখ্য গত শনিবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ১২ নং উরকিরচর ইউনিয়নের আবুরখীলের নন্দনকানন গ্রামের যামিনী বড়ুয়ার পুত্র সাধন বড়ুয়া তার প্রতিবেশী তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া এক শিশুকে ফুঁসলিয়ে ও লোভ লালসা দেখিয়ে তার বসতঘরের দক্ষিণ পার্শ্বে পুকুরপাড়ের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষন করে শিশুটির হাতে ৫০০ টাকার নোট ধরিয়ে দেয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
ধর্ষিতার পিতা, রাঙ্গামাটি পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের ভেদভেদী এলাকার মৃত রুহিনী বড়ুয়ার পুত্র সুকুমার বড়ুয়া বলেন, ৮ বছর পূর্বে আমার স্ত্রী মারা যায়। এ সময় আমাদের দুই সন্তান ছোট থাকায় তাদের দেখভাল ও পড়াশোনার কথা ভেবে তাদেরকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের আবুরখীলের নন্দনকানন এলাকায় আমার ছোট বোন প্রতীমা বড়ুয়ার শ্বশুরবাড়ীতে রেখে আসি। দুই ভাই- বোন ফুফুর তত্ত্বাবধানে বেড়ে উঠছিল। গত ৩ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে আমার বোনের শ্বশুরবাড়ীর সাধন বড়ুয়া (৬৫) ফুসলিয়ে আমার তৃতীয় শ্রেণী পড়ুয়া শিশু কন্যাকে তার বসতঘরের দক্ষিণ পাশে পুকুর পাড়ের খালি ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে তার হাতে পাঁচশত টাকার একটি নোট ধরিয়ে দেয়।
পরে আমার মেয়ে ফুফুর ঘরে আসলে তার হাতে টাকার নোট দেখে সেটি কে দিয়েছে জানতে চাইলে আমার মেয়ে তার ফুফুকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। তাৎক্ষনিক আমার ছোট বোন মোবাইলে বিষয়টি আমাকে জানালে আমি চট্টগ্রাম শহরে নিজের গ্রীল ওয়ার্কসপে কাজের ব্যস্ত থাকায় পরদিন সকালে বোনের শ্বশুরবাড়িতে ছুটে যাই। এ সময় আমি আমার মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে সে ঘটনার বিস্তারিত আমাকে খুলে বলে। পরে আমার বোন আর আমি মেয়েকে নিয়ে রাউজান থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করি। আমি চাই, যে নরপশু আমার মাতৃহারা শিশুকে ধর্ষণ করেছে তার যেন বিচার হয়।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, মামলা দায়ের হওয়ার পর মঙ্গলবার আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। র্যাব অভিযুক্ত সাধন বড়ুয়াকে গ্রেফতারের পর রাউজান থানায় সোপর্দ করেছে। তাকে কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
২৪ঘণ্টা /এন এম রানা /নিজাম


আপনার মতামত লিখুন