খুঁজুন
রবিবার, ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মরহুম জাকেরিয়া চৌধুরী সমাজ মঙ্গলের বার্তাবাহক: নওফেল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
মরহুম জাকেরিয়া চৌধুরী সমাজ মঙ্গলের বার্তাবাহক: নওফেল

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যরিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি বলেছেন, চট্টগ্রামের প্রগতিশীল ও আওয়ামী ঘরানার বাতি শিখা প্রয়াত নেতাদের জীবনাচরণ না জানলে নতুন প্রজন্ম পরিশুদ্ধ হবে না। আজ যাঁকে আমরা স্মরণ করছি তিনি শুধু একজন রাজনীতিকই নন সমাজ মঙ্গলের বার্তা বাহক। অথচ আজ সমাজ দূষিত, মানবিকতা ভূলণ্ঠিত, এর দায় রাজনীতিকদেরই নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সমাজ মঙ্গলে প্রযুক্তি ও উন্নয়নের চতুর্থ বিপ্লব চলমান, পাশাপাশি করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে সামান্য পরিত্রাণ পেলেও দ্বিতীয় তরঙ্গ আসার শংকা রয়েছে। এ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় কোভিড-১৯ এর থাবা থেকে পূর্ব প্রতিরোধ হিসেবে আগাম সতর্ক থাকাও এক ধাপ এগিয়ে চলা।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মরহুম আলহাজ্ব ডা. এ.এম.এম জাকেরিয়া চৌধুরীর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে আন্দরকিল্লাস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কে.বি.আবদুচ সাত্তার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় ব্যারিস্টার নওফেল প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ডা. এ.এম.এম জাকেরিয়া চৌধুরীর স্মরণসভা পরিষদ এই সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্মরণ সভা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন ও আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. রেজাউল করিম চৌধুরী।

এছাড়া মরহুম জাকেরিয়া চৌধুরীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন- বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্দ ইউনুছ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যাপক মঈনুদ্দিন সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, দপ্তর সম্পাদক হাসান মাহমুদ চৌধুরী সমশের, প্রবীন সাংবাদিক এম. নাসিরুল হক, ডা. সরফরাজ খান চৌধুরী বাবুল, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, মুজিবুল হক সিদ্দিকী বাচ্চু, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইদ্রিস, কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ ফিরোজ, জামালখান ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিরল এড. এম.এ নাসের, সাপ্তাহিক স্লোগান সম্পাদক মোহাম্মদ জহির, জামাল খান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভঅপতি আবুল হাসেম বাবুল, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক মাহিউদ্দিন বাচ্চু, সাবেক ছাত্র নেতা এম.আর আজিম, মোঃ সালাউদ্দিন, নুরুল আনোয়ার, হেলাল উদ্দিন, শওকত হোসেন স্বপন, ওয়াসিম উদ্দিন, ফরহাদুল ইসলাম রিন্টু, আবু মঈন সুমন, মেজবাহ উদ্দিন শিবলী, শেখ নাছির উদ্দিন, নাছির তালুকদার প্রমুখ।

ব্যরিস্টার নওফেল বলেন, রাউজান বিপ্লবীদের পবিত্র জন্মভূমি। এখানে সুর্যসেন জন্মগ্রহন করেছেন। এছাড়াও কুখ্যাত ফজলুল কাদের চৌধুরীও জন্মগ্রহণ করেছেন। ফকা চৌধুরী ও তার পুত্র সাকা চৌধুরী এই বিপ্লব তীর্থ রাউজানকে সন্ত্রাসিদের জনপদে পরিণত করেছিলেন। এর অনেক আগে থেকেই মরহুম জাকেরিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে রাউজানকে ঘিরে একটি গণতান্ত্রিক অসম্প্রদায়িক বলয় তৈরী হয়েছিলো। সেই পথে অনেকেই হেটেছেন। তাদের মধ্যে একজন সাথে ছিলেন মরহুম এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। আমার পিতা মহিউদ্দিন চৌধুরী সবাইকে সাথে নিয়ে এই চট্টগ্রাম নগরীকে সাজিয়ে ছিলেন। তবে তিনি একা নয়, একা মানে বোকা। এ কারণে বলি সকলেল সম্মিলিত সহযোগে এই নগরীর হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা যারা এমপি আছি তাদের প্রত্যক্ষ প্রনোদনায় চট্টগ্রামকে সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহ আন্তরিকতার সাথে একাত্তব হতে হবে। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন যে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তার সফলতায় আমাদের সকলকে আগামী মেয়র নির্বাচনে বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিমকে বিজয়ী করতে হবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেন, আমাদেরকে জাতীয় বীরদের সম্মান জানাতে হবে, তা নাহলে কোন বীর জন্মগ্রহণ করবেন না। আমরা যদি আমাদের সন্তানদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। তারা একদিন জাতীয় বীরে উদ্ভাসিত হবে। মাদক, সন্ত্রাস, ধর্ষনসহ নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আজ যে সামাজিক আন্দোলন চলছে। তার সফলতা নির্বর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে থেকে জনগনের সাথে একাত্ব হওয়ার মাধ্যমে।

আসন্ন চসিক নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ডা. এম জাকারিয়া চৌধুরী মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এখন প্রয়োজন। রাজনৈতিক হতে হলে জনগণের অধিকার আদায়ে জীবন উৎসর্গ করতে হবে। তিনি জাকেরিয়া চৌধুরীর জীবনাচরণ অনুসরনের আহবান জানান।

মরহুম জাকেরিয়া চৌধুরীর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে সকালে খতমে কোরআন, কবর জিয়ারত ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বাদে এশা দোস্ত কলোনী জামে মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।