খুঁজুন
, ,

সাংবাদিকতায় আমরা নিরপেক্ষতা চাই: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 26 October, 2020, 12:02 am
সাংবাদিকতায় আমরা নিরপেক্ষতা চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীতিহীন সাংবাদিকতা কোন দেশের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না উল্লেখ করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, জাতিকে বিভ্রান্ত করতে পারে এমন কোন সংবাদ পরিবেশন করবেন না।

তিনি বলেন, ‘এমন রিপোর্ট করবেন না যেটা মানুষের মধ্যে বা সমাজে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় বা মানুষ বিপথে যায়। সেদিকেও আপনাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী আজ তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি’র (ডিআরইউ) রজত জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে দেয়া প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের বলবো আপনারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে, দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে কাজ করবেন। কারণ, এই রিপোর্টগুলো অনেক সহযোগিতা করে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন পত্রিকায় অনেক সময় অনেক ঘটনা আসে সেসব রিপোর্ট পড়ে সাথে সাথে আমরা অনেক অসহায় মানুষের পাশে যেমন দাঁড়াই, আবার অন্যায় ঘটনা ঘটলে তার প্রতিকারও করতে পারি। অনেক দোষীকে শাস্তি দিতে পারি এবং দিয়ে থাকি। তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক সময় আপনারা অনেক ঝুঁকি নিয়ে রিপোর্ট করেন সেজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

নীতিহীন সাংবাদিকতা পরিহারের জন্য জাতির পিতার এক ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকতায় আমরা নিরপেক্ষতা চাই, বাস্তবমুখিতা চাই এবং দেশ ও জাতির প্রতি কর্তব্যবোধ থেকে যেন এটা হয় সে রকমই আমরা চাই। নীতিহীন সাংবাদিকতা কোন দেশের কল্যাণ আনতে পারেনা। বরং ক্ষতি করে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের দর্পণ। সেই দর্পণ যেটা হবে, সেটা চিন্তা চেতনায় এবং দেশপ্রেমে যেন উদ্বুদ্ধ হয়। তাদের ভেতর মানবতাবোধ যেন থাকে। তাঁরা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে।’

তিনি অতীতের উদাহারণ টেনে বলেন, ‘আমাদের দেশে একটা সময় ছিল- যতই দুর্নীতি হোক, যতই অন্যায় হোক সেগুলোকে ধামাচাপা দেওয়া হোত। আর সমস্যাগুলো-ঐ যে কথায় বলে যে-কার্পেটের তলে লুকিয়ে রাখা। আমাদের সরকারে সময়ে কিন্তু আমরা তা করছি না।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সংস্থাটির রজত জয়ন্তীর মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে সংগঠনটি বর্তমান এবং অতীতের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক সহ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রেস সচিব ইহসানুল করিম হেলাল গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেখানে যা রিপোর্ট হচ্ছে বা আমরা খবর পাচ্ছি, কোথাও কোন দুর্নীতি বা অন্যায় হলে, আমরা কিন্তু এটা চিন্তা করি না- এর পেছনে আমাদের দল জড়িত, এখানে সরকারের বদনাম কিংবা দলের বদনাম হবে। আমরা চিন্তা করি, এখানে অন্যায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে।’

‘তবে, এটা নিতে গেলে হয় এমন-অনেক সময় দোষটা আমাদের ওপর এসে পড়ে। অনেকে বলে আওয়ামী লীগ সরকারই বুঝি দুর্নীতি করছে, ঘটনা তা নয়। কারণ, দুর্নীতির বীজ বপণ করে গেছে ’৭৫ এর পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সরকারগুলো’, বলেন তিনি।

সরকার প্রধান বলেন, ‘প্রথমে জিয়াউর রহমান, এরপর এরশাদ এরপর খালেদা জিয়া। তারা দুর্নীতিকে কেবল প্রশ্রয়ই দেয়নি বরং নিজেরাও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং দুর্নীতিকে লালন-পালনই করে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমরা কিন্তু সেটা করছি না।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যেখানে দুর্নীতি পাচ্ছে, সে দলের যত বড় (নেতা), কর্মী হোক যেই হোক, আমরা কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। হ্যাঁ, তাতে অবশ্য আমাদের বিরোধীদের বলার বা লেখার সুযোগ হচ্ছে যে-আওয়ামী লীগ দুর্নীতি করছে।’
‘কিন্তু এই কথাটা কেউ চিন্তা করছে না, আওয়ামী লীগ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।

তিনি বিএনপি-জামায়াতের সময় দেশকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করার অতীত স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘জঙ্গিরা প্রকাশ্যে এদেশে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছে। সরকারিভাবে তাদেরকে প্রটেকশন দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ পাহারা দিচ্ছে আর বাংলা ভাইরা ট্রাকে করে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছে-সে ঘটনাওতো আপনারা দেখেছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একুশ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পর সেই খুনীদের দেশ থেকে বের হতে দেওয়া হলো। আর কোথা থেকে জজ মিয়া নামে একজন গরীব মানুষকে ধরে এনে নাটক সাজানো হলো। আওয়ামী লীগ কিন্তু তা করে না।’

দ্রুততম সময়ের মধ্যে হলি অর্টিজান বেকারির সন্ত্রাসী হামলার অবসান ঘটানোকে তাঁর সরকারের সাফল্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৪৮ ঘন্টার মধ্যে আমরা এটার সমাধান করেছিলাম। আর এরপরে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।

জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ যদি সাথে না থাকে, পাশে না থাকে তাহলে কোন জায়গাতেই কোন অর্জন করা যায় না। আমরা সেটাই বিশ্বাস করি এবং সেভাবেই কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী নিজেকে সাংবাদিক পরিবারেরই একজন সদস্য উল্লেখ করে বলেন, জাতির পিতা নিজেও তাঁর জীবনে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে সাপ্তাহিক মিল্লাত এবং ইত্তেহাদ পত্রিকায় এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দৈনিক ইত্তেফাকে সাংবাদিকতা করেন এবং নতুন দিন নামে আওয়ামী লীগের জন্য নিজেও একটি পত্রিকা বের করেন।

বঙ্গবন্ধু সাপ্তাহিক বাংলার বাণীও বের করেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘সাংবাদিকতার সঙ্গে তাঁর (বঙ্গবন্ধু) সব সময় একটা সম্পর্ক ছিল। সেদিক থেকে আমি দাবি করতে পারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সন্তান হিসেবে আমি নিজেও সাংবাদিক পরিবারেরই একজন সদস্য।’

‘জাতির পিতার খুনীদের বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে বাংলাদেশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনায় তাঁর সরকারের যে লক্ষ্য ছিল তা বর্তমানে অনেকাংশেই সফল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বললে (বহি:বিশ্বে) মানুষ যেন একটু সম্মানের চোখে দেখে এবং মর্যাদা দেয়। বর্তমানে এইটুকু দাবি আমরা করতে পারি এবং অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সেই অবস্থাটা অর্জন করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আমরা আমাদের দেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারেও নিয়ে এসেছি।’

প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশ পুণর্গঠনকালে জাতির পিতার সংবাদপত্র শিল্পেরও পুণরুজ্জীবনের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, ’৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী বাহিনীর গণহত্যা শুরু হবার পর তারা অনেকগুলো পত্রিকা অফিস পুড়িয়ে দেয় এবং প্রত্যেকটিতে হামলা চালায়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এমন একটা অবস্থা হয় যে এসব পত্রিকা চালানো সংবাদপত্র মালিকদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিকদেরকে সরকারি চাকরি দিয়েছিলেন। সরকারি বেতন সবাই পেতেন। সরকারি চাকরির মর্যাদাটা তিনিই (জাতির পিতা) দিয়েছিলেন।’

প্রপাগান্ডার রাজনীতিতে সেটাকে অন্যভাবে দেখা হয়েছিল উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘সেটাকে অন্যভাবে দেখা হয় যে, উনি সব সংবাদ পত্র বন্ধ করে দিয়েছেন। ঘটনা কিন্তু তা নয়, তখন কারো (সংবাদপত্র মালিক) সাংবাদিকদের বেতন দেওয়ার মত, বা সংবাদপত্র চালানোর আর্থিক সেই ক্ষমতা ছিল না। সেই দায়িত্বটা জাতির পিতাই নিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্য এটা আমার নিজের দেখা যারা সরকারি চাকরি পেয়েছিল তারাই বেশি সমালোচনা করতো।’

জাতির পিতা আমাদের দেশ স্বাধীন হবার ৯ মাসের মধ্যে যে সংবিধান প্রণয়ন করেন, এর ৩৯ অনুচ্ছেদে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন-চিন্তা, বিবেক এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই চিন্তা, বিবেক এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাটা ভোগ করতে গেলে অপরের প্রতি যে দায়িত্ববোধ, দেশের প্রতি যে দায়িত্ববোধ, রাষ্ট্রের প্রতি যে দায়িত্বরোধ সেই দায়িত্বরোধটাও থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সংবাদ শিল্পের উন্নয়নে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ সমূহের উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১৭ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা এবং গণমাধ্যম কর্মীদের চাকরির সুরক্ষায় বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা তাঁর সরকার প্রণয়ন করেছে, যা আগে কখনও ছিল না। তাছাড়া, স্বাধীন সম্প্রচার কমিশনও সরকার গঠন করে দিয়েছে এবং এই সম্প্রচার কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সম্প্রচার আইন প্রণয়নেরও কাজ চলছে। যাতে বাস্তবমুখী কাজ হয় এবং অহেতুক মানুষকে বিভ্রান্ত করে সেই হলুদ সাংবাদিকতাটা যেন না থাকে।

আর অনলাইনেও মানুষের কল্যাণমুখী একটি দৃষ্টি যেন থাকে এবং সেধরনের সাংবাদিকতাই যেন হয়, বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় গণমাধ্যম ইনষ্টিটিউটের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১২ হাজার ২৪১ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং গত ১২ বছরে প্রেস ইনষ্টিটিউটের মাধ্যমে ৩০ হাজারের অধিক সাংবাদিকদেককে প্রশিক্ষণসহ মফস্বল সাংবাদিকদের জন্য দেশের তৃণমুল পর্যায় পর্যন্ত প্রশিক্ষণ কাযক্রমকে সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাটা যেন একটা উচ্চাসন সম্পন্ন হয়, মর্যাদা সম্পন্ন হয় সেজন্যই সরকার এসব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েছে। যাতে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব হয়।‘সেজন্যই সংবাদপকে শিল্প হিসেবেই তাঁর সরকার ঘোষণা করেছে’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

Feb2
Feb2

৬৩ বিদেশির কারো কাছেই পাসপোর্ট পায়নি পুলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 9:13 pm
৬৩ বিদেশির কারো কাছেই পাসপোর্ট পায়নি পুলিশ

নগরের খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকায় অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের কারও কাছে পাসপোর্ট পায়নি পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হলেও পাসপোর্টের কোনো হদিস মেলেনি।

ফলে তারা কোন ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, সে তথ্যও এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী। এছাড়া তাদের সঙ্গে একটি শিশুও ছিল।

তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ পাওয়া গেছে। তবে কারও কাছে কোনো পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি কম্বোডিয়ার চাকরির কার্ড পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে সেখানে অনলাইনে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কাজ করা হচ্ছিল। এর সঙ্গে দেশি-বিদেশি কিছু চক্র জড়িত রয়েছে। তবে প্রতারণার ধরন এখনো বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতারণার ধরন আমরা তদন্ত করছি। আপাতত তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে।

পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির মালিকানাধীন আটতলা ভবনটি মাসে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকায় ভাড়া নেওয়া হয়। সেখানে দেশভেদে আলাদা করে বিদেশি নাগরিকদের রাখা হয়েছিল। তাদের জন্য রান্নার ব্যবস্থাও ছিল। মহসিন নামে এক ব্যক্তির কাছে অধিকাংশ বিদেশির পাসপোর্ট রয়েছে। তিনিই ভবনটি ভাড়া নিয়ে তাদের যাবতীয় বিষয় দেখভাল করতেন। বর্তমানে পুলিশ তাকে খুঁজছে।

কাউন্টার টেরোরিজমের কর্মকর্তাদের ধারণা, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এসব বিদেশিকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে পণ্য দেওয়ার কথা বলে অগ্রিম টাকা নেওয়া কিংবা হানিট্র্যাপের মতো প্রতারণায় দক্ষ হতে পারেন।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আব্দুর রহিম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা কবে এবং কোন ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন, সেটি বের করা হবে। বর্তমানে মামলাটি কাউন্টার টেরোরিজম তদন্ত করছে।

ঘণ্টায় ৫৮ কনটেইনারে ৮২ টিইইউএস হ্যান্ডলিং রেকর্ড আরএসজিটির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 9:08 pm
ঘণ্টায় ৫৮ কনটেইনারে ৮২ টিইইউএস হ্যান্ডলিং রেকর্ড আরএসজিটির

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে আরএসজিটি বাংলাদেশ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৮ কনটেইনারে ৮২ টিইইউএস (২০ ফুট একক) হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড করেছে। এটি দেশে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

আরএসজিটি বাংলাদেশ জানিয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে প্রথমবারের মতো সিএমএ-সিজিএমের ক্রেনবিহীন জাহাজ (গিয়ারলেস ভ্যাসেল) ‘এমভি ওয়ানেন’ (MV WANEN)-এ নতুন যুক্ত হওয়া শিপ-টু-শোর (এসটিএস) গ্যান্ট্রি ক্রেন ব্যবহার করে কনটেইনার ওঠানামার সময় এই উৎপাদনশীলতা অর্জিত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই অর্জন চট্টগ্রাম বন্দরের অতীতের গড় উৎপাদনশীলতার প্রায় দ্বিগুণ।

এর আগে, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারবাহী জাহাজে ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৩০ কনটেইনার বা ৪৮ টিইইউএস ওঠানামা করা হতো।

আধুনিক সরঞ্জাম ও আন্তর্জাতিক টার্মিনাল পরিচালনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সফলতা এলো।

উচ্চমাত্রার এই উৎপাদনশীলতা জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম কমাবে, বার্থের ব্যবহার বাড়াবে এবং জাহাজ সংক্রান্ত খরচ কমাবে।

আরএসজিটি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) Erwin Haaze বলেন, ঘণ্টায় ৫৮টি মুভ বা ৮২ টিইইউএস অর্জনের এই সাফল্য কেবল উৎপাদনশীলতার কোনো সাধারণ অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশে আধুনিক বন্দর ব্যবস্থাপনার অপার সম্ভাবনা তুলে ধরে। বিশ্বমানের প্রযুক্তি সংযোজন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, সুশৃঙ্খল পরিচালন পদ্ধতি এবং একটি দক্ষ জনবলের যৌথ প্রয়াসেই এই মাইলফলক অর্জিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের পরিচালনাগত মান ক্রমাগত উন্নত করতে এবং গ্রাহক ও অংশীদারদের নিরাপদ, দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরএসজিটি বাংলাদেশ জানিয়েছে, এই মাইলফলক পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালকে আরও দক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক ও বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত একটি সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা সুদৃঢ় করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যকে সহায়তা দিতে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তি, পরিচালনগত উৎকর্ষ এবং জনশক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে প্রতিষ্ঠানটি। আরএসজিটি বাংলাদেশ গ্রাহক, অংশীদার ও অংশীজনদের অব্যাহত আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার জন্য আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 3:12 pm
আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমি আপনাদের কাছে একটা সাহায্য চাই। আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশে স্কাউটের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ। বিএনসিসির সদস্য সংখ্যা ২২ হাজার। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সংখা প্রায় ৪ কোটি। এবার আপনার বলেন, আমরা এতোগুলো মানুষ যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, কেউ কি ঠেকিয়ে রাখতে পারবে? পারবে না।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, এখন আপনাদের দায়িত্ব নিতে হবে কীভাবে দেশকে গড়ে তুলবেন। দেশকে গড়ে তুলতে হবে, কারণ আমরা এখানে থাকব।

একটা দেশের এত বড় তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে করা সম্ভব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বিশ্বকে দেখিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা তরুণ সমাজ এখান থেকে শুরু করেছেন। কাজেই আসেন, আগামী ৩ মাস ডেঙ্গুর সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করব। হয়তো আমরা শতভাগ পারব না, কিন্তু ৮০ ভাগ পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই জানি, ডেঙ্গু যেসব কারণে হয়… ভাঙা-চোরা জিনিসপত্র বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকে, বিভিন্ন মাটির ভাঙা জিনিস পড়ে থাকে… সেখানে পানি জমে ডেঙ্গু এডিস মশা তৈরি হয়। কাজেই আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে দেশের পরিবর্তন ঘটাতে পারব। এই মাঠে আজকে আমরা যতগুলো মানুষ উপস্থিত রয়েছি, বিভিন্ন জেলায় (অনলাইনে যুক্ত) যারা মাঠে উপস্থিত রয়েছেন, সবাই যদি টিস্যু ও পানি খেয়ে বোতল মাঠে ফেলে দিই, কেউ কি আমাদের কিছু বলবে? বলবে না।

“কিন্তু আমাদের নিজেদের চোখে দেখতে কেমন লাগবে? যখন এই ময়লাগুলো জমা হয়ে বড় আকার হবে, সেখান থেকে রোগ-জীবাণু সৃষ্টি হবে। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন তাতে আমার কী হবে, আমি তো দূরে থাকি। কিন্তু আপনার আপনজন কিংবা প্রিয়জন কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে। কাজেই আমরা নিজেকে ও পরিবারকে সুস্থ রাখি। নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। দেশকে সুস্থ রাখি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কাজটা খুব কঠিন না। আজকে হয়তো আপনাদের একটু কষ্ট হবে। প্রতি সপ্তাহে আমরা যদি ১ ঘণ্টা সময় দিই, নিজেদের বাসা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মস্থল পরিষ্কার করতে, তাহলে অবশ্যই দ্রুততার সঙ্গে পরিবর্তন করতে সক্ষম হবো।

তারেক রহমান বলেন, যারা ময়লা-আবর্জনা করবে, আসুন তাদের আমরা নিরুসাহিত করি, তাদের বলি—‘যেখানে সেখানে ময়লা করবেন না’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে দেশকে পরিবর্তন করতে হয়। পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ সমাজের কাছে আমার আহ্বান, আসুন এবার আমরা রাষ্ট্রকে, দেশকে পুনর্গঠন করি।