খুঁজুন
, ,

সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় কিশোর নিহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 28 October, 2020, 4:59 pm
সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় কিশোর নিহত

বাপ্পা মৈত্র,সিলেট ব্যুরো: সিলেট দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জৈনপুর এলাকায় জহিরুল ইসলাম (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছেন। গত ২৬ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত জহিরুল ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা থানার সিরাই গ্রামের নজরুল মিয়ার ছেলে। পেশায় রং মিস্ত্রির কাজ করত।

বর্তমানে পরিবার নিয়ে কদমতলী জেসমিন ভিলায় ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করে। জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে জৈনপুর হাওরের বাড়ী এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ফখরুল নিহত জহিরুল ইসলামকে তার সাথে খুঁচরা মাদক ব্যবসায় জড়িত হতে বলে। তখন নিহত জহিরুল ইসলাম ফখরুলকে জানায় আমি এই ব্যবসা করব কেন। আমি রং মিস্ত্রির কাজ করি। আমি এইসব করতে পারব না। পরবর্তীতে এই ঘটনাটি নিহত জহিরুল ইসলাম তার পিতা-মাতাকে জানায়। তখন নিহত জহিরুল ইসলামের পিতা-মাতা জহিরকে এই ব্যবসা করতে নিষেধ করে। কিশোর জহিরুল ইসলাম এই কথাটি জনৈক ব্যক্তির সাথে আলাপ করলে মাদক ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম জানতে পেরে জহিরুলের উপর ক্ষেপে যায়।

গত ২৬ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যা ৭ টায় জহিরুল বাসা থেকে পূজার অনুষ্ঠান দেখতে বের হলে শিববাড়ী এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ফখরুলের সাথে দেখা হয়। এসময় ফখরুলের সঙ্গে চান্দাই তালুকদার পাাড়ার জায়েদ,জৈনপুর ইছমাইল মিয়ার ভাড়াটিয়া উজ্জল, ফখরুলের সম্বন্দি মাসুকসহ আরও কয়েকজন মাদকের ব্যবসায়ী ফখরুলের মাদক ব্যবসার কথা অন্যকে জানানোর জের ধরে জহিরুলের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ফখরুল তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে জহিরকে জৈনপুর হাওর বাড়ী এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে জহিরুলের শরীরে ইট, পাথর দিয়ে আঘাত করে মারাত্মক ভাবে জখমপ্রাপ্ত করে রেল লাইনের উপর ফেলে দেয়।

এসময় পথচারীদের আনাগোনা টের পেয়ে ফখরুল ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় পথচারীরা ও শিববাড়ী মন্দিরের টহলরহ পুলিশ সদস্যরা আহত জহিরুলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আখতার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাস্থলের নাম শুনে মোগলাবাজার থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। পরে মোগলাবাজার থানার ওসি ছাহাবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

২৪ঘণ্টা/এন এম রানা

Feb2
Feb2

দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না : প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 6:54 pm
দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না : প্রতিমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

দাম বাড়ানোর কারণে জনগণের যে কষ্ট হবে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে অব্যাহতভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সংকট প্রতিদিন নতুন মাত্রায় আমাদের সামনে আবির্ভূত হচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে বিমার প্রিমিয়াম ও জাহাজ ভাড়া বাড়ছে। এ অবস্থায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের পক্ষে এ মুহূর্তে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এরকম একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। জনগণের জীবনমানের কষ্ট লাঘবের অভিপ্রায়ে রাজনীতিতে এসেছি। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জনগণের যে কষ্ট হবে, এটি আমি উপলব্ধি করি।

তিনি বলেন, সরকার নিরুপায় না হলে এমন অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে চাইত না। তবে চলমান সংকট দ্রুত কেটে যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জ্বালানি তেলের দাম আবার সমন্বয় করে আগের পর্যায়ে বা তার চেয়েও কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

গাজী নজরুল চার দিন ও তার স্ত্রী এক দিনের রিমান্ডে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 6:25 pm
গাজী নজরুল চার দিন ও তার স্ত্রী এক দিনের রিমান্ডে

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ৪ দিন ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন রিমান্ড নামঞ্জুর ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে গাজী নজরুলকে বুলেট প্রুপ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে এজলাসে আনা হয়। এসময় তিনি তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মামলার এজাহার পড়ে দেখেন। পরে ওকালতনামায় সই করেন।

৫ কারণে রিমান্ড চাওয়া হয়—

১. ভিকটিম মরিয়ম ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যুবরণ করার সময় একই বাসায় এজাহারনামীয় গ্রেপ্তার আসামিরা ছিল। তাই ভিকটিমের আত্মহত্যায় তাদের প্রভাব আছে কি না তা উদঘাটন।

২. ভিকটিমকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার বিষয়ে আসামিদের ভূমিকা উদঘাটন।

৩. ভিকটিম মরিয়মের আত্মহত্যায় এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পলাতক আসামির অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা।

৪. ভিকটিম মরিয়মের আত্মহত্যায় অজ্ঞাতনামা আসামি জড়িত রয়েছে কি না তা শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা।

৫. মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করা।

এর আগে গতকাল রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং শ‍্যালক ওবায়দুর রহমান—এই ৩ জনকে আসামি করা হয়।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এই ঘটনার পর ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার এবং একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করা হয়।

এদিকে, ভিডিও ভাইরালের পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত ২১ জুলাই গাড়ি চালক ও মৃত মরিয়ম খাতুনের মামা ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট ৮ সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম। সেই মামলার বাদী ওবায়দুরকে এবার মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিক্টিমের ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ায় ভিকটিম মরিয়ম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামসহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকাস্থ সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের ৩য় তলায় বসবাস করত। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিকটিম মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী ভিকটিম মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত বলে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানায়। এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল অনুমান সাড়ে ৫টায় গাজী নজরুল ভিক্টিমের বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলে। বাসায় এসে দেখতে পান অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত।

তখন তিনি জানতে পারেন বাসার ভেতরের রুমে ভিকটিম মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছে। শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তার মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছে দেখতে পান। এসময় বিছানার ওপরে তার লেখা একটি সুসাইড নোট পান। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

নতুন কুঁড়িতে নিবন্ধনে দেশসেরা চট্টগ্রাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 4:30 pm
নতুন কুঁড়িতে নিবন্ধনে দেশসেরা চট্টগ্রাম

দেশব্যাপী নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নিবন্ধনে বড় ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম। জেলাটিতে নিবন্ধন করেছে ১ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ জন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঢাকায় এ সংখ্যা ৫৯ হাজার ৫৮০। অর্থাৎ ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামে ১ লাখ ২১ হাজার ৫৬০ জন বেশি নিবন্ধন করেছে—যা তিন গুণেরও বেশি।

প্রতিযোগিতাটি নিয়ে বড় প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা ইতিহাস গড়ব।”

চট্টগ্রামের এই বড় ব্যবধানের পেছনে খেলাধুলার প্রতি স্থানীয়দের আগ্রহের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রচার-প্রচারণা ও প্রচেষ্টার প্রভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমাদের যাঁরা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা ক্রীড়া অফিসার আছেন, তাঁদের প্রচার-প্রচারণা, এফোর্টের কারণেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে।”

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগ এই বিপুল নিবন্ধনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রীড়া সচিব বলেন, “হ্যাঁ। সবার মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা—কে কত বেশি এনরোল করতে পারে।”

চট্টগ্রামে খেলাধুলার প্রতি মানুষের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন মোঃ মাহবুব-উল-আলম। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে খেলাধুলার অনেক আয়োজন রয়েছে এবং জাতীয় পর্যায়েও সেখান থেকে অনেক ভালো খেলোয়াড় পাওয়া যায়।

চট্টগ্রামের এই সাফল্যের নেপথ্যে মাঠপর্যায়ে কীভাবে কাজ হয়েছে, তার বিস্তারিত জানিয়েছেন জেলা ক্রীড়া অফিসার আবদুল বারী। তিনি বলেন, শুরু থেকেই জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিকল্পিত প্রচারণার পাশাপাশি উপজেলা, ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ধারাবাহিক সমন্বয় করা হয়েছে।

আবদুল বারী বলেন, “আমরা আসলে শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে অনেক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি। ডিসি স্যারের নেতৃত্বে আমরা একাধিক সভা করেছি। জুম মিটিং থেকে শুরু করে একাধিক মিটিং করেছি। এরপর আমরা উপজেলা পর্যায়ে গিয়েছি, ইউএনও স্যারদের সঙ্গে মিটিং করেছি, আবার স্কুলপ্রধানদের সঙ্গে মিটিং করেছি।”

ইউনিয়ন পর্যায়েও নিবন্ধন কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়। নির্ধারিত রূপরেখা অনুযায়ী ইউনিয়ন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এসব কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলা ক্রীড়া অফিসের কর্মকর্তারাও এ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

পুরো প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্ব ও নির্দেশনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন আবদুল বারী।

তিনি বলেন, “সর্বোপরি, ডিসি স্যারের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সময়ে সময়ে যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছেন, সেগুলো আসলে এই নিবন্ধন বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। যার কারণে আমরা একটি ভালো ফলাফল পেয়েছি।”

জেলা ক্রীড়া অফিসার জানান, নিবন্ধন বাড়ানোর কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কখনো থামিনি। প্রতিদিনই এটা নিয়ে কাজ করেছি। এগুলো শেয়ার করেছি। যার কারণে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা এমন একটি ফলাফল পেয়েছি।”

মাঠপর্যায়ের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও প্রচারণা চালানো হয়। স্থানীয় সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে প্রচারের পাশাপাশি ফেসবুকে প্রতিযোগিতার তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকেরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় যুক্ত হন।

আবদুল বারী বলেন, “আমাদের স্থানীয় যে পত্রিকাগুলো আছে, সেগুলোতে আমরা নিউজ দিয়েছি। ফেসবুকে পোস্ট করেছি এবং সংশ্লিষ্ট যাঁরা ক্রীড়া সংগঠক আছেন, তাঁরাও ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। আমাদের স্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলোতেও প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি।”

তথ্য অফিসও এ প্রচারণায় সহযোগিতা করেছে। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা—তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তথ্য অফিসের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ কার্যক্রমে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন আবদুল বারী। তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাঁকে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছেন।

জেলাভিত্তিক নিবন্ধনে চট্টগ্রাম ও ঢাকার পর তৃতীয় স্থানে রয়েছে কুমিল্লা। সেখানে নিবন্ধন করেছে ৫১ হাজার ৮৪৮ জন। চতুর্থ স্থানে বরিশালে ৫১ হাজার ৫৮০ এবং পঞ্চম স্থানে পটুয়াখালীতে ৪৯ হাজার ৫৬৫ জন নিবন্ধন করেছে।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা ঢাকা ও কুমিল্লার সম্মিলিত নিবন্ধন ১ লাখ ১১ হাজার ৪২৮। এই দুই জেলার সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও চট্টগ্রামে ৬৯ হাজার ৭১২ জন বেশি নিবন্ধন করেছে।

শীর্ষ ২০ জেলার তালিকা অনুযায়ী, ষষ্ঠ স্থানে থাকা দিনাজপুরে নিবন্ধন করেছে ৪১ হাজার ৬৯৯ জন। সপ্তম সিলেটে ৪০ হাজার ৫৩৬, অষ্টম ময়মনসিংহে ৪০ হাজার ৫৪, নবম কক্সবাজারে ৩৬ হাজার ৫৪৬ এবং দশম স্থানে থাকা বগুড়ায় নিবন্ধন করেছে ৩৪ হাজার ৯৬৮ জন।

গত আসরে আটটি ইভেন্ট থাকলেও এবার আরও দুটি যুক্ত করে মোট ১০টি ইভেন্ট রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে দল গঠনের পর উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা হবে।

নতুন কুঁড়ি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বালক ও বালিকা উভয় বিভাগে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, মার্শাল আর্ট ও টেবিল টেনিসে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।