খুঁজুন
বুধবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝালকাঠি পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে মনোনয়ন দৌড়ে দীর্ঘ লাইন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠি পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে মনোনয়ন দৌড়ে দীর্ঘ লাইন
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি পৌরসভার বয়স প্রায় দেড় শত বছর। এত পুরাতন পৌরসভা হলেও পৌরবাসী তাদের আকাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অনেক হেভিওয়েট চেয়ারম্যান মেয়র পৌরসভার দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু পৌরবাসী তাদের নাগরিক সুবিধা সেভাবে পাইনি। বার বার তাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার বিস্তর ফারাক! ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আসার পর এ জনপদের নেতা সাবেক মন্ত্রী ১৪ দলের সম্বন্বয়ক জাতীয় নেতা আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু এমপি মহোদয়ের প্রচেষ্টায় তৃতীয় শ্রেনী পৌরসভাকে দ্বিতীয় শ্রেণি এবং পরে প্রথম শ্রেনী পৌরসভায় উন্নিত হয়। তিঁনি পৌরসভা উন্নয়নে অনেক প্রকল্প অনুমোদন করার ব্যবস্থা করেন।
ইতিমধ্যে অনেক প্রকল্পের কাজ চলমান। একটি প্রথম শ্রেনী পৌরসভা হবার পরও এ পৌরসভায় একটি কমিউনিটি সেন্টার নেই। বর্জ্য ব্যবস্থা একেবারে শূন্যের কোঠায়। শহরে প্রধান সড়ক উন্নয়নে যে সমস্ত প্রকল্প নেয়া হয়েছে তা অপরিকল্পিত। যার ফলে দশ-পনের মিনিটের বর্ষায় শহরে ঘর বাসা বাড়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানিতে তলিয়ে যায়। অতি বর্ষনে শহরবাসীর দুর্দশা চরমে উঠে। আজ পর্যন্ত পৌরসভার বর্জ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ড্রাম্পিং স্টেশন নেই। পুরো শহরে ময়লা আর্বজনার স্তুপ চোখে পড়ে। এছাড়া শহর জুড়ে প্রয়োজনে চেয়ে দশগুন অটোরিক্সায় লেগেই থাকে যানজট। সুগন্ধা কোলঘেয়ে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা একমাত্র কসাইখানা পৌরবাসীর জন্য মরার ওপর খাড়ার ঘা। কসাইখানার আশেপাশে ঘনবসতি গড়ে উঠায় বাসাবাড়ীর বর্জ্য, পশুবজ্য মিলে সুগন্ধা নদীর পানি আজ বিষাক্ত হয়ে উঠছে।
এছাড়া বাসন্ডা খালও আজ দূষনের কবলে। এ বিষয়ে পৌরসভার কোন উদ্দ্যেগ লক্ষ্য করা যাইনি। এ শহরে একটি অডিটরিয়ামও নেই। কোন সভা, সেমিনার , সিম্পুজিয়াম করার সুযোগ নেই। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে যিনি প্রার্থী হবেন এ সমস্ত চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে তাকে।
বর্তমান মেয়র আলহাজ্ব লিয়াকত আলী তালুকদার প্রথমবারে মত দলীয় প্রার্থী হিসাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিঁনি নির্বাচনে যে সমস্ত অঙ্গীকার করেছেন, তিনি মনে করেন সেই অঙ্গীকার পুরন করতে পেরেছেন। তাছাড়া ঝালকাঠির রাজনৈতিক অভিভাবক জননেতা আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু এমপি মহোদয়ের কাছের মানুষ হিসাবে তিনি পরিচিত। তাই তিনি মনে করেন তাঁর কর্মকান্ডে দল পুনরায় মূল্যায়ান করবে। পুনরায় দলের মনোনয়ন পেলে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প কাজ সমাপ্ত করে পৌরসভা নগরিকদের নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে সচেষ্ট থাকবেন।
বর্তমান মেয়র ছাড়া মেয়র পদের মনোনয়ন চাইবেন সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সরকারী কলেজের জিএস বর্তমান জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক দুইবারে ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল করিম জাকির। যিনি জিএস জাকির নামে পরিচিত, তিনিও জননেতা আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু এমপি মহোদয়ের কাছের লোক, স্নেহ ধন্য হিসাবে পরিচিত। বর্তমান মেয়র মহোদয় ছাড়া যারা মনোনয়ন চাইছেন প্রত্যেকে একটি কথা খুব জোর দিয়ে বলেছেন, পরিবর্তন চাই। তিনি মনে করেন দলের জন্য দুঃসময়ে মাঠে ময়দানে আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম, হামলা-মামলার শিকার হয়েছিল প্রিয় নেতা কাছে সব সময় সর্বোচ্চ বিশ্বস্তার পরিচয় দিয়েছেন। দলের প্রয়োজনে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে রাজী গত নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসাবে মনোয়নের দাবী থেকে বর্তমান মেয়র মহোদয়ের জন্য ত্যাগ করেছি। সকল বিবেচনায় আমাকে দল ও প্রিয় নেতা বিবেচনা করবে।
মনোনয়ন দৌড়ে আরেকজন প্রার্থী ঢাকা মহানগর উত্তরের শ্রমিক লীগে সহ সভাপতি শাহী জর্দ্দা /৯৯ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উদ্ধোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, ঝালকাঠি নোটারীক্লাবের সভাপতি, বিশিষ্ট দানশীল সমাজ সেবক জনাব শামীম আহম্মেদ। তিনি ও তাঁর পরিবার শহরে গরীর দুঃখীদের নিরবঅনেক দান অনুদান করেছেন। স্কুল-কলেজসহ বৈশ্বিক করোনা মহামারিতে সামনে থেকে মানুষকে ব্যপক সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। তিনি বলেন আমাকে আমু ভাই যদি মনোনয়ন দেন আমি তাহালে নির্বাচনে প্রার্থী হব।
আরো একজন প্রার্থী মনোনয়ন সরাসরি না চাইলেও জোরালোভাবে বর্তমান মেয়র মহোদয়ের পরিবর্তন চায়। সেক্ষেত্রে দল যদি তাঁকে মনোনয়ন দেন, তিনি দলীয় প্রার্থী হতে ইচ্ছুক। জেলা যুবলীগের নেতা ঝালকাঠি চেম্বারের অন্যতম পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমু ভাইয়ের স্নেহধন্য কাছের মানুষ জনাব মোঃ কামাল শরীফ। তিনিও পরিবর্তন চান।
বর্তমানে যিনি মেয়র আছেন তাঁকে ব্যতীত দল ও নেতা যাকে খুশী দিবেন। বর্তমান মেয়র মহোদয়ের পাঁচ বছরে দল জনগনকে সীমাহীন অবজ্ঞা বঞ্ছনার বিপক্ষে তাঁর প্রার্থীতা। সে ক্ষেত্রে দল যদি তাঁকে যোগ্য মনে করেন তবে তিঁনি দলীয় প্রার্থী হতে রাজি আছেন। এছাড়া শহরে গুঞ্জন আছে, শারমিন মৌসুমী কেকাও প্রার্থী হতে চান।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কে প্রার্থী হবেন, সব কিছুর জন্য শেষ ভরসা আশ্রয়স্থল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে যার উপর নেতা কর্মী চেয়ে থাকেন, যার সিদ্ধান্তের বাইরে কারো কোন বক্তব্য নেই। এ জনপদে একমাত্র নেতা সাবেক মন্ত্রী ১৪ দলের সম্বন্বয়ক জননেতা আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু এমপি। কে মনোনয়ন পাবে তার জন্য ঝালকাঠি বাসীকে আরো কিছুদিন সময় অপেক্ষা করতে হবে।
২৪ঘণ্টা/এন এম রানা/আতাউর
Feb2

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দফায় দফায় শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দফায় দফায় শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষ

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে একটি গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখার জেরে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাতের পর বিকেল পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কলেজ সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসের একটি গ্রাফিতির নিচে লেখা ছিল ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। পরবর্তীতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সেখানে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে তার ওপর ‘গুপ্ত’ লিখে দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে প্রচার করেন আল মামুন। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে মঙ্গলবার দুপুরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হলে কলেজ প্রশাসন ও পুলিশ দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। তবে বিকেল চারটার দিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হামলার প্রতিবাদে নিউমার্কেট মোড় থেকে মিছিল নিয়ে কলেজের দিকে অগ্রসর হলে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। বিকেল পাঁচটার দিকেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজের সামনে এবং শিবিরের নেতাকর্মীরা নিউমার্কেট মোড় এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

সংঘর্ষে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ছাত্রদলের দাবি, শিবিরের হামলায় তাদের ৭ থেকে ৮ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ৫ থেকে ৬ জন কর্মী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাহাড়তলি ওয়ার্ড শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফের অবস্থা গুরুতর এবং তার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল সিদ্দিকী রনির মোবাইল ফোনে কল করা হলে অন্য একজন রিসিভ করে বলেন, ‘কলেজে মারামারি হয়েছে। রনি ভাই আহত হয়েছেন, তাকে পাচ্ছি না।’

সংঘর্ষের বিষয়ে সিটি কলেজের একজন শিক্ষক জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও কলেজের সুনাম রক্ষার্থে শিক্ষার্থীদের বোঝানো হয়েছিল। দুপুরে এবং বিকেলের শিফটে কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

হামলার বিষয়ে কলেজ ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, ‘আদর্শিকভাবে দেউলিয়া ছাত্রদল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আদর্শিক লড়াইয়ের পরিবর্তে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, দুপুর থেকে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া মা-নবজাতকের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া মা-নবজাতকের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় অসুস্থ স্ত্রী ও নবজাতককে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছেন এক পাষণ্ড স্বামী। এমন অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান নবজাতক কন্যা ও তার অসহায় মাকে দেখতে। শুধু খোঁজখবরই নয়, জেলার অভিভাবক হিসেবে নবজাতকের দায়িত্বও গ্রহণ করেন তিনি।

জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল প্রসববেদনা উঠলে গর্ভবতী শাহনাজ বেগম শেলী নিজেই চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা প্রথমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চালালেও জটিলতার কারণে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তবে সন্তান জন্মের পরপরই স্বামী বেলাল আহমেদ তাকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান। একদিকে অসুস্থ মা, অন্যদিকে নবজাতক—দুজনেই পড়েন চরম অনিশ্চয়তায়।

এরই মধ্যে ২০ এপ্রিল নবজাতকের শরীরে জন্ডিস ধরা পড়ে। দ্রুত তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-তে ভর্তি করা হয় এবং ফোটোথেরাপি দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনার খবর পেয়ে সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম নিজেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করেন এবং শিশুটির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেন। আজ মঙ্গলবার নিজেই হাসপাতালে গিয়ে মা ও শিশুর পাশে দাঁড়ান।
এ সময় তিনি নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি নবজাতকের জন্য শিশু খাদ্য, পোশাক, ডায়াপার, বিছানাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং মায়ের জন্য পোশাক ও এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, “বাচ্চাটি এখন সুস্থ আছে। খুব শিগগিরই তাকে মায়ের কাছে দেওয়া হবে। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা ও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করছি।”

তিনি আরও বলেন,“এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেউ যেন নিজের পরিবারকে এভাবে ফেলে না যায়—এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

নবজাতকের মা শাহনাজ বেগম বলেন, “তার স্বামী আগেই বলেছিল মেয়ে সন্তান হলে রাখবে না। সন্তান জন্মের পর থেকেই সে আর কোনো খোঁজ নেয়নি। আমি নিজেই কষ্ট করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। এখন আল্লাহর রহমতে আমি ও আমার বাচ্চা ভালো আছি।”

তিনি জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,“ডিসি স্যার আমাদের পাশে না দাঁড়ালে কী যে হতো জানি না। তিনি অনেক সহযোগিতা করেছেন।”

শাহনাজারের প্রতিবেশী আকলিমা আক্তার জানান, “ডিসি স্যার ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলার পর থেকেই হাসপাতালের সবাই আরও বেশি যত্ন নিচ্ছেন। এমনকি তিনি একজন কর্মচারীকেও দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, যাতে সব সময় খোঁজ রাখা হয়।”

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও এনআইসিইউ প্রধান ডা. মোহাম্মদ শাহীন বলেন, “প্রতিটি রোগীই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে জেলা প্রশাসক নিজে থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন এবং শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করেছেন। আমরাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আজ জেলা প্রশাসককে মা ও শিশুর জন্য উপহার নিয়ে আসতে দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক উদ্যোগ।”

হাসপাতালে উপস্থিত রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যেও জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বর্তমানে নবজাতকটি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবিক সংকটে প্রশাসনের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়াবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সন্ত্রাসী ভাড়া করে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসী ভাড়া করে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত

টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে ২০ হাজার টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া করে রাজধানীর মহাখালী জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালক ড. আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে জানায় র‍্যাব।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানী কাওরানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি বলেন, মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ড. আহমদ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় তার হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-১ ও সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। তারই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে দক্ষিণখান থেকে শরিফুল আলম করিম, বাড্ডা থেকে আমিনুল ইসলাম কালু, সাজ্জাদ বদি, সালাউদ্দিনকে এবং আরিফুজ্জামানকে গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই দ্বন্দ্ব থেকেই ২০ হাজার টাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এতে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানায় র‍্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, টেন্ডারকে ঘিরে বিরোধে জড়িত দুটি গ্রুপের মধ্যে একটি ‘রুবেলের ইএমই ট্রেডার্স’ এবং অন্যটি ‘মোনায়েম গ্রুপ’। এর মধ্যে রুবেল মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তার পক্ষে দেশে থাকা শরীফুল আলম করিমসহ অন্যরা কাজটি সম্পন্ন করেন।

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছে, মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। হামলার ধরণ দেখে মনে হয় এটি হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, যা তদন্তে সহায়ক হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী রুবেল বিদেশে অবস্থান করছে। তবে তিনি এই টেন্ডার কমিটিতে ছিলেন কিনা সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি র‍্যাব।