খুঁজুন
রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট নগরজুড়ে তীব্র পানি সঙ্কট ভোগান্তিতে ৭৫ হাজার গ্রাহক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
সিলেট নগরজুড়ে তীব্র পানি সঙ্কট ভোগান্তিতে ৭৫ হাজার গ্রাহক

সিলেট ব্যুারো: টানা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ ও পানি সমস্যায় রয়েছেন সিলেট নগরবাসী। সিলেটের কুমারগাঁও জাতীয় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের গ্রিড লাইনে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই এখনও বিদ্যুৎহীন সিলেট নগরের বেশিরভাগ এলাকা। যার কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় পানির জন্য চলছে হাহাকার। এ সময় নগরের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পানির ব্যবস্থা করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ লাইন ধরে এ পানি সংগ্রহ করছেন মানুষজন। তিনদিন ধরে চলা এই সংকটের দ্রুত সমাধান চান নগরের বাসিন্দারা। অগ্নিকাণ্ডের পর মঙ্গলবার সকাল থেকে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে পুরো সিলেট। প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর বুধবার সন্ধ্যা ৬টার পর নগরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হলেও এখনও অন্ধকারে রয়েছে বেশিরভাগ এলাকা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে সিলেটের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরো সচল হতে পারে বলে জানিয়েছেন সিলেটের বিদ্যুৎ বিভাগ। সিলেট নগর ও সদর উপজেলায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন জানান, আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি বৃহস্পতিবার বাকি গ্রাহকদের আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারব। বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার আগ পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বঞ্চিত ছিলেন। ছয়টার পর থেকে আমরা প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছি। এর মধ্যে যেসব যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে, সেগুলো সংযোজন করা হয়েছে এবং আরও কিছুর কাজ চলছে।

এ বিষয়ে নগরের দাড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা সঞ্জয় বণিক জানান, তিন ধরে পানি ও বিদ্যুৎতের সমস্যা চলমান। বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানি ছাড়া চলতে খুব সমস্যা হচ্ছে। নগরজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সঙ্কট। এ অবস্থা থেকে আমরা দ্রুত সমাধান চাই। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-১, ২ ও ৪ এর আওতাধীন কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। বাকি এলাকাগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে কাজ চলছে। তবে পুরো স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

সরেজমিনে দেখা যায় নগরের মেডিকেল রোড, জল্লারপাড়, মির্জাজাঙ্গাল, দাড়িয়াপাড়া, লামাবাজার, রিকাবিবাজার, বাগবাড়ী, মদিনামার্কেট, সাদাটিকর, মিরাবাজার, পাঠানটুলা, দক্ষিণ সুরমা বিভিন্ন এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়নি। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে নগরের উপকণ্ঠের এলাকা ও সদরসহ উপজেলা গুলো। এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর বলেন, আমাদের সিটি করপোরেশন এলাকায় আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে সেসব এলাকার সিটি করপোরেশনের গভীর নলকূপকগুলো থেকে সঙ্গে সঙ্গে পানি সরবরাহ চালু করা হয়েছে। আশা করছি শুক্রবার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারব।

২৪ঘণ্টা/এন এম রানা//বাপ্পা মৈত্র

Feb2

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা: খুলশী থানার ওসি বদলি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা: খুলশী থানার ওসি বদলি

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ বদলি করা হয়।

শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর), অতিরিক্ত দায়িত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ।

আদেশ অনুযায়ী, খুলশী থানার ওসি মো. আরিফুর রহমানকে সিএমপির লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

একইসঙ্গে সিটিএসবিতে কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহেদুল কবিরকে বাকলিয়া থানার ওসি এবং বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে খুলশী থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশ পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে খুলশী থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও দুই কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
বাজেট উপস্থাপনের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সকালে যখন আমি ঢাকা থেকে প্লেনে উঠলাম, তখন প্লেনে পত্রিকা থাকে, আমি পত্রিকাগুলো দেখলাম কী কী নিউজ আছে। পত্রিকাগুলোর মধ্যে দেখলাম সবগুলো পত্রিকা কমবেশি একটি নিউজ করেছে যে, প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে গত পরশুদিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।

তিনি বলেন, যেই বাজেট উপস্থাপন করলে জিনিসের দাম বাড়ে না, সেই বাজেট জনগণের পক্ষের বাজেট। এই বাজেটে আমরা বিভিন্ন ওষুধপত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসার যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলোর ওপর থেকে আমরা ট্যাক্স কমিয়ে এনেছি।

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তবে শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোকে বাঁচিয়ে রেখে পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার ( ১৩ জুন) কর্ণফুলী উপজেলার চাদগাঁও বেড়িবাঁধ এলাকায় আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির আওতায় মাত্র দুই মাসে এক লাখ বৃক্ষরোপণ করে আলোচনায় আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সারা দেশে আজ থেকে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান এ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে ৭০ হাজার বৃক্ষরোপণের কার্যক্রম শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছরে শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে। চলতি বছর জেলায় প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, “পৃথিবী মানুষের বসবাসের একমাত্র গ্রহ। কিন্তু মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণেই পরিবেশ বিপর্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ যে গাছগুলো রোপণ করা হচ্ছে, সেগুলো সঠিকভাবে পরিচর্যা করা গেলে ভবিষ্যতে পরিবেশগত ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।”

অনুষ্ঠানে একটি সোনালু গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।

কর্মসূচির আওতায় কর্ণফুলী বেড়িবাঁধের চাদগাঁও এলাকায় প্রায় ১ দশমিক ৫০ একর জমিতে ১৯ প্রজাতির ১ হাজার ২০০টি চারা রোপণ করা হয়। রোপিত চারার মধ্যে রয়েছে সোনালু, চালতা, জারুল, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, বকুল, পলাশ, মহুয়া, কাঞ্চন, আমলকি, অর্জুন, জলপাই, কাঠবাদাম, ঝাউ, হিজল, বহেরা, চিকরাশি ও মেহগনি।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণ করা হবে। এর মধ্যে বন বিভাগের আওতায় প্রায় ১৮ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে ৭ লাখ ৫০ হাজার, দক্ষিণ বন বিভাগে ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০, উপকূলীয় বন বিভাগে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ এবং চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেনে ১৫ হাজার ২৮৯টি চারা রোপণ করা হবে।

এ ছাড়া সিডিএ ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে কর্ণফুলী বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে প্রায় ১৬ হাজার গাছ লাগানো হবে।

গাছের সুরক্ষার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রতিটি চারার উচ্চতা ন্যূনতম পাঁচ ফুট নিশ্চিত করা হয়েছে। গবাদিপশুর ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নাগরিক সচেতনতা। এই গাছ আমাদের পরিবেশ, জীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করবে।”

তিনি আরও বলেন, “করোনাকালে আমরা অক্সিজেনের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছি। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজের গাছ মনে করে এসব চারার পরিচর্যা করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোছাইন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা, উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম এ হাসান এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সরকারের এই বৃহৎ সবুজায়ন কর্মসূচি চট্টগ্রামে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।