পাহাড়ের দারিদ্র্য দূর করতে চা চাষ একটি নতুন সম্ভাবনা: চা বোর্ড চেয়ারম্যান মে: জে: জহিরুল ইসলাম
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : তিন পার্বত্য জেলার অনাবাদী ও প্রত্যন্ত এলাকার পাহাড়ি জমি চা চাষের জন্য উপযুক্ত। পাহাড়ের মাটি, আবহাওয়া-জলবায়ু এবং ভূ-প্রকৃতি বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরই)-এর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাহাড়ের দারিদ্র্য দূর করতে এখানে চা চাষ সম্প্রসারণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তারই অংশ হিশেবে বান্দরবান জেলায় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ক্ষুদ্রায়তন চা চাষ প্রকল্প’-এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ওখানকার উৎপাদিত চা এরিমধ্যে গুণেমানে অনন্য স্বীকৃতি পেয়েছে। এবার খাগড়াছড়ি জেলার ৫’শ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে চা চাষের প্রসার ঘটবে।
শুক্রবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউজে বিটিআরই-চট্টগ্রাম উপকেন্দ্র আয়োজিত চা চাষী এবং সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এই তথ্য জানান, বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল জহিরুল ইসলাম।
এসময় খাগড়াছড়ি রিজিয়নের প্রতিনিধি মেজর সালাউদ্দিন এবং বিটিআরই-এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: মশিউর রহমান আকন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মে: জে: জহিরুল ইসলাম জানায়, চা চাষীদের জন্য প্রয়োজনীয় দীর্ঘ ও স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। সেক্ষেত্রে সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি-উন্নয়ন বোর্ড- পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং সার্কেল চীফদের সহায়তা সমন্বয় করা হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং চা বোর্ডের মাধ্যমে।
সভায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, খেদারমারা বৌদ্ধ বিহারের প্রতিষ্ঠাতা যোগাসিদ্ধি ভান্তের পরামর্শে বিহারসংলগ্ন প্রায় ১’শ একর পাহাড়ি ভূমিতে বছর তিনেক আগে থেকে চা চাষে উদ্বুদ্ধ হন এলাকাবাসী। এখন সাজেকসহ আশেপাশের এলাকার মানুষ চা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
খেদারমারা ক্ষুদ্র চা চাষী সমিতির সভাপতি কর্ণমনি চাকমা জানান, ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে চা বোর্ডের নিবন্ধিত হবার পর এখন প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়’শ কেজি চা উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে কারখানা গড়ে উঠলে মানুষের মধ্যে আরো উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে।
সভায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি জীতেন বড়ুয়া, সাবেক সা: সম্পাদক মুহাম্মদ আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি রিপোর্টার ইউনিটি’র সভাপতি চাইথোয়াই মারমা, সমকাল প্রতিনিধি প্রদীপ চৌধুরী, বিটিআরই-এর উর্ধ্বতন কর্ম-সহকারি অজিত চন্দ্র চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
২৪ ঘণ্টা/রিহাম/প্রদীপ


আপনার মতামত লিখুন