খুঁজুন
, ,

মৃত্যুদণ্ডের আইনের পর তিন গুণ বেড়েছে ধর্ষণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 25 November, 2020, 9:44 am
মৃত্যুদণ্ডের আইনের পর তিন গুণ বেড়েছে ধর্ষণ

রাজধানীর মুগদায় ১১ বছর বয়সের স্কুলছাত্রী যমজ দুই বোনকে মুখে গামছা গুঁজে ধর্ষণ করেন ফরহাদ নামের এক যুবক। অভিযুক্ত ফরহাদ ধর্ষণের শিকার ওই দুই ছাত্রীর মামাতো ভাই। গত বুধবারের ওই ঘটনা পরে পারিবারিকভাবে ‘সমাধানের’ চেষ্টা করা হয়। শেষে রবিবার মামলা করেন মেয়েটির বাবা। মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ এনামুল করিম বলেন, ‘ধর্ষণ এত বড় অপরাধ। সাজা মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু এসব ঘটনায় তা মনে হয় না। কেমন যেন ছেলেখেলা। আবার ঘটনা চেপে রেখে বলে মামলা করা যাবে কি না!’

গত ৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী কামাল ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল খায়ের বলেন, ‘ধর্ষণ বড় অপরাধ, মৃত্যুদণ্ড হতে পারে এমন কোনো ভয় কামালের মধ্যে আমি দেখিনি।’

প্রতিটি ঘটনায়ই দেখা যাচ্ছে এমন মনোভাব। সিলেট ও নোয়াখালীর ধর্ষণ-নিপীড়নের পর দেশব্যাপী ধর্ষণবিরোধী তীব্র বিক্ষোভ হলে সরকার গত মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করেছে। কিন্তু এর প্রভাব অপরাধীদের মধ্যে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে না। সাজা বাড়লেও কমেনি ধর্ষণ।

নতুন সাজা কার্যকর হওয়ার পর গত ১৪ অক্টোবর থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত এক মাস ১০ দিনে কালের কণ্ঠে ছাপানো প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯১ ঘটনায় নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ৪৬ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ সময় অর্ধশতাধিক নারী ও শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। প্রতিদিনই ঘটছে এমন ঘটনা।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ মাসে ৯৭৫ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যেখানে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাই ২০৮টি। সংস্থাটির তথ্য মতে, আইন কঠোর হওয়ার পরও বেড়েছে ধর্ষণ। সেপ্টেম্বরে ছিল এই সংখ্যা ৮৬, যা অক্টোবরে বেড়ে হয়েছে ৩৭৪। এই সংখ্যা আগের মাস আগস্টে ছিল ১৪৮।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় অক্টোবরে ৮৫টি ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়। সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ৬০।

মানবাধিকার ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, কঠোর আইন ধর্ষণ প্রতিরোধে সহায়ক হচ্ছে না। কারণ যারা এ অপরাধ করছে, তারা ধর্ষণকে অপরাধ বলেই মনে করে না। সচেতনতা বাড়ালে এবং শাস্তি কার্যকর করা গেলে এর প্রভাব পড়বে। এর জন্য সামাজিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

গত ২ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একদল লম্পট ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায়। দুর্বৃত্তরা স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করেছিল।

এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে এক নববধূকে ধর্ষণ করে কয়েকজন তরুণ। দুটি ঘটনায়ই ক্ষমতাসীন দলের কর্মী এবং উঠতি সন্ত্রাসীরা জড়িত বলে তথ্য মেলে। এসব ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সুবিচারের দাবি ওঠে সব মহল থেকে। শুরু হয় আন্দোলন। দুই সপ্তাহের বিক্ষোভের মধ্যে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে সরকার।

আইন সংশোধনের পর এক মাস ১০ দিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও গাজীপুরে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রায় আড়াই শ জনকে আসামি এবং ১৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিরা প্রতিবেশী, আত্মীয়, প্রেমিক ও স্কুল-মাদরাসার শিক্ষক। অপরিচিত ব্যক্তিদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৮ জন। মুদি দোকানি, সেলুনের কর্মী, ইজি বাইকের চালক, বাসচালক, চালকের সহকারী, রিকশাচালক, কবিরাজ, সবজি বিক্রেতা, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, পুলিশ সদস্য, বিজিবি সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দ্বারা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সহায়তাকারী হিসেবে কমপক্ষে তিনজন নারীর বিরুদ্ধে এ সময় অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, ‘এখনো যারা ধর্ষণ করে যাচ্ছে, তাদের মৃত্যুদণ্ড হলো কি হলো না তার খবর নেই। এখানে জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজ করতে হবে। অনেকে নারীকে নির্যাতন করা অপরাধই মনে করে না। কারণ এর জন্য শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় না। যুবসমাজকে উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে।’

পুলিশের সাবেক প্রধান আব্দুল কাইউম বলেন, ‘ধর্ষণ হওয়ার আগেই নিপীড়নের ঘটনায়ও যেন দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আগের আইনগুলোও আছে। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমেই পুলিশ পারে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের। প্রয়োজন আইনের বাস্তবায়ন। হত্যার শাস্তিও মৃত্যুদণ্ড, এ কারণে হত্যা বন্ধ হয়নি। তবে হত্যা করলে ফাঁসি হবে, ভয় পায় মানুষ। তদন্ত আর বিচারে সাজা নিশ্চিত করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন্স অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক বলেন, ‘ধর্ষক বা লাঞ্ছনাকারীদের আমরা উল্লাস করতে দেখি। নারীদের নির্যাতন অপরাধ নয়, এই জঘন্য মানসিকতা গড়ে উঠেছে অনেকের মধ্যে। মূলত বিচারহীনতা এবং ক্ষমতার প্রভাব এটি করছে। এটি হচ্ছে পরিবার থেকে সমাজ, রাষ্ট্রে সবখানে। একদল আদিম মানসিকতাতেই দেখছে নারীদের। তাদের চিহ্নিত করতে হবে। যেহেতু তাদের সেই বোধ নেই, সেহেতু শক্ত বা দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ভয় দেখাতে হবে তাদের।’

Feb2
Feb2

সিআরএ’র নেতৃত্বে রুবেল-রমিজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 2 August, 2026, 1:24 pm
সিআরএ’র নেতৃত্বে রুবেল-রমিজ

চট্টগ্রামে কর্মরত পেশাদার সংবাদকর্মীদের সংগঠন চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিআরএ)। সংগঠনের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে দুই বছরের পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন করে গঠন করা হয়েছে আহবায়ক কমিটি।

শনিবার (১ আগষ্ট) সিআরএ-এর আগের কমিটির সভাপতি সোহাগ আরেফিন ও সাধারণ সম্পাদক নুরু আমিন খোকনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের ভার্চুয়াল মিটিং ও মতামতের ভিত্তিতে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নতুন আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত কমিটিতে নিউজডে২৪ সম্পাদক মোঃ রুবেল আহ্বায়ক ও দৈনিক সকালের সময় এবং নিউজ ২১ বাংলা টিভির চট্টগ্রাম প্রতিনিধি সাইফুদ্দিন রমিজকে সদস্য সচিব করা হয়।

এছাড়া দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি মোহাম্মদ শাকিল অর্থ সম্পাদক, নিউজ ডে২৪ প্রতিনিধি সাফায়েত মোরশেদ, দৈনিক একুশে সংবাদের রিয়াজ উদ্দিন, দৈনিক সূর্যোদয় পত্রিকার রতন বড়ুয়া ও চট্টগ্রাম পোস্ট’র মাল্টিমিডিয়ার ইনচার্জ কামরুল সিফাত উল্লাহ কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মো:রুবেল বলেন, সকলের মতামত ও আস্থার ভিত্তিতে আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তা সততা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পালন করব। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

সদস্য সচিব সাইফুদ্দিন রমিজ বলেন, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। নির্বাচনী প্রক্রিয়া যেন অংশগ্রহণমূলক,স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়,সে বিষয়ে আহ্বায়ক কমিটি আন্তরিকভাবে কাজ করবে। সকল সদস্যের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি।

এ সময় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 2 August, 2026, 9:18 am
বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর

২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে দলের করণীয় নির্ধারণে বৈঠক করেছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি।

শনিবার (০১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেষ হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের গতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দলের সার্বিক সাংগঠনিক বিষয়গুলো বৈঠকে প্রাধান্য পায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়াই ছিল বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা। সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে শূন্য হওয়া পদে দলের উপযুক্ত প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরই ন্যস্ত করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, সেলিমা রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছে দলের স্থায়ী কমিটি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্পিকার অস্থায়ীভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। তফসিল ঘোষণা হলে দলের পক্ষ থেকে কে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হবেন, সেই দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে স্থায়ী কমিটি ন্যস্ত করেছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কোনো নাম প্রস্তাব বা এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমরা দলের চেয়ারম্যানের ওপরই ন্যস্ত করেছি। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমা হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে যদি একক প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। আর একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, আমরা চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত আছি। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি চলছে।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া স্থায়ী কমিটির অন্তত দুই সদস্য জানান, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন ইস্যুতে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন দলের চেয়ারম্যান। পরে সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষমতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের আসন্ন বাংলাদেশ সফর এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আগস্ট মাসে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় রাখার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিএনপি প্রধান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণার পরই রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে বসতে যাওয়া জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে।

রেলের জমি লিজ নয়, বাতিল হবে বিদ্যমান লিজও: রেলপ্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 1 August, 2026, 10:50 pm
রেলের জমি লিজ নয়, বাতিল হবে বিদ্যমান লিজও: রেলপ্রতিমন্ত্রী

রেলের সম্পত্তি নতুন করে আর লিজ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন করে রেলের কোনো জমি লিজ দেওয়া হবে না। বর্তমানে যেসব লিজ রয়েছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে।

যেখানে আইনি বাধা থাকবে না, সেখানে লিজ বাতিল করে জমিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। রেলের অনেক জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রামে রেলের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেসব স্থাপনা ভাড়া দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি একটি গণতান্ত্রিক সরকার। জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহিতা রয়েছে। তাই যেকোনো অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে হাবিবুর রশিদ বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় দলীয়করণের সুযোগ নেই। এরপরও কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যাত্রীসেবা বাড়াতে সরকার কাজ করছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমবে এবং ভ্রমণ সময় প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট কমে আসবে। এছাড়া ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেনের সংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এসময় রেলওয়ে পূর্বাচঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।