খুঁজুন
, ,

জমি জবর দখল করেও দিনমজুরের হাত ভেঙে দিলেন শিক্ষক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 5 January, 2021, 4:46 pm
জমি জবর দখল করেও দিনমজুরের হাত ভেঙে দিলেন শিক্ষক

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরে জমিজমা বিষয়ক পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মোহাম্মদ হোসেন নামের এক দিনমজুরকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছে মোহাম্মদ উল্লাহ মাস্টার নামের এক শিক্ষক। ওই শিক্ষক টুমচর আসাদ একাডেমিতে শিক্ষকতা করছেন।

পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে- লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ২১ নং টুমচর ইউনিয়নের কালিরচর গ্রামের মুসলিম পন্ডিত বাড়ীর মৃত মুসলিম পন্ডিতের ছেলে আতরআলী জীবদ্দশায় তার খরিদকৃত সম্পত্তি থেকে আনুমানিক ১৫ বছর পূর্বে ১৩৮১ খতিয়ানের ৬২৭২ দাগে নাল জমির পূর্ব পাশ দিয়ে মোট জমি থেকে ৩ শতাংশ জমি বিক্রি করেন একই এলাকার টুমচর গ্রামের সালাম চোকিদার বাড়ি প্রকাশ মনির বাপের বাড়ীর মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ মাস্টারের কাছে।

১৫ বছর ধরে ওই জমির পূর্ব পাশ দিয়ে ভোগ দখল করলেও আতর আলী বিগত ৫ বছর পূর্বে মারা যাওয়ার পর এক রকম হঠাৎ করেই মোহাম্মদ উল্লাহ মাস্টার তার দলবল নিয়ে জমির পশ্চিম পাশ দিয়ে জবর দখল করেন। এতে আতর আলীর ৯ ওয়ারিশের মধ্যে জমজ দুই ভাই মোহাম্মদ হাসান (৪৫) মোহাম্মদ হোসেন (৪৫) সহ অন্যান্য ওয়ারিশগণ বাধা দিলে পূর্ব থেকে ওঁতপেতে থাকা মোহাম্মদ উল্লাহ মাস্টারের পেটোয়াবাহিনী তোফায়েলের ছেলে শরীফ(২৬)ও শহীদ(২৩), মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে ইউসুফ (৩৮),আব্দুর রহিমের ছেলে জসীম(৩৫) ও মহিন (৩৮) সহ আরো ৫/৭জন সঙ্গবদ্ধ হয়ে লোহার রড, দা, লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এসময় মোহাম্মদ উল্লাহ মাস্টারের লোহার রডের আঘাতে মোহাম্মদ হোসেনের ডান হাতের কব্জি ভেঙে যায় ও মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়।

আহতদের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। যার রেজিঃনং ২৪১২৭/৭২

প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ শরীফ হোসেন বলেন – মারামারীর ভিতরে শোরগোল শুনে আমি এগিয়ে গেলে মোহাম্মদ উল্লাহ মাস্টার আমাকে হুমকি ধামকি দেয় আমি যেনো সামনের দিকে এগিয়ে না যাই। সে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মোহাম্মদ হোসেন ও হাসানদের উপর মারধোর করতে থাকে।

আহত মোহাম্মদ হোসেনের স্ত্রী পাখি বেগম বলেন- আমার স্বামীকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয় ও মাথায় রক্তাক্ত জখম করে মোহাম্মদ উল্লাহ মাস্টার ও তার পেটোয়া বাহিনী। আমি এর বিচার চাই।

মোহাম্মদ উল্লাহ মাস্টারের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কয়েকদফা চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এই নিয়ে টুমচর ইউনিয়ন পরিষদে কয়েকদফা সালিশ বৈঠকে বসলেও সুনির্দিষ্ট কোনো মীমাংসা না হওয়ায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ হাসান বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নুরুল আমিন বলেন এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। আমরা বসে সমাধানের চেষ্টা করেছি তবে সমাধান করতে পারেনি।

এদিকে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ হোসেন ও হাসান তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে এ প্রতিবেদকের কাছে উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেন।

২৪ ঘণ্টা/আকাশ

Feb2
Feb2

১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 7:54 pm
১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা স্থগিত

চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সব জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

চট্টগ্রাম বোর্ডের জেলাগুলো হলো- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।

শনিবার (১০ জুলাই) বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটিতে বন্যায় সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় এমপি ও দলীয় সকল সংগঠনের নেতাকর্মীদের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরই মধ্যে ত্রাণ বাবদ ২ কোটি টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়াও উদ্ধার কার্যক্রমে নিয়োজিত রাখা হয়েছে বিজিবি, সেনাবাহিনী, কোস্ট গার্ডসহ সরকারি বিভিন্ন বাহিনীকে। প্রস্তুত করা হয়েছে ১ হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র। আশ্রয়কেন্দ্রে ওষুধ, স্যানিটেশনসহ স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার নানা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান ড. মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকার দায়বদ্ধতা ও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এর আগে, শুক্রবার বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার শনিবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

দুর্যোগের পর থেকেই কোথায় কী লাগবে, সবই জানছেন প্রধানমন্ত্রী: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 7:13 pm
দুর্যোগের পর থেকেই কোথায় কী লাগবে, সবই জানছেন প্রধানমন্ত্রী: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

দুর্যোগের শুরু থেকেই চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী এবং বন্যাদুর্গত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে৷ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার রশিদের পুকুর এলাকায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনাদের দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। কোথায় কী লাগবে, কী প্রয়োজন—সবকিছু তিনি জানেন। গতকালও তিনি আমাকে বলেছেন, আপনি সেখানে যান, কী কী লাগবে দেখে আসেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আজ আপনাদের মাঝে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে আপনাদের খোঁজ নিতে পাঠিয়েছেন। আমরা এমন একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি, যিনি দেশের মানুষের কল্যাণে ২৪ ঘণ্টাই চিন্তা করেন। সরকার যে কোনো দুর্যোগে আপনাদের পাশে আছে। আপনাদের জন্য যা যা প্রয়োজন, সরকার তা দিতে প্রস্তুত।

এম ইকবাল হোসেইন বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনেও সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কাজ করবে সরকার: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:38 pm
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কাজ করবে সরকার: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী

বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

পাহাড় ধসের ঝুঁকি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারি খাসজমি ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবহার করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

নির্বিচারে পাহাড় কাটা ও বন উজাড়ের কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হলে এর বিরূপ প্রভাব পড়বেই।

বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুদ রয়েছে। সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্ভাব্য রোগব্যাধি প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পুনর্বাসনে সরকার কাজ করবে। কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শিশু খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী শিশু খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় পানি পরিশোধন যন্ত্র ও বোতলজাত পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল সভায় বন্যাকবলিত জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।