খুঁজুন
সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়ি ভাঙচুরকারীদের গ্রেপ্তারসহ সকল ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষার দাবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়ি ভাঙচুরকারীদের গ্রেপ্তারসহ সকল ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষার দাবি

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়ি ভাঙচুরকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং সকল ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকবৃন্দ আয়োজিত সমাবেশ ও পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে। পাশপাশি কর্মসূচি থেকে সরকারের কাছে পাঁচদফা দাবিও জানানো হয়।

শুক্রবার (০৮ জানুয়ারি) বিকালে নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে আয়োজিত নাগরিক সমবেশ থেকে বক্তারা বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সুতিঁকাগার চট্টগ্রাম সবসময় সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। যাত্রামোহন সেনগুপ্ত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিভক্ত ভারত থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা থাকা দেশে মানুষ ভ্রমণের জন্য যায়। অথচ চট্টগ্রামে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন স্থাপনা থেকেও তা রক্ষা করা হয়নি। বারবার এসব ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলো ভেঙ্গে ফেলার চক্রান্ত হয়েছে। যাত্রামোহন সেনগুপ্তের ঐতিহাসিক বাড়ির সামনের অংশ ভেঙ্গেছে বুলডোজার দিয়ে।

সরকারের পক্ষ থেকে তা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি উল্লেখ করে সমাবেশ থেকে বলা হয়, নতুন প্রজন্ম কিভাবে জানবে এটা ঐতিহাসিক স্থাপনা? তাদের ইতিহাস ভুলিয়ে দেয়া হচ্ছে। যার ফলে মৌলবাদীরা এসবের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সাহস পায়। যারা এসব স্থাপনায় আঘাত করেছে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে ঘটনা তদন্ত করা হোক। একইসাথে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল স্মৃতি সংরক্ষণ করার দাবি জানান বক্তারা।

সাংবাদিক মিন্টু চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সিপিবি’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড শাহ আলম বলেন, আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়ির আইনি জটিলতা নিরসনের। এজন্য সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসতে হবে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সকল স্থাপনাকে আমরা হারিয়ে যেতে দিব না। এই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি আমরা তুলে ধরব। অবিলম্বে এ স্থাপনা ভাঙ্গচুরকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এমন স্থাপনা ভাঙচুরকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক। যারা এমন দৃষ্টতা দেখিয়েছে তাদের শাস্তি দেয়া হোক। পাশপাশি এমন স্থাপনাকে সংরক্ষণ করে জাদুঘর করা হোক।

নারী নেত্রী নুর জাহান খান বলেন, চট্টগ্রামের তরুণ সাংবাদিকরা যাত্রামোহন সেনের বাড়ি রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে। এই আন্দোলনটি তারাই পরিচালনা করেছে। চট্টগ্রামের এসব স্মৃতি স্থাপনায় আঘাত করেছে ভূমিদস্যুরা। কত বড় দুঃসাহস তারা দেখিয়েছে, এর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হতে হবে।

একাত্তরের গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা কাজী নুরুল আবছার সংহতি জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের দল সরকারে থাকা অবস্থায় কেন এমন হচ্ছে বারবার। এদেশ সিরিয়া, পাকিস্তান হবে না। যাত্রামোহন সেনের বাড়ি ভাঙচুর করে যে দৃষ্টতা ভূমিদস্যুরা দেখিয়েছে তার বিচার হতেই হবে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা এ নিয়ে আন্দোলনে রাজপথে থাকবো।

খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটির সভাপতি ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, লালন ভাস্কর্য ভেঙ্গেছে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে, এসবে প্রশ্রয় পেয়েছে বলে এবার ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিধন্য যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়ির ওপর আঘাত এসেছে। আগের ঘটনাগুলোর সাথে আপোষ হয়েছে বলে ভূমিদস্যুরা এ সুযোগ পেয়েছে। তিনি অপরাধের সাথে যুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, ভূমিদস্যুরা প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এই ভাঙচুর চালিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এসব স্মৃতিচিহ্ন ঐতিহ্য এবং বধ্যভূমি রক্ষা করতে হবে, দেশকে বাঁচাতে হবে। সম্মিলিতভাবে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে যাত্রামোহন সেনগুপ্তের বাড়ি রক্ষা করতে হবে।

সমাবেশে খেলাঘর কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, সংবিধান মানুষের জন্য, যারা সংবিধান মানে না তারা পশু। মুক্তিযুদ্ধের সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সংবিধান বিরোধী এমন কর্মকান্ড মানা যায় না। দেশে গণতন্ত্র আছে বলা হলেও এখানে চলছে লুটপাট। আর লুটপাট ও সুশাসন এক সাথে চলে না। আমরা জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও যাত্রামোহন সেনের বাড়ি রক্ষার আন্দোলন চালিয়ে যাব। এই বাড়িটি সংক্ষণ করতে হবে।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক উত্তম চৌধুরী, জামাল খান ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, উদীচী’র সংগঠক শীলা দাশগুপ্তা, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদ হাসান, ন্যাপনেতা মিটুল দাশগুপ্ত, সিপিবি চট্টগ্রামের নারী সেলের আহবায়ক রেখা চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ওমর ফারুক রাসেল, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের টিভি ইউনিটের প্রধান মাসুদুল হক, চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান সাংবাদিক আলীউর রহমান, বিপ্লবী তারকেশ্বও দস্তিদার স্মৃতি সংলক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিঞ্চন ভৌমিক, বোধন আবৃত্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রণব চৌধুরী, কবি ও সাংবাদিক আহমেদ মুনীর চৌধুরী, ছাত্র ইউনিয়নের জেলা সাধারণ সম্পাদক ইমরান চৌধুরী।

বিপ্লবীদের স্মৃতিধন্য স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো সংরক্ষণের দাবি নিয়ে নাগরিকদের পদযাত্রা নগরীর রহমতগঞ্জে যাত্রামোহন সেনগুপ্তর বাড়ির সামনে গিয়ে কমর্সূচি সমাপ্ত করেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অশোক সাহা।

কর্মসূচিতে সংহতি জানায় মহিলা পরিষদ, খেলাঘর, ছাত্র ইউনিয়ন, বোধন আবৃত্তি পরিষদ, নাট্য সংগঠন ফেইম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ অসংখ্য সংগঠন।

নাগরিক সমাবেশ থেকে ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষা এবং তা সংরক্ষণসহ পাঁচদফা দাবি ঘোষণা করেন সাংবাদিক প্রীতম দাশ।

দাবিগুলো হল-১. যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের বাড়ি ভাঙচুরকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ২.দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের ঐতিহাসিক বাড়িসহ সম্পত্তি সরকারি অধিগ্রহণ এবং সেখান সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাদুঘর স্থাপন করতে হবে এবং সেখানে অতীতের সকল লিজ/ইজারা বাতিল করতে হবে। ৩. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনা সংরক্ষণ করতে হবে। ৪. মাস্টার দা সূর্যসেনসহ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সকল যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কের নামকরণ করতে হবে এবং পাঠ্যপুস্তকে বিপ্লবী কর্মকান্ডের সঠিক ইতিহাস যুক্ত করতে হবে। ৫. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্ম ও মৃত্যুদিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে।

Feb2

শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে হারাল আইভরি কোস্ট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:২০ পূর্বাহ্ণ
শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে হারাল আইভরি কোস্ট

ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় আমাদ দিয়ালোর শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে আইভরি কোস্ট।

দক্ষিণ আমেরিকার দলটি তিনবার পোস্ট ও বারে আঘাত করে গোলবঞ্চিত হয়। অন্যদিকে আইভরি কোস্টও একবার বারে আঘাত করেছিল। অবশেষে ৯০তম মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ড ডি-বক্সের কোনা থেকে বল জালে জড়ান।

প্রথমার্ধে ইকুয়েডর তুলনামূলক ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। ইমানুয়েল আগবাদুর ভুলের সুযোগ নিয়ে পেনাল্টি এরিয়ায় জায়গা পেয়েও এনার ভ্যালেন্সিয়া বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন।

জন ইয়েবোহ গোলের আরও কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন, কিন্তু ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া তার শটটি বারে লেগে ফিরে আসে। এছাড়া পেড্রো ভিটের থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে অ্যালান মিন্দার শটও পোস্টে আঘাত করে।

১৯ বছর বয়সী ইয়ান দিওমান্দে আইভরি কোস্টের ডান প্রান্তে বেশ চমৎকার খেলছিলেন, কিন্তু তার তৈরি করা আক্রমণগুলো থেকে দল সুবিধা নিতে পারছিল না। নিকোলাস পেপে একটি সুযোগে শট নিতে বেশ দেরি করে ফেলেন এবং তার অন্য একটি শট সতীর্থ এলি ওয়াহির গায়ে লেগে প্রতিহত হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গঞ্জালো প্লাতার সাথে চমৎকার ওয়ান-টু পাসের পর ভ্যালেন্সিয়ার শটটি পোস্টের বাইরের দিকে লাগে। তবে বিরতির পর আইভরি কোস্টই বেশি ভালো সুযোগ তৈরি করতে শুরু করে।

দুর্দান্ত খেলতে থাকা দিওমান্দে বক্সে ঢুকে দুইবার শট নিলেও তা পোস্টের ওপর ও বাইরে দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে তার একটি ক্রস থেকে ওয়াহির নেওয়া শটও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

অন্যপ্রান্তে, প্লাতার ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া একটি শট দারুণভাবে রক্ষা করেন ইয়াহিয়াহ ফোফানা। জোয়েল অর্ডোনেজ একটি ফ্রি-কিক থেকে হেডের মাধ্যমে বল বারের ওপর দিয়ে পাঠান। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে উইলফ্রিড সিঙ্গোর চমৎকার দৌড় ও ক্রসের পর ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে নিখুঁত শটে বল পোস্টের ভেতরের দিকে পাঠিয়ে শেষ পর্যন্ত ডেডলক ভাঙেন দিয়ালো।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল নেদারল্যান্ডস-জাপান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল নেদারল্যান্ডস-জাপান

গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর চার গোলের ম্যাচ হবে তা হয়তো ভাবেননি অনেকেই। দুইবার লিড নিয়েও পূর্ণ পয়েন্ট পাওয়া হলো না নেদারল্যান্ডসের। নিশ্চিত হারতে বসা ম্যাচের অন্তিম মূহুর্তে গোল করে জাপানকে এক পয়েন্ট এনে দিলেন দাইচি কামাদা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল না হলেও সুযোগের কমতি ছিল না। বিশেষ করে ৩৪ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। কর্নার থেকে ডনিয়েল মালেনের হেড লক্ষ্যভেদ করতে যাচ্ছিল, কিন্তু অসাধারণ দক্ষতায় বল ঠেকিয়ে দেন জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। প্রথমার্ধে জাপানকে বাঁচিয়ে রাখা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভের একটি ছিল সেটি।

আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা প্রথম ৪৫ মিনিটে অবশ্য কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পরই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫১ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে দুর্দান্ত হেডে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। পোস্টে লেগে জালে জড়ানো বলটি ছিল দেশের হয়ে কোনো বড় টুর্নামেন্টে তার প্রথম গোল। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পিছিয়ে পড়ার মাত্র ছয় মিনিট পরই জবাব দেয় জাপান। বাঁ প্রান্ত দিয়ে গড়ে ওঠা দারুণ এক আক্রমণ থেকে কেইতো নাকামুরা গোল করে সমতা ফেরান।

ম্যাচ তখন পুরোপুরি জমে উঠেছে। ৫১ থেকে ৬৪ মিনিট—মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে দেখা মেলে তিন গোলের। ৬৪ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। এবার গোল করেন ক্রিসেনসিও সামারভিল।

দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি জাপান। শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণে ডাচ রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তারা। তার ফলও পায় ম্যাচের ৮৯ মিনিটে। দাইচি কামাদা গোল করে সমতা ফেরালে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হতাশ হতে হয় নেদারল্যান্ডসকে।

রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ২–২ সমতায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি

বিশ্বকাপ অভিষেকে মাত্র ২১ মিনিটেই গোল করে ইতিহাস গড়েছিল কুরাসাও। ঐতিহাসিক সেই গোলের পর ধারাভাষ্যকার ইয়ান ডার্ক বলেন, ‘হিউস্টনে ইতিহাস। মাত্র এক লাখের একটু বেশি মানুষের একটি দেশ কোটি কোটি মানুষকে বিস্মিত করে দিয়েছে।’ তখনও ইয়ান জানতেন না ব্রাজিলের বিপক্ষে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ৭-১ গোলের স্মৃতি ফেরাতে যাচ্ছে জার্মানি। কুরাসাওকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছে জার্মানরা।

কুরাসাওয়ের জালে বল পাঠাতে জার্মানির সময় লেগেছিল মাত্র ৬ মিনিট। মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচার গোলে শুরুতেই এগিয়ে যায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে কুরাসাওকে কঠিন এক পরীক্ষার মুখেই পড়তে হবে। কিন্তু হিউস্টনের স্টেডিয়ামে এরপর দেখা গেল ভিন্ন এক গল্প।

মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই চমকে দেয় জার্মানিকে। ২১ মিনিটে সমতায় ফেরে তারা। ডান প্রান্ত থেকে আক্রমণে উঠে আসা রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়া বক্সের ভেতর বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে পরাস্ত করেন ম্যানুয়েল নয়্যারকে। বল জড়িয়ে যায় জালে, আর গর্জে ওঠে গ্যালারিতে থাকা কুরাসাও সমর্থকেরা।

গোলের পর কোমেনেনসিয়ার উদযাপনও ছিল নজরকাড়া। রেসলিং তারকা জন সিনার বিখ্যাত ‘ইউ ক্যান্ট সি মি’ ভঙ্গিতে উদ্‌যাপন করেন তিনি। গোলের পর ধারাভাষ্যকার ইয়ান ডার্ক আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, ‘হিউস্টনে ইতিহাস। মাত্র এক লাখের একটু বেশি মানুষের একটি দেশ কোটি কোটি মানুষকে বিস্মিত করে দিয়েছে।’

বিশ্বকাপ ইতিহাসের জনসংখ্যার বিচারে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে খেলতে নামা কুরাসাও অবশ্য বেশিক্ষণ সমতা ধরে রাখতে পারেনি। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেডে গোল করেন নিকো শ্লটারবেক। তার গোলে আবারও এগিয়ে যায় জার্মানি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ান কাই হাভার্টজ। ফেলিক্স এনমেচাকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পটকিক থেকে লক্ষ্যভেদ করেন হাভার্টজ।

বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জার্মানি। ৫২ মিনিটে ইয়োশুয়া কিমিখের পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। তাতে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪–১। এরপর কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ যেন ভেঙে পড়ে। ৬৮ মিনিটে পঞ্চম গোলটি করেন লেফটব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন। ১০ মিনিট পর গোলদাতাদের তালিকায় নাম লেখান ডেনিজ উনদাভ। জার্মানদের গোল উৎসব শেষ হয় ম্যাচের শেষ দিকে। কাই হাভার্টজ নিজের দ্বিতীয় ও দলের সপ্তম গোলটি করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৭–১।

একসময় সমতায় ফেরা কুরাসাও শেষ পর্যন্ত আর জার্মানদের আক্রমণের ঢেউ সামলাতে পারেনি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই বড় জয় তুলে নিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।