খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে আসুন- ডা: শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে আসুন- ডা: শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রচার প্রচারণার শেষ দিনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা: শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বিএনপি দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম ও জনপ্রিয় দল হিসেবে জনগণের প্রতি রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা থেকে চসিক নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। চট্টগ্রামের জনগণের প্রত্যাশা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। বিএনপিরও প্রত্যাশা সুষ্ঠু প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের নেতা, মন্ত্রী-এমপিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছে। তিনি নগরবাসীকে সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে আসার আহবান জানান।

আজ সোমবার (২৫ জানুয়ারী) দিনব্যাপী জামালখান, এনায়েত বাজার ও আলকরণ ওর্য়াডে গণসংযোগ চলাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি নেতাকর্মী সমর্থকদের সাথে নিয়ে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করে পুরাতন বিমান অফিস রোড, আসকার দিঘীর পাড়, হেমসেন লেইন, মোমিন রোড, বৌদ্ধমন্দির, এনায়েত বাজার, তিন পুলের মাথা, আমতল, নিউ মার্কেট মোড়, ষ্টেশন রোড, বিআরটিসি মোড়, বাটালী রোড়, লাভলেইন, কাজীর দেউড়ি হয়ে দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

তিনি বলেন- নির্বাচনের প্রচারণায় আমি যে এলাকায় গিয়েছি, বিএনপির প্রতি, ধানের শীষের প্রতি সাধারণ মানুষের জোয়ার দেখেছি। সেই জোয়ার দেখে আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী-এমপিদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা বিএনপির নেতাকর্মীদের পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় দলবাজ, অতি উৎসাহী কর্মকর্তা এবং নিজেদের দলের গুন্ডা-মাস্তানদের লেলিয়ে দিয়েছে। এপর্যন্ত আমাদের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। বাসায় বাসায় গিয়ে হয়রানি করছে। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিচ্ছে। গুম-খুনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমার প্রচারণায় একাধিকবার হামলা হয়েছে। আইনের পোশাক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় কর্মকর্তা বেআইনি কাজ করছে।

ড: শাহাদাত বলেন, বর্তমানে ভোটের পরিবেশ অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে তারা আদৌ ভোট দিতে পারবে কি না। নির্বাচনকে বানচালের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমরা পরিস্কার বলে দিতে চাই, নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে জনরায় মানতে বিএনপি প্রস্তুত। ভোটের মাধ্যমে যে রায়ই আসুক বিএনপি স্বাগত জানাবে। কিন্তু বিএনপির পক্ষে গণসমর্থন-গণজোয়ার দেখে ভীত হয়ে ভোট কেড়ে চেষ্টা করলে, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জনরায় পাল্টানোর চেষ্টা করলে চট্টগ্রামের জনগণ মেনে নেবে না। চট্টগ্রামবাসী আওয়ামী লীগের এ অগণতান্ত্রিক আচরণের কঠোর জবাব দেবে।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের হারাবার কিছু নেই। মামলা-হামলা, গুম-খুন গত ১৪ বছর ধরে আমরা মোকাবেলা করে আসছি। শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে আমাদের ভোটকেন্দ্রে থাকতে হবে। মানুষের রায় যাতে কেউ ছিনতাই করতে না পারে, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাস রুখে দাঁড়াতে হবে। ভোটারদের অনুরোধ করব, আপনারা সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে আসুন। দেশকে গণতন্ত্রের ধারায় নিয়ে যেতে চাইলে আপনাদের ভয় উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে আসতে হবে, নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে হবে। বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী আপনাদের পাশে আছে। আপনাদের রক্ষায় নেতাকর্মীরা বুক পেতে দেবে।

গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, নাগরিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক একরামুল করিম, বিএনপির কেন্দ্রিয় সদস্য ব্যারিষ্টার মীর মো. হেলাল উদ্দিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সদস্য গাজী সিরাজ উল্লাহ, কামরুল ইসলাম, বিএনপিনেতা সিহাব উদ্দীন মোবিন, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাঃ সম্পাদক জাকির হোসেন, আলকরন ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী দিদারুর রহমান লাভু, জামাল খান ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আবু মহসিন চৌধুরী, মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী আরজুন নাহার মান্না, মহিলাদলের সাঃ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাঃ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু. বিএনপিনেতা মুজিবর রহমান চেয়ারম্যান, আবদুল বাতেন, সালাউদ্দীন লাতু, আবু আবু আহমেদ চৌধুরী, কাজী শাহজান, আলী আব্বাস খান, তৌহিদুস সালাম নিশাদ, জসিম মিয়া, অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ জিয়াউর রহমান জিয়া, আলী মর্তুজা খান, মোঃ সেলিম, জমির উদ্দীন নাহিদ, মোঃ সেলিম, দেলোয়ার হোসেন, দিদারুল আলম, আবদুল জলিল, মোঃ পেয়ারু, আনোয়ার হোসেন, জসিম উদ্দীন, ইদ্রিস বাবুল, আবদুল্লাহ আল মামুন, আকবর হোসেন, এ এফ রুমি, খলিলুর রহমান, সৈয়দ সাফোয়ান আলী, মোঃ জাহেদ, মোঃ জহির।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।