খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পৌরসভা নির্বাচন: আ’লীগ ৪৬,বিএনপি ৩,অন্যন্য ১৪

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২১, ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
পৌরসভা নির্বাচন: আ’লীগ ৪৬,বিএনপি ৩,অন্যন্য ১৪

তৃতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা। শনিবার তৃতীয় ধাপে ৬২ পৌর সভায় ভোট হয়েছে। একটি পৌরসভায় তিন পদে সবাই আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় সেখানে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। সেই হিসাবে ৬৩ পৌরসভায় ফলাফলে আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছে ৪৬টিতে।

এরমধ্যে ৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই নির্বাচিত হয়েছেন। এ ধাপে বিএনপির প্রার্থী মেয়র হয়েছেন ৩ জন। স্বতন্ত্র মেয়র হয়েছেন ১৪ জন; তবে স্বতন্ত্রদের সবাই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুয়ায়ী, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে বগুড়ার শিবগঞ্জে তৌহিদুর রহমান মানিক, নন্দীগ্রামে আনিসুর রহমান ও ধুনটে বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র এজিএম বাদশাহ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আওয়ামী লীগের জি এম মীর হোসেন মীরু ও বরুড়ায় মো. বক্তার হোসেন ওরফে বখতিয়ার, সিলেটের গোলাপগঞ্জে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) আমিনুল ইসলাম রাবেল, জকিগঞ্জে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) আব্দুল আহাদ, নওগাঁর ধামইরহাটে আমিনুর রহমান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া যশোরের মণিরামপুরে আওয়ামী লীগের মাহমুদুল হাসান, চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় মতিয়ার রহমান, দিনাজপুরের হাকিমপুরে জামিল হোসেন চলন্ত, নড়াইলের নড়াইল পৌরসভায় আঞ্জুমান আরা, কালিয়ায় ওয়াহিদুজ্জামান হীরা, ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু পৌরসভায় ফারুক হোসেন ও কোটচাঁদপুর (বিদ্রোহী) শহিদুজ্জামান সেলিম, শেরপুর নকলায় হাফিজুর রহমান লিটন, নালিতাবাড়ীতে আবু বক্কর সিদ্দিকী, নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আলাউদ্দিন আলাল, কুড়িগ্রামের উলিপুরে মামুন সরকার মিঠু, ঝালকাঠির নলছিটিতে আব্দুল ওয়াহেদ কবির খান, মৌলভীবাজারে ফজলুর রহমান, মুন্সীগঞ্জে হাজী মো. ফয়সাল বিপ্লব, রাজবাড়ীর পাংশায় মো. ওয়াজেদ আলী মন্ডল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

রাজশাহীর দুটি পৌর সভার একটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও একটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন।
মোহনপুরের কেশরহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের শহিদুজ্জামান শহিদ, তানোরের মুন্ডমালা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) সাইদুর রহমান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) মুকিতুর রহমান রাফি, নাটোরের সিংড়ায় আওয়ামী লীগের জান্নাতুল ফেরদৌস, নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলার হাতিয়া পৌরসভায় কেএম ওবায়দুল্লাহ বিপ্লব বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

টাঙ্গাইলে ৫টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীরা জয় লাভ করেছেন। এরমধ্যে টাঙ্গাইল পৌরসভায় এস এম সিরাজুল হক আলমগীর, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সালমা আক্তার, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মো. মাসুদুল হক মাসুদ, টাঙ্গাইলের মধুপুরে মো. সিদ্দীক হোসেন, টাঙ্গাইলের সখীপুরে মো. আবু হানিফ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার, জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আওয়ামী লীগের মো: মনির উদ্দিন, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে আওয়ামী লীগের কামাল উদ্দিন খান এবং গৌরনদীতে হারিছুর রহমান, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটোয়ারী, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী শওকত উসমান, ভোলার দুই পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছেন।

এরমধ্যে ভোলার বোরহানউদ্দিনে মো. রফিকুল ইসলাম, দৌলতখানে জাকির হোসেন তালুকদার, পাবনা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) শরীফ উদ্দিন প্রধান, ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে আওয়ামী লীগ (বিদ্রোহী) মো. মতিউর রহিমান খান, সাতক্ষীরার কলারোয়া আওয়ামী লীগের মনিরুজ্জামান বুলবুল, বরগুনা পৌরসভায় অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ, পাথরঘাটায় আনোয়ার হোসেন আকন ও জামালপুরের সরিষাবাড়িতে আওয়ামী লীগের মনির উদ্দিন এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার চোকদার, জাজিরা আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র ইদ্রিস আলী মাদবর, নড়িয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ, ফেনী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, নীলফামারী জলঢাকায় আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) ইলিয়াস হোসেন বাবলু, ময়মনসিংহের ভালুকায় আওয়ামী লীগের ডা. মেজবাহ উদ্দিন কাইয়ুম, খুলনার পাইকগাছায় আওয়ামী লীগের সেলিম জাহাঙ্গীর ও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়র আ স ম মাহবুবুল আলম লিপন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্যদিকে বগুড়ার কাহালু পৌরসভায় বিএনপি আব্দুল মান্নান ওরফে ভাটা মান্নান, গাবতলীতে বিএনপি প্রার্থী বর্তমান মেয়র সাইফুল ইসলাম পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া নওগাঁ পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী নজমুল হক সনি। এদিকে পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. গোলাম কবির বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছে। নৌকা তিনি পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহমুদুর রহমান খান (মোবাইল ফোন) মার্কা ৩ হাজার ১৪৪ ভোট পেয়েছেন।

এ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ও সাবেক মেয়র গোলাম কবিরের সাথে কলেজ শিক্ষক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথম নির্বাচনে অংশ নেওয়া মো. মাহমুদুর রহমান খানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের লড়াই ছিল চমক। আর এ কারণে ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় ছিল এই স্বতন্ত্র প্রার্থী।

দলীয় প্রতীকের এ ভোটে মেয়র পদে প্রথম ধাপে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে ১৮ জন, বিএনপির দুই জন এবং তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন। দ্বিতীয় ধাপে আওয়ামী লীগের ৪৫ জন, বিএনপির ৪ জন, জাতীয় পার্টির ১ জন, জাসদের ১ জন ও ৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মেয়র পদে বিজয়ী হন। মহামারির মধ্যে প্রথম ধাপে ৬৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ধাপে ৬২ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়।

Feb2

চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া মা-নবজাতকের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া মা-নবজাতকের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় অসুস্থ স্ত্রী ও নবজাতককে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছেন এক পাষণ্ড স্বামী। এমন অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান নবজাতক কন্যা ও তার অসহায় মাকে দেখতে। শুধু খোঁজখবরই নয়, জেলার অভিভাবক হিসেবে নবজাতকের দায়িত্বও গ্রহণ করেন তিনি।

জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল প্রসববেদনা উঠলে গর্ভবতী শাহনাজ বেগম শেলী নিজেই চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা প্রথমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চালালেও জটিলতার কারণে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তবে সন্তান জন্মের পরপরই স্বামী বেলাল আহমেদ তাকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান। একদিকে অসুস্থ মা, অন্যদিকে নবজাতক—দুজনেই পড়েন চরম অনিশ্চয়তায়।

এরই মধ্যে ২০ এপ্রিল নবজাতকের শরীরে জন্ডিস ধরা পড়ে। দ্রুত তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ)-তে ভর্তি করা হয় এবং ফোটোথেরাপি দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনার খবর পেয়ে সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম নিজেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করেন এবং শিশুটির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেন। আজ মঙ্গলবার নিজেই হাসপাতালে গিয়ে মা ও শিশুর পাশে দাঁড়ান।
এ সময় তিনি নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি নবজাতকের জন্য শিশু খাদ্য, পোশাক, ডায়াপার, বিছানাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং মায়ের জন্য পোশাক ও এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, “বাচ্চাটি এখন সুস্থ আছে। খুব শিগগিরই তাকে মায়ের কাছে দেওয়া হবে। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা ও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করছি।”

তিনি আরও বলেন,“এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেউ যেন নিজের পরিবারকে এভাবে ফেলে না যায়—এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

নবজাতকের মা শাহনাজ বেগম বলেন, “তার স্বামী আগেই বলেছিল মেয়ে সন্তান হলে রাখবে না। সন্তান জন্মের পর থেকেই সে আর কোনো খোঁজ নেয়নি। আমি নিজেই কষ্ট করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। এখন আল্লাহর রহমতে আমি ও আমার বাচ্চা ভালো আছি।”

তিনি জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,“ডিসি স্যার আমাদের পাশে না দাঁড়ালে কী যে হতো জানি না। তিনি অনেক সহযোগিতা করেছেন।”

শাহনাজারের প্রতিবেশী আকলিমা আক্তার জানান, “ডিসি স্যার ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলার পর থেকেই হাসপাতালের সবাই আরও বেশি যত্ন নিচ্ছেন। এমনকি তিনি একজন কর্মচারীকেও দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, যাতে সব সময় খোঁজ রাখা হয়।”

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও এনআইসিইউ প্রধান ডা. মোহাম্মদ শাহীন বলেন, “প্রতিটি রোগীই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে জেলা প্রশাসক নিজে থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন এবং শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করেছেন। আমরাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আজ জেলা প্রশাসককে মা ও শিশুর জন্য উপহার নিয়ে আসতে দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক উদ্যোগ।”

হাসপাতালে উপস্থিত রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যেও জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বর্তমানে নবজাতকটি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবিক সংকটে প্রশাসনের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়াবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সন্ত্রাসী ভাড়া করে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
সন্ত্রাসী ভাড়া করে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত

টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে ২০ হাজার টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া করে রাজধানীর মহাখালী জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালক ড. আহমদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে জানায় র‍্যাব।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানী কাওরানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি বলেন, মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ড. আহমদ হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় ৫ ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় তার হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-১ ও সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। তারই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে দক্ষিণখান থেকে শরিফুল আলম করিম, বাড্ডা থেকে আমিনুল ইসলাম কালু, সাজ্জাদ বদি, সালাউদ্দিনকে এবং আরিফুজ্জামানকে গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই দ্বন্দ্ব থেকেই ২০ হাজার টাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এতে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানায় র‍্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, টেন্ডারকে ঘিরে বিরোধে জড়িত দুটি গ্রুপের মধ্যে একটি ‘রুবেলের ইএমই ট্রেডার্স’ এবং অন্যটি ‘মোনায়েম গ্রুপ’। এর মধ্যে রুবেল মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তার পক্ষে দেশে থাকা শরীফুল আলম করিমসহ অন্যরা কাজটি সম্পন্ন করেন।

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছে, মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। হামলার ধরণ দেখে মনে হয় এটি হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, যা তদন্তে সহায়ক হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী রুবেল বিদেশে অবস্থান করছে। তবে তিনি এই টেন্ডার কমিটিতে ছিলেন কিনা সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি র‍্যাব।

ডাকাতি নয়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে নওগাঁয় চার খুন : পুলিশ সুপার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
ডাকাতি নয়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে নওগাঁয় চার খুন : পুলিশ সুপার

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড ডাকাতি নয়, জমিজমা সংক্রান্ত জেরে হয়েছে বলে জানিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিলি) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।

এদিকে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা ও হালিমা এবং ভাগনে সবুজ রানা (২৫)।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিকভাবে এ হত্যাকাণ্ড কোনো ডাকাতি বা দস্যুতা ওই রকম ঘটনা মনে হচ্ছে না। ঘটনাটি পরিবার সংক্রান্ত বা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হতে পারে। যে গৃহবধূ মারা গেছে তার কানে এখনো গহনা (দুল) রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট একযোগে কাজ করছে। দ্রুতই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।

এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতের কোনো এক সময় বাড়ির ভেতরেই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকলে তাদের মরদেহ দেখতে পান। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমানের বোন শিরিনার সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে আগেও তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করেন, তার মেয়ের ননদ শিরিনা ও তার ছেলে সবুজ রানা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তারা তার মেয়ে ও জামাইকে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।