খুঁজুন
, ,

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মৃত্যুবার্ষিকীতে চাচার প্রতি নওফেলের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 4 November, 2019, 3:50 pm
আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মৃত্যুবার্ষিকীতে চাচার প্রতি নওফেলের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

আজ ৪ নভেম্বর বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। তার শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন ছাড়াও আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্দ্যেগে দিনব্যাপী স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এছাড়াও মরহুমের আনোয়ারা হাইলধরের গ্রামের বাড়িতে পরিবারের পক্ষ থেকেও খতমে কোরআন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ছাড়াও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে জানালেন প্রয়াত নেতার বড় ছেলে ভুমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।

এদিকে বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদকে স্মরণ করে ৪ নভেম্বরের প্রথম প্রহরে চাচার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন চট্টগ্রামের আরেক প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কান্ডারি এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট আস্তাবাজন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ও এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর তৎকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চের কয়েকটি ছবিসহ রবিবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৯ মিনিটে নওফেল তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রয়াত এ রাজনীতিবিদকে শ্রদ্ধা জানান।

নওফেল তার ফেসবুক পেইজে বিনম্র শ্রদ্ধা… শিরোনামে লিখেছেন, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু চাচার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী।

তিনি লিখেছেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু চাচা মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ১৯৭২ সালে গঠিত গণপরিষদের সদস্য, স্বাধীনতার পর ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ২০০৮ সালে এম.পি, ১৯৭৮ থেকে আমৃত্যু চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ২০১১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি, এফবিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট ও পরবর্তীতে প্রশাসক, ওআইসি ভুক্ত দেশ সমূহের চেম্বারের প্রেসিডেন্ট, ১৯৮৯ সালে ৭৭ জাতি গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

চট্টগ্রাম মাটি ও মানুষের বন্ধু জননেতা মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু চাচার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

উল্লেখ্য : ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হন বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০১২ সালে ৪ নভেম্বর ৭১ বছর বয়সে আখতারুজ্জামান চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেন। ব্যক্তি জীবনে ৩ ছেলে ও ৩ কণ্যার জনক ছিলেন তিনি।

বড় ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বর্তমানে আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। মেজ ছেলে আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ইসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট ছেলে আসিফুজ্জামান চৌধুরী জিমিও একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৯৪৫ সালে আনোয়ারা হাইলধর গ্রামে আইনজীবী নুরুজ্জামান চৌধুরী ও খোরশেদা বেগমের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। পটিয়া হাইস্কুল থেকে ১৯৫৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করে ঢাকা নটরডেম কলেজে ভর্তি হন ওই বছর। তখন দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হন বাবু।

ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে পড়ার সময় তিনি বৃত্তি পেয়ে আমেরিকার ইলিনয় ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ভর্তি হন। পরে তিনি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশনে পড়ালেখা করেন। সেখান থেকে এসোসিয়েট ডিগ্রি নিয়ে ১৯৬৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফিরেন। ১৯৬৫ সালে ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আনোয়ারা ও পশ্চিম পটিয়া থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য হন। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) হিসেবে আখতারুজ্জামান চৌধুরী ১৯৭২ সালে গঠিত বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য হন এবং বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ২০০৯ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

স্বাধীনতার পূর্বে তিনি বাটালি রোডে রয়েল ইন্ডাস্ট্রি নামে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে আসিফ স্টিল মিল, জাভেদ স্টিল মিল, আসিফ সিনথেটিক, প্যান আম বনস্পতি, আফরোজা অয়েল মিল, বেঙ্গল সিনথেটিক প্রোডাক্ট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। ভ্যানগার্ড স্টিল মিল, সিনথেটিক রেজিন প্রোডাক্ট ক্রয় করে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে জামান শিল্পগোষ্ঠীর গোড়াপত্তন করেন। তিনি বিদেশি মালিকানাধীন আরামিট মিল কিনে নেন। তিনি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল) এর উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

তিনি দু’দফায় চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৮৮ সালে তিনি দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠক এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ওআইসিভুক্ত দেশসমূহের চেম্বারের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৯ সালে তিনি ৭৭ জাতি গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

Feb2
Feb2

পুলিশের যানবাহনে হামলার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য নেই, শুধু ‘রিমাইন্ডার’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 2 August, 2026, 4:17 pm
পুলিশের যানবাহনে হামলার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য নেই, শুধু ‘রিমাইন্ডার’

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক বোমা-আতঙ্ক ও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুলিশকে জারি করা সতর্কতা কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নয়, বরং এটি নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেওয়া একটি ‘রিমাইন্ডার’ বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাব তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা তো জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করে থাকি। পুলিশের পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তাটা দেখতে হয়, কাজেই এই সতর্কতা আমরা সবসময় দিয়ে থাকি। তবুও সম্প্রতি আপনারা দেখছেন যে কয়েকটা বোমার বিষয় এসেছে এবং ফলস কিছু রিউমার ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা তৎপর এবং সব মিলিয়ে আমাদের নিজেদের নিরাপত্তাটা যেন বজায় থাকে, এইজন্য এমন সতর্কতা বিভিন্ন সময় দেওয়া হয়। আগেও এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেন পুলিশের সব যানবাহন থেকে শুরু করে স্থাপনা যেন নিরাপদ থাকে। তাই পুলিশকে আবারও নির্দেশনা দিয়ে রিমাইন্ডার দেওয়া হয়েছে, যেন পুলিশ অধিক সতর্ক থাকে।

তিনি বলেন, যেহেতু ইদানীং বিভিন্ন সত্য মিথ্যা মিলে একটা ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে, সেজন্য একটা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এটা একটা রিমাইন্ডার।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না ওরকম স্পেসিফিক কিছু নেই। তবে আমরা সবসময় সতর্ক থাকি। আমাদের যারা সিনিয়র অফিসার আছেন তারা আমাদের সুপারভাইজার। আমরা যারা ফিল্ডে বিচরণ করি, তারা যেন আরেকটু সতর্ক থাকি সেই জন্য রিমাইন্ডার।

মতিঝিলের ছাতা বোমা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিবি প্রধান বলেন, এটার তদন্ত সিটিটিসি করছে, আমরা আসলে ছায়া তদন্ত করছি। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে আমরা গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। তবে এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে, তাই এখন কিছু বলা যাবে না।

এর পিছনে জড়িত কোনো সংগঠনের নাম পাওয়া গেছে কিনা প্রশ্ন করে তিনি বলেন, এরকম দুই একজন তো থাকবে। এটা তো ধরেন একক ব্যক্তি হিসেবে কেউ করবে না। কেউ করলে কোনো একটা ম্যান্ডেট প্রচার বা তার মতাদর্শ প্রচারের জন্য এরকম কর্মকাণ্ড করে থাকে।

এর আগে শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটে একটি জরুরি বার্তা পাঠিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বার্তায় বলা হয়, উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুর্বৃত্তরা পুলিশের ব্যবহৃত জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এ কারণে ডিউটিরত কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামালে নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে এবং পুলিশের নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। পাশাপাশি ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইনস ও অফিস প্রাঙ্গণে রাখা গাড়িগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

যদিও এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় ও সতর্ক রাখতে নিয়মিত এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এদিকে গত এক সপ্তাহে রাজধানীতে একাধিক বোমা-আতঙ্কের ঘটনা ঘটে। ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর থেকে শক্তিশালী আইইডি উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ। পরে জানানো হয়, সেটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রার পথ লক্ষ্য করে রাখা হয়েছিল।

পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ছাতা বের হয়ে থাকা একটি বস্তা ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও সেটিতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

সবশেষ শনিবার মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ ও বস্তা উদ্ধার হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল জানায়, সেগুলোতে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য ছিল না।

পুলিশ সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই মাঠপর্যায়ের সদস্যদের আরও সতর্ক থাকতে নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিআরএ’র নেতৃত্বে রুবেল-রমিজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 2 August, 2026, 1:24 pm
সিআরএ’র নেতৃত্বে রুবেল-রমিজ

চট্টগ্রামে কর্মরত পেশাদার সংবাদকর্মীদের সংগঠন চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিআরএ)। সংগঠনের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে দুই বছরের পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন করে গঠন করা হয়েছে আহবায়ক কমিটি।

শনিবার (১ আগষ্ট) সিআরএ-এর আগের কমিটির সভাপতি সোহাগ আরেফিন ও সাধারণ সম্পাদক নুরু আমিন খোকনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের ভার্চুয়াল মিটিং ও মতামতের ভিত্তিতে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নতুন আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত কমিটিতে নিউজডে২৪ সম্পাদক মোঃ রুবেল আহ্বায়ক ও দৈনিক সকালের সময় এবং নিউজ ২১ বাংলা টিভির চট্টগ্রাম প্রতিনিধি সাইফুদ্দিন রমিজকে সদস্য সচিব করা হয়।

এছাড়া দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি মোহাম্মদ শাকিল অর্থ সম্পাদক, নিউজ ডে২৪ প্রতিনিধি সাফায়েত মোরশেদ, দৈনিক একুশে সংবাদের রিয়াজ উদ্দিন, দৈনিক সূর্যোদয় পত্রিকার রতন বড়ুয়া ও চট্টগ্রাম পোস্ট’র মাল্টিমিডিয়ার ইনচার্জ কামরুল সিফাত উল্লাহ কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মো:রুবেল বলেন, সকলের মতামত ও আস্থার ভিত্তিতে আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তা সততা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পালন করব। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

সদস্য সচিব সাইফুদ্দিন রমিজ বলেন, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। নির্বাচনী প্রক্রিয়া যেন অংশগ্রহণমূলক,স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়,সে বিষয়ে আহ্বায়ক কমিটি আন্তরিকভাবে কাজ করবে। সকল সদস্যের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি।

এ সময় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 2 August, 2026, 9:18 am
বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর

২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে দলের করণীয় নির্ধারণে বৈঠক করেছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি।

শনিবার (০১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেষ হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের গতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দলের সার্বিক সাংগঠনিক বিষয়গুলো বৈঠকে প্রাধান্য পায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়াই ছিল বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা। সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে শূন্য হওয়া পদে দলের উপযুক্ত প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরই ন্যস্ত করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, সেলিমা রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছে দলের স্থায়ী কমিটি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্পিকার অস্থায়ীভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। তফসিল ঘোষণা হলে দলের পক্ষ থেকে কে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হবেন, সেই দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে স্থায়ী কমিটি ন্যস্ত করেছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কোনো নাম প্রস্তাব বা এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমরা দলের চেয়ারম্যানের ওপরই ন্যস্ত করেছি। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমা হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে যদি একক প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। আর একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, আমরা চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত আছি। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি চলছে।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া স্থায়ী কমিটির অন্তত দুই সদস্য জানান, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন ইস্যুতে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন দলের চেয়ারম্যান। পরে সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষমতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের আসন্ন বাংলাদেশ সফর এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আগস্ট মাসে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় রাখার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিএনপি প্রধান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণার পরই রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে বসতে যাওয়া জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে।