খুঁজুন
বুধবার, ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ১২ বছরের নিরন্তর পরিশ্রমের ফসল : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ১২ বছরের নিরন্তর পরিশ্রমের ফসল : প্রধানমন্ত্রী

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণকে একটি ঐতিহাসিক গর্বের বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গত ১২ বছরের সরকার পরিচালনায় নিরন্তর পরিশ্রম এবং পরিকল্পনার ফসল হচ্ছে আমাদের আজকের এই অর্জন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের যে অর্জন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, তা আমাদের বিগত ১২ বছরের নিরলস পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং প্রচেষ্টার ফসল। দেশের মানুষই এসব করেছেন। আমরা সরকারে থেকে শুধু নীতি-সহায়তা দিয়ে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে জাতিসংঘের সুপারিশ লাভ করা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তৃতায় একথা বলেন।

তিনি আজ গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি এই সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। সাংবাদিকরা পিএমও থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।

জাতির পিতার ছোট মেয়ে ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা- এই তিনটি সূচকের ভিত্তিতে জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করে। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ প্রথমবারের মত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের তিনটি মানদন্ডই খুব ভালোভাবে পূরণ করে। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর অনুষ্ঠিত ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ পুনরায় সকল মানদন্ড অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পূরণের মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করলো।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের পর্যালোচনায় ২০১৯ সালে মাথাপিছু আয়ের মানদন্ড নির্ধারিত ছিল ১ হাজার ২২২ মার্কিন ডলার। ঐ বছর বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৮২৭ ডলার। আর বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ ডলার। অর্থাৎ মানদন্ডের প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ। মানবসম্পদ সূচকে নির্ধারিত মানদন্ড ৬৬-এর বিপরীতে বাংলাদেশের অর্জন ৭৫ দশমিক ৪। অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচকে উত্তরণের জন্য মানদন্ড নির্ধারিত ছিল ৩২ বা তার কম। কিন্তু ঐ সময়ে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৭।

শেখ হাসিনা বলেন, এক যুগ আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। আজকের বাংলাদেশ এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ।

তিনি এ সময় দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ণের কিছু চুম্বক অংশ তুলে ধরে বলেন, ২০০৮-০৯ বছরে জিডিপি’র আকার ছিল মাত্র ১০৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৯-২০ সালে তা ৩৩০ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, এই ১২ বছরে সরকারি ব্যয় ৪ দশমিক ৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৭ হাজার ৯৬০ কোটি থেকে ২০১৯-২০ বছরে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা হয়েছে। পাশাপাশি ২০০৮-০৯ বছরে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ যেখানে ছিল ১৫ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। আর ২০১৮-১৯ বছরে তা ৪০ দশমিক পাঁচ-চার বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৮-০৯ বছরের ৭ দশমিক চার-সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৪৪ দশমিক শূন্য-তিন বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০১৯ সালে দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ২০ দশমিক ৫ ভাগ এবং হত-দারিদ্র্যের হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশে।

খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন। বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনে ৩য় এবং মাছ-মাংস, ডিম, শাকসবজি উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে এবং ইলিশ উৎপাদনকারী ১১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০০৯-১০ বছরের ৫,২৭১ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ৪৭ থেকে ৯৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের দেশ পরিচালনায় মানুষের গড় আয়ু ২০০৯-১০ বছরের ৬৯ দশমিক ছয়-এক বছর থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯-২০ সালে দাঁড়িয়েছে ৭২ দশামক ৬ বছর। ২০০৯-১০ বছরের তুলনায় ৫-বছর বয়সী শিশুমৃত্যুর হার অর্ধেক কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি হাজারে ২৮। মাতৃমৃত্যুর হার কমে দাঁড়িয়েছে লাখে ১৬৫ জনে যা ২০০৯-১০-এ ছিল ২৮০ জনে।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করেছি।

‘সমগ্র জাতির জন্য এটা অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের। আমাদের এই উত্তরণ এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করছি; আমরা মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে।’

বাংলাদেশের জন্য এই উত্তরণ এক ঐতিহাসিক ঘটনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কৃতিত্ব এ দেশের আপামর জনসাধারণের। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই মাইলফলক অর্জন করতে পেরেছি। এই অর্জনকে দেশের নতুন প্রজন্মকে উৎসর্গ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ একটি প্রত্যয়ী ও মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে জায়গা করে নেবে। আমাদের এ অর্জনকে সুসংহত এবং টেকসই করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন, ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের জন্য এটি একটি বিশেষ ধাপ।

উল্লেখ্য, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছে।
জাতিসংঘের এ সংক্রান্ত পাঁচ দিনব্যাপী এক বৈঠক শেষে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ২২-২৬ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে এলডিসি স্ট্যাটাস পর্যালোচনা করে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তরণের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সূচক পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণে সব ধরনের সূচকের অগ্রগতি হয়েছে।

এরআগে প্রধানমন্ত্রীর হাতে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশপত্র তুলে দেন অর্থমন্ত্রী। এরপর প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন।

মুজিববর্ষে সবার জন্য ঘর দেওয়ার কর্মসূচির কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে দেশের সকল গৃহহীনদের ঘর প্রদান কর্মসূচির আওতায় ৮ লাখ ৯২ হাজার গৃহহীনকে ঘর দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭০ হাজার ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। আরও ৫০ হাজার গৃহ নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৬ পরিবারকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের নারীরা আজ স্বাবলম্বী। জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্সে ১৫৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫০তম এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে ৭ম।

গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৯৪০ জনকে প্রথম ডোজ করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তবে, টিকা দেওয়া হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা, হাত ধোয়া এবং পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি তাঁর আহবান পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

টিকা গ্রহীতার তালিকায় যেমন সাধারণ মানুষ রয়েছেন, তেমনি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও রয়েছেন। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শেখ রেহানা প্রথম টিকা নিলেও এখনও টিকা নেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি অবশ্যই টিকা নেব। তবে দেশের মানুষকে আগে দিতে হবে। আমার ৭৫ বছর বয়স। আজ আছি, কাল নেই। একটা টার্গেট করা আছে। সে পরিমাণ যখন দেওয়া হবে, তখন যদি টিকা থাকে, তাহলে তখন টিকা নেব।’

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সফলতার পেছনে কোনো ম্যাজিক লুকিয়ে আছে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো ম্যাজিকের কিছু না। যখন যেভাবে বলেছি, সবাই মেনে চলেছে। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করায় এটা হয়েছে। এটা বাংলাদেশের মানুষের সম্মিলিত ম্যাজিক।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘করোনা সারা বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছিল। জনগণের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ যে, আমরা যখন যেভাবে বলেছি, সবাই তা মেনে চলেছে। আমরা বিশেষ করে অর্থনীতির ক্ষেত্রে সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়েছি। মানুষের যেন কষ্ট না হয় সেটা দেখেছি। আর্থিক প্রণোদনা দিয়েছি। সব শ্রেণির মানুষ সহায়তা পেয়েছে। তখনও গবেষণা চলছে, যখন আমরা আগাম অর্থ দিয়ে করোনার টিকা কেনার ব্যবস্থা নিয়েছি।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ যখন গড়ে তুলেছি, তখন ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়াও আমাদের দায়িত্ব। কেউ যেন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে না জড়াতে পারে, সেজন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা অপরিহার্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘সমালোচনা যারা করছে, তারা সবকিছু কি অনুধাবন করছে? আজকের এই দিনে আমি অন্য কিছু বলতে চাই না।

Feb2

তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান ও মুসলমানদের ঐক্যের জন্য দোয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান ও মুসলমানদের ঐক্যের জন্য দোয়া

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সর্ব কর্তৃত্বময়, নিষ্কলুষ, নিরাপত্তা ও শান্তি দানকারী, ‍যিনি মুসলমানদের ওপর তার সম্মানিত ঘরের হজ ফরজ করেছেন, হজকে দ্বীনের অন্যতম স্তম্ভ বানিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি সর্বময় জ্ঞান ও ক্ষমতার অধিকারী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, যিনি সব সৃষ্টির সেরা। তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সঙ্গী-সাথী এবং অনুসারীদের ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম।

আম্মা বা’দ

হে মানবসকল! আপনারা তাকওয়া অবলম্বন করুন। কারণ তাকওয়ার মাধ্যমেই পরকালে বান্দার মুক্তি লাভ সম্ভব। আল্লাহ তাআলা সুরা হজের শুরুতে এরশাদ করেছেন, ‘হে মানবসকল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো; নিশ্চয়ই কেয়ামতের ভূকম্পন এক ভয়ানক ব্যাপার। যে দিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী মা তার দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারীর গর্ভপাত হয়ে যাবে। মানুষকে তুমি দেখবে মাতালসদৃশ অথচ তারা মাতাল নয়; বস্তুত আল্লাহর আজাব বড়ই কঠিন।’

তাকওয়ার পথ হলো, নেক আমল করা এবং সব ধরনের পাপাচার ও মন্দ কাজ বর্জনের মাধ্যমে কেয়ামত দিবসের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তা এই জন্য যে, আল্লাহই সত্য এবং তিনিই মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। আর এজন্য যে, কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং কবরে যারা আছে আল্লাহ তাদের পুনরুত্থিত করবেন।’

পরকালের জন্য সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো, তাওহিদের অনুসারী হওয়া, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করা। মানুষ কীভাবে আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছুর ইবাদত করে বা তাকে ডাকে, যা তার কোনো ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না? এটাই তো চরম পথভ্রষ্টতা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সে এমন কিছুকে ডাকে যার ক্ষতি তার উপকার অপেক্ষা নিকটতর। কতই না নিকৃষ্ট এই অভিভাবক এবং কতই না নিকৃষ্ট এই সঙ্গী!’

আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরিক করে, সে যেন আকাশ থেকে আছড়ে পড়ল, অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোনো দূরবর্তী নির্জন স্থানে নিক্ষেপ করল।’

ইমানদারদের আসল স্লোগান হলো আল্লাহর তাওহিদ। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের ইলাহ তো একমাত্র ইলাহ, কাজেই তোমরা তাঁরই অনুগত হও এবং সুসংবাদ দাও বিনীতদের; যাদের অন্তর আল্লাহর নাম স্মরণ করা হলে কম্পিত হয়, যারা তাদের বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।’ এগুলোই দ্বীনে ইসলামের মূল রোকন—তাওহিদ তথা আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল—এই সাক্ষ্য দেওয়া, নামাজ কায়েম করা, জাকাত আদায় করা, রমজানের রোজা রাখা এবং আল্লাহর পবিত্র ঘরের হজ করা।

এর সাথে রয়েছে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করার উপদেশ; আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত।’ এবং আল্লাহর আনুগত্যের ওপর ও কষ্টদায়ক তাকদিরের ওপর ধৈর্য ধারণ করার উপদেশ; ইরশাদ হয়েছে, ‘ধৈর্যশীলদের তো তাদের পুরস্কার পুরোপুরি দেওয়া হবে বিনা হিসাবে।’ একইসাথে আল্লাহর নেয়ামতের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করা; ইরশাদ হয়েছে, ‘এভাবে আমি সেগুলোকে (কোরবানির পশু) তোমাদের অনুগত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’

সৃষ্টিজগতে আল্লাহর কিছু চিরন্তন নিয়ম রয়েছে, বান্দার উচিত সেগুলোর ওপর ঈমান আনা এবং তা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের রক্ষা করেন; আল্লাহ কোনো বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যে আল্লাহকে সাহায্য (আল্লাহর দ্বীনকে) করবে, আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম শক্তিমান, পরাক্রমশালী।’ আল্লাহর নিয়মের মধ্যে আরও রয়েছে তাঁর এই বাণী: ‘কত জনপদ আমি ধ্বংস করেছি যেগুলোর বাসিন্দারা ছিল জালেম, তাই এসব জনপদ তাদের ঘরের ছাদসহ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, কত কূপ পরিত্যক্ত হয়েছে এবং কত সুদৃঢ় প্রাসাদ ধ্বংস হয়েছে!’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘কত জনপদকে আমি অবকাশ দিয়েছি এই অবস্থায় যে তা ছিল জালেম, অতঃপর আমি তাকে পাকড়াও করেছি এবং আমার কাছেই তো ফিরে আসতে হবে।’

মহান আল্লাহ তাঁর খলিল ইবরাহিমকে (আ.) হজের আজান বা ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেছেন, ‘এবং মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও; তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার কৃশকায় উটের পিঠে আরোহণ করে, দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে। যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থানসমূহে উপস্থিত হতে পারে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে—তিনি তাদের যে চতুষ্পদ জন্তু রিজিক হিসেবে দিয়েছেন তার ওপর।’

হজের দিনগুলোতে যে ব্যক্তি তাড়াহুড়ো করে দুদিনে চলে যাবে তার কোনো পাপ নেই এবং যে বিলম্ব করবে তারও কোনো পাপ নেই। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো, তোমাদের তাঁর কাছেই সমবেত করা হবে। হজের সফর শেষ করে ফেরার পূর্বে রয়েছে বিদায়ী তাওয়াফ।

আল্লাহ তাআলা আপনাদের মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে আপনাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা বা কঠিন নিয়ম চাপিয়ে দেননি; এটা আপনাদের পিতা ইবরাহিমের মিল্লাত। তিনি পূর্বে আপনাদের নাম ‘মুসলিম’ রেখেছেন; যাতে রাসুল আপনাদের জন্য সাক্ষী হন এবং আপনারা সাক্ষী হন মানবজাতির জন্য। অতএব আপনারা নামাজ কায়েম করুন, জাকাত আদায় করুন এবং আল্লাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরুন; তিনিই আপনাদের অভিভাবক, কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী!

আল্লাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার অন্যতম উপায় হলো, বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা, বিশেষ করে হজের আমলসমূহ পালন করার সময়। কারণ এগুলো দোয়া কবুলের উপযুক্ত সময় ও জায়গা। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফা দিবসের দোয়া। আর আরাফার দিন আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যে সর্বোত্তম বাক্যটি বলেছি, তা হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর (অর্থাৎ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই, আর তিনি সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান)।’

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা অবশ্যই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন। তাদেরই জন্য রয়েছে তাদের আমলের প্রতিদান এবং আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।’

হে আল্লাহ! আপনি হাজিদের দোয়া ও ইবাদত কবুল করুন, তাদের জন্য হজের সব আমল সহজ করে দিন, তাদের গুনাহ ও ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন এবং তাদের নিরাপদে সওয়াব ও সফলতার সাথে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার তওফিক দিন।

হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন। হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন। হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন। আপনি তাদের সব বিষয়ের দায়িত্ব নিন এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার সার্বিক অবস্থা কল্যাণময় করে দিন।

হে রাব্বুল আলামীন! হে আল্লাহ! আপনি খাদেমুল হারামাইন ওয়াশ-শরিফাইন বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে তাদের যাবতীয় কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করার তওফিক দান করুন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের উত্তম প্রতিদান দিন। নিশ্চয়ই তারা আপনার বান্দাদের প্রতি ইহসান করেছেন, হাজিদের জন্য হজের সব ইবাদত সহজ করে দিয়েছেন এবং হারামাইন শরিফাইনের খেদমতে ও আগত মেহমানদের সেবায় অকাতরে ব্যয় করেছেন। আপনি তাদের মাধ্যমে আপনার দ্বীনকে বিজয়ী করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের মাধ্যমে আপনার দ্বীনকে সাহায্য করুন। আমাদের নেতা ও নবি মুহাম্মাদের (সা.) ওপর, তাঁর পরিবার ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

হজের খুতবা (২০২৬) দিয়েছেন: শায়খ আলী আল হুজাইফি, মসজিদে নববির খতিব ও বিশ্বখ্যাত প্রবীণ আলেম।

জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার ঘটনায় আগে থেকে যথাযথ নজরদারি করতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব এবং পুলিশের চৌকি ছিল। ঠিকভাবেই কাজ করা হচ্ছিল। তবে আমাদের কিছু দুর্বলতা ছিল। সেভাবে মনিটর করতে পারিনি।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘কোনোভাবেই ইয়াসিন বাহিনী বা অবৈধ দখলদার কেউ জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করতে পারবে না, টিকতেও পারবে না। আমরা তাদেরকে যেভাবেই হোক উচ্ছেদ করবই। এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন কোনো শক্তি নেই যে, সেখানে নতুন করে ঢুকতে পারবে।’

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও জানান র‍্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ঈদের জামাত ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, রাতের টহল ও নিরাপত্তা চৌকি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক কোনো হাটে নিতে না পারে, সে বিষয়েও র‍্যাব সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ফাঁকা ঢাকায় চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে দিন-রাত বাড়তি পেট্রোল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।