খুঁজুন
, ,

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে জিএম’র স্বেচ্ছাচারিতায় ক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 30 May, 2021, 8:20 pm
বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে জিএম’র স্বেচ্ছাচারিতায় ক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজ

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সম্প্রচার সময় বাড়িয়ে ১৮ ঘন্টায় আনা হলেও এ পর্যন্ত মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান নির্মাণ ও সম্প্রচারে সফলতা দেখাতে পারেনি। প্রশাসনে দুর্নীতি অদক্ষতা ও পরিকল্পনাহীনতার কারনে এমনটি হচ্ছে বলে চট্টগ্রামের শিল্প সংস্কৃতি জগতের সাথে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। প্রতিষ্ঠার ২ যুগ পেরিয়ে গেলেও একই ধাঁচের গৎবাঁধা অনুষ্ঠান সম্প্রচার এবং বাড়তি সময় কাভার দেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে ধার করা অনুষ্ঠান দিয়ে কেন্দ্র চালানো এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের সংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, ইতিহাস ঐতিহ্য, সৌন্দর্য, সমস্যা-সম্ভাবনা ধারন করার মত অনুষ্ঠান চোখে পড়েনা বললেই চলে।

১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর পাহাড়তলীর একটি মনোরম পরিবেশে স্থিত জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র এখন অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজদের আখড়ায় পরিনত হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট মহল। জি.এম যায়, জিএম আসে, কেন্দ্রটি এখানো সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রেই জেনারেল ম্যানেজারের পদ পাওয়ার জন্য রীতিমত চলে ধান্দা তদবীর। যিনি আসেন তিনি সৃজনশীল কর্মকান্ডের পরিবর্তে পা বাড়ান টাকা উপার্জনের বহুমুখি পরিকল্পনায়। এটা যেন টাকা কামানোর অঘোষিত এক উৎস। অনুষ্ঠান, অডিশন, চাকুরি এসব কে কেন্দ্র করে ভেতরে বাইরের চিহ্নিত একটি গোষ্ঠীকে নিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে এক শক্ত সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটই মূলত নিয়ন্ত্রণ করে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র। জি.এম আসে তাদের পছন্দে এবং যায় অপছন্দে। তাই জি.এম যিনি আসেন তিনি ভালো কিছু করার চেয়েও অতিব্যস্ত হয়ে পড়েন এ দুষ্টুচক্রের ভাগবাটোয়ারার স্বার্থ সমন্বয়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রটিকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যোগ্য শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মীরাই কোনঠাসা। কেন্দ্রটিতে বর্তমানে জি.এম এর দাযিত্ব পালন করছেন। প্রশাসন ক্যাডারের আমলা নিতাই কুমার ভট্টাচার্য। পেশাগত জীবনের কোন একসময়ে তিনি বেতারে কাজ করেছেন। সেই সুবাদে বেতার কেন্দ্রিক কর্মীদের একটি বলয় তৈরি করেছেন তিনি।

বেতার প্রীতির কারনে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রর প্রোগ্রাম ম্যানেজার এবং আরো অনেককেই তিনি তার পাশে নিয়ে এসেছেন। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে আরো নানা অভিযোগ। সম্প্রতি সংবাদ পাঠ, সংগীতসহ বিভিন্ন অডিশনে রয়েছে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির অভিযোগ। এ প্রবণতার কারনে সংবাদ পাঠকদের অডিশনে অনেক যোগ্য প্রার্থীকে সুকৌশলে বাদ দেয়া হয়েছে। সংবাদ পাঠক পাঠিকা নির্বাচনে তার এজেন্ডের বাস্তবায়নে প্রধান সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছেন ঢাকা কেন্দ্র কর্মরত ডিডিজি (বার্তা)।

জানা গেছে ডিডিজি বার্তা নিজেই আগ্রহী হয়ে চট্টগ্রামের অডিশনে বিচার প্যানেলে যোগ দেন। চট্টগ্রামের শিল্পীদের বড় একটা অংশের অভিযোগ সংগীত শিল্পী ও সংগীত পরিচালক নেয়ার অডিশনেও ছিল নিতাই ভট্টাচার্যের ইচ্ছের বাস্তবায়ন।

চট্টগ্রাম শিল্পী কল্যাণ সংস্থার নেতৃবৃন্দ জি.এম নিতাই কুমার ভট্টাচার্য নানা অপকর্ম ও অনিয়ম সম্পর্কে তথ্য মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ মহলের একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেছেন।

বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কন্ঠ শিল্পী আলাউদ্দিন তাহের বলেন, বর্তমান জি.এম নিতাই কুমার ভট্টাচার্য সংগীত শিল্পী ও সংগীত পরিচালকদের অডিশনে তার সুক্ষ্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন। অনুষ্ঠান বন্টন ও শিল্পী নির্বাচনে তিনি সাম্প্রদায়িক নিরপেক্ষ নন। নতুন অডিশনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও দুর্নীতির পাশাপাশি পূর্বের অবৈধ গ্রেডেশনের অযোগ্য শিল্পীদের পেছনে অর্থ অপচয় করেছেন। সিন্ডিকেট সম্পর্কিত দুর্নীতিতো আছেই। এছাড়া তিনি টেলিভিশনের মতো একটা সৃজনশীল প্রতিষ্ঠানে আমলাতান্ত্রিক সুপ্রিমিসি নিয়ে চলেন। জি.এম সাহেবরা এখানে দায়িত্ব নিয়ে খুব সুক্ষ্মভাবে বিভাজনে ফুয়েল এড করে। যোগ্যরা হয়ে পড়ে কোনঠাসা। ফলে অযোগ্য ও চেনা মুখগুলোই বারবার পর্দায় হাজির হয়। এটাই বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অগ্রগতির সংকট। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে দুর্নীতির পাশাপাশি কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সুপ্রিমিসি প্রতিষ্ঠার প্রবণতা একটি বিরাট সংকট।

বর্তমান জি.এম নিতাই কুমার ভট্টাচার্য যোগদানের পূর্বে জি.এম এর দায়িত্ব পালনকারী মনোজ সেন গুপ্তের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ ছিল এবং তার বিরুদ্ধে দুদকে মামলাও রয়েছে। তার পর নিতাই কুমার ভট্টাচার্য যোগদানের পর চট্টগ্রামের শিল্পী সংস্কৃতি জগতের সকলেই আশা করেছিলেন, নতুন জি.এম নতুন একটি পরিবেশ তৈরীতে মনোযোগী হবেন। সবাইকে নিয়ে বসবেন, মতামত নেবেন এবং সিন্ডিকেটমুক্ত থাকবেন। কিন্তু কার্যত দেখা গেল তিনি পূর্বের জি.এম এর মত পদাঙ্কই অনুসরন করলেন। তিনিও হয়ে গেলে নতুন বোতলের পুরাতন পানীয়। তিনি দুর্নীতির দক্ষ ও বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে খ্যাত প্রশাসনিক শাখার কর্মচারী সুকুমার বিশ্বাসকে পি.এস হিসেবে রেখে দিয়েছেন নানা অভিযোগ সত্বেও।

চট্টগ্রামের লোকগানের শিল্পী শংকর দে সম্প্রতি তথ্যমন্ত্রী বরাবরে লিখিত অভিযোগে জানান, মনোজ সেন গুপ্তের সময়ে অডিশন বিহীন অসংখ্য শিল্পী, সুরকার ও উপস্থাপক তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়। পাশাপাশি অনেক শিল্পী সুরকারকে দুই তিনটা শ্রেণী উন্নয়ণ এক সাথে করেছেন। অথচ বিটিভি ঢাকা কেন্দ্রে ২০১২ সালের পর এখনো কোনো গ্রেডেশন হয়নি। এক্ষেত্রে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে যা করা হলো, এটা অননুমোদিত ও অবৈধ। তিনি অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে করা এ অডিশন বাতিল দাবি করে বলেন, অযোগ্য এসব শিল্পীদের পেছনে সম্মানী বাবদ বিপুল টাকা অপচয় হচ্ছে।

শিল্পী ও সংগীত পরিচালক ফরিদ বঙ্গবাসি বলেন, টেলিভিশন জি.এম নেতৃত্বাধীন প্রশাসন আমলা মানসিকতার এবং সংস্কৃতি বান্ধব নয় বলে সৃজনশীল ও মানসম্পন্ন কোন অনুষ্ঠান হচ্ছেনা। তারা মূলত শিল্পী সংস্কৃতি সম্পর্কিত বিষয়াদির পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে কাজ করেন। সংগীত পরিচালকবিহীন অনুষ্ঠানের কারনে সংগীত অনুষ্ঠানগুলো হচ্ছে যেনতেন ভাবে। এখানে লোক সংগীত পরিচালকরাও উপেক্ষিত।

সংগীত পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ঈদের একটি গানের অনুষ্ঠান নিয়ে এফবিতে তার এক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে জি.এম তাকে ডেকে কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দেন এবং দূর্ব্যবহার করেন। এ বিষয়ে ডিজিকে মৌখিক ভাবে অবহিত করেছেন তিনি।

কোনো শিল্পী অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কোনো অভিমত অভিযোগ করলেই তার উপর নামে কালো তালিকা ভুক্তির খড়ক। এদিকে দুদকে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদেরকে নিয়মিত প্রোগ্রাম দিয়ে যাচ্ছে। একই ব্যক্তি বারবার নানাভাবে প্রোগ্রামে হাজির হচ্ছেন। পূর্বের জি.এম মনোজ সেন গুপ্ত তার আত্মীয় চন্দন সরকার এবং বর্তমান জি.এম নিতাই কুমার ভট্টাচার্য তার আত্মীয় প্রীতিম ভট্টাচার্য কে চাকুরি দিয়েছেন। তিনিও আত্মীয়করনে পিছিয়ে নেই।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপারে হলো এ বারের ঈদে অনুষ্ঠান দৈন্যতা ও এতটাই প্রকট ছিল যে গানের অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়েছে ইউটিউব থেকে সংগ্রহ করা গান। শিল্পীদের নাম ধাম এতে প্রচার করা না হলেও এ অনুষ্ঠানের শিল্পী সম্মানীর টাকাও মেরে দেয়ার ব্যবস্থা করাই এর উদ্দেশ্যে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অনুষ্ঠান নির্মানে আরেক বাণিজ্য হয় অতিথি প্রযোজক যুক্ত করার মাধ্যমে। অতিথি প্রযোজক দিয়ে অনুষ্ঠান করার মাধ্যমেও নয় ছয় করার সুযোগ থাকে।

সম্প্রতি বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উর্ধ্বতন চিত্রগ্রাহক সাঈদ ইবনে মাসুদ জি.এম নিতাই কুমার ভট্টাচার্যের নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চেয়ে তথ্য সচিবের বরাবরে আবেদন করেছেন। মার্চের ৩১ তারিখ তথ্য সচিবের কাছে প্রেরিত এ অভিযোগে নিতাই কুমার ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার মৌলিক অধিকার খর্বে ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে জি.এম নিতাই কুমার ভট্টাচার্যের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে, এটা তার সময়ের পূর্বেকার। তিনি নিয়মের বাইরে কিছুই করছেন না।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।