ফটিকছড়িতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি:
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত “মুজিবশতবর্ষে একজন লোকও গৃহহীন থাকবে না” মর্মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা বাস্তবায়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় শনিবার ১০ জুলাই ফটিকছড়িতে পৌরসভা ও পাইন্দং এ নির্মানাধীন ঘরগুলো পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।
এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্বাবধানে পরিচালিত সারাদেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ০২ শতাংশ জমিসহ সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ঘর প্রদানের কার্যক্রম গ্রহণ করেন। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারির মধ্যে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম এর তত্ত্বাবধানে উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে গৃহ নির্মাণ কার্যক্রমকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রাম জেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য নির্মিত ও নির্মাণাধীন গৃহসমূহের গুনগত মান ঠিক আছে কিনা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য আজ আমি এখানে এসেছি। এ সময় জেলা প্রশাসক ফটিকছড়ি উপজেলার ফটিকছড়ি পৌরসভায় ৮০ টি এবং পাইন্দং ইউনিয়নের ১৮৮টি গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে জেলাপ্রশাসক প্রতি উপকারভোগীর মাঝে মানবিক সহায়তা ত্রান এবং বৃক্ষরোপনের জন্য ৫ টি করে বৃক্ষ বিতরণ করেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক এস এম জাকারিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব নাজমুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সায়েদুল আরেফিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জেবুন নাহার মুক্তা, ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছালামত উল্লাহ চৌধুরী শাহীন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরওয়ার হোসেন স্বপন, রশিদ উদ্দীন চৌধুরী কাতেব, হারুন অর রশিদ ইমন, এম শাহনেওয়াজ চৌধুরী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সায়েদুল আরেফিন জানান ফটিকছড়ি উপজেলায় প্রথম পর্যায়ের প্রথম ধাপে পাইন্দং এ ২৬, কাঞ্চননগরে ১০, সুয়াবিলে ২২ এবং ভূজপুরে ১২ টি মোট ৭০টি গৃহ গত ২৩ জানুয়ারী ভূমিহীন পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করা হয়।
আজ প্রথম পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে ৫৩০টি পরিবারকে পূনর্বাসন করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে খিরাম ৯৫, পাইন্দং ২০৭, নারায়ণহাট ১০, বাগানবাজার ৩০, ধর্মপুর ১৫, ভূজপুর ৭৫, সুয়াবিল ১৩, রোসাংগিরী ৫ এবং ফটিকছড়ি পৌরসভায় ৮০টি সহ সর্বমোট ৫৩০টি জমিসহ গৃহ নির্মাণ কাজ প্রায় সমাপ্ত। উক্ত ঘরসমূহ অবৈধ দখলদারদের থেকে উদ্ধারকৃত ৩৪.৫৬ একর খাস জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে উপকারভোগীদের জন্য সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে প্রকল্প স্থানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক গভীর নলকূপ ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহায়তায় বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কমিউনিটি স্থাপনের নিত্যপ্রয়োজনীয় অনুসঙ্গ- মসজিদ/ধর্মীয় স্থান, কবরস্থান, বিদ্যালয় ও খেলার মাঠের জন্য প্রকল্পস্থলে আলাদা আলাদা জায়গা রাখা হচ্ছে। প্রকল্পস্থলে যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম রাখার জন্য উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে রাস্তা নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলার গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করে স্থান নির্বাচন, উপকারভোগী নির্বাচন এবং কাজের গুণগত মান নিয়ে জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
২৪ঘণ্টা /জুনায়েদ


আপনার মতামত লিখুন